ফা-হিয়েন জীবনী | Fa Hien Biography in Bengali

ফা-হিয়েন জীবনী: Gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Fa Hien Biography in Bengali. আপনারা যারা ফা-হিয়েন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ফা-হিয়েন এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

ফা-হিয়েন কে ছিলেন? Who is Fa Hien?

ফা-হিয়েন ইংরেজি: Fa Xian ,প্রথাগত চীনা: 法顯; সরলীকৃত চীনা: 法显; ফিনিন: Fǎxiǎn; also romanized as Fa-Hien or Fa-hsien) (৩৩৭ – c. ৪২২ CE) প্রথম চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী, যিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করে সে সম্পর্কে বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে যান। এ যাজকের নামের সঠিক উচ্চারণ সম্ভবত ফাজিয়ান এবং তা ফা-সিয়েন হিসেবেও লেখা হয়। শানশি-র অধিবাসী ফা-হিয়েন মাত্র তিন বছর বয়সে বৌদ্ধ সংঘে যোগ দেন।

নবব্রতিত্ব লাভ করার পর ফা-হিয়েনের মনে বৌদ্ধ ধর্মের মঠতান্ত্রিক নীতি সংবলিত গ্রন্থ ‘বিনয় পিটক’-এর সন্ধানে ভারতে আসার ইচ্ছা জাগ্রত হয়। ৩৯৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তার বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।

ফা-হিয়েন জীবনী – Fa-Hien Biography in Bengali

নামফা-হিয়েন
জন্ম৩৩৭ খৃষ্টাব্দ
পিতাসাং হাই
মাতা
জন্মস্থানপিংইয়াং উয়াং, আধুনিক লিনফেন সিটি, শানসিতে
জাতীয়তাচীনা
পেশাবৌদ্ধ সন্ন্যাসী
মৃত্যু৪২২ খৃষ্টাব্দ

ফা-হিয়েন এর জন্ম: Fa-Hien’s Birthday

ফা-হিয়েন ৩৩৭ খৃষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।

ফা-হিয়েন এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Fa Hien’s Parents And Birth Place

সুপ্রসিদ্ধ চীনা বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং পর্যটক ফা হিয়েন আনুমানিক খিস্ট্রীয় ৪ র্থ শতকে জন্ম গ্রহণ করেন। ইনি ছিলেন চীনের শান – সি জনপদের ফিং ইয়াং – এর অন্তর্গত উ – ইয়াং – এর অধিবাসী।

ফা-হিয়েন এর কর্ম জীবন: Fa-Hien’s Work Life

খুব অল্পবয়সেই তিনি বৌদ্ধসঙ্ঘে যোগদান করেন। পরবর্তী জীবনে আচারনিষ্ঠা ও শ্রদ্ধাবান ভিক্ষুরূপে খ্যাতিলাভ করেন। বুদ্ধদেব ও বৌদ্ধধর্মের জন্মভূমি ভারতবর্ষ। চীন দেশের বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এই কারণে ভারত ভূমি দর্শনের প্রবল আগ্রহ বোধ করতেন। এই দেশকে তৎকালে বৌদ্ধরা মহাতীর্থ রূপেই গণ্য বৌদ্ধ ধর্মানুরাগীদের মধ্যে ফা – হিয়েন ছিলেন অন্যতম প্রধান।

তিনি একসময় সঙ্কল্প নিলেন যে ভাবেই হোক দুর্গম ও দুস্তর পথ অতিক্রম করে ভারত ভূমিতে তীর্থ করতে আসবেন। এই পুণ্যকাজে সঙ্গী জুটতে বিলম্ব হল না। ফা – হিয়েন ৩১৯ খ্রিঃ চারজন চীনা ভিক্ষু হুই কিং, তাও কিং, হুই ইয়ং ও লুই ওয়েইকে সঙ্গে নিয়ে মধ্য এশিয়ার পথে ভারতবর্ষের দিকে যাত্রা করলেন। কিছু দিনের মধ্যেই পথে ভারতগামী আরেকটি চীনা ভিক্ষুদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ হল তাদের। তাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে তারা প্রথমে তুন হুয়াং থেকে বর্তমান কারাসর এসে পৌঁছলেন।

এখান থেকে দুর্গম ও বিপদসঙ্কুল মরুপথ অতিক্রম করে খোটানে এসে পৌঁছান। সেই সময় খোটান মধ্য এশিয়ার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৌদ্ধসংস্কৃতি কেন্দ্র রূপে বিখ্যাত ছিল। এখানে কিছুদিন অবস্থান করলেন তাঁরা। পরে খোটান থেকে ফা – হিয়েন ও তার সঙ্গীরা পামীর অঞ্চল পার হয়ে গিলগিটের পথে কাশ্মীরে এসে পৌঁছান। দুর্গম পথের অপরিসীম কষ্টে সঙ্গীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রোগব্যাধির আক্রমণে তাদের উৎসাহ স্তিমিত হয়ে পড়েছিল।

শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছান সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই আশঙ্কা দেখা দিল ৷ ফা – হিয়েন কিন্তু দমলেন না। অদম্য উৎসাহ নিয়ে তিনি পথে বেরিয়ে পড়লেন। পথের সমস্ত ক্লেশ দুঃখ কষ্ট মেনে নিয়ে তিনি দীর্ঘকাল ধরে উত্তর ভারতের উড্ডিয়ান, সুবাস্ত, পুরুষপুর, তক্ষশিলা, মথুরা, কনৌজ, শ্রাবস্তী, কপিলাবস্তু, পাটলিপুত্র, রাজগৃহ, বুদ্ধগয়া, বারাণসী প্রভৃতি বৌদ্ধতীর্থ ও বৌদ্ধশাস্ত্র কেন্দ্রগুলি ঘুরে বেড়ালেন। ফা – হিয়েন দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে ভারতে এসেছিলেন।

প্রথমতঃ বৌদ্ধতীর্থ পরিদর্শন এবং দ্বিতীয় হল, বৌদ্ধশাস্ত্রগ্রন্থের পুঁথি সংগ্রহ ও প্রাচীন সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা করা। তাই পরিভ্রমণকালে তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে বহুবিধ বৌদ্ধশাস্ত্রের পুঁথি সংগ্রহ করেছিলেন। তীর্থস্থানগুলিতে তাকে বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে থাকতে হয়েছিল। সেই সময়ে তিনি একাগ্র নিষ্ঠা নিয়ে খুব কম সময়ের মধ্যেই সংস্কৃত ভাষা আয়ত্ত করেন। সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা ও পুঁথি নকল করার উদ্দেশ্যে তিনি মগধের রাজধানী পাটলিপুত্রের বিভিন্ন বিহারে তিন বৎসর অবস্থান করেন।

সংস্কৃত ভাষা জানা থাকায় সহজেই তিনি ভারতবাসীদের সান্নিধ্যে আসতে পেরেছিলেন। তার ভাববিনিময়ের মাধ্যম ছিল সংস্কৃত ভাষা। ফা – হিয়েন বৌদ্ধসঙ্ঘের অনুশাসনের প্রতি ছিলেন শ্রদ্ধাবান। বৌদ্ধদর্শনের বিনয় ভাগের প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। তাই তিনি বৌদ্ধধর্মগ্রন্থের অন্যান্য পান্ডুলিপির সঙ্গে মহাসাঙ্ঘিক সম্প্রদায়ের ও মহীশাসক সম্প্রদায়েব বিনয়পিটক দুটির পান্ডুলিপিও সাগ্রহে সঙ্গে নিয়ে যান। মহাসাঙ্ঘিক বিনয় পরে তিনি চীনা ভাষায় অনুবাদ করেন।

পাটালিপুত্র থেকে বেরিয়ে ফা – হিয়েন প্রথমে চম্পা অর্থাৎ বর্তমান বিহারের ভাগলপুর অঞ্চল এবং সেখান থেকে তখনকার বৌদ্ধধর্মের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র তাম্রলিপ্তি অর্থাৎ বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের তমলুকে আসেন। তৎকালীন তাম্রলিপ্তিতে বাইশটি সঙ্ঘারাম ছিল। এর সবকটিতেই তিনি অবস্থান করেন। দুবছর ধরে বৌদ্ধশাস্ত্র পাঠ, পুঁথি নকল ও বুদ্ধমূর্তির চিত্র ও নকসা অঙ্কনের কাজে নিয়োজিত থাকেন। তাম্রলিপ্তি থেকে ফা – হিয়েন সমুদ্র পথে সিংহলে যান।

এককালে সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য নিজ কন্যা, মতান্তরে ভগ্নি সঙ্ঘমিত্রা ও পুত্র মহেন্দ্রকে সিংহলে প্রেরণ করেছিলেন। সিংহলও ছিল অন্যতম বৌদ্ধভূমি। ফা – হিয়েন সিংহলে দুই বছর অবস্থান করেন এবং প্রচুর বৌদ্ধপুঁথি সংগ্রহ করেন। এখান থেকে বিপদসঙ্কুল সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে তিনি প্রথমে যান যবদ্বীপ। সেখান থেকে যাত্রা করে ৪১৪ খ্রিঃ চীনদেশে ফিরে যান। ভারতীয় ভিক্ষু বুদ্ধভদ্র সেই সময় চীনে অবস্থান করছেন।

ফা-হিয়েন এর রচনা: Written by Fa Hien

ফা – হিয়েন তার সহায়তায় জীবনের অবশিষ্ট সময় ভারত থেকে নিয়ে আসা শাস্ত্রগ্রন্থের পুঁথিগুলির চীনা ভাষায় অনুবাদের কাজে ব্যস্ত থাকেন। তিনি ছয়টি বৌদ্ধগ্রন্থ অনুবাদ করেন। তার মৌলিক গ্রন্থটি ভারত পর্যটনের অভিজ্ঞতার বিবরণ। গ্রন্থটির নামফো কুয়োকি (Fo Kuoki)। ঐতিহাসিক তথ্যে পূর্ণ এই গ্রন্থটিতে ভারত সম্পর্কিত বহু মূল্যবান তথ্যও লিপিবদ্ধ হয়েছে।

ফা – হিয়েন ছিলেন প্রধানতঃ বৌদ্ধধর্ম ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের তথ্যানুসন্ধানী। ফলে অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে তার বিশেষ কৌতূহল না থাকাই স্বাভাবিক। এই কারণেই তার ভ্রমণ কাহিনীতে ভারতের তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থা বা এ বিষয়ের ওপর কোন প্রসঙ্গের আলোচনা বিশেষ পাওয়া যায় না। ফা – হিয়েন যেই সময়ে ভারতে আসেন, তখন উত্তর ভারত শাসন করছিলেন গুপ্তবংশীয় প্রবল পরাক্রান্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য।

ফা – হিয়েন তাঁর রাজ্যে ৪০৫-৪১০ খ্রিঃ পর্যন্ত অবস্থান করেছিলেন। তার গ্রন্থে সাধারণভাবে এই রাজ্যের শাসনপ্রণালী ও প্রজা সাধারণের সুখসমৃদ্ধি ও জীবনযাপন প্রণালীর উল্লেখ থাকলেও তিনি ভ্রান্তি বশতঃ সম্রাটের নামের উল্লেখ করেন নি। এই মৌলিক রচনাটির বাইরে ফা – হিয়েন যে দুটি বৌদ্ধগ্রন্থের অনুবাদ করেন, সেগুলি চীনদেশে বৌদ্ধধর্মের ঐতিহ্যকে সুদৃঢ় করার কাজে সহায়তা করেছে।

পরবর্তীকালে যে সকল বৌদ্ধ ভিক্ষু ভারতবর্ষ পর্যটনে এসেছিলেন তাঁদের প্রত্যেকেরই প্রেরণা জুগিয়েছিল ফা – হিয়েনের ভারত ভ্রমণ বৃত্তান্ত। ফা – হিয়েন ভারতবর্ষের বিভিন্ন বৌদ্ধমন্দির থেকে বুদ্ধমূর্তির মাপ, চিত্র ও নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার এই সংগ্রহ চীনাশিল্পে বুদ্ধমূর্তি নির্মাণে সহায়ক হয়েছে।

ফা-হিয়েন এর মৃত্যু: Fa-Hien’s Death

ফা – হিয়েন বিরাশি বছর বয়সে (মতান্তরে অষ্টাশি) দক্ষিণ চীনের অর্ন্তগত কিং চিউ নামক স্থানে সু – য়ু – সিন – সে নামক সংঘারামে প্রাণত্যাগ করেন।

Leave a Comment