পরিব্রাজন কাকে বলে? পরিব্রাজনের কারণ, প্রকারভেদ ও প্রভাব

পরিব্রাজন কাকে বলে? পরিব্রাজনের কারণ, প্রকারভেদ ও প্রভাব: জন্মহার ও মৃত্যুহারের মতো পরিব্রাজনও কোন দেশের জনসংখ্যার পরিপর্তনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিব্রাজন হল সারা পৃথিবী ব্যাপী মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলন।মানুষের সৃষ্টির পর থেকে মানুষ এই পরিব্রাজনের মাধ্যমেই সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের জন্মস্থান পূর্ব আফ্রিকা থেকে সারা পৃথিবী ব্যাপী মানুষের এই পরিব্রাজন কে Footprint Migration বা DNA Migration বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে প্রায় ২৩ কোটি মানুষ তাদের নিজস্ব দেশ ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে। পরিব্রাজন বলতে সাধারণত অর্থনৈতিক বা সামাজিক কারণ বশত স্থায়ী বা অস্থায়ী ভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমনকে বোঝানো হয়ে থাকে। পরিব্রাজনের কারণ, প্রকারভেদ ও ফলাফল গুলি নিম্নে আলোচনা করা হল।

পরিব্রাজনের কারণ 

সাধারণত স্থায়ী বা অস্থায়ী ভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন কে পরিব্রাজন বলা হয়ে থাকে। মানুষ নানা কারনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিব্রাজন করে থাকে, যেমন – প্রাকৃতিক, আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক। এই কারণ গুলি কখনো কখনো মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিব্রাজন করতে বাধ্য করে আবার কখনো কখনো মানুষ পরিব্রাজনে উৎসাহ প্রদান করে থাকে। যে কারণ গুলি মানুষকে পরিব্রাজনে বাধ্য করে তাদের পরিব্রাজনের Push Factors এবং যে কারণ গুলি মানুষকে পরিব্রাজনে উৎসাহিত করে তাদের পরিব্রাজনের Pull Factors বলা হয়। 

পরিব্রাজনে বিকর্ষন জনিত কারণ বা Push Factors গুলি হল 

কর্মসংস্থানের অভাব – যে সমস্ত দেশে জনসংখ্যা পরিমান অধিক কিন্তু সে অনুপাতে কর্মসংস্থানের তেমন সূযোগ নেই সেই সমস্ত দেশ গুলি থেকে প্রচুর সংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থানের আশায় পরিব্রাজন করতে বাধ্য হয়। যেমন – ভারত, বাংলাদেশ প্রভৃতি দেশ থেকে প্রচুর সংখ্যক মানুষ কাজের জন্য আরবীয় দেশ গুলিতে পরিব্রাজন করে থাকে। 

ছদ্ম বেকারত্ম – ভারতের মতো কৃষি প্রধান দেশ গুলিতে শিল্পের বিকাশ তেমন ঘটেনি, তাছাড়া মৌসুমি বৃষ্টি নির্ভর কৃষি ব্যবস্থায় সারা বছর জলের অভাবে কৃষিকাজ করা সম্ভব হয় না বলে, ঋতু বিশেষে ছদ্ম বেকারত্বের সৃষ্টি হয়ে থাকে। ফলে এই সময় গুলোতে মানুষ গ্রাম থেকে শহরের দিকে পরিব্রাজন করে থাকে। 

যুদ্ধ বিগ্রহ ও দাঙ্গা – যে সমস্ত দেশ গুলিতে প্রায় যুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়ে থাকে সেই সমস্ত দেশ বা স্থান থেকে নিরাপত্তা অভাব জনিত কারণে মানুষ অন্য স্থানে পরিব্রাজনে বাধ্য হয়ে থাকে। যেমন – সিরিয়া থেকে প্রচুর মানুষ আরবীয় ও ইউরোপীয় দেশ গুলিতে পরিব্রাজন করেছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান থেকে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমানে হিন্দু শরনার্থী ভারতে চলে আসে।

সামাজিক রীতিনীতি – সামাজিক রীতিনীতি, যেমন – বিবাহ জনিত কারণে মহিলারা তাদের বাসস্থান ছেড়ে অন্য স্থানে যেতে বাধ্য হয়। যা ভারতের মতো দেশে পরিব্রাজনের অন্যতম কারণ। 

ধর্মীয় কারণ – যে সমস্ত দেশে কোন একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের আধিক্য থাকলে তারা অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের উপর প্রচুর অত্যাচার করে তাদের সেই দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এইরূপ ঘটনা রয়েছে অনেক, যেমন উদাহরণ হিসাবে বলা যায় জার্মানি, পোল্যান্ড, স্পেন প্রভৃতি দেশ থেকে প্রচুর সংখ্যক জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ বিতারিত করা হয় এবং বর্তমান সময়ে একই কারণে মায়ানমার থেকে প্রচুর মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায় কে তাড়িয়ে দেওয়া হয় ও তারা বাংলাদেশে এসে বসতি স্থাপন করে। 

দূর্ভিক্ষ – দূর্ভিক্ষ পরিব্রাজনের বিকর্ষন জনিত কারণ গুলির মধ্যে অন্যতম। কন কারণ বশত ফসলের উৎপাদন ব্যহত হলে বা দূর্ভিক্ষ দেখা দিলে প্রচুর মানুষ সামান্য খাদ্যের জন্য শহর বা পার্শ্ববর্তী দেশ গুলিতে পরিব্রাজন করে থাকে। বর্তমান সময়ে আফ্রিকা মহাদেশের দরিদ্র দেশ গুলি থেকে প্রচুর সংখ্যক মানুষ খাদ্য ও কাজের আশায় ইউরোপীয় দেশ গুলিতে পরিব্রাজন করে থাকে। 

প্রাকৃতিক বিপর্যয় – প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দ্বারা মানুষের বসত বাড়ি নষ্ট হলে বা সেখানে আর বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকলে মান্সতসেই স্থান ত্যাগ করে অন্য স্থানে গমনে বাধ্য হয়। যেমন – ভূমিকম্প, ভূমিধ্বস, নদীর পাড় ভাঙন, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি কারণ মানুষ কে পরিব্রাজনে বাধ্য করে। 

পরিব্রাজনে আকর্ষন জনিত কারণ বা Pull Factors গুলি হল 

কর্মসংস্থানের সুযোগ  – যেখানে কাজের প্রচুর সুযোগ থাকে সেখানে কর্মসংস্থানের আশায় প্রচুর মানুষ পরিব্রাজন করে । উন্নয়ন শীল দেশ গুলিতে গ্রাম থেকে শহরে এই কারণে প্রচুর পরিমানে মানুষ পরিব্রাজন হয়ে থাকে।

উচ্চ বেতন ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ – সে সমস্ত দেশে বেতনের পরিমান অধিক এবং জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত সেই সমস্ত দেশে মানুষ উচ্চ বেতন ও উন্নত জীবন যাত্রার সূযোগ লাভের জন্য পরিব্রাজন করে। এই সমস্ত কারণে ভারত, বাংলাদেশ ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ গুলি থেকে প্রচুর ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, গবেষক, বিজ্ঞানী আমেরিকা ও ইউরোপের দেশ গুলিতে পরিব্রাজন করে থাকে।

সামাজিক নিরাপত্তা – যে সমস্ত দেশে কোন যুদ্ধ বিগ্রহ, দাঙ্গা, দূর্ভিক্ষ হয় না, সেখানে মানুষ নিরাপদে নিজের জীবন অতিবাহিত করতে পারে সেই সব দেশ গুলি মানুষ পরিব্রাজন করে থাকে। 

আধুনিক চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ – উন্নত চিকিৎসা পরিসেবা ও শিক্ষার সুযোগ যুক্ত অঞ্চলে এই সমস্ত পরিসেবা পাওয়ার জন্য মানুষ অনুন্নত সমাজ ব্যবস্থা যুক্ত অঞ্চল থেকে পরিব্রাজন করে থাকে। 

পরিব্রাজনের প্রকারভেদ 

উদ্দেশ্য, দূরত্ব ও সময়ের উপর নির্ভর করে পরিব্রাজন কে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যেমন পরিব্রাজনের উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তিকরে পরিব্রাজন কে অর্থনৈতিক ও সামাজিক এই দুই প্রকারের  পরিব্রাজনে ভাগ করা হয়ে থাকে। তেমনি দূরত্বের উপর ভিত্তি করে পরিব্রাজন দুই প্রকার – স্বল্প দূরত্ব ও দীর্ঘ দূরত্বে পরিব্রাজন আবার পরিব্রাজকদের  স্থায়িত্বের উপর ভিত্তি করে পরিব্রাজন কে স্বল্প ও দীর্ঘ সময়ের পরিব্রাজনে ভাগ করা হয়ে থাকে। 

কোন একটি দেশের সীমানার মধ্যে পরিব্রাজন ঘটলে তাকে অভ্যন্তরীন পরিব্রাজন এবং দেশের সীমানা পেড়িয়ে অন্য দেশে পরিব্রাজন ঘটলে তাকে আন্তর্জাতিক পরিব্রাজন বলা হয়ে থাকে।

অভ্যন্তরীণ পরিব্রাজন কে আবার গ্রাম ও শহরের উপর ভিত্তি করে চার ভাগে ভাগ করা হয়। যথা –

১. গ্রাম থেকে শহরে – এই ধরনের পরিব্রাজন বিশেষত উন্নয়নশীল দেশ গুলিতে দেখা যায়, যেখানে গ্রামীন জনসংখ্যার পরিমান সর্বাধিক এবং যেখানে অতি দ্রুত হারে শিল্পের বিকাশ সাধিত হচ্ছে । গ্রামীন এলাকার দরিদ্র বেকার মানুষ জন কাজ পাওয়ার আশায় গ্রাম থেকে শহরে পরিব্রাজন করে থাকে। যেমন – উত্তর প্রদেশ, বিহার থেকে প্রচুর মানুষ দিল্লি ও মুম্বাই প্রভৃতি শহরে পরিব্রাজন করে। 

২. গ্রাম থেকে গ্রাম – কৃষি ভিত্তিক গ্রামীণ সমাজে কৃষকরা এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে পরিব্রাজন করে থাকে। এছাড়া গ্রামীন এলাকায় সেচ ব্যবস্থার বিকাশ, জমির পুনরুদ্ধার, শস্য নিবিড়তা ও কৃষি ব্যবস্থার বিস্তৃতি প্রভৃতি কারনেও মানুষ এই ধরণের পরিব্রাজন করে থাকে। ভারতীয় সমাজে মহিলারা বিবাহ জনিত কারণে গ্রাম থেকে গ্রামে বেশি পরিব্রাজন করে। 

৩. শহর থেকে গ্রাম – এই ধরণের পরিব্রাজন কে বিপরীতমুখী পরিব্রাজন বলা হয়ে থাকে এবং এই ধরনের পরিব্রাজনকারীর সংখ্যাও অন্য পরিব্রাজনের থেকে অনেক কম। মূলত উন্নত দেশ গুলিতে এই পরিব্রাজন বেশি ঘটে থাকে। চাকরী থেকে অবসর নেওয়া মানুষ জন শহরের কোলাহল পূর্ন দূষিত পরিবেশ ত্যাগ করে গ্রামের শান্ত সিনিগ্ধ পরিবেশে বাকি জীবন অতিবাহিত করার জন্য এই ধরণের পরিব্রাজন করে থাকে। 

৪. শহর থেকে শহর – প্রধানত অর্থনৈতিক কারণে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ গুলিতে এই ধরণের পরিব্রাজন ঘটে থাকে। পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি এই ধরণের পরিব্রাজনের পরিমান বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে। সাধারন জরুরী পরিসেবা প্রদানকারী মানুষ জন এই ধরণের পরিব্রাজন বেশি করে থাকে। 

বহিঃপরিব্রাজন বা আন্তর্জাতিক পরিব্রাজন কে পরিব্রাজনের অভিমূখ অনুসারে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, যথা – অন্তঃ পরিব্রাজন ও বহিঃপরিব্রাজন।

মানুষ অন্য কোন দেশে বসবাসের উদ্দেশ্যে যখন নিজের দেশ ত্যাগ করে তখন তাকে বহিঃ পরিব্রাজন বলে। নিজের দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে চলে যাওয়াকে প্রবাসন বলা হয় এবং যে চলে যায় তাকে প্রবাসনকারী বলা হয়। 

আবার মানুষ যখন কোন দেশে বসবাসের উদ্দেশ্যে সেই দেশে প্রবেশ করে তখন তাকে অন্তঃ পরিব্রাজন বলে। অন্য দেশে গিয়ে বসবাস করাকে অভিবাসন এবং যে অন্য দেশে গিয়ে বসবাস শুরু করে অভিবাসনকারী বলা হয়। 

পরিব্রাজনের প্রভাব

 পরিব্রাজন উৎস  ও গন্তব্য স্থলের জনসংখ্যা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশের উপর  এমনকি পরিব্রাজকের উপর সুদূর প্রসারি প্রভাব ফেলে থাকে। তাই পরিব্রাজনের কারনের মতো পরিব্রাজনের ফলাফলও সম ভাবে গুরুত্বপূর্ন হওয়ায় জনসংখ্যা ভূগোলবিদরা পরিব্রাজনের বিভিন্ন প্রভাব গুলি পর্যালোচনায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। 

যেখানে থেকে পরিব্রাজক রা প্রবাসন করে এবং যেখানে গিয়ে অভিবাসন ঘটায় দুটি জায়গার জনসংখ্যা কাঠামোর পরিমাণগত ও গুনগত পরিবর্তন ঘটে থাকে। 

উৎস স্থলের উপর পরিব্রাজনের প্রভাব 

  • পরিব্রাজনের ফলে উৎস অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার পরিমান কমে যায়।
  • পুরুষ জনসংখ্যার পরিব্রাজন মহিলা জনসংখ্যার তুলনায় বেশি হওয়ায় স্থানীয় বা দেশীয় স্তরে লিঙ্গ অনুপাত হ্রাস পায় অর্থাৎ পুরুষ প্রতি মহিলার সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে। 
  • প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ জনসংখ্যার পরিব্রাজন বেশি হয় বলে দেশের মধ্যে কর্মক্ষম জনসংখ্যার আধিক্য অভাব পরিলক্ষিত হয়। 

বহিঃপরিব্রাজনের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশ গুলি থেকে উচ্চ শিক্ষিত, দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, গবেষক ও উচ্চ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ উচ্চ বেতন, উন্নত জীবন যাবন প্রভৃতি লাভের আশায় উন্নত দেশ গুলিতে পরিব্রাজন করে বলে উন্নয়নশীল দেশ গুলিতে এই সব উচ্চ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের অভাব পরিলক্ষিত হয়, যাকে এক কথায় মেধাপ্রবাহ বা ব্রেন ড্রেন বলা হয়। 

  •  অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ গুলি পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ হওয়ায়, এই দেশ গুলি থেকে প্রচুর মানুষ উন্নত দেশ গুলিতে পরিব্রাজন করে বলে জনসংখ্যার চাপ কিছুটা হ্রাস পায়। 
  • পরিব্রাজন কারী মানুষ জন অন্য দেশ থেকে অর্থ উপার্জন করে নিজের দেশে পাঠিয়ে দেয় বলে উন্নয়নশীল দেশ গুলির অর্থনৈতিক উন্নতি সাধিত হয়। 
  • পরিব্রাজনের মাধ্যমে অন্য দেশে গিয়ে কর্ম সংস্থানের সুযোগ পায় বলে উৎস দেশ গুলিতে বেকারত্বের সংখ্যা হ্রাস পায়। 

অবশেষে বলা যায় পরিব্রাজন উৎস দেশের উপর যেমন বিরূপ প্রভাব ফলে তেমনি পরিব্রাজনের কিছু সুফলও লক্ষ্য করা যায়। মূলত আফ্রিকা ও এশিয়ার অনুন্নত ও উন্নয়ন শীল দেশ গুলি থেকে বহিঃপরিব্রাজন ঘটে থাকে। 

গন্তব্য স্থলের উপর পরিব্রাজনের প্রভাব 

এক দেশ ত্যাগ করে পরিব্রাজকরা যে দেশে প্রবেশ করে, তাকে পরিব্রাজনের গন্তব্য স্থল বলা হয়। পরিব্রাজন যেমন উৎস দেশকে নানা ভাবে প্রভাবিত করে ঠিক তেমনি পরিব্রাজন গন্তব্য দেশের উপরও নানারূপ প্রভাব ফেলে থাকে। যেমন :

  • পরিব্রাজনের ফলে অভিবাসনকারী দেশ গুলির জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশ গুলির মোট জনসংখ্যার একটি বড়ো অংশ এই অভিবাসন কারী মানুষ দের দ্বারা গঠিত।  আবার দেশ গুলি মানুষ জন  স্বভাবগত ভাবে বেশি প্রজনন করে করে প্রজনন জনিত কারণেও জনসংখ্যা অনেকটা বৃদ্ধি পায়। 
  • পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ কোন একটি নিদিষ্ট গন্তব্য স্থলে পরিব্রাজন করলে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মেলবন্ধন দেখা যায়। 
  • অনেক সময় পরিব্রাজনকারী জনসংখ্যা উক্ত দেশের স্থানীয় মানুষের থেকে বেড়ে গেলে সেই দেশে পরিব্রাজনকারী মানুষ দের প্রভাব বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 
  • পরিব্রাজনকারী জনসংখ্যা বেশি হলে গন্তব্য দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, রীতি নীতি, ধর্ম চর্চা প্রভৃতি পরিবর্তে পরিব্রাজন কারী মানুষ দের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতি নীতির দ্বারা দখলিকৃত হয়, যাকে  Racial Suicide বলা হয়ে থাকে। 
  • উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ গুলির নগর ও শহরাঞ্চলে এই পরিব্রাজনকারী মানুষ জন ভীড় করে বলে শহরে অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পায়, জনসংখ্যার চাপ বাড়ে। 
  • উন্নয়ন শীল দেশ গুলি থেকে উচ্চ শিক্ষিত দক্ষ শ্রমিক  উন্নত দেশ গুলিতে পরিব্রাজন করে বলে সস্তায় শ্রমিকের জোগান দেওয়া এক দিকে যেমন সম্ভব হয় তেমনি উক্ত দেশের স্থানীয় শ্রমিক দের মজুরি বেশি হওয়ায় তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় না। 
  • গন্তব্য স্থলে উচ্চ শিক্ষিত মেধা সম্পূর্ন ব্যক্তি যেমন – ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, গবেষক প্রভৃতি মানুষ জন বেশি পরিব্রাজন করে বলে সেই সব দেশের উন্নত মানব সম্পদের বিকাশ ঘটে ও সঙ্গে সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধিত হয়। উন্নয়ন শীল ও অনুন্নত দেশ থেকে উচ্চ শিক্ষিত মানুষ জনের উন্নত দেশ গুলিতে পরিব্রাজন কে ব্রেন গেইন বা বুদ্ধির অর্জন বলা হয়ে থাকে। 

Leave a Comment