ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য

ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য: ক্রান্তীয় অঞ্চল ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে অবস্থিত কোনো স্থান কোন কারণে হঠাৎ অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে পড়লে সেখাণকার বায়ু উষ্ম ও হালকা হয়ে উপরের দিকে উঠে গিয়ে ঘূর্নবাতের সৃষ্টি করে, এই ঘূর্নবাত গুলি ক্রান্তীয় অঞ্চলে ক্রান্তীয় ঘূর্নবাত এবং মধ্য অক্ষাংশীয় অঞ্চলে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাত নামে পরিচিত। ভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্ট হওয়ায় ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাতের মধ্যে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাতের পার্থক্য গুলি হল – 

১. অবস্থানগত পার্থক্য

ক্রান্তীয় ঘূর্নবাত ক্রান্তীয় অঞ্চলে সাধারণত 5 ডিগ্রি থেকে 20 ডিগ্রি অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থান করে। ওপর দিকে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাত 35 ডিগ্রি থেকে 60 ডিগ্রি অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থান করে।

২. আয়তনগত পার্থক্য

ক্রান্তীয় ঘূর্নবাতের ব্যাস ১০০ কিমি থেকে ৮০০ কিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে । অপরদিকে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাত সর্বাধিক ৩০০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। 

৩. উৎপত্তি স্থল গত পার্থক্য

ক্রান্তীয় ঘূর্নবাত সমুদ্র পৃষ্টে সৃষ্টি হয়। নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাত স্থলভাগের উপর বেশি সৃষ্টি হয়।

৪. সৃষ্টির সময় গত পার্থক্য

গ্রীষ্ম ও শরৎ কালে বেশি ক্রান্তীয় ঘূর্নিঝর সৃষ্টি হয়। অপর দিকে মূলত শীতকালে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাতের আবির্ভাব ঘটে।

৫. শক্তির উৎস গত পার্থক্য

ঘনীভবনের ফলে উৎপন্ন লীনতাপ ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঘূর্নবাতের শক্তির প্রধান উৎস। বায়ুপুঞ্জ থেকে লব্ধতাপ থেকে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাত সৃষ্টি হয়।

৬. চাপ ঢাল গত পার্থক্য

ক্রান্তীয় ঘূর্নবাতের কেন্দ্র ও বহির্ভাগের মধ্যে চাপের পার্থক্য অনেক বেশি হয় ফলে চাপ ঢাল খাড়া হয়। অন্যদিকে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাতে মৃদুচাপ ঢাল বিরাজ করে। 

৭. তীব্রতা গত পার্থক্য

ক্রান্তীয় ঘূর্নবাত বিধ্বংসী চরিত্রের হয়। এর ফলে প্রচুর ক্ষয় ক্ষতি হয়। নাতিশীতোষ্ণ এর ফলে কোন ক্ষয় ক্ষতি হয় না।

৮. আবহাওয়া গত পার্থক্য

ক্রান্তীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঘূর্নবাতে কিউমূলোনিম্বাস মেঘে আকাশ ঢাকা থাকে বলে কয়েক ঘন্টার জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। অন্যদিকে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাতে নিম্বোস্ট্রাটাস মেঘ থাকে বলে অনেক দিন ধরে হালকা বৃষ্টিপাত হয়।

৯. প্রবাহের দিক গত পার্থক্য

ক্রান্তীয় ঘূর্নবাত সাধারণত পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয় অন্যদিকে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে গমন করে।  

১০. আকৃতিগত পার্থক্য 

ক্রান্তীয় ঘূর্নবাতে সমচাপ রেখাগুলি এককেন্দ্রীক, বৃত্তাকার, ঘনসন্নিবিষ্ট অর্থাৎ সমপ্রেষরেখা গুলি সম দূরত্বে অবস্থান করে। অপরদিকে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাতে সমচাপরেখা ফানেল বা V আকৃতির হয়। 

ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য

বিষয়ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতনাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত
অবস্থানএই ঘূর্ণবাত সাধারণত ক্রান্তীয় অঞ্চলে ৫ থেকে ১০ ডিগ্রী অঞ্চলে দেখা যায়।এই ঘূর্ণবাত সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে ৩৫-৫০ ডিগ্রী অক্ষাঙ শের  মধ্যে দেখা যায়।
আয়তননাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত অপেক্ষা ছোটো হয়।ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত অপেক্ষা বড়ো হয়।
উৎপত্তি স্থানএটি সাধারণত সমুদ্রের উপর তৈরি হয়। এটি সাধারণত স্থলের উপর তৈরি হয়।
বাতাসের গতিবেগ এই ঘূর্ণ বাতে বাতাসের গতিবেগ থাকে ৪০-৪০০ কিমি / ঘণ্টা।এই ঘূর্ণ বাতে বাতাসের গতিবেগ থাকে ৩০-৩৫ কিমি / ঘণ্টা।
ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাএই ঘূর্ণ বাতের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বেশী।এটি ধ্বংসপ্রবণ নয়।

Leave a Comment