আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট জীবনী | Alexander the Great Biography in Bengali

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট জীবনী: Gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Alexander the Great Biography in Bengali. আপনারা যারা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট সম্পর্কে জানতে আগ্রহী আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট কে ছিলেন? Who is Alexander the Great?

ম্যাসিডোনিয়ার তৃতীয় আলেকজান্ডার (২০ অথবা ২১ জুলাই ৩৫৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ – ১০ অথবা ১১ জুন ৩২৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ), যিনি মহান আলেকজান্ডার নামে জগদ্বিখ্যাত, ছিলেন ম্যাসিডন নামক প্রাচীন গ্রিক রাজ্য শাসনকারী আর্গিয়াদ রাজবংশের একজন রাজা। ৩৫৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে পেল্লা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করে আলেকজান্ডার মাত্র কুড়ি বছর বয়সে তার পিতা দ্বিতীয় ফিলিপের স্থলাভিষিক্ত হন। তার শাসনকালের অধিকাংশ সময় তিনি উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়া জুড়ে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন এবং ত্রিশ বছর বয়সের মধ্যে তিনি মিশর থেকে উত্তর পশ্চিম ভারত পর্য্যন্ত প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম সাম্রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই অপরাজেয় সমরবিদ ইতিহাসের অন্যতম সফল সেনানায়ক হিসেবে পরিগণিত হন।

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট জীবনী – Alexander the Great Biography in Bengali

নামআলেকজান্ডার দ্য গ্রেট
জন্ম২০ অথবা ২১ জুলাই ৩৫৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
পিতাদ্বিতীয় ফিলিপ
মাতা
জন্মস্থানপেল্লা, ম্যাসিডন
জাতীয়তাগ্রিক
পেশারাজা
মৃত্যু১০ অথবা ১১ জুন ৩২৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ (৩২ বছর)

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট এর জন্ম: Alexander the Great’s Birthday

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ২০ অথবা ২১ জুলাই ৩৫৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।

দিগ্‌বিজয়ী গ্রীক বীর আলেকজান্ডার ছিলেন মেসিডোনিয়া রাজ্যের অধিপতি ফিলিপের পুত্র। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্দশ শতকে গ্রীস দেশ অসংখ্য ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত ছিল। মেসিডোনিয়া ছিল এমনি একটি রাজ্য। ফিলিপ ছিলেন সাহসী ও কুশলী যোদ্ধা। সিংহাসনের অধিকার লাভ করবার পরেই তিনি নিজের তত্ত্বাবধানে সুদক্ষ এক সৈন্যবাহিনী গড়ে তুললেন। এরপর একের পর এক রাজ্য জয় করে সমগ্র গ্রীসদেশে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আলেকজান্ডার ছিলেন তাঁর পিতারই মত বীর, সাহসী ও রণকুশলী এবং পরবর্তীকালে হয়েছিলেন দিগবিজয়ী। কথিত হয়, জন্মের সময় থেকেই তিনি পিতার শ্রী সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Alexander the Great’s Parents And Birth Place

ফিলিপের সৈন্যবাহিনী যখন বীরদর্পে একের পর এক রাজ্য জয় করে চলেছে সেই সময়ে, সময়টা খ্রিস্টপূর্ব ৩৫৬ অব্দ, একই সঙ্গে তিনিটি শুভ সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছায়। সেগুলো হল অলিম্পিকের ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতায় তার ঘোড়া বিজয়ী হয়েছে, সেনাপতি পারমেনিও ইলিরিয়ানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করেছে এবং রানী অলিম্পিয়াসের একটি পুত্র সন্তান জন্ম লাভ করেছে। রানীর এই পুত্রই পরবর্তীকালে হয়ে ওঠেন বীর আলেকজান্ডার। পুত্র সম্পর্কে রানী অলিম্পিয়াসের মনে এক অদ্ভুত ধারণা জন্মেছিল।

তিনি বিশ্বাস করতেন আলেকজান্ডার দেবতার সন্তান। কথিত হয়, তিনি আলেকজান্ডারের জন্মের পূর্বে স্বপ্ন দেখেছিলেন, দেবতা সাপের রূপ নিয়ে তার গর্ভে প্রবেশ করেছেন। মায়ের সান্নিধ্যে থেকে আলেকজান্ডারের মনেও এই বিশ্বাস জন্মেছিল যে দেবতার অংশ থেকে তার জন্ম। আমৃত্যু এই বিশ্বাস তার মধ্যে অটুট ছিল। রাজা ফিলিপ অধিকাংশ সময়েই যুদ্ধবিগ্রহ নিয়ে লিপ্ত থেকেছেন। ফলে পিতার সাহচর্য বেশি লাভ করার সুযোগ হয়নি আলেকজান্ডারের। তাই বাল্য বয়স থেকেই মার প্রতি অনুরক্ত হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট এর শিক্ষাজীবন: Alexander the Great’s Educational Life

ছেলেবেলা থেকেই সুগঠিত শরীর লাভ করেছিলেন আলেকজান্ডার। দেব বালকের মতই ছিলেন রূপবান। সব চেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল, তার শরীর থেকে সব সময় অপূর্ব একটা সুগন্ধ পাওয়া যেত। রাজকার্যের ব্যস্ততার মধ্যেও ফিলিপ পুত্রের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে অবহেলা করেন নি। রানী অলিম্পিয়াসের এক আত্মীয় লিওনিদোসকে তিনি পুত্রের গৃহশিক্ষক নিযুক্ত করেছিলেন। তার আন্তরিক চেষ্টায় ও যত্নে আলেকজান্ডার অঙ্ক ও ইতিহাসের সঙ্গে অশ্বারোহন ও তীরন্দাজীতেও সমান পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন।

ইতিহাসের বিভিন্ন কাহিনীর মধ্যে আলেকজান্ডারের সবচেয়ে প্রিয় ছিল মহাকবি হোমার রচিত ইলিয়াডের কাহিনী। মহাবীর অ্যাকিলিস ছিলেন তার প্রিয় চরিত্র। বস্তুতঃ সেই শৈশব থেকেই যুদ্ধবিগ্রহ, বীরত্ব, বিপদ – বাধা — এই সব তাকে আকর্ষণ করত। নিজেও কিশোর বয়স থেকেই হয়ে উঠেছিলেন বীরোচিত সাহসের অধিকারী। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল সহজাত তীক্ষ্ণবুদ্ধি। পুত্রকে অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী বুঝতে পেরে রাজা ফিলিপ এবারে তার উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করলেন।

মহাজ্ঞানী অ্যারিস্টটলকে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়ে ম্যাসিডনে নিয়ে এলেন। অ্যারিস্টটল নিয়েজা গ্রামে নিমপাস মন্দিরের সন্নিকটে নির্জন নিরালা পরিবেশে তাঁর শিক্ষায়তন গড়ে তুললেন। এখানে তিনি ছাত্রদের নানা বিষয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন। দর্শন, বিজ্ঞান, রাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতির সঙ্গে নাটক, কবিতা, গল্প ইত্যাদি বিষয়ও এখানে শিক্ষা দেওয়া হত। আলেকজান্ডারও ভর্তি হলেন অ্যারিস্টটলের শিক্ষায়তনে। এখানে তিনি তিন বছর শিক্ষা লাভ করেছিলেন। ঐতিহাসিকগণ বলেন, মহাজ্ঞানী অ্যারিস্টটলের শিক্ষা আলেকজান্ডারের মধ্যে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল।

বিশ্বজয়ী হবার প্রেরণা ও শিক্ষা তিনি শিক্ষাগুরু অ্যারিস্টটলের কাছেই পেয়েছিলেন। গুরুর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা পোষণ করতেন আলেকজান্ডার। আজীবন এই শ্রদ্ধা তার অটুট ছিল। পরে, ম্যাসিডনের সিংহাসনের অধিকার লাভ করে অ্যারিস্টটলের গবেষণার সমস্ত দায়িত্ব নিজেই বহন করেছিলেন। রাজা ফিলিপ একবার বাইজেনটাইন অভিযানে যাত্রা করলেন। যাবার আগে আলেকজান্ডারের ওপর রাজ্যের সমস্ত দায়িত্ব দিয়ে গেলেন। সেই সময় তার বয়স ষোল। রাজধানীতে ফিলিপ অনুপস্থিত, রাজ্যের দায়িত্বে ছেলেমানুষ আলেকজান্ডার, এই সুযোগে বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েকজন নেতা বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসল।

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট এর কর্ম জীবন: Alexander the Great’s Work Life

কিশোর আলেকজান্ডার কিন্তু কিছু মাত্র বিব্রত বোধ করলেন না। তিনি বীরদর্পে ন্যৈ বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং বিদ্রোহী নেতাদের পরাজিত করলেন। পরে সকলকে বন্দি করে রাজধানীতে নিয়ে এলেন। যুদ্ধজয়ের আনন্দ আলেকজান্ডারের মনে নেশা ধরিয়ে দিল। তিনি তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হয়ে প্রথম যে দেশ জয় করলেন, নিজের নামে সেই দেশের নামকরণ করলেন আলেকজান্দ্রাপোলিস। সেই সময় অ্যাথেনিয়া ও থেবান রাজ্যের মিলিত শক্তি ম্যাসিডনের প্রধান শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এই যৌথ শক্তির মোকাবিলার জন্য ফিলিপ সমর অভিযানের উদ্যোগ নিলেন। এই অভিযানে তিনি তরুণ পুত্রের ওপর ভার দিলেন অশ্বারোহী বাহিনীর। এই অভিযানে আলেকজান্ডার তার অসাধারণ বীরত্ব, সাহস ও যুদ্ধ কৌশলের পরিচয় দিলেন। ঝড়ের বেগে নিজের বাহিনী নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে শত্রু সৈন্যদের পর্যুদস্ত করলেন। যুদ্ধজয়ের পরে রাজধানীতে ফিরে এসেই দুঃসংবাদ পেলেন আলেকজান্ডার। রাজা ফিলিপের বিবাহ অনুষ্ঠান চলছে, পুনর্বার বিবাহ করছেন তিনি। অবিলম্বে তিনি উপস্থিত হলেন পিতার বিবাহানুষ্ঠানে।

সেই সময় নতুন রানীর কাকার সঙ্গে অকস্মাৎ আলেকজান্ডারের বিবাদ উপস্থিত হলে ফিলিপ ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলেন। সকলেই তখন পানে উন্মত্ত হয়ে উঠেছিলেন। সৈই অবস্থাতেই ক্রুদ্ধ ফিলিপ ছোরা বার করে পুত্র আলেকজান্ডারের দিকে ছুটে এলেন। কিন্তু পানোন্মত্ত অবস্থায় ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলেন না ; মাটিতে পড়ে গেলেন ৷ এই দুর্ঘটনা না ঘটলে সেদিন পিতাপুত্রের মধ্যে কি অবস্থার সৃষ্টি হত বলা যায় না। কিন্তু দুজনের মধ্যে সম্পর্ক এই দিনের ঘটনার পর থেকে ক্রমশঃ খারাপের দিকেই যেতে লাগল। যাই হোক, কয়েক বছরের মধ্যেই এই অপ্রীতিকর অবস্থার অবসান ঘটল নিয়তির বিধানে।

আলেকজান্ডারের যখন কুড়ি বছর বয়স, রাজা ফিলিপ সেই সময় অকস্মাৎ আততায়ীর হাতে প্রাণ হারালেন। পিতার মৃত্যুর পরে সিংহাসন অধিকার করলেন আলেকজান্ডার। নতুন রানীর কন্যাকে হত্যা করা হল। রানী অলিম্পাসের চক্রান্তে নতুন রানী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলেন। আলেকজান্ডারের ভবিষ্যৎ এইভাবে নিষ্কন্টক হয়ে গেল। ঐতিহাসিকদের অভিমত, রানী অলিম্পাসের চক্রান্তের ফলেই মৃত্যু ঘটেছিল রাজা ফিলিপের। পুত্রের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করবার উদ্দেশ্যেই তাকে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিতে হয়েছিল।

ফিলিপের মৃত্যুর সুযোগে ম্যাসিডনের চতুর্দিকে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। অধীন রাষ্ট্রগুলি পরপর স্বাধীনতা ঘোষণা করতে লাগল। ফলে আলেকজান্ডার একরকম শত্রুপরিবেষ্টিত হয়ে পড়লেন। এই অবস্থায় ম্যাসিডনের নেতৃস্থানীয় প্রবীণেরা আলেকজান্ডারকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে মৈত্রী সম্পর্ক স্থাপনের পরামর্শ দিলেন। কেননা শত্রুবেষ্টিত অবস্থায় কোন প্রকার সামরিক উদ্যোগ করলে ম্যাসিডনের স্বাধীনতা বিপন্ন হবার সম্ভাবনা দেখা দেবে।

সাহসী বীর আলেকজান্ডার কিন্তু এই পরামর্শ গ্রহণ করতে পারলেন না। তার মনে হল এই অবস্থায় মৈত্রী প্রস্তাব হবে দুর্বলতার নামান্তর। সামরিক বল প্রয়োগ ছাড়া শত্রুদলনের কোন বিকল্প হয় না। তিনি অবিলম্বে সুশৃঙ্খল সৈন্যবাহিনী নিয়ে বীরদর্পে যুদ্ধযাত্রা করলেন। আলেকজান্ডার ছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ – শত্রুদের এমন ভাবে দমন করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কখনো তাদের বিদ্রোহের সুযোগ না থাকে। আলেকজান্ডার প্রথমেই আক্রমণ করলেন থেবেস রাষ্ট্র।

গ্রীক সৈন্যবাহিনী শত্রুদের সমস্ত রকম বাধা চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়ে নগরে প্রবেশ করল। নির্বিচারে নগর ধ্বংস করেই তারা নিবৃত্ত হল না। হাজার হাজার নগরবাসী তাদের হাতে প্রাণ হারাল। ত্রিশ হাজার লোককে বন্দি করা হল। পরে বন্দিদের দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হল। নগর লুন্ঠন করে প্রচুর সম্পদ সংগৃহীত হয়েছিল। আলেকজান্ডার সেসব সৈন্যদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেন। উৎসাহ উদ্দীপনায় নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠল সৈন্যবাহিনী। থিবস বিজয়ের পরে আলেকজান্ডার অগ্রসর হলেন দক্ষিণ দিকে।

কোন কোন রাষ্ট্র তাঁর অগ্রগতিকে প্রতিহত করবার চেষ্টা করল। কিন্তু তাদের বাধা ধূলিসাৎ হয়ে গেল ৷ একে একে দক্ষিণের সমস্ত দেশই তাঁর অধীনতা স্বীকার করতে বাধ্য হল। এরপরে আলেকজান্ডার উপস্থিত হলেন কর্নিথে। আলেকজান্ডারের বিজয় অভিযানকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা বৃথা বিবেচনা করে অবিলম্বেই গ্রীসের সমস্ত রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে তাঁকে তাদের প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি জানাল। সকল রাষ্ট্রের নেতৃত্ব লাভের পর আলেকজান্ডার সম্মিলিতভাবে এশিয়া অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন এবং শুরু হল তার প্রস্তুতি।

অল্পসময়ের মধ্যেই বিশাল এক সুগঠিত বাহিনী সংগঠিত হল। বাহিনীতে ছিল ত্রিশ হাজার পদাতিক, চারহাজার অশ্বরোহী। আলেকজান্ডার সিদ্ধান্ত করেছিলেন, পারস্য আক্রমণের উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি প্রথম এশিয়া অভিযান করবেন। কিন্তু এরই মধ্যে ম্যাসিডোনিয়ানসের অধিপতি থ্রেসের বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসল। কাজেই আপাততঃ সেই দিকেই নজর দিতে হল তাঁকে। ম্যাসিডোনিয়ানস রাষ্ট্র ছিল পর্বতবেষ্টিত।

চারদিকের খাড়া পাহাড় এই রাষ্ট্রকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করত। ভেতরে প্রবেশের একটি মাত্র পথই ছিল। তার নাম সিপকা পাস। রাজা থ্রেসের এই পথ ঘিরেই তার সৈন্যবাহিনী জড়ো করলেন। আর একদল রাখলেন পাহাড়ের ওপরে যাতে তারা ওপর থেকে পাথর বা অস্ত্র ছুঁড়ে আক্রমণ করে শত্রু সৈন্যদের নিহত করতে পারে। আলেকজান্ডারের সুদক্ষ সেনাবাহিনী বারবার চেষ্টা করেও সঙ্কীর্ণ গিরিপথে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হচ্ছিল। ওপর থেকে ছুঁড়ে ফেলা পাথরে দলে দলে সৈন্য মারা পড়ল।

রণকুশলী আলেকজান্ডার এই বিরুদ্ধ পরিস্থিতির মোকাবেলার জন্য সৈন্যদের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন মাথার ওপর ঢাল উঁচু করে ধরে হাঁটু মুড়ে অগ্রসর হয়। তার নির্দেশে সারিবদ্ধ সৈন্যরা পরস্পরের ঢাল দিয়ে এমনভাবে নিজেদের আচ্ছাদন তৈরি করে ফেলল যে ওপর থেকে ছুঁড়ে ফেলা পাথর তাতে ঠেকে গড়িয়ে পড়ে গেল। কাউকেই হতাহত করতে পারল না। এইভাবে গিরিপথ ধরে অগ্রসর হয়ে আলেকজান্ডারের বাহিনী এক সময়ে নগর দখল করে নিল। থ্রেসের সৈন্যদের কিছু মারা পড়ল নগর রক্ষার ব্যর্থ চেষ্টা করে, অধিকাংশই প্রাণভয়ে পালিয়ে গেল।

আলেকজান্ডার নগর অধিকার করে আগুন ধরিয়ে দিলেন চতুর্দিকে। মুহূর্তে লেলিহান অগ্নিশিখা গ্রাস করে নিল থ্রেসের রাজধানী। এরপর, খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৪ অব্দে আলেকজান্ডার তার বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে এশিয়া অভিমুখে অগ্রসর হলেন। গ্রেনিকাস নদীর তীরস্থ হেলসম্পটে পৌঁছে শিবির স্থাপন করলেন আলেকজান্ডার। নদীর অপর পারেই পারস্য সম্রাট দারায়ুসের বিশাল সৈন্যছাউনি। তাঁর সৈন্য সংখ্যা একলক্ষেরও বেশি। বিশাল সৈন্যবাহিনীর অধিকারী হয়েও দারায়ুস নিজে ছিলেন ভীরু ও দুর্বল প্রকৃতির। তাছাড়া তাঁর সৈন্যদলে ছিল শৃঙ্খলার অভাব।

যথাসময়ে দুই পক্ষে শুরু হল ঘোরতর যুদ্ধ। পারস্যের দুই সেনানায়ক যুদ্ধ পরিচালনা করতে লাগলেন। আলেকজান্ডার রথের ওপরে থেকে যুদ্ধ করতেন। তাঁকে চিহ্নিত করে পারস্যের দুই সেনানায়ক দুই দিক থেকে অগ্রসর হয়ে আক্রমণ করলেন। আলেকজান্ডার যখন একজনের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন সেই সময় দ্বিতীয় সেনানায়ক ঘোড়া ছুটিয়ে এসে আলেকজান্ডারের মাথা লক্ষ্য করে কুঠার দিয়ে আঘাত করল। বিদ্যুৎগতিতে সরে গিয়ে মাথা রক্ষা করলেন আলেকজান্ডার। কিন্তু তার শিরস্ত্রাণ ছিটকে পড়ে গেল। এবারে অরক্ষিত মাথা লক্ষ্য করেই পারস্য সেনানায়ক দ্বিতীয়বার আঘাত করবার জন্য হাতের কুঠার উত্তোলিত করল।

অদূরেই উপস্থিত ছিলেন আলেকজান্ডারের বন্ধু ক্লিটাস। তিনি বিদ্যুৎগতিতে ঘোড়া ছুটিয়ে সেখানে এসে পারস্য সেনানায়কের বুক তীক্ষ্ণ বর্শায় বিদ্ধ করলেন। ক্লিটাসের তৎপরতায় সেদিন নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেন আলেকজান্ডার। কিন্তু ভবিতব্যের গতি এমনি বিচিত্র যে, একদিন আলেকজান্ডারের হাতেই প্রাণ হারাতে হয়েছিল ক্লিটাসকে। দুই পক্ষের ঘোরতর যুদ্ধে দারায়ুসের বাহিনী ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছিল। তাদের পক্ষের ২৫০০০ সৈন্য ইতিমধ্যেই নিহত হয়েছে। সৈন্যবাহিনীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ঘোরতর বিশৃঙ্খলা।

অবস্থা প্রতিকূল বুঝতে পেরে দারায়ুস প্রাণ নিয়ে পলায়ন করলেন। তাঁর পরিবার পরিজন রয়ে গেল অরক্ষিত অবস্থায়। পারস্য সম্রাট দারায়ুসের পতনের পর অপরাজেয় হয়ে উঠলেন আলেকজান্ডার। কোন বিপক্ষ বাহিনীর সৈন্য বেষ্টনীর তো কথাই নেই, প্রকৃতির দুর্লঙ্ঘা বাধাও আর তার অগ্রগতির প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারল না। দুরস্ত নদী তিনি পার হতেন সুকৌশলে, দুর্লঙ্ঘ্য পাহাড় অতিক্রম করতেন নির্ভীক তৎপরতায় ৷ কোন বাধাকেই আর বাধা বলে গ্রাহ্য করতেন না তিনি। তিনি অপরাজেয় শক্তির অধিকারী, দেবরাজ জিউসের পুত্র – এই বিশ্বাস তাঁকে ক্রমশই দুর্দমনীয় করে তুলেছিল।

তিনি বিশ্বাস করতেন, স্বর্গের দেবতারা রয়েছেন তাঁর সহায়, কাজেই তিনি অপরাজেয় – পৃথিবীর কোন শক্তি তার বাধা হয়ে উঠতে পারে না। ক্রমে টায়ার নগরী অধিকার করে আলেকজান্ডারের বাহিনী ঝড়ের বেগে উপস্থিত হল গর্ডিয়াম নগরে। এখানে ছিল বিখ্যাত গর্ডিয়ামের দড়ির ফাস। প্রবাদ ছিল যে এই দড়ির বাঁধন যে আলগা বা ছিন্ন করতে পারবে সে সমগ্র এশিয়ার অধিপতি হতে পারবে। যুগ যুগ ধরে বহু শক্তিশালী যোদ্ধা চেষ্টা করেও সেই দড়ির ফাঁস আলগা বা ছিন্ন করতে পারেন নি। আলেকজান্ডারও এই প্রবাদের কথা শুনেছিলেন।

তিনি গর্ডিয়ামের দড়ির ফাসের কাছে গিয়ে তার তরোয়ালের এক কোপে পলকের মধ্যে ছিন্ন করলেন দড়ির বাঁধন। আলেকজান্ডারের দ্রুত সিদ্ধান্ত স্থির করবার ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। এই ক্ষমতাবলেই তিনি যাত্রাপথের সমস্ত বাধা অতিক্রম করে সর্বক্ষেত্রে বিজয়ী হতে পেরেছিলেন। দারায়ুস ছিলেন সমগ্র পশ্চিম এশিয়া মিশর ও পারস্যের ধিপতি। হেল সম্পটের যুদ্ধে পরাজিত হলেও তিনি পলায়ন করে অন্য জায়গায় গিয়ে সৈন্য সংগ্রহ করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। সিডনাস নদীর কূলে আরবেলার রণক্ষেত্রে অবিলম্বেই মুখোমুখি হল দুই পক্ষের সেনাবাহিনী। পৃথিবীর বৃহত্তম সাম্রাজ্যের অধিপতি দারায়ুসের সৈন্য সংখ্যাও ছিল বিশাল, প্রায় দশ লক্ষ।

আর আলেকজান্ডারের পক্ষে ছিল মাত্র দু লক্ষ সৈন্য। যা পারস্য সম্রাটের তুলনায় নিতান্তই তুচ্ছ। কিন্তু দারায়ুসের বাহিনীতে ছিল শৃঙ্খলার অভাব। তুলনায় আলেকজান্ডারের সৈন্যদল ছিল শৃঙ্খলাপরায়ন ও সংহত। ফলে আলেকজান্ডারের অশ্বারোহী বাহিনীর দ্রুতগতি আক্রমণে পারসিকবাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পলায়নপর হল। মারা পড়ল অসংখ্য সৈন্য ৷ আবারও পরাজিত হলেন দারায়ুস। পরিবার পরিজন ফেলে রেখে তিনি প্রাণ নিয়ে পলায়ন করলেন। সেই সময় পারস্যের রাজধানী পার্সোপোলিশ ছিল পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ নগরী। আলেকজান্ডার এই নগরী অধিকার করলেন।

রাজপ্রাসাদের সকলকে বন্দি করে নিয়ে আসা হল আলেকজান্ডারের সামনে। বন্দিদের মধ্যে ছিলেন দারায়ুসের মা, স্ত্রী ও দুই কন্যা। আলেকজান্ডার তাঁদের মুক্তি দিয়ে সসম্মানে প্রাসাদে ফিরিয়ে দিলেন। ইতিমধ্যে পলাতক দারায়ুস একজন আততায়ীর আঘাতে আহত হলেন। সেই অবস্থায় তাঁকে গ্রীক সৈন্যরা বন্দি করল। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি যখন জানতে পারলেন আলেকজান্ডার তার পরিবার পরিজনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেননি, তিনি আবেগরুদ্ধ কন্ঠে আলেকজান্ডারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন। কিছু পরেই তিনি প্রাণত্যাগ করলেন। সম্রাটের মৃতদেহ নিয়ে আসা হল আলেকজান্ডারের কাছে।

তিনি নিজের শরীরের আচ্ছাদন খুলে সম্রাটের মৃতদেহ ঢেকে দিয়ে সম্মান জানালেন। এরপর সিরিয়ার শক্তিশালী সৈন্যবাহিনীকে পরাস্ত করে আলেকজান্ডার প্যালেস্টাইনও অধিকার করলেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩২৮ অব্দের মধ্যে সমগ্র পারস্য সাম্রাজ্য আলেকজান্ডারের পদানত হল। আলেকজান্ডারের শৌর্যবীর্য ও যুদ্ধজয়ের কাহিনী লোকের মুখে মুখে এমন পর্যায়ে পৌঁচেছিল যে তার নামেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত। যুদ্ধের আগেই প্রতিপক্ষ পরাজয় স্বীকার করে নিত। বহু দেশ এভাবে আত্মসমর্পণ করে তার পদানত হয়েছে। আলেকজান্ডার যখন যে রাজ্য দখল করেছেন, নতুন শহর বা রাজ্যের দিকে এগিয়ে যাবার আগে তার শাসনভার দিয়ে যেতেন নিজের কোন সেনানায়কের হাতে।

এভাবে অগ্রসর হয়ে আলেকজান্ডার তার বিশাল সৈন্য বাহিনী নিয়ে একসময় হিন্দুকুশ অতিক্রম করে ভারতবর্ষে প্রবেশ করলেন। সেইকালে গোটা ভারতবর্ষ ছিল ছোটবড় অসংখ্য রাজ্যে বিভক্ত। এদের মধ্যে ছিল না পারস্পরিক কোন ঐক্য। ফলে বিপদের দিনেও তারা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারল না গ্রীকবাহিনীর সামনে। বিশাল ভারতভূমির কথা অজানা ছিল না আলেকজান্ডারের। তিনি তার সৈন্য বাহিনীকে দুদলে ভাগ করে একদল পাঠালেন দক্ষিণ দিকে। দ্বিতীয় দল নিয়ে অগ্রসর হলেন উত্তর দিকে। তক্ষশীলার রাজা অস্তি প্রতিবেশী রাজা পুরুর শক্তি হ্রাস করার জন্য গ্রীকবাহিনীর সাহায্যে এগিয়ে এলেন।

তাঁর সহায়তায় গ্রীকদের প্রথম বাহিনীটি এগিয়ে চলল সিন্ধু নদের তীর ধরে। আলেকজান্ডার উত্তরদিকে অগ্রসর হয়ে উপস্থিত হলেন তক্ষশীলায়। অস্তি তাকে সম্বর্ধনা জানিয়ে প্রচুর উপঢৌকন দিলেন। প্রতিবেশী সমস্ত রাজাই বিনা যুদ্ধে আলেকজান্ডারের বশ্যতা স্বীকার করে নিলেন। চন্দ্রভাগা ও ঝিলাম নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলের ছোট একটি রাজ্যের রাজা ছিলেন পুরু। একমাত্র তিনিই আলকজান্ডাবের বশ্যতা স্বীকার না করে ঝিলামের তীরে প্রতিরোধ গড়ে তুললেন। গ্রীকসৈন্যদের সঙ্গে যুদ্ধে রাজা পুরু ও তাঁর সৈন্যবাহিনী অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শন করলেন। কিন্তু অবশেষে গ্রীকবাহিনীর হাতে পুরু বন্দি হলেন। তাঁকে আলেকজান্ডারের কাছে উপস্থিত করা হল।

শৃঙ্খলিত পুরুকে আলেকজান্ডার প্রশ্ন করলেন, রাজা, আমার নিকট আপনি কেমন ব্যবহার আশা করেন ? পুরু দৃপ্তভঙ্গীতে জবাব দিলেন, রাজার সঙ্গে রাজার মত। পুরুর বীরত্ব দেখে আলেকজান্ডার আগেই মুগ্ধ হয়েছিলেন। এবার নির্ভীক উত্তর শুনে তার সঙ্গে বীরের মতই ব্যবহার করলেন। পুরুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করলেন, তার রাজ্য ফিরিয়ে দিলেন এবং বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরূপ আরো কিছু অঞ্চল উপহার দিলেন।

পুরুর সৈন্যদের বীরত্ব গ্রীকবাহিনীর মনোবলে চিড় ধরিয়ে দিয়েছিল। তাছাড়া, দীর্ঘ কয়েকবছর ক্রমাগত যুদ্ধ করে তারা ক্লাস্তও হয়ে পড়েছিল। তারা আর অগ্রসর হতে চাইল না। বাধ্য হয়েই আলকজান্ডারকে স্বদেশের পথে প্রত্যাবর্তন করতে হল। ব্যাবিলনে পৌঁছে তিনি কয়েকমাস বিশ্রাম করলেন।

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট এর মৃত্যু: Alexander the Great’s Death

তার ইচ্ছা ছিল সেখান থেকে বেরিয়ে উত্তর আফ্রিকা জয় করবেন। কিন্তু অকস্মাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন তিনি। সময়টা ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৩ অব্দের ২ রা জুন। এগারো দিন অসুস্থ থাকার পর দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডারের জীবনাবসান হয়। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৩৩ বছর। পৃথিবীব্যাপী রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন ছিল আলেকজান্ডারের। কিন্তু স্বল্পকালীন জীবনে সে স্বপ্ন তার অপূর্ণই রয়ে গেল। জীবনের বেশিরভাগ সময়ই তিনি যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত থেকেছেন।

তার বীরত্ব ও সাহসিকতা এমনই ছিল যে ঐতিহাসিকরা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট অভিধায় ভূষিত করে তার শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপন করেছেন। এক দানবীয় শক্তি নিয়ে জন্মেছিলেন আলেকজান্ডার। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বুদ্ধি ও সাহস ৷ ফলে শক্তির দত্তে তিনি এমনই নৃশংস হয়ে উঠতেন মাঝে মাঝে যে তাঁর অন্তর্নিহিত মহত্ত্ববোধও উদারতা চাপা পড়ে যেত। বস্তুতঃ মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ মহত্ত্ব উদরতা, গঠনমূলক প্রতিভা ও বীরত্ব তাঁর চরিত্রকে গৌরবান্বিত করেছিল।

অপর দিকে খ্যাতি, গৌরব ও প্রভুত্বের আকাঙ্ক্ষা তাঁর মধ্যে জাগিয়ে তুলেছিল দ্বিগ্বিজয়ের পৈশাচিক উন্মাদনা। বহু গ্রাম, নগর, জনপদ তিনি ধ্বংস করেছেন, কেবল নিজের ইচ্ছা পরিপূরণের জন্য নির্বিচারে হত্যা করেছেন হাজার হাজার মানুষ ৷ তিনি হয়ে উঠেছিলেন ধ্বংস আর মৃত্যুর প্রতিভূ। ইতিহাস তাঁর নাম সেই ভাবেই ধারণ করে আছে।

Leave a Comment