বাস্তুতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

বাস্তুতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব: জীবগোষ্ঠী ও তার পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের আন্তঃক্রিয়া কত গুলি সুনির্দিষ্ট নিয়মে সুশৃঙ্খল ভাবে চলতে থাকে।  জীবসম্প্রদায়কে কার্যগত ভাবে পরিবেশ থেকে পৃথক করা যায় না। বরং উদ্ভিদ, প্রানী ও পরিবেশ একটি বিশেষ নিয়ম বা রীতিতে একত্রে কাজ করে। এইরূপ শৃঙ্খলিত কার্য পদ্ধতি হল বাস্তুতন্ত্র।

সুতরাং বলা যায় – যে প্রণালী বা নিয়মের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট পরিবেশে বসবাসকারী জীবসম্প্রদায় এবং ওই পরিবেশের অজৈব উপাদান গুলির পারস্পারিক আন্তঃক্রিয়ায় উদ্ভুত উপাদানের বিনিময় ঘটে, তাকে বাস্তুতন্ত্র বলে। ১৯৩৫ সালে বিজ্ঞানী ট্যান্সলে সর্বপ্রথম ইকোসিস্টেম কথাটি ব্যবহার করেন। একটি নির্দিষ্ট বাস্ততন্ত্রের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীব প্রজাতির বাসস্থান হিসাবে বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।

বাস্তুতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য গুলি হল:

১. বাস্তুতন্ত্রের একটি নির্দিষ্ট এলাকা আছে। 

২. বাস্তুতন্ত্রকে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষন করা হয়।

৩. বাস্তুতন্ত্রের শক্তি ও পদার্থের উৎপাদন ও সরবরাহ সব সময় ক্রিয়াশীল, তাই বলা যায় এটি একটি উন্মুক্ত ব্যবস্থা। 

৪. বাস্ততন্ত্র আকারে ছোট থেকে সুবৃহৎ হতে পারে। বড়ো বাস্তুতন্ত্রে জীব বৈচিত্র্য ছোটো বাস্তুতন্ত্র তুলনায় অনেক বেশি। 

৫. বাস্তুতন্ত্রের শক্তির একমাত্র উৎস হল সূর্যালোক। 

৬. বাস্তুতন্ত্র নিয়ন্ত্রনকারী উপাদান গুলি বিঘ্নিত না হলে এটি স্থায়ী ভারসাম্যের দিকে অগ্রসর হয়। 

৭. বাস্তুতন্ত্র সুসংগঠিত ও নির্দিষ্ট কাঠামো বিশিষ্ট হয়। 

৮. পরিবেশের বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান নিয়ে বাস্তুতন্ত্র গঠিত হয়। 

বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব গুলি হল:

বাস্তুতন্ত্র প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা জীবমণ্ডলের অন্যতম মূল একক। তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন –

১. বাস্তুতন্ত্র অধ্যায়ন করলে পৃথিবীর বিভিন্ন পরিবেশ ও তাদের জীব বৈচিত্র্য সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করা যায়। 

. যে কোনো বাস্তুতন্ত্রে সবুজ উদ্ভিদের গুরুত্ব ও অবদান অপরিসীম কারণ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার জন্য বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় থাকে।

৩. পরিবেশ দূষণ রোধ ও সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশের সংরক্ষনের জন্য বাস্তুতন্ত্রকে কাজে লাগানো যায়।

৪. উদ্ভিদ ও প্রানীর বাসস্থান, সুরক্ষা, জমির উর্বরতা, ভূমি ক্ষয় থেকে বাঁচার জন্য বাস্তুতন্ত্র সম্বন্ধে জ্ঞান প্রয়োজন।

৫. আদর্শ বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখতে পারলে অনেক সময় খরা ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৬. বনাঞ্চল গঠন ও রক্ষা, বন্য প্রানী সংরক্ষন প্রভৃতির সুষ্ঠ রূপায়ন করা যেতে পারে বাস্তুতন্ত্রের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে।

৭. বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় থাকলে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রানী প্রজাতি অবলুপ্তির হাত থাকে রক্ষা পায়।

Leave a Comment