এডওয়ার্ড জেনার জীবনী – Edward Jenner Biography in Bengali

এডওয়ার্ড জেনার জীবনী: gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Edward Jenner Biography in Bengali. আপনারা যারা এডওয়ার্ড জেনার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী এডওয়ার্ড জেনার এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

এডওয়ার্ড জেনার কে ছিলেন? Who is Edward Jenner?

এডওয়ার্ড জেনার (১৭ মে, ১৭৪৯ – ২৬ জানুয়ারি, ১৮২৩) ছিলেন একজন ইংরেজ চিকিৎসক এবং বৈজ্ঞানিক, যিনি গুটিবসন্ত রোগের ভ্যাকসিন আবিস্কারের পথিকৃৎ, যেটি হলো এই পৃথিবীর প্রথম ভ্যাকসিন। ভ্যাকসিন এবং ভ্যাকসিনেশন শব্দ দুটি এসেছে ভারিওলে ভ্যাকসিনে শব্দ থেকে, যেটি দ্বারা জেনার গরুর পক্সকে নির্দেশ করেছিলেন।

এডওয়ার্ড জেনার জীবনী – Edward Jenner Biography in Bengali

নামএডওয়ার্ড জেনার
জন্ম17 মে 1749
পিতারেভারেন্ড স্টিফেন জেনার
মাতা
জন্মস্থানবার্কলে, যুক্তরাজ্য
জাতীয়তাইংরেজ
পেশাচিকিৎসক, বৈজ্ঞানিক
মৃত্যু26 জানুয়ারী 1823 (বয়স 73)

এডওয়ার্ড জেনার এর জন্ম: Edward Jenner’s Birthday

এডওয়ার্ড জেনার ১৭৪৯ সালের ১৭ মে জন্মগ্রহণ করেন।

একসময় গুটি বসন্ত ছিল গোটা পৃথিবীর আতঙ্ক। প্রতি বছরই পৃথিবীর নানা প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ এই রোগের আক্রমণে প্রাণ হারাত। কোন প্রতিষেধক ছিল না বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নীরব দর্শক হয়ে মানুষের এই নিদারুণ বিদায়যাত্রা দেখা ছাড়া উপায় ছিল না। ভারতের মত দেশেও আজ এই মহামারী রোগ নিশ্চিহ্ন। এই রোগের সন্ধান কারীকে হাজার টাকা পুরস্কার দেবার কথা ঘোষণা করেও আজ একজনও দাবিদারকে পাওয়া যায় না। পৃথিবীর মাটি থেকেই গুটি বসন্তকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ গুটিবসন্তের প্রকোপে ছারখার হয়েছে। ১৬১৪ খ্রিঃ গুটি বসন্তের বীভৎস আক্রমণে ইউরোপের জনসংখ্যার এক দশমাংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। ১৬৬৬ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৫ খ্রিঃ মধ্যে টানা ন বছর ধরে ইংল্যান্ডে এই দুরারোগ্য ব্যাধির আক্রমণে লোক দেশ ছেড়ে পালাবার অবস্থায় চলে এসেছিল। ডাক্তার চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা অনেক অসাধ্য সাধন করেছেন বটে, কিন্তু বহু চেষ্টা করেও গুটি বসম্ভের আক্রমণ থেকে মানুষকে রক্ষা করবার কোন উপায় করতে পারেননি।

ইতিহাস থেকে জানা যায় ৯০০ খ্রিঃ পারস্যের চিকিৎসকরা কেবল বুঝতে পেরেছিলেন যে হাম ও গুটি বসন্ত সম্পূর্ণ আলাদা দুটি রোগ। কিন্তু তার কোন প্রতিষেধকের কথা তারা বলে যেতে পারেন নি। ১৭১৭ খ্রিঃ চিনদেশে সর্বপ্রথম গুটি বসন্তের প্রতিষেধক হিসেবে টিকাদান রীতি প্রচলিত হয়েছিল। পরে এই পদ্ধতি ইংলন্ডে প্রচারিত হয়েছিল। এখন টিকা বলতে আমরা যা বুঝি সেকালে তেমন উন্নত ব্যবস্থা যে ছিল না তা বলাই বাহুল্য৷ আক্রান্ত রুগীর চামড়া কোন ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঁচড়ে সেখানে গুটি বসন্তের গুটিরসে ভেজা সুতো তাগার মত করে বেঁধে দেওয়া হত।

এই ব্যবস্থায় ভাল ফল পাওয়া যেত ক্বচিৎ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগাক্রান্ত রোগীর রোগভোগে মৃত্যু ঘটত। শেষ পর্যন্ত ওই চৈনিক টিকা বাতিল হয়ে গিয়েছিল। সেই যুগে অনেক প্রতিভাবান চিকিৎসকই গুটিবসন্তের প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য গবেষণা আরম্ভ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে যিনি সাফল্য লাভ করেছিলেন তার নাম এডওয়ার্ড জেনার। তার আবিষ্কৃত প্রতিষেধক মানবজাতিকে অনিবার্য ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছে। মানব ইতিহাসের পরম ত্রাণকর্তা রূপে তিনি মানবজাতির চিরকৃতজ্ঞতা ভাজন হয়ে রয়েছেন।

এডওয়ার্ড জেনার এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Edward Jenner’s Parents And Birth Place

জেনারের জন্ম ১৭৪৯ খ্রিঃ ১৭ ই মে ইংলন্ডের বার্কলে শহরে। তার বাবা ছিলেন গ্লসেস টারশায়ার শহরের সামান্য এক পাদ্রী। শৈশবে শহরের স্কুলেই লেখাপড়া শিখেছিলেন জেনার। তারপর এক অস্ত্র চিকিৎসকের কাছে শিক্ষানবীশের কাজে ঢোকেন। কিছুদিন কাজ করবার পরই ডাক্তারী শাস্ত্রের প্রতি জেনারের আগ্রহ লক্ষ্য করে বিস্মিত হন সেই চিকিৎসক।

তিনি যে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ ছিলেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। জেনারের মধ্যে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ইঙ্গিত তাঁর দৃষ্টিতে ধরা পড়েছিল। তিনি স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে একটি ব্যক্তিগত চিঠিতে বিস্তারিত জানিয়ে জেনারকে পাঠালেন ইংলন্ডের প্রখ্যাত অস্ত্রচিকিৎসক ও জীবাণু তাত্ত্বিক ডাক্তার জন হান্টারের কাছে। তখন জেনারের বয়স একুশ। সময়টা ১৭৭০ খ্রিঃ। অসাধারণ চিকিৎসকও বিশিষ্ট বিজ্ঞানী হিসেবে হান্টার সুপরিচিত ছিলেন। বিজ্ঞানের নানা বিষয়ের ওপরেই তাঁর ছিল অগাধ পান্ডিত্য।

জেনারকে চিনতে তাঁর ভুল হল না। নতুন প্রতিভাকে সাদরে স্বাগত জানালেন। নিজের কাজের সঙ্গে সানন্দে যুক্ত করে নিলেন জেনারকে। ডাঃ হান্টারের সঙ্গে থাকতে থাকতেই ডাক্তারী পড়া শুরু করেন। ভূ – বিজ্ঞান, অরনিয়োলজি বা পক্ষিবিজ্ঞান, ঈলের জীবনচক্র, শজারুর শারীরবৃত্তও তাপমাত্রা ইত্যাদি বিষয়েও শিক্ষালাভ করেন। জেনারের লেখাপড়া, থাকা – খাওয়ার যাবতীয় খরচ ডাঃ হান্টারই বহন করতেন। হাত খরচের জন্য জেনারকে একটা পার্টটাইম কাজও জুটিয়ে দিয়েছিলেন ডাঃ হান্টার।

এডওয়ার্ড জেনার এর প্রথম জীবন: Edward Jenner’s Early Life

স্যার জোসেফ ব্যাঙ্কস বলে একজন অভিজাত শৌখিন ব্যক্তি সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের একটা সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছিলেন। তিনি একটা বিশাল সংগ্রহ যোগাড় করেছিলেন ১৭৭৬ খ্রিঃ ক্যাপ্টেন কুকের সমুদ্র যাত্রা থেকে। জেনার এই সংগ্রহশালাতেই কাজ পেয়েছিলেন। তাঁর কাজ ছিল সমস্ত নমুনা বৈজ্ঞানিক নিয়ম অনুসারে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা। কাজটা এমনই কৌতূহলদ্দীপক ছিল আর জেমস মনেপ্রাণে মজে গিয়েছিলেন যে তিনি একসময় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন সব ছেড়েছুড়ে ক্যাপ্টেন কুকের দ্বিতীয় সমুদ্র যাত্রার সঙ্গী হয়ে বেরিয়ে পড়বেন।

অবশ্য শেষ পর্যন্ত তার এই চিন্তা কোন অজ্ঞাত কারণে আর কার্যকরী করা হয়ে ওঠেনি। ধৈর্য ধরে ডাক্তারী শিক্ষা সম্পূর্ণ করেন। মানবজাতির পরম সৌভাগ্য যে জেনার ডাক্তারি ছেড়ে অন্যদিকে যাননি। তাহলে গুটি বসন্তের প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য আমাদের আরও কত যুগ অপেক্ষা করতে হত কে জানে ? এতদিনে গোটা পৃথিবীর আরো কত অসংখ্য প্রাণ অকালে ঝরে যেত, তা ভাবলেও আতঙ্কিত হতে হয়।

এডওয়ার্ড জেনার এর কর্ম জীবন: Edward Jenner’s Work Life

ডাক্তারী পড়া শেষ করে জেনার একসময়ে ফিরে এলেন নিজের বার্কলে শহরে। একটা ডিসপেনসারি খুলে রোগীদেখার কাজও আরম্ভ করলেন। সেই সময়ে গো – বসন্তের প্রকোপও কিছু কম ছিল না। এইজন্য গোয়ালাদের খুবই দুর্ভোগ ভুগতে হত। ডাক্তারিতে নেমে এই গো – বসন্ত নিরাময়ের ডাক পেলেন জেনার। গরুর চিকিৎসা করতে গিয়ে একটা অদ্ভুত বিষয় নজরে পড়ল জেনারের ! গো বসন্ত গাভীর বাঁট থেকে গোয়ালার হাতে ছড়িয়ে পড়ত। ফলে অনেক গোয়ালা ও গোয়ালিনীর শরীরেও বসন্তের ব্রন কয়েকদিন বাদেই দেখা দিত। আশ্চর্যের বিষয় এ নিয়ে বিশেষ ভুগতে হত না তাদের।

কিছুদিন পরে একসময়ে সেই ব্রন মিলিয়েও যেত। সেযুগের চিকিৎসা বিজ্ঞানীর এই ব্যাপারটা সকলেই জানতেন। কিন্তু এ নিয়ে তাদের মনে কখনো কোন প্রশ্ন দেখা দেয়নি। জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেনের ডাক্তাররাও কখনো এর মধ্যে নতুন কিছু দেখতে পাননি। জেনার কিন্তু এই ব্যাপারটা নিয়েই গভীর ভাবনায় পড়ে গেলেন। জেনার এবার অনুসন্ধানে নামলেন। গোয়ালাদের পাড়ায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে চমকপ্রদ এক তথ্য আবিষ্কার করলেন। এক গোয়ালিনী জানালেন গাভীর বাঁট ঘেঁটে যাদের শরীরের অন্যস্থানে গোবসন্তের ফুসকুরি দেখা দিয়েছে, তারা গুটিবসন্তের রুগীদের শুশ্রুষা করেও গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয়নি।

এমন ঘটনার কারণ খুঁজতে গিয়ে ১৭৭৫ খ্রিঃ জেনার গো ও গুটি বসন্তের যোগসূত্র আবিষ্কার করে ফেলেন। বুঝতে পারেন গো – বসন্ত ঘাঁটা গোয়ালাদের শরীরে গুটিবসন্তের প্রতিরোধশক্তি গড়ে ওঠে যে কোন কারণেই হোক। চলল এরপরে গবেষণা। দিনের পর দিন কেটে যেতে লাগল। গবেষণার এক পর্যায়ে জেনার বুঝতে পারেন, গো – বসন্তের ফুসকুড়ি শরীরে উঠলেই যে গুটিবসন্তের প্রতিরোধশক্তি গড়ে উঠবে তেমন কোন নিশ্চয়তা নেই। কারণ গো – বসন্ত দু ধরনের। এক ধরনের গো – বসন্ত মানব শরীরে গুটি বসন্তকে প্রতিরোধ করতে পারে। অন্য ধরনের গো – বসন্তের সেই ক্ষমতা থাকে না।

আবার প্রথম ধরনের গো – বসন্তের জীবাণু শরীরে যখন তখন কাজ করে না। গরুর বসন্ত হবার পর একটা নির্দিষ্ট সময়ে গোবীজে গুটি বসন্তের প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। এইভাবে বিন্দু বিন্দু করে এগিয়ে দীর্ঘ একুশ বছর কেটে গেল গবেষণার মধ্যে। শেষ পর্যন্ত জেনার সফল হলেন। এবার তৈরি হলেন কোন মানবশরীরে তাঁর সাধনার সার্থকতার প্রমাণ দেখার জন্য।

১৭৯৬ খ্রিঃ ১ লা জুলাই দিনটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। সারা নেলসেস নামের এক গোয়ালিনী মানবকল্যাণের হিত কামনায় নিজের আটবছরের ছেলে জেমস ফিপসকে ওইদিন জেনারের কাছে নিয়ে এলেন। ছেলের ওপরেই পরীক্ষা চালাবার অনুমতি দিলেন। জেনার ব্যর্থ হলে গুটিবসন্তের আক্রমণে ছেলেটি মারা যাবে একথা জেনেও। অভিভূত জেনার গো – বসন্তের প্রথম ধরনের গুটি থেকে নির্দিষ্ট সময়ে পুঁজরস সংগ্রহ করে ফিপসের শরীরে টিকা দিলেন।

টিকা দেবার সাত চল্লিশ দিনের মাথায় পুনরায় ফিপসের শরীরে গুটিবসন্তের মারাত্মক পুঁজ ঢুকিয়ে দেওয়া হল। নেলসেস ও জেনার আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় প্রহর গুণতে লাগলেন। কিন্তু দেখা গেল ফিপস নিরাপদেই রইল। তার শরীরে গুটিবসন্তের আক্রমণ ঘটল না। বেশ কিছুদিন নিজের তত্ত্বাবধানে ফিপসকে রেখে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিন্ত হলেন জেনার। এরপর পরপর ২৩ জন গুটি বসন্তের রোগীকে জেনার তাঁর আবিষ্কৃত টিকা প্রয়োগ করে সারিয়ে তুললেন।

১৭৯৮ খ্রিঃ জেনার পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে তার গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করলেন। চারটি ছবি সহ একটি বই প্রকাশ করলেন, নাম দিলেন Inquiry into the causes and effects of variance vaccinae | এই বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে মানব ইতিহাসের পাতায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। গোড়ার দিকে গো – বীজের কার্যকারিতা নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহের ভাব থাকলেও যখন দেখা গেল কাতারে কাতারে গুটি বসন্তের রুগী নিরাময় হয়ে যাচ্ছে, তখন সকল ভয় দূর হল।

চতুর্দিকে জেনারের জয়জয়কার ঘোষিত হল। প্রথমে ইংলন্ডে তারপরে সমগ্র ইউরোপ ও সারা বিশ্বে জেনারের গো – বীজ টিকাদান পদ্ধতি প্রচলিত হয়ে গেল। আবিষ্কারের প্রথম দেড় বছরে কেবল ইংলন্ডেই বারো হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছিল। একবছরের মধ্যে গুটিবসন্তে মৃতের সংখ্যা ২০১৮ থেকে ৬২২ সংখ্যায় নেমে এল। সাধারণ এক পাদ্রির ছেলে নিজের শ্রম, নিষ্ঠা, সাধনা ও মানবহিতৈষণার গুণে বরণীয় মানবপ্রেমিক রূপে বিশ্ববন্দিত হলেন।

১৮০৩ খ্রিস্টাব্দেই ইংলন্ডে প্রতিষ্ঠিত হল রয়াল জেনারিয়ান সোসাইটি। গোটা বিশ্ব থেকে গুটিবসন্তের অভিশাপ দূর করার ব্রত নিয়েই গঠিত হল এই সংস্থা। তাদের ঐকান্তিক চেষ্টায় আজ পৃথিবী থেকে গুটি বসন্তের ভয় চিরতরে দূর হয়েছে।

এডওয়ার্ড জেনার এর মৃত্যু: Edward Jenner’s Death

১৮২৩ খ্রিঃ ৭৫ বছর বয়সে জেনারের মহাজীবনের অবসান ঘটে।

Leave a Comment