ডানিয়েল গাব্রিয়েল ফারেনহাইট জীবনী – Daniel Gabriel Fahrenheit Biography in Bengali

ডানিয়েল গাব্রিয়েল ফারেনহাইট জীবনী: gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Daniel Gabriel Fahrenheit Biography in Bengali. আপনারা যারা ডানিয়েল গাব্রিয়েল ফারেনহাইট সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ডানিয়েল গাব্রিয়েল ফারেনহাইট এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

ডানিয়েল গাব্রিয়েল ফারেনহাইট কে ছিলেন? Who is Daniel Gabriel Fahrenheit?

ডানিয়েল গাব্রিয়েল ফারেনহাইট (২৪ মে, ১৬৮৬ – ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৭৩৬) একজন পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং গ্লাসে ফুৎকারপ্রদানকারী ব্যক্তি ছিলেন। ১৭০৯ সালে এলকোহল থার্মোমিটার এবং ১৭১৪ সালে পারদ থার্মোমিটার উদ্ভাবন করেন। তাপমাত্রা মাপার এককের প্রভূত উন্নতি করে সমগ্র বিশ্বে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি যা পরবর্তীতে তার নামে নামাঙ্কিত করা হয় ফারেনহাইট স্কেল নামে।

ডানিয়েল গাব্রিয়েল ফারেনহাইট জীবনী – Daniel Gabriel Fahrenheit Biography in Bengali

নামডানিয়েল গাব্রিয়েল ফারেনহাইট
জন্ম24 মে 1686
পিতাড্যানিয়েল ফারেনহাইট
মাতাকনকোর্ডিয়া শুমান
জন্মস্থানডানজিগ (গানস্ক), পোলিশ-লিথুয়ানিয়ান কমনওয়েলথ
জাতীয়তাপোলিশ
পেশাপদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী
মৃত্যু16 সেপ্টেম্বর 1736 (বয়স 50)

ডানিয়েল গাব্রিয়েল ফারেনহাইট এর জন্ম: Daniel Gabriel Fahrenheit’s Birthday

ডানিয়েল গাব্রিয়েল ফারেনহাইট ১৬৮৬ সালের ২৪ মে জন্মগ্রহণ করেন।

জ্বরজারির দৌলতে থার্মোমিটারের সঙ্গে আমাদের সকলেরই অল্পবিস্তর পরিচয় রয়েছে। আমাদের দেহের তাপমাত্রা নির্ণয়ের জন্য যে কাচের নলটি ব্যবহার করে থাকি সেটিই থার্মোমিটার। বলে বোঝাবার দরকার নেই যে এই থার্মোমিটারের গায়ে কিছু দাগ কাটা থাকে ৷ যে স্কেল অনুসারে এই দাগগুলো দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞানী ফারেনহাইট হলেন সেই স্কেলের উদ্ভাবক।

যে তাপমাত্রায় জল জমে বরফ হয়ে যায় তাকে বলে হিমাঙ্ক। আর যে তাপমাত্রায় জল উত্তপ্ত হয়ে বাষ্পে পরিণত হয় তা হল স্ফুটনাঙ্ক। এখন হিমাঙ্ককে ৩২ ডিগ্রি এবং স্ফুটনাঙ্ককে ২১২ ডিগ্রি ধরে দুয়ের মাঝখানের দূরত্বকে মোট ১৮০ সমানভাগে ভাগ করে তাপমাত্রার একটি স্কেল উদ্ভাবন ও প্রবর্তন করেছিলেন ফারেনহাইট। ডাক্তারী থার্মোমিটারে এই স্কেল অনুসারেই দাগ কাটা হয়। উদ্ভাবকের নামেই স্কেলটির নামকরণ করা হয়েছে ফারেনহাইট স্কেল।

ডানিয়েল গাব্রিয়েল ফারেনহাইট এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Daniel Gabriel Fahrenheit’s Parents And Birth Place

সম্পূর্ণ নাম গ্যাব্রিয়েল ডানিয়েল ফারেনহাইট। তিনি ১৬৮৬ খ্রিঃ ১৪ ই মে জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ছেলেকে ও ভবিষ্যতে তার সঙ্গেই ব্যবসায় নিয়ে আসবেন, নিশ্চয় এমন ইচ্ছা তার ছিল। তিনি ছেলেকে ধীরে ধীরে ব্যবসায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করবার চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু হতাশ হয়েছিলেন ছেলের ব্যবহারে।

ফারেনহাইটের ব্যবসায়ের প্রতি আদৌ কোন আকর্ষণ ছিল না। তিনি লেখাপড়া করতেই ভালবাসতেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিষয়ের প্রতি ছিল তার প্রবল আকর্ষণ। কি করে কি হয়, কেন হয় এসব অনুসন্ধিৎসু প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন বিষয় তাঁর মাথায় ঘুরে বেড়াত। ছেলের প্রবণতা বুঝতে পেরে পিতা কোন রকম বিরুদ্ধাচরণ করলেন না।

তিনি পুত্রের বিজ্ঞানশিক্ষার জন্য উপযুক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা করে দিলেন। স্কুল ও কলেজের পড়া বেশ ভালভাবেই সম্পন্ন করলেন ফারেনহাইট। নিযুক্ত হলেন গবেষণা কার্যে। এই সময় উন্নততর গবেষণার জন্য তিনি প্রথমে ইংলন্ড ও পরে হল্যান্ড যান৷ বিভিন্ন বিজ্ঞানীর সঙ্গে পরিচিত হন। সেই সময় দেহের তাপমাত্রা নির্ণয়ের জন্য যে থার্মোমিটার ব্যবহার করা হত তাতে পারদ ব্যবহার করবার রীতি তখনো পর্যন্ত প্রচলিত হয়নি।

ডানিয়েল গাব্রিয়েল ফারেনহাইট এর কর্ম জীবন: Daniel Gabriel Fahrenheit’s Work Life

থার্মোমিটারে সেই সময় তরল হিসেবে ব্যবহার করা হত অ্যালকোহল। তাতে নানাধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হত। ফারেনহাইট স্বাভাবিকভাবেই বুঝতে পারলেন থার্মোমিটারের ক্ষেত্রে কিছু কাজ করবার মত সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন দেশ ঘুরে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার সঞ্চয় নিয়ে শুরু করলেন গবেষণা। বহু পরীক্ষা – নিরীক্ষার পর কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি থার্মোমিটারে অ্যালকোহলের পরিবর্তে পারদ ব্যবহারের সুবিধা অনেক বেশি বুঝতে পারলেন।

১৭১৪ খ্রিঃ তিনি থার্মোমিটারে পারদের ব্যবহার প্রবর্তন করলেন। সেই রীতি এখনও অপরিবর্তিতই রয়েছে। ফারেনহাইটের অপর গুরুত্ব পূর্ণ কাজ হল হাইগ্রোমিটার নামক যন্ত্রের উন্নতিসাধন। এছাড়া তাঁর আরও কিছু অবদান বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রয়েছে। সারাজীবনই তিনি বিজ্ঞানের নানাবিধ গবেষণার কাজে লিপ্ত ছিলেন। তাঁর কাজের কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ লন্ডনের রয়াল সোসাইটি তাঁকে ফেলো নির্বাচন করেছিলেন।

ডানিয়েল গাব্রিয়েল ফারেনহাইট এর মৃত্যু: Daniel Gabriel Fahrenheit’s Death

১৭৩৬ খ্রিঃ ১৬ ই সেপ্টেম্বর ফারেনহাইট হল্যান্ডে দেহত্যাগ করেন।

Leave a Comment