কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস জীবনী – Carl Friedrich Gauss Biography in Bengali

কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস জীবনী: gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Carl Friedrich Gauss Biography in Bengali. আপনারা যারা কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস কে ছিলেন? Who is Carl Friedrich Gauss?

ইয়োহান কার্ল ফ্রিডরিশ গাউস (৩০শে এপ্রিল, ১৭৭৭ – ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৫) একজন প্রতিভাবান জার্মান গণিতবিদ এবং বিজ্ঞানী। গণিত ও বিজ্ঞানের প্রায় সকল বিভাগে তার অবদান আছে। তাকে “গণিতের যুবরাজ” ও “সর্বকালের সেরা গণিতবিদ” বলা হয়। গণিতের যে সব বিষয়ে তার অবদান আছে সেগুলোর মধ্যে আছে সংখ্যা তত্ত্ব, গাণিতিক বিশ্লেষণ, অন্তরক জ্যামিতি, চুম্বকের ধর্ম, আলোকবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান ইত্যাদি। গণিত এবং বিজ্ঞানের বহু শাখায় তার প্রশংসাযোগ্য প্রভাব ছিল, যে কারণে তাকে ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী গণিতবিদদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস জীবনী – Carl Friedrich Gauss Biography in Bengali

নামকার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস
জন্ম30 এপ্রিল 1777
পিতাগেবার্ড ডিট্রিচ গাউস
মাতাডরোথিয়া গাউস
জন্মস্থানব্রাউনশ্‌ভাইগ, ব্রুন্সভিক-লুনেবুর্গের নির্বাচনী এলাকা, পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য
জাতীয়তাজার্মানি
পেশাগণিতবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী
মৃত্যু23 ফেব্রুয়ারি 1855 (বয়স 77)

কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস এর জন্ম: Carl Friedrich Gauss’s Birthday

কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস ১৭৭৭ সালের ৩০শে এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।

কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Carl Friedrich Gauss’s Parents And Birth Place

বিশুদ্ধ গণিত ও ফলিত গণিতে যুগান্তকারী অবদানের বিচারে কার্ল ফ্রেডরিক গাউসকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ বললে অত্যুক্তি হবে না। কেবল গণিত শাস্ত্রেই নয়, পদার্থ বিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানেও গাউসের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বস্তুতঃ সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। জার্মানীর ব্রাউনসভাইগ শহরে এক হতদরিদ্র পরিবারে ১৭১৭ খ্রিঃ ৩০ শে এপ্রিল গাউসের জন্ম। তার পিতা গেরহের্ড ডিড্রিক ছিলেন পেশায় রাজমিস্ত্রী। তার মায়ের নাম ডোরোথা বেনস।

কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস এর শিক্ষাজীবন: Carl Friedrich Gauss’s Educational Life

লেখাপড়ার প্রতি মায়ের প্রবল আগ্রহ সঞ্চারিত হয়েছিল তার মধ্যে। পুত্রকে স্কুলে লেখাপড়া শেখাবার আর্থিক সামর্থ্য ডিড্রিক – এর ছিল না। কিন্তু মায়ের আগ্রহে ও চেষ্টায় গাউস স্কুলে পড়বার সুযোগ পেয়েছিলেন। ডোরাথা কায়ক্লেশে অর্থের সংস্থান করে পুত্রের বিদ্যালয়ের খরচ জোগাতেন।

তবে তার এক সহোদরের সাহায্য ও সহানুভূতি না থাকলে হয়তো সন্তানের জন্য এই কর্তব্যটুকুও তিনি করে উঠতে পারতেন না। গাউসের প্রতিভা ছিল সহজাত। এছাড়া তিনি ছিলেন অত্যন্ত অধ্যবসায়ী। তার সবচাইতে বেশি আগ্রহ ছিল অঙ্কে। কথিত আছে, তিনি যখন মাত্র তিন বছরের শিশু, পরিষ্কার করে সবকথাও বলতে পারেন না, সেই সময় একদিন পিতার হিসাবের ভুল শুধরে দিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

বিদ্যালয়ে তাঁর গণিতের অসামান্য প্রতিভা শিক্ষকদেরও চমৎকৃত করত। সাত বছর যখন তাঁর বয়স, সেই সময় একদিন একটি মস্ত বড় সমান্তর শ্রেণীর যোগফল মুখে মুখে বলে দিয়ে শিক্ষকদের বিস্মিত করে দিয়েছিলেন। বলাবাহুল্য, হতদরিদ্র পরিবারের এই শিশুটি তার প্রতিভা বলে বিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক সকলের কাছেই আদরণীয় হয়ে উঠেছিল।

প্রবাদ আছে, প্রতিভা নিজেই তার পথ করে নেয়। বস্তুতঃ হয়েছিলও তাই। পোশাক পরিচ্ছদ যেমনই হোক, ক্লাসের দু – একটির বেশি বই কেনার ক্ষমতা হত না গাউসের। পড়াশোনা চালাবার এটাই হয়ে উঠেছিল প্রধান বাধা। কিন্তু সেই বাধাও একদিন দূর হল। স্কুলের শিক্ষকরাই তাঁর বইপত্র কিনে দেবার ব্যবস্থা করতেন। বালকের প্রতিভায় মুগ্ধ গণিতের শিক্ষক বিদ্যালয়ের পাঠ্য বইয়ের বাইরেও তাঁকে অনেক গণিতের পুস্তক কিনে উপহার দিয়ে উৎসাহিত করতেন।

বালক গাউস কাউকে হতাশ করেননি। শিক্ষকদের ভালবাসা ও স্নেহের মর্যাদা রক্ষা করেছিলেন। অল্পদিনেই গণিতে ঝুৎপত্তি লাভ করেছিলেন তিনি। বিদ্যালয়ের ছাত্র অবস্থাতেই সংখ্যাতত্ত্বের কিছু মৌলিক সমস্যার সমাধান করে ফেলেছিলেন তিনি। বালকের অস্বাভাবিক কৃতিত্ব জার্মানীর সমস্ত বিজ্ঞানীকে চমৎকৃত করেছিল। তাদের সব হিসেবেই গোলমাল ঘটিয়ে দিয়েছিলেন গাউস। তারা কোনভাবেই হিসেব মেলাতে পারেননি একটি বারো তেরো বছরের বালকের পক্ষে কি করে সংখ্যাতত্ত্বের দুরূহ সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়।

হাঁটতে চলতে সকল অবস্থাতেই গণিতই হয়ে উঠেছিল গাউসের একমাত্র চিন্তার বিষয় ৷ ধ্যানজ্ঞান স্বপ্ন সবেরই কেন্দ্রে গণিত। বিদ্যালয়ে পাঠকালেই গণিত নিযে গবেষণায় মেতে উঠেছিলেন তিনি। গোড়ার দিকে তার গবেষণার বিষয় ছিল জ্যামিতি। ইউক্লিডের জ্যামিতি ছিল তাঁর কণ্ঠস্থ। ১৭৯৩ খ্রিঃ গাউস বিদ্যালয়ের পড়া শেষ করলেন। গণিত শাস্ত্রের উন্নততর শিক্ষা লাভের জন্য ভর্তি হলেন গোত্তিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ১৭৯৬ খ্রিঃ মাত্র আঠারো বছর বয়সে গাউস আবিষ্কার করলেন সপ্তদশ বাহুবিশিষ্ট সুষম বহুভুজের অঙ্কন পদ্ধতি। বিশ্ববিদ্যালয়েও একের পর এক চমক সৃষ্টি করলেন গাউস। পরের বছরেই তিনি বিশ্বের বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। এমন কতকগুলি জ্যামিতিক সমস্যা ছিল যা প্রায় দুহাজার বছর ধরে বিখ্যাত গণিতবিদদের ব্যস্ত রেখেছিল। বহু চেষ্টা সত্ত্বেও সেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব হচ্ছিল না।

গাউস বিজ্ঞানীদের সেই সমস্যার সমাধান করে দিয়ে ছাত্রাবস্থাতেই লাভ করলেন শ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞের সম্মান। জ্যামিতিতে গাউসের মৌলিক আবিষ্কারগুলি বিশ্বের বিস্ময় উৎপাদন করেছিল। তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার প্রিন্সিপাল অব লিষ্ট স্কোয়ার্স, প্রকাশিত হয় ১৭৯৭ খ্রিঃ। পরবর্তীকালে তাঁর এই আবিষ্কারের ভিত্তিতেই আবিষ্কৃত হয়েছিল গণিত ও পরিসংখ্যানের মৌলিক সূত্র গাউসিয়ান ল অব নর্মাল ডিস্ট্রিবিউশন। গোত্তিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ হল।

কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস এর কর্ম জীবন: Carl Friedrich Gauss’s Work Life

গণিতে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পেলেন হেলমস্টেড বিশ্ববিদ্যালয়ে ৷ এখান থেকেই তিনি ১৭৯৯ খ্রিঃ গণিতে মৌলিক গবেষণার জন্য ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করলেন। এই সময় আকস্মিক ভাবেই গাউসকে গবেষণার কাজ বন্ধ রাখতে হল। আর্থিক অনটনই এই অনর্থ ঘটাল। শুরু করলেন চাকরির চেষ্টা। একদিন ঘোরাঘুরি করছেন, এমন সময় দৈবক্রমে তার সঙ্গে পরিচয় হল ব্রাউনস ভাইগের ডিউক কার্ল ভিলহেলম – এর সঙ্গে। ডিউক তার নামের সঙ্গে আগেই পরিচিত ছিলেন।

সাক্ষাৎ আলাপের সুযোগ পেয়ে তিনি গাউসের সমস্যার কথা জানতে পারলেন। গুণগ্রাহী ডিউক স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে তাঁর গবেষণার ব্যয়ভার গ্রহণ করলেন। ভাগ্যের আনুকূল্যে এবং ডিউকের সাহায্যে গাউস পুনরায় গবেষণায় আত্মনিয়োগ করলেন। দুর্ভাগ্য যে বেশিদিন ডিউকের পৃষ্ঠপোষকতা লাভের সুযোগ তিনি পেলেন না। আকস্মিকভাবে দেশে রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটল। ডিউক যুদ্ধে নিহত হলেন।

মাত্র কিছুদিন আগেই পিতামাতার আগ্রহাতিশয্যে গাউস বিয়ে করেছিলেন। বৃদ্ধ পিতামাতা এবং সদ্যপরিণীতা পত্নীকে নিয়ে চরম দুর্যোগের মুখে পড়তে হল তাকে। বাধ্য হয়েই পুনরায় চাকরির সন্ধানে বের হলেন। অর্থোপার্জনের জন্য চাকরির প্রয়োজন ছিল ঠিকই, কিন্তু গবেষণাকেও স্থগিত রাখা যায় না। একই সঙ্গে দুটো কাজ করবার সুবিধা পাওয়া যাবে, এমন একটি চাকরির জন্যই তিনি বেশি উৎসুক ছিলেন। ফলে বহু শিক্ষায়তন থেকে অধ্যাপকরূপে যোগদানের আহ্বান এলেও তিনি এর কোনটিই গ্রহণ করতে পারছিলেন না।

এইভাবে কেটে গেল কিছুদিন। অবশেষে দুর্ভাগ্যের মেঘ কাটল। গোত্তিঙ্গেন মানমন্দির থেকে আহ্বান এল। গাউস নিযুক্ত হলেন মানমন্দিরের অধিকর্তার পদে। কিন্তু দুর্ভাগ্য কেটেও যেন কাটতে চাইছিল না। .পদের জন্য খুব সামান্য বেতনই পাওয়া যেত। সংসারের খরচ তা দিয়ে কায়ক্লেশে কুলিয়ে যাচ্ছিল। গবেষণা চালাবার মত বিশেষ কিছু হাতে থাকত না। তবু দমলেন না গাউস। সংসারের ব্যয় সংকোচ করে গবেষণা অব্যাহত রাখলেন।

ফ্রান্সের সঙ্গে জার্মানীর যে দীর্ঘ যুদ্ধ চলছিল এতদিনে তার নিষ্পত্তি হয়। দিগ্বিজয়ী বীর নেপোলিয়নের সঙ্গে যুদ্ধে জার্মানীর পরাজয় হয়। নেপোলিয়ন যুদ্ধের ব্যয় বাবদ জার্মানীর ওপর কর ধার্য করলেন। জার্মানীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপরেও করের দায়ভাগ চাপল অনিবার্য ভাবে। গাউস – এর ওপরও ধার্য হল দুহাজার ফ্রাঙ্ক। সংসারই চলছিল টেনেটুনে। সঞ্চয়ের ঘর শূন্য।

এই অবস্থায় যুদ্ধোত্তর করের বোঝা গাউসকে অকূল সমুদ্রে ফেলে দিল। করের বোঝা কাঁধে নিয়ে অর্থের সন্ধানে দিশাহারার মত ঘুরতে লাগলেন তিনি। তৎকালীন সময়ে ফ্রান্সের প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী ছিলেন লাপলাস। গাউস – এর আর্থিক অনটনের কথা তার কানে পৌঁচেছিল। তিনি গাউসকে বিব্রত করলেন না। তাকে না জানিয়েই গাউসের হয়ে নির্ধারিত করের অর্থ ফ্রান্সের রাজকোষে জমা দিয়ে দিলেন। পরে গাউস লাপলাসের বদান্যতার কথা জানতে পেরে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন।

লাপলাসের ঋণ পরিশোধও করেছিলেন তিনি। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে গাউস পুনরায় তার গবেষণার কাজ শুরু করলেন। গণিতবিদ্যা ছাড়াও তিনি জ্যোতির্বিদ্যা, তড়িৎ চুম্বকতত্ত্ব ও ভূ – চুম্বকতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেছিলেন এবং প্রতিক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন। সিসিলির প্রসিদ্ধ জ্যোতির্বিজ্ঞানী পিয়াজী সেই সময় গ্রহাণুপুঞ্জের সিরিস নামক গ্রহাণু আবিষ্কার করেছিলেন। কিন্তু তিনি এই গ্রহাণুর আকার এবং ভর সম্বন্ধে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। গাউস নিজের গবেষণা দ্বারা এই অসম্পূর্ণ কাজটি সম্পূর্ণ করেছিলেন।

গোড়া থেকেই গাউস ছিলেন প্রচারবিমুখ এবং বিজ্ঞানের নীরব সাধক। ব্যক্তিগত জীবনেও ছিলেন উদার ও সরলপ্রকৃতির। গুণীকে উপযুক্ত মর্যাদা দিতে তিনি কখনো কার্পণ্য করতেন না। এমন কি শত্রুর প্রশংসাতেও তিনি কখনো কুণ্ঠিত হতেন না। নেপোলিয়নের কাছে জার্মানীর পরাজয় ঘটেছিল। দুঃসহ করের বোঝা তিনি চাপিয়েছিলেন জার্মানীর কাঁধে। এর ফলে চরম দুর্যোগ নেমে এসেছিল গাউসের জীবনে। নেপোলিয়নের পতনের পর শত্রুর প্রশংসা শুনে তার স্বদেশবাসী বিরূপ হবে জেনেও গাউস একজন যথার্থ মহাবীরের পতনে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। ফল যা হবার তাই হয়েছিল।

তাকে দেশবাসীর বিরাগ ভাজন হতে হয়েছিল। তাঁকে বাধ্য করা হয়েছিল নেপোলিয়নের সম্পর্কে সমালোচনা মূলক প্রবন্ধ লিখতে ! গাউস ছিলেন বিশ্বমানবতায় বিশ্বাসী। তিনি মনে করতেন সমস্ত মানুষই পৃথিবী নামক এক গ্রহের অধিবাসী। কেউ জার্মান, কেউ ফরাসী, কেউ ইংরাজ — এরকম দেশের বিভাগ ও পরিচয় তিনি পছন্দ করতেন না। এই সম্পর্কে তিনি কয়েকটি প্রবন্ধও রচনা করেছিলেন। গাউস তাঁর গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করতে বিশেষ উৎসাহ বোধ করতেন না। তার মাথায় যখনই যেই প্রশ্ন জেগেছে, নিরন্তর গবেষণার মাধ্যেমে সেই প্রশ্নের মীমাংসা করেছেন।

গবেষণার ফলাফল তিনি লিখে রাখতেন। তার দীর্ঘ গবেষণালব্ধ তথ্যগুলির বেশির ভাগই প্রকাশিত হয়েছে তার মৃত্যুর পরে। মৃত্যুর ৪৩ বছর পরেও অনেক গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বিদেশ ভ্রমণ, বক্তৃতা দিয়ে বেড়ানো এসবেও বিশেষ অনীহা ছিল তার। ফলে অনেকেরই বিরাগভাজন হতে হয়েছে তাঁকে। ব্যক্তিগত শোক, বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতা সবই নীরবে সহ্য করেছেন। শেষ বয়সে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতে চাইতেন না, মানমন্দিরেই পড়ে থাকতেন নিজের কাজ নিয়ে।

কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস এর মৃত্যু: Carl Friedrich Gauss’s Death

১৮৫৫ খ্রিঃ ২৩ শে ফেব্রুয়ারী এই নীরব বিজ্ঞান সাধকের দেহান্তর ঘটে।

Leave a Comment