বদ্বীপ গঠনের অনুকূল পরিবেশ

বদ্বীপ গঠনের অনুকূল পরিবেশ: নদীর মোহনা অঞ্চলে নদী বাহিত পদার্থের সঞ্চয় কার্যের ফলে বাংলা অক্ষর মাত্রাহীন ব এর মতো ব গ্রিক অক্ষর ডেল্টা এর মতো এক প্রকার ভূমিরূপ গঠিত হতে দেখা যায়। যা বদ্বীপ নামে পরিচিত। মোহনা অঞ্চলে বদ্বীপের গঠন কত গুলি নিয়ন্ত্রকের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। নিচে বদ্বীপ গঠনের অনুকূল পরিবেশ গুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

বদ্বীপ গঠিত হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত অনুকূল অবস্থার প্রয়োজন হয় – 

১. পলির পরিমানের আধিক্য– বদ্বীপ গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত হল নদী দ্বারা বাহিত পলির পরিমান সমুদ্র তরঙ্গ বা সমুদ্র স্রোত যে পরিমান পলি অপসারন করতে সক্ষম তার থেকে বেশি হতে হবে। তবেই সমুদ্র গর্ভে ক্রমশ পলি সঞ্চিত হয়ে বদ্বীপের বিকাশ ঘটবে। দীর্ঘ নদী, অসংখ্য উপনদী ও নদীর পার্বত্য গতিতে ক্ষয়কার্য বেশি হলে নদীবাহিত পলির পরিমান বেশি হয়।

২. দীর্ঘ মধ্য ও নিম্ন প্রবাহ – সমভূমি অংশে নদীর মধ্য ও নিম্ন প্রবাহ বেশি হলে মোহনার নিকট স্রোতের বেগ হ্রাস পায়, ফলে বাহিত পলিরাশির সঞ্চয়ের পরিমান বৃদ্ধি পায় ও দ্রুত বদ্বীপ গঠিত হয়।

৩. নদী স্রোতের বিপরীত দিক থেকে বায়ু প্রবাহ – নদী স্রোতের বিপরীত দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হলে বায়ুর চাপে স্রোতের বেগ হ্রাস পায়। এইরূপ নদীর মোহনা বদ্বীপ গঠনের জন্য বিশেষ উপযোগী।

৪. বেশি সংখ্যক উপনদী – প্রধান নদীর উপনদীর সংখ্যা বেশি হলে মূল বা প্রধান নদীতে পলিমাটির পরিমান বৃদ্ধি পায়। ফলে অতিরিক্ত পলি সঞ্চিত হয়ে বদ্বীপ গঠন দ্রুত হয়।

৫. অগভীর সমুদ্র – নদীর মোহনা অঞ্চলে সমুদ্রের গভীরতা কম হলে নদীর পলি দ্বারা অগভীর সমুদ্র দ্রুত ভরাত হয়ে বদ্বীপ গঠন কে ত্বরান্বিত করে।

৬. শান্ত সমুদ্র – নদীর মোহনা অঞ্চলে সমুদ্রে জোয়ার ভাটার প্রবনতা কম হলে, সমুদ্র স্রোতের উপস্থিতি না থাকলে নদী বাহিত পলি সঞ্চয়ে সুবিধা হয়, অপসারন ঘটে না ফলে সহজেই বদ্বীপ গড়ে ওঠে।

৭. সমুদ্র জলের লবনতার আধিক্য – সমুদ্রের লবনাক্ত জল নদী বাহিত পলি রাশির সঞ্চয়ে সাহায্য করে। নদী বাহিত পলি সমুদ্রের লবনাক্ত জলের সংস্পর্শে এসে থিতিয়ে পড়ে।

৮. স্থলবেষ্ঠিত সাগর – যে সব সমুদ্র স্থল বেষ্ঠিত সে সব সমুদ্রে সমুদ্র স্রোতের প্রভাব থাকে না । জোয়ার ভাটার প্রভাব কম থাকায় এই সব সমুদ্রে যে সব নদী এসে মিলিত হয় তাদের বাহিত পলি সঞ্চয়ে কোন বাধা থাকে না।

৯. নদী অভিমুখে চরের সৃষ্টি –নদীর মুখে মোহনায় চরের সৃষ্টি হলে সেই চর পলির সঞ্চয়ের ফলে ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে বদ্বীপে পরিনত হয় । চরের সাথে বাধা পেয়ে নদীর স্রোত ব্যাহত হয়ে পলির সঞ্চয়ে সাহায্য করে।   

Leave a Comment