গচ্ছিত ও প্রবাহমান সম্পদের পার্থক্য

গচ্ছিত ও প্রবাহমান সম্পদের পার্থক্য: অর্থনৈতিক ভূগোল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুলির মধ্যে অন্যতম হলো গচ্ছিত সম্পদ ও প্রবাহমান সম্পদের পার্থক্য। এখানে সেই গচ্ছিত ও প্রবাহমান বা অবাধ সম্পদের পার্থক্য গুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হল। 

সংজ্ঞা

প্রকৃতিতে এমন অনেক সম্পদ আছে যে গুলির অবস্থান সুনির্দিষ্ট ও পরিমাণও সীমিত, তাদের গচ্ছিত সম্পদ বলে। 

যেসব সম্পদ ক্রমাগত ব্যবহারের ফলেও নিঃশেষিত হয় না বা যাদের নিঃশেষিত হওয়ার সম্ভাবনাও নেই, তাদের প্রবাহমান বা অফুরন্ত সম্পদ বলে।

উদাহরন

গচ্ছিত সম্পদ গুলির মধ্যে অন্যতম হলো কয়লা, খনিজ তেল, আকরিক লোহা প্রভৃতি।

অবাধ বা প্রবাহমান সম্পদের উদাহরণ হল সূর্যরশ্মি, জল, বায়ু প্রবাহ, জোয়ার ভাটা শক্তি প্রভৃতি। 

প্রাপ্যতা

গচ্ছিত সম্পদের পরিমাণ সীমিত ও স্থানিকৃত।  অর্থাৎ গচ্ছিত সম্পদ গুলি পৃথিবীর সর্বত্র সম পরিমাণে পাওয়া যায় না।
পূরণ শীল বা অবাধ সম্পদের পরিমাণ অফুরন্ত। এই সম্পদ স্থানী কৃ ত নয়। পৃথিবীর সর্বত্র পাওয়া যায়।

বন্টন

গচ্ছিত সম্পদ গুলি সারা পৃথিবী ব্যাপী সমভাবে বন্টিত নয়। কোন কোন সম্পদ কেবলমাত্র পৃথিবীর একটি বা দুটি অঞ্চলেই পাওয়া যায়।
প্রবাহমান সম্পদ, যেমন – বায়ু, আলো পৃথিবীর সর্বত্র সমান ভাবে বন্টিত; আবার বনভূমি, তৃণভূমি, জল প্রভৃতি প্রবাহমান সম্পদ কম বেশি পৃথিবীর প্রায় সব জায়গায় পাওয়া যায়।

ক্ষয়িষ্ণুতা

গচ্ছিত সম্পদ গুলো বারবার ব্যবহারের ফলে শেষ হয়ে যায়, অর্থাৎ এগুলি ক্ষয়িষ্ণু সম্পদ।
অবাধ বা অফুরন্ত সম্পদকে বারংবার ব্যবহার করলেও ফুরিয়ে যায় না।

পূরণশীলতা

গচ্ছিত সম্পদ নিঃশেষ হয়ে গেলে পুনরায় নতুন করে তৈরি হয় না এবং পার্থিব পরিবেশে ফিরে আসে না। যেমন – কয়লা, লোহা, পেট্রোলিয়াম, তামা ইত্যাদি। 
অবাধ সম্পদ নিঃশেষ হয়ে গেলে আবার প্রকৃতিতে আপনাআপনি তৈরি হয় এবং প্রকৃতির ভান্ডার পূরণ করে। যেমন – অরণ্য, নদীর জল, সৌরশক্তি প্রভৃতি।

আহরণ

গচ্ছিত সম্পদ আহরণ করা কষ্টসাধ্য, ব্যয় বহুল ও সময় সাপেক্ষ। 
অবাধ সম্পদ সর্বত্র পাওয়া যায় বলে একে আরোহন করা সাধারনত ব্যয়বহুল ও পরিশ্রম সাপেক্ষ হয় না।

পরিবেশের উপর প্রভাব

গচ্ছিত সম্পদের উত্তোলন ও ব্যবহার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবেশ দূষণ ঘটায়।
অবাধ সম্পদ ব্যবহারে পরিবেশ সাধারণত দূষিত হয় না।

গুরুত্ব

কাঁচামাল হিসেবে গচ্ছিত সম্পদ গুলি শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 
বনভূমি ছাড়া শিল্পক্ষেত্রে কাঁচামাল হিসেবে অবাধ সম্পদের ব্যাপক ব্যবহার নেই, তবে গুরুত্ব পুরোপুরি আছে।

Leave a Comment