প্রবাল প্রাচীর গড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ

প্রবাল প্রাচীর গড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ: প্রবাল প্রাচীর সামুদ্রিক পরিবেশে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এক প্রকার সামুদ্রিক কীটের দেহাবশেষ থেকে এই প্রবাল প্রাচীর গুলির সৃষ্টি হয়ে থাকে। কিন্তু সব সামুদ্রিক পরিবেশে এই প্রবাল কীট গুলো জন্মাতে পারে না তাই সমুদ্রের সর্বত্র প্রবাল প্রাচীর দেখা যায় না। এই প্রবাল কিট গুলির বেঁচে থাকার জন্য কিছু অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রয়োজন থাকে। তাই যেখানে এই সব অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় সেখানেই কেবলমাত্র প্রবাল প্রাচীর এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রবাল প্রাচীর গড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ গুলি সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো। 

উষ্ণতা – প্রবাল কেবল মাত্র ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে যেখানে গড় বার্ষিক উষ্ণতা 20 ডিগ্রি থেকে 21 ডিগ্রি সেলসিয়াস সেখানে জন্মায়। কারণ প্রবাল কীট খুব ঠাণ্ডা বা উষ্ণ জলে জন্মাতে পারে না। 

গভীরতা – প্রবাল 60-77 মিটারের বেশি গভীরতায় বাঁচতে পারে না কারণ 77 মিটারের বেশি গভীরতায় সূর্যালোক খুব অল্প প্রবেশ করতে পারে এবং অক্সিজেনের পরিমাণ ও থাকে খুব কম। M.S Ladd এবং J. Hoffmeister এর মতে প্রকৃত গভীরতা 60-91 মিটার হওয়া উচিত। 

লবনতা – বেশি লবনতা প্রবালের পক্ষে ক্ষতিকারক কারণ বেশি লবনতা যুক্ত জলে ক্যালসিয়াম কার্বনেট খুব কম থাকে। কারণ প্রবালের বৃদ্ধির জন্য চুনের দরকার পড়ে। 27 থেকে 30 সহস্রাংস লবনতা যুক্ত জলে প্রবাল বেশি গড়ে ওঠে। 

সমুদ্র স্রোত ও তরঙ্গ – সমুদ্র স্রোত ও সমুদ্র তরঙ্গ প্রবালের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে কারণ এগুলি প্রবালের জন্য খাদ্য সরবরাহ করে। সেই জন্য প্রবাল উন্মুক্ত সমুদ্রে বেশি গড়ে ওঠে। উপহ্রদ বা আবদ্ধ সমুদ্রে খাদ্যের অভাবে প্রবাল প্রাচীর গড়ে ওঠে না। 

নিমজ্জিত মঞ্চের অবস্থান – যে সকল সামুদ্রিক মঞ্চের গভীরতা 50 ফ্যাদম বা 91 মিটার এর বেশি সেগুলি প্রবাল প্রাচীর গড়ে ওঠার আদর্শ। 

মানুষের ভূমিকা – মানুষের অর্থনৈতিক কার্যাবলী, যেমন – বৃক্ষ চ্ছেদন, শিল্পায়ন প্রভৃতি বিশ্ব উষ্ণায়ন সৃষ্টি করে যা প্রবাল সৃষ্টিতে বাধা প্রদান করে। কারণ প্রবাল খুব উষ্ণ পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে না।

পলিমুক্ত স্বচ্ছ জল –  প্রবাল কীট পলি যুক্ত অস্বচ্ছ জলে বেঁচে থাকতে পারে না। তাই নদীর মোহনা অঞ্চলে প্রবাল প্রাচীর দেখা যায় না।

স্বাদু বা মিষ্টি জল – নদীর স্বাদু বা মিষ্টি জলেও প্রবাল প্রাচীর বেঁচে থাকতে পারে বলে নদীতে প্রবাল প্রাচীর দেখা যায় না। 

Leave a Comment