এভারিস্ট গ্যালোইস জীবনী – Evariste Galois Biography in Bengali

এভারিস্ট গ্যালোইস জীবনী: gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Evariste Galois Biography in Bengali. আপনারা যারা এভারিস্ট গ্যালোইস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী এভারিস্ট গ্যালোইস এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

এভারিস্ট গ্যালোইস কে ছিলেন? Who is Evariste Galois?

Évariste Galois (25 অক্টোবর 1811 – 31 মে 1832) একজন ফরাসি গণিতবিদ এবং রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। কৈশোরে থাকাকালীন, তিনি একটি বহুপদকে র্যাডিকেল দ্বারা সমাধানযোগ্য হওয়ার জন্য একটি প্রয়োজনীয় এবং পর্যাপ্ত শর্ত নির্ধারণ করতে সক্ষম হন , যার ফলে 350 বছর ধরে খোলা একটি সমস্যা সমাধান করা হয়। তার কাজ গ্যালোইস তত্ত্ব এবং গ্রুপ তত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিল, বিমূর্ত বীজগণিতের দুটি প্রধান শাখা তিনি একজন কট্টর প্রজাতন্ত্রী ছিলেন এবং 1830 সালের ফরাসি বিপ্লবকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার সাথে ব্যাপকভাবে জড়িত ছিলেন । তার রাজনৈতিক সক্রিয়তার ফলস্বরূপ, তাকে বারবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কয়েক মাসের এক জেলের সাজা ভোগ করতে হয়েছিল। যে কারণে অস্পষ্ট থেকে যায়, জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই তিনি একটি দ্বন্দ্বে লড়াই করেন এবং তিনি যে আঘাতের শিকার হন তাতে মারা যান।

এভারিস্ট গ্যালোইস জীবনী – Evariste Galois Biography in Bengali

নামএভারিস্ট গ্যালোইস
জন্ম25 অক্টোবর 1811
পিতাNicolas-Gabriel Galois
মাতাAdélaïde-Marie Galois
জন্মস্থানবুর্গ-লা-রেইন, ফরাসি সাম্রাজ্য
জাতীয়তাফরাসি
পেশাগণিতবিদ, রাজনৈতিক কর্মী
মৃত্যু31 মে 1832 (বয়স 20)

এভারিস্ট গ্যালোইস এর জন্ম: Evariste Galois’s Birthday

এভারিস্ট গ্যালোইস 25 অক্টোবর 1811 জন্মগ্রহণ করেন।

এভারিস্ট গ্যালোইস এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Evariste Galois’s Parents And Birth Place

গালোয়া এভারিস্ত জীবদ্দশায় রাজনীতিক ও বিপ্লবী হিসেবে তিনি পরিচিত হয়েছিলেন। মৃত্যুর পরে তাঁরই বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচয় লাভ করে বিস্মিত হয়েছিল দেশবাসী। গণিত বিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন গালোয়া এভারিস্ত। প্রথাবদ্ধ শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছিল না অথচ বিজ্ঞানী হিসেবে বিশ্ববন্দিত হয়েছেন বিজ্ঞান জগতে এমন ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব কখনো কখনো ঘটেছে। সেই মুষ্টিমেয় প্রতিভাধরদের মধ্যে গালোয়া অন্যতম।

স্কুলে কলেজে শিক্ষালাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন তিনি। তার ওপর স্বল্প দৈর্ঘ্যের জীবনও ছিল তাঁর ঘাত প্রতিঘাতময়। তৎসত্ত্বেও গণিতশাস্ত্রের চর্চা ও গবেষণা থেকে সরে আসেন নি তিনি। তার নীরব সাধনা উচ্চতর গণিতের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সমর্থ হয়েছিল। ফ্রান্সে জন্মেছিলেন গালোয়া, ১৮১১ খ্রিঃ।

এভারিস্ট গ্যালোইস এর প্রথম জীবন: Evariste Galois’s Early Life

স্কুলের ছাত্রাবস্থাতেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁর বিপ্লবী পরিচয়ই তাঁকে উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছিল। একোল নর্মাল স্কুলের কর্তৃপক্ষ তাকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করতে বাধ্য হন। দ্বিতীয়বার স্কুলে শিক্ষালাভের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আর কোনদিন ভর্তি হবার চেষ্টা করেন নি। গণিত ছিল তাঁর প্রিয় বিষয়। রাজনীতির জীবনের কর্মব্যস্ততার মধ্যে যখনই সময় সুযোগ মিলত গণিতের পঠন – পাঠন ও চর্চায় মেতে উঠতেন।

খুঁজে খুঁজে প্রয়োজনীয় বইপত্রও নিজেই সংগ্রহ করে আনতেন। স্কুলে পড়ার অভিলাষ পরিত্যাগ করলেও গণিতের চর্চা ত্যাগ করলেন না। ত্যাগ করেননি রাজনৈতিক কার্যকলাপ এবং বিপ্লবের পথ। রাজনীতি বাল্যবয়স থেকেই তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল নেশার মত। শাসক শক্তির বিরুদ্ধে যে বিপ্লব আন্দোলনের শরিক তার চাকরির চেষ্টা দেশে সফল হওয়া দুরূহ। গালোয়াও দু – একবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বিরত হন।

তবে দৈবক্রমেই জীবিকা অর্জনের একটা পথ হয়ে গিয়েছিল। এক ধনী ব্যক্তি গালোয়ার প্রতিভার পরিচয় পেয়ে তাঁকে পুত্রের গৃহশিক্ষক নিযুক্ত করেন। এই সামান্য রোজগারই ছিল তাঁর জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু গালোয়ার ভাগ্যে এটুকুও সইল না। রাজনীতির আবর্তে পড়ে এই কাজটুকুও হারাতে হল। ফ্রান্সের বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী দলের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ গ্রহণের ফলে শেষ পর্যন্ত ১৮৩০ খ্রিঃ গালোয় কারারুদ্ধ হলেন।

কারাগারে থাকতে হল কিছুকাল। দণ্ডভোগ শেষ হলে মুক্তিলাভ করলেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই দ্বিগুণ উৎসাহে বিপ্লবী কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। গালোয়ার বিপর্যস্ত জীবনের পরিসমাপ্তি ঘনিয়ে এসেছিল নিঃশব্দে। মাত্র একুশ বছর বয়সে ১৮৩২ খ্রিঃ তিনি এক মহিলার প্রেমে পড়েন। এই প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছুদিনের মধ্যেই এক দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হল তাকে এবং সেই প্রতিদ্বন্দ্বীতায় পরাজিত ও নিহত হলেন।

সর্বপ্রকার প্রতিবন্ধকতাকে চ্যালেঞ্জ জানাবার মত সাহস ও বীরত্ব ছিল গালোয়ার। তিনি ছিলেন বীর বিপ্লবী। জীবদ্দশায় বিপ্লবীরূপেই পরিচিত ছিলেন তিনি। বিপ্লবের দুর্যোগময় পথে সংগ্রামী সৈনিকের ভূমিকায় থেকেই গালোয়া নীরবে গণিতের সাধনা করেছিলেন। মাত্র একুশ বছর বয়সের মধ্যেই নানান তথ্য আবিষ্কার করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তাঁর সহযোদ্ধাদের এবিষয়ে কাউকেই কিছু জানাতেন না। গবেষণার খুঁটিনাটি সহ সব কিছু লিখে রাখতেন একটি ডায়েরিতে।

দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হবার আগে তিনি এক বন্ধুকে প্রথম পত্র দিয়ে তাঁর গবেষণার কথা জানান। সেই প্রতিদ্বন্দ্বীতায় তিনি মারা গেলে বন্ধুটি তার গবেষণাগুলি প্রকাশের চেষ্টা করেন। গোড়ার দিকে একাজে যথেষ্ট বাধা পেতে হয়েছিল গালোয়ার বন্ধুটিকে। শেষ পর্যন্ত গালোয়ার মৃত্যুর প্রায় চোেদ্দ বছর পরে গবেষণা প্রবন্ধগুলি প্রকাশের সুযোগ পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে অনেক প্রবন্ধ হারিয়েও গেছে। সেগুলো কোনদিনই আর খুঁজে পাওয়া যায় নি।

১৮৪৬ খ্রিঃ থেকে একটি পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে গালোয়ার প্রবন্ধগুলি প্রকাশিত হয়েছিল। এই বিপ্লবী বিজ্ঞানীর প্রতিভার পরিচয় পেয়ে বিস্মিত হলেন ফ্রান্সের জনসাধারণ। বিজ্ঞানীরা প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত হলেন। তারা স্বীকার করলেন গালোয়ার আবিষ্কৃত তথ্যগুলি গণিতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণিত শাস্ত্রের যে আবিষ্কারটি গালোয়াকে অমরত্ব দান করেছে তা হলো সমীকরণের বীজতত্ত্ব।

তার এই অবদানকে স্মরণীয় করে রাখা হয়েছে সসীম ক্ষেত্রকে গালোয়া ফিল্ড এবং সমীকরণের বীজের রূপকে গালোয়া সংযোগ নামকরণ করে। মহাকাল প্রতিভাকে অবহেলা করে না। তাই মৃত্যুর চোদ্দ বছর পরেও যথাযোগ্য সম্মান পেয়েছিলেন গালোয়া। কিন্তু অকালেই অপচয় হয়েছিল এই প্রতিভার। ফলে নিঃসন্দেহে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বিজ্ঞানের অঙ্গন।

Leave a Comment