কার্বন ট্যাক্স কার্বন ঋণ ও কালো কার্বন এর ধারণা

কার্বন ট্যাক্স কার্বন ঋণ ও কালো কার্বন এর ধারণা

কার্বন ট্যাক্স কী – কার্বন ট্যাক্স শব্দটি ‘cap and trade’ এর পরিবর্ত হিসাবে ব্যবহৃত হয়। জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতির দহনের ফলে কোনটি থেকে কী পরিমান কার্বন নির্গত হয়, তার উপর ভিত্তি করে ট্যাক্স ঠিক করা হয়।

এই ট্যাক্স নেওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হল – এই ট্যাক্স দান থেকে বিরত থাকার জন্য অনেকে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করবে না অথবা খুব অল্প ব্যবহার করবে, তার পরিবর্তে পুনর্ভব শক্তি ব্যবহার করবে। এটার মাধ্যমে যে আয় হবে, সেই অর্থ দিয়ে দেশের অন্যান্য উন্নয়ন মূলক কাজ করা সম্ভব।

কার্বন ট্যাক্স এর সুবিধা

১. অনুমান করা – ট্যাক্স শক্তির মুল্য নিধারনে সাহায্য করে। যা শক্তির কার্যকারীতা বৃদ্ধিতে ও অন্য জ্বালানির প্রতি বিনিয়োগে সাহায্য করবে।

২. প্রয়োগ – কার্বন ট্যাক্স সহজেই অন্য কাজে ব্যবহার করা যায়।

৩. বোধগম্যতা – এটা শজেই বোঝা যায়।

৪. কোনো বিশেষ শ্রেণীর মানুষ এটি আর্তসাত করতে পারবে না।

৫. জন সাধারন শজেই এটি হিসাব করতে পারবে।

কার্বন ঋন/Carbon debt কী ?

কার্বন ত্যাগের দিক থেকে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ গুলির মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় – আমেরিকানরা প্রতি বছর ৭ টন কার্বন ত্যাগ করে আর ভারতীয়রা মাত্র ০.৫ টন।

উন্নত দেশগুলিতে শক্তি উৎপাদন করা হয় মূলত জীবাশ্ম জ্বালানির দহনের মাধ্যমে। ফলে প্রচুর পরিমান কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়, যা গ্রিন হাউস প্রভাবের প্রধান কারন। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনে এই সব গ্যাস বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খরা ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সংখ্যা ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশ গুলিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যারা পরিকাঠামোগত দিক থেকে দুর্বল যদিও তারা বিশ্বের মোট কার্বনের খুব ক্ষুদ্র অংশ ত্যাগ করে।

প্রাকৃতিক বিপর্যয় এই সব দেশে প্রচুর মানুষের প্রান নেয়, ফসল নষ্ট করে, রাস্তা, বাড়ি প্রভৃতি ধ্বংস করে। পরিকাঠামো গুলি আবার নতুন করে তৈরি ও মেরামত করা তে উন্নয়ন শীল দেশ গুলিকে বিদেশ থেকে ঋন নিতে হয়। একেই কার্বন ঋন বলে।

কালো কার্বন / Black Carbon কী?

কালো কার্বন বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বিতীয় প্রধান (CO2) নিয়ন্ত্রক । কালো কার্বন সহজেই সূর্যের আলো শোষণ করতে পারে এবং এটি ঝুল (soot) কে কালো করে দেয়। প্রাকৃতিক ও মানুষ দুটোর দ্বারাই কালো কার্বন উৎপন্ন হতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানির অসম্পূর্ন দহনের ফলে কালো কার্বন উৎপন্ন হয়। এছাড়া ডিজেল ইঞ্জিন, স্টোভ, দাবানল থেকেও নির্গত হয়। তবে বর্তমানে Black Carbon লঘুকরনের প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়ে গেছে।

Leave a Comment