মহীভাবক ও গিরিজনি আলোড়নের পার্থক্য

মহীভাবক ও গিরিজনি আলোড়নের পার্থক্য: ভূ-অভ্যন্তর প্রচণ্ড উত্তাপে গলিত অবস্থায় আছে। এই গলিত পদার্থের মধ্যে যে পরিচলন তাপস্রোতের সৃষ্টি হয়, তা থেকে ভূ – অভ্যন্তরে প্রচণ্ড শক্তি উৎপন্ন হয়। এর ফলে ভূত্বকে আলোড়ন ঘটে, একেই ভূ- আলোড়ন বলা হয়। এই আলোরন আকস্মিক ও ধীর দুভাবেই কাজ করে নানা ধরণের ভূমিরূপের সৃষ্টি করে। ভূ-আলোড়নের ফলে ভূ-পৃষ্ঠে সৃষ্ট ভূমিরূপ গুলির পার্থক্যের উপর ভিত্তিকরে ধীর আলোড়ন গুলিকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথা – (ক) মহীভাবক আলোড়ন  ও  (খ) গিরিজনি আলোড়ন। 

মহীভাবক আলোড়ন কাকে বলে?

মহীভাবক আলোড়ন ভূপৃষ্ঠে কাজ করে লম্ব ভাবে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠের প্রভাবিত স্থান সমূহ হয় খাড়া ভাবে উপরে উঠে যায় বা নিচে নেমে যায়। ব্যাপক আকারে মহাদেশ জুড়ে হয় বলে, একে মহীভাবক আলোড়ন বলে। এই আলোড়নের ফলে প্রধানত বিশালায়তন মালভূমি, স্তূপ পর্বত, গ্রস্ত উপত্যকা প্রভৃতি গঠিত হয়।

মহীভাবক আলোড়নের কারণ:

বিজ্ঞানী হবস, মিনস, উইলিয়াম মহীভাবক আলোড়নের সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করেছেন – 

১. গুরুমন্ডল থেকে ওঠে আসা কম ঘনত্ব বিশিষ্ট পদার্থের ভূত্বকের নিম্ন পৃষ্ঠ অঞ্চলে সঞ্চয়। 

২. ঊর্ধ্ব গুরমন্ডল বা নিম্ন ভূত্বকে বিভিন্ন কারণে পদার্থের আয়তন হ্রাস।

৩. তাপ বৃদ্ধি জনিত কারণে ঊর্ধ্ব গুরু মণ্ডল ও ভূত্বক প্রসারিত হয়ে আয়তনে বৃদ্ধি পায়।

৪. এক শিলা পাতের নিম্নে অপর শিলা পাতের অনুপ্রবেশ জনিত কারণে ভূ- উত্থান। 

সৃষ্ট ভূমিরূপের উদাহরণ – মহীভাবক আলোড়নের ফলে জর্ডন ও পূর্ব আফ্রিকার গ্রস্ত উপত্যকা, রাইন নদীর গ্রস্ত উপত্যকা গঠিত হয়েছে। 

গিরিজনি আলোড়ন কাকে বলে?

গিরিজনি আলোড়ন ভূপৃষ্ঠে কাজ করে অনুভূমিক ভাবে। এর ফলে ভূত্বকের কোথাও সংনমনের ফলে সংকোচন অথবা কোথাও টানের ফলে প্রসারনের সৃষ্টি হয়। কোন স্থানে সংনমনের সৃষ্টি হলে অন্য কোন স্থানে টানের সৃষ্টি হয়। যেখানে ভূমির সংনমন ঘটে সেখানে ভাঁজের সৃষ্টি হয়। শিলা ভাঁজ পেয়ে বিশালাকার গিরি বা পর্বত সৃষ্টি হয় বলে একে গিরিজনি আলোড়ন বলে। 

গিরিজনি আলোড়নের কারণ: 

১) ভূ- অভ্যন্তরের পদার্থ সমূহ গলিত অবস্থায় আছে। এরূপ পদার্থ তাপ বিকিরন করে শীতল হওয়ার সময় ভূত্বকের উপরিভাগের সংকোচন ঘটে। 

২) পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তর উচ্চতাপে গলিত ও অসুস্থিত অবস্থায় আছে। এর ফলে ভূ – অভ্যন্তরে যে পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি হয়, তা ভূত্বকে অনুভূমিক চাপ সৃষ্টি করলে শিলাস্তর ভাঁজ প্রাপ্ত হয় ও পর্বত সৃষ্টি হয়। 

৩) মহীখাতে সঞ্চিত পুরু পলল স্তরের মধ্যে প্রাচীন ভূখন্ডের চাপে ভাঁজের সৃষ্টি হয়। যেমন – টেথিস মহীখাতে সঞ্চিত পলিস্তরে গন্ডোয়ানাল্যান্ড ও  আঙ্গারাল্যান্ডের প্রবল চাপে হিমালয় ও আল্পস পর্বত মালার সৃষ্টি হয়। 

৪) বর্তমানে বিজ্ঞানী গন গিরিজনি প্রক্রিয়ার কারণ হিসাবে মহাদেশ-মহাদেশ কিংবা মহাদেশ-মহাসাগর পাত সমূহের অনুভূমিক চলঙ্কে দায়ী করেছেন।

মহীভাবক ও গিরিজনি আলোড়নের পার্থক্য

বিষয়মহীভাবক আলোড়নগিরিজনি আলোড়ন
নামকরনমহাদেশ জুড়ে এই আলোড়ন ঘটে এবং মহাদেশ গঠনে সাহায্য করে, তাই একে মহীভাবক আলোড়ন বলে।এই আলোড়নে কেবল মাত্র ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়, তাই একে গিরিজনি আলোড়ন বলা হয়।
আলোড়নের প্রকৃতিমহীভাবক আলোড়ন ভূ-পৃষ্টে কাজ করে উলম্ব ভাবে।গিরিজনি আলোড়ন ভূ-পৃষ্টে কাজ করে অনুভূমিক ভাবে।
ব্যাপ্তিএই আলোড়নের প্রভাব সাধারণত স্থানীয় ভাবে ঘটে থাকে।গিরিজনি আলোড়ন ব্যাপক আকারে বিশাল অঞ্চল জুড়ে হয়।
সৃষ্ট ভূমিরূপস্তুপ পর্বত, গ্রস্ত উপত্যকা।ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়।

Leave a Comment