শ্রীমদ্ভগবদগীতা প্রশ্ন ও উত্তর

শ্রীমদ্ভগবদগীতা প্রশ্ন ও উত্তর: ভগবদ্গীতা বা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বা গীতা একটি ৭০০-শ্লোকের ধর্মগ্রন্থ। সাতশত শ্লোকের একটি গ্রন্থ বিধায় একে সপ্তশতী বলে। এটি প্রাচীন সংস্কৃত মহাকাব্য মহাভারত-এর একটি অংশ। গীতা একটি স্বতন্ত্র ধর্মগ্রন্থ তথা একটি পৃথক শাস্ত্র এর মর্যাদা পেয়ে থাকে। হিন্দুরা গীতা-কে ভগবানের মুখনিঃসৃত বাণী মনে করেন। মানবধর্ম, দর্শন ও সাহিত্যের ইতিহাসে গীতা এক বিশেষ স্থানের অধিকারী। গীতা-র কথক কৃষ্ণ হিন্দুদের দৃষ্টিতে ঈশ্বরের অবতার পরমাত্মা স্বয়ং। তাই গীতা-য় তাকে বলা হয়েছে “শ্রীভগবান”।

শ্রীমদ্ভগবদগীতা প্রশ্ন ও উত্তর

১. শ্রীমদ্ভগবদ গীতা কি?

উ.ভগবান শ্রীকৃষ্ণনের অমৃত বাণী বা গান।

২. সংস্কৃতি ভাষায় গীতার অর্থ কি?

উ: গান।

৩. শ্রীমদ্ভগবত গীতার রচিয়তা কে?

উ: মহর্ষি ব্যাস দেব।

৪. শ্রীকৃষ্ণ গীতার জ্ঞান প্রথম কাকে দিয়েছিল?

উ: সূর্য্য দেব বিবস্বানকে।

৫.কত বছর আগে সূর্য্য দেব এই জ্ঞান পেল?

উ: এখন থেকে ১২,০৪,০০,০০০ আগে।

৬. সূর্য্য দেব পরে এই জ্ঞান কাকে দিয়েছিল?

উ: মানব জতির জনক মনুকে।

৭. এখন থেকে কত বছর আগে মনু পেয়েছে?

উ: আজ থেকে ২০,০০,০০০ বছর আগে।

৮. মনু এই গীতার জ্ঞান কাকে দিেয়ছিল?

উ: ইক্ষাকুকে।

৯. পুনরায় ভগবান শীকৃষ্ণ ঐই গীতার জ্ঞান কাকে দিয়েছিল?

উ: পান্ডু পুত্র অর্জুনকে।

১০. কত বছর আগে অর্জুন এই জ্ঞান লাভ করে?

উ: এখন থেকে প্রায় ৫,২০০ বছর আগে।

১১. মহাভারতের কোন অংশে এই গীতার জ্ঞান আছে?

উ: মহাভারতের ভীষ্মপর্বের ২৫-৪২ অধ্যায়ের।

১২. গীতাকে শপ্তশতী বলা হয় কেন?

উ: গীতায় ৭০০ শ্লোক আছে তাই।

১৩. গীতায় কয়টি শ্লোক আছে?

উ: শ্লোক সংখ্যা ৭০০ টি।

১৪. গীতায় কয়টি অধ্যায় আছে ?

উ: অধ্যায় সংখ্যা ১৮ টি

১৫. গীতার কয়টি নাম রয়েছে?


উ: ১৮টি 

  • ১. গঙ্গা
  • ২. গীতা
  • ৩. সাবিত্রী
  • ৪. সীতা
  • ৫. সত্যা
  • ৬. পতিব্রতা
  • ৭. ব্রহ্মবিদ্যা
  • ৮. ব্রহ্মাবলী
  • ৯. ত্রিসন্ধ্যা
  • ১০. মুক্তিগেহিনী
  • ১১. অর্ধমাত্রা
  • ১২.  চিতানন্দা
  • ১৩. ভবগ্নী
  • ১৪. ভ্রান্তিনাশিনী
  • ১৫. বেদত্রয়ী
  • ১৬. পরানন্দা
  • ১৭. তত্ত্বার্থ
  • ১৮. জ্ঞানমঞ্জুরী

১৬. গীতায় কে কয়টি শ্লোক বলেছিল?

উ: ধৃতরাষ্ট ১টি, সঞ্জয় ৪০টি, অর্জুন ৮৫টি, শ্রীকৃষ্ণ ৫৭৪.

১৭. গীতা কোন ছন্দে রচিত?

উ: অনুষ্টুপ ছন্দে রচিত ,তবে কিছু শ্লোক ত্রিষ্টুপ ছন্দে রচিত।

১৮. অনুষ্টুপ ও ত্রিষ্টুপ শ্লোক সংখ্যা কত?

উ: অনুষ্টু শ্লোক সংখ্যা ৬৪৫টি,ত্রিষ্টুপশ্লোক সংখ্যা ৫৫টি।

১৯. অনুষ্টুপ ও ত্রিষ্টুপ ছন্দ কত অক্ষর বিশিষ্ট?

উ: অনুষ্টুপ ছন্দের প্রতিটি শ্লোক ৩২ অক্ষর বিশিষ্ট,ত্রিষ্টুপ ছন্দের প্রতিটি শ্লোক ৪৪ অক্ষর বিশিষ্ট

২০. গীতায় অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণের কয়টি নাম উল্লেখ করা হয়েছে?

উ: অর্জুনের ২০টি নাম ও শ্রীকৃষের ৩৩টি নাম।

২১. গীতার ১-৬ অধ্যায়কে কি বলে?

উ: কর্ম ষটক

২২. গীতার ৭-১২ অধ্যায়কে কি বলে?

উ:ভক্তি ষটক।

২৩. গীতার ১৩-১৮ অধ্যায়কে কি বলে?

উ: জ্ঞান ষটক।

২৪. শ্রীকৃষ্ণ এই গীতার জ্ঞান কত দিন দিয়েছিল?

উ: যুদ্ধের মাঝখানে ১৮ দিনে।

২৫. শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে এই জ্ঞান কত মিনিটে প্রদান করেছিল?

উ: মাত্র ৪০ মিনিটে।

২৬. কোন গ্রন্থকে পঞ্চম বেদ বলা হয়?

উ: শ্রীমদ্ভগবদ গীতা।

২৭. কোন অধ্যায়কে গীতার সারসংক্ষেপ বলা হয়?

উ: ২য় অধ্যায়কে।

২৮. কোন গ্রন্থকে সকল ধর্মীয় গ্রন্থের সার সংক্ষেপ বলা হয়?

উ: গীতা।

২৯. মানুষের সকল পাপ কিভাবে নষ্ট হয়?

উ: গীতা পড়ে ও গীতার জ্ঞান কাজে লাগিয়ে।

৩০. শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কিভাবে পূজা করতে বলেছেন?

উ: ভক্তি সহকারে পত্র,পুষ্প,ফল,জল অর্পনের মাধ্যমে।

৩১. অর্জুন কখন বুঝতে পারলেন শ্রীকৃষ্ণ ভগবান বা পরমেশ্বর ?

উ: ১১অধ্যায়ের বিশ্বরুপ-দর্শনযোগের মাধ্যমে।

৩২. শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কার উপাসনা ও আশ্রয় নিতে বলেছে?

উ: ১২অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাকার উপাসনা ও আশ্রয় নিতে বলেছেন।

Leave a Comment