উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগ

উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগ: উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে উষ্ণতার গুরুত্ব অপরিসীম। এই জন্য বিভিন্ন উষ্ণতায় বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ এর জন্ম ও বিকাশ পরিলক্ষিত হয়। উষ্ণতার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে উদ্ভিদ বিজ্ঞানী রণকিয়ার উদ্ভিদ গোষ্ঠী কে চারটি প্রধান শ্রেনীতে ভাগ করেন। উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগ গুলি হল 

A) মেগা থার্ম 

B) মেসো থার্ম

C) মাইক্রো থার্ম

D) হেকিস্টো থার্ম

A) মেগাথার্ম – যে সমস্ত অঞ্চলে সারাবছর ধরে প্রচন্ড তাপমাত্রা থাকে অর্থাৎ 27 ডিগ্রি সেলসিয়াস এর বেশি, সেখানে যে সমস্ত উদ্ভিদ জন্মায় তাদের মেগাথার্ম উদ্ভিদ বলে। সাধারণত নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের উদ্ভিদ সমূহ এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। 

উদাহরণ – আয়রন উড, ব্রাজিল নাট, মেহগিনি,  আবলুস, বন্য রবার ইত্যাদি। 

B) মেসোথার্ম – যে সমস্ত অঞ্চলে উষ্ণতা সারাবছর মাঝারি ধরনের হয়ে থাকে অর্থাৎ গড়ে প্রায় 22 ডিগ্রি সেলসিয়াস সেখানে যে সমস্ত উদ্ভিদ জন্মায় তাদের মেসোথার্ম উদ্ভিদ বলে। সাধারণত ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের উদ্ভিদ সমূহ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। 

উদাহরণ – বট, আম, জাম, কাঁঠাল, সেগুন, পলাশ, মহুয়া ইত্যাদি। 

C) মাইক্রোথার্ম – যে সমস্ত উদ্ভিদ কম তাপমাত্রায় গড়ে প্রায় 10-20 ডিগ্রী উষ্ণতা যুক্ত অঞ্চলে জন্মায় ও বৃদ্ধি লাভ করে, তাদের মাইক্রোথার্ম  উদ্ভিদ বলে। 

উদাহরণ – পাইন,ফার, বার্চ, হেমলক, সিডার, ওক ইত্যাদি উদ্ভিদ সমূহ। নাতিশীতোষ্ণ ও পার্বত্য অঞ্চলের উদ্ভিদের শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। 

D) হেকিস্টোথার্ম – সাধারণত যে সমস্ত উদ্ভিদ প্রখর ও দীর্ঘ শীত সহ্য করতে পারে তাদের হেকিস্টোথার্ম উদ্ভিদ বলে। তুন্দ্রা ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে কি ধরনের উদ্ভিদ দেখা যায়। উদহারন – মস, লাইকেন প্রভৃতি এই শ্রেণীর উদ্ভিদের অন্তর্ভুক্ত

Leave a Comment