রাসায়নিক ধর্ম অনুসারে মৃত্তিকার শ্রেণিবিভাগ

রাসায়নিক ধর্ম অনুসারে মৃত্তিকার শ্রেণিবিভাগ: বালি, পলি ও কাদা- এই তিনটি স্বতন্ত্র মাটি কণার তুলনামূলক অনুপাতের ওপর ভিত্তি করে মাটির বুনটসমূহের নামকরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন মাটি বিভিন্ন অনুপাতে বালি, পলি ও কাদা কণা ধারণ করে থাকে। কোন মাটিতে বালি কণার পরিমাণ বেশি, আবার কোনটাতে কাদা কণার পরিমাণ বেশি। এই পরিবর্তনের নির্দিষ্ট সীমারেখায় রেখে মাটিকে ১২ টি গ্রুপ বা দলে বিভক্ত করা হয়। এই দলগুলোই বুনটভিত্তিক শ্রেণী বলে পরিচিত।

এই শ্রেণীগুলোর একটির হতে অন্যটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক ধর্মে যথেষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যে মাটিতে অধিক পরিমাণ কাদা কণা থাকে তাকে কাদা মাটি, যে মাটি অধিক পরিমাণ পলি কণা ধারণ করে তাকে পলি মাটি, আর যে মাটিতে বালি কণার পরিমাণ বেশি থাকে তাকে বালি মাটি বলে। যদি কোন মাটি এই তিনটি শ্রেণীর একটিরও প্রভাব বিস্তারকারী ভৌতিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন না করে (যেমন-৪০% বালি কণা, ২০% কাদা কণা ও ৪০% পলিকণা যুক্ত মাটি) তবে তাকে দোআঁশ মাটি বলে। দোয়াঁশ মাটিতে বালি, পলি ও কাদা কণার শতকরা পরিমাণ সমান থাকেনা। কিন্তু এ বালি, পলি ও কাদা কণাসমূহের কাছাকাছি প্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম প্রদর্শন করে।

রাসায়নিক ধর্ম অনুসারে মৃত্তিকাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয় – ১. পেডোক্যাল  ২. পেডালফার

১. পেডোক্যাল মৃত্তিকা – পেড শব্দের অর্থ হল মাটি এবং ক্যাল শব্দের অর্থ হল ক্যালসিয়াম। অর্থাৎ চুনজাতীয় মৃত্তিকাকে পেডোক্যাল মৃত্তিকা বলে।

কম বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে এই ধরণের মাটি সৃষ্ট হয়। কারণ বৃষ্টিপাতের অভাবে এই মাটিতে চুন ও লবন অপসারিত হতে পারে না ফলে মাটি ক্ষারকীয় প্রকৃতির হয়। এই মাটিতে হিউমাসের পরিমান কম থাকে। এই মাটি ধূসর কালচে রঙের হয়। 

উদাহরণ – সেরোজেম, চেস্টনাট, চারনোজেম

২. পেডালফার মৃত্তিকা – যে মৃত্তিকায় অ্যাল অর্থাৎ অ্যালুমিনিয়াম, ফার অর্থাৎ ফেরাস বা লোহা বেশি থাকে। সেই মাটিকে পেডালফার মৃত্তিকা বলে। 

সাধারণত বেশি বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে মাটির মধ্যস্থিত লবন অপসারিত হয়ে মাটির নিম্ন স্তরে চলে যায় এবং অ্যালুমিনিয়াম ও লোহা মিশে পেডালফার মাটি গঠিত হয়। এই মাটি আম্লিক প্রকৃতির হয়।

উদাহরণ – পডসল, তুন্দ্রা ও রোহিত মৃত্তিকা

পেডোক্যাল ও পেডালফার মৃত্তিকার পার্থক্য

বিষয় পেডোক্যালপেডালফার
আঞ্চলিকতাএটি শুষ্ক অঞ্চলে সৃষ্টি হয়।এটি আদ্র অঞ্চলে সৃষ্টি হয়।
প্রক্রিয়াবাস্পীভবন বেশি হয় বলে, এই কৌশিক প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়।অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য এটি অনুস্রবনের ফলে সৃষ্ট।
খনিজের প্রাধান্যক্যালসিয়াম কার্বনেটের প্রাধান্য থাকে।অ্যালুমিনিয়াম ও লোহার প্রাধান্য থাকে।
pH এর মানক্ষারকীয় মৃত্তিকা, pHএর মান ৭ এর বেশি হয়। আম্লিক মৃত্তিকা, pHএর মান ৭ এর কম হয়। 
বর্নচুন, লবন ও জৈব পদার্থ বেশি থাকায় এটি কালচে রঙের হয়।লোহার অক্সাইড বেশি থাকায় এই মাটির রং লালচে।

Leave a Comment