সমভূমি ও মালভূমির মধ্যে পার্থক্য

সমভূমি ও মালভূমির মধ্যে পার্থক্য: পৃথিবীর উপরি পৃষ্ঠে যে নানা রূপ যে উঁচু নিচু ভূমিরূপ দেখা যায় সেগুলিকে উচ্চতা, বন্ধুরতা ও ঢালের তারতম্য অনুসারে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়, যথা – পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি। এই তিন ধরনের ভূমিরূপের মধ্যে নানা রূপ পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। এখানে সমভূমি ও মালভূমির মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করা হল। 

সংজ্ঞা 

সমতল মৃদু ঢাল যুক্ত ঢেউ খেলানো যে সব ভূমিরূপ সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে সামান্য উচ্চতায় অবস্থিত, তাকে সমভূমি বলে।

সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে মাঝারি উচ্চতায় অবস্থিত খাড়া ঢাল  ও সমতল উপরি পৃষ্ঠ বিশিষ্ট ভূমিরূপ গুলিকে মালভূমি বলে। 

উচ্চতা 

সমভূমি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে 300 মিটারের কম উচ্চতা বিশিষ্ট হয়। 

মালভূমি গুলি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে 300 মিটারের অধিক উচ্চতা বিশিষ্ট হয়।

সৃষ্টির কারণ 

নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতি বহির্জাত শক্তির ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজের ফলে সমভূমির সৃষ্টি হয়।

ভূ আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট অন্তর্জাত শক্তি জনিত কারণে ভূমির উত্থানের ফলে বা ম্যাগমা র নির্গমনের ফলে মালভূমির সৃষ্টি হয়।

নিরবিচ্ছিন্নতা

সমভূমি অঞ্চল গুলি নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বহুদূর অবধি বিস্তৃত হয়।

মালভূমি অঞ্চল গুলি একটানা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বিস্তৃত থাকে না। মাঝে মাঝে নদী বা সমতল ভূমির উপস্থিতি দেখা যায়। 

ঢাল

সমভূমি গুলি মৃদু ঢাল বিশিষ্ট হয়।

মালভূমি গুলির উপরি ভাগ সমতল কিন্তু পার্শ্ব দেশ খাড়া ঢাল যুক্ত হয়।

শ্রেণী বিভাগ 

উৎপত্তির পার্থক্য অনুযায়ী সমভূমি কে তিন ভাগে ভাগ করা হয় – ক্ষয়জাত সমভূমি, সঞ্চয়জাত সমভূমি ও ভূ আলোড়ন গঠিত সমভূমি। 

উৎপত্তি অনুসারে মালভূমি কে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়, যথা – লাভা গঠিত মালভূমি, ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি ও পর্বত বেষ্টিত মালভূমি।

উর্বরতা ও কৃষি কাজ 

সমভূমি অঞ্চল গুলি উর্বর পলি গঠিত হওয়ায় কৃষি কাজের পক্ষে আদর্শ ।

মালভূমি অঞ্চল গুলি পাথর ও কাঁকুর যুক্ত হওয়ায় কৃষি কাজ করা যায় না। 

খনিজ সম্পদ 

সমভূমি অঞ্চল গুলিতে তেমন একটা খনিজ সম্পদ পাওয়া যায় না।

মালভূমি অঞ্চলে বিভিন্ন রকমের ধাতব খনিজের সঞ্চয় লক্ষ্য করা যায় বলে, অনেক সময় মালভূমি অঞ্চল কে খনিজের ভান্ডার বলা হয়।

জনবসতি

সমভূমি অঞ্চল গুলি বসবাসের উপযুক্ত হওয়ায় পৃথিবীর বেশির ভাগ জন বসতি এই সমভূমি অঞ্চলেই গড়ে উঠেছে।

মালভূমি অঞ্চল গুলি বন্ধুর ভূমিরূপ, অনুর্বর মৃত্তিকা, কৃষি কাজের অনুপযুক্ত হওয়ায় তেমন একটা জন বসতি গড়ে উঠতে দেখা যায় না।

উদাহরণ

ভারতের সিন্ধু গঙ্গা সমভূমি, মিশরের নীলনদের সমভূমি, রাশিয়ার সাইবেরিয়া সমভূমি প্রভৃতি পৃথিবীর বিখ্যাত সমভূমি

পৃথিবীর প্রধান প্রধান মালভূমি অঞ্চল গুলি হল – তিব্বত মালভূমি, আমেরিকার কলোরাডো মালভূমি, ফ্রান্সের ম্যাসিফ মালভূমি, ভারতের ডেকান ট্র্যাপ অঞ্চল প্রভৃতি।

সমভূমি ও মালভূমির মধ্যে পার্থক্য

বিষয় সমভূমির গুরুত্ব মালভূমির গুরুত্ব
খনিজ সম্পদের প্রাপ্যতা সমভূমি অঞ্চল সাধারণত খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হয় না। তবে খনিজ তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। মালভূমি অঞ্চল লােহা, তামা, ম্যাঙ্গানিজ, বক্সাইট, অভ্র, কয়লা প্রভৃতি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হয়।
কৃষিকাজনদী, জলাশয় প্রভৃতি সহজলভ্য বলে সমভূমি কৃষিকাজে উন্নত। মালভূমি কৃষিকাজে খুব একটা উন্নত নয়। তবে জলসেচেরসাহায্যে কৃষিকাজ করা যায়। 
পরিবহণ ব্যবস্থাসমভূমিতে সহজেই রেল ও সড়ক যােগাযােগ ব্যবস্থা গড়ে তােলা যায়। মালভূমিতে রেল ও সড়ক যােগাযােগ ব্যবস্থা গড়ে তােলা তুলনামূলক ভাবে কঠিন।
জনবসতিসমভূমি অঞ্চল সাধারণত খুবই ঘনবসতিপূর্ণ হয়।প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে মালভূমি অঞ্চলে জনবসতির ঘনত্ব কম হয়।

Leave a Comment