গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ‘র জীবনী – Gopal Chandra Bhattacharya Biography in Bengali

গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ‘র জীবনী: gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Gopal Chandra Bhattacharya Biography in Bengali. আপনারা যারা গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহী গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্যকে ছিলেন? Who is Gopal Chandra Bhattacharya?

গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য (১ আগস্ট ১৮৯৫ – ৮ এপ্রিল ১৯৮১) একজন বাঙালি পতঙ্গবিশারদ ও উদ্ভিদবিদ, যিনি সামাজিক কীটপতঙ্গের ওপর তার গবেষণাকর্মের জন্য বিখ্যাত। বাংলার কীটপতঙ্গ নামক গ্রন্থটি রচনার জন্য ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন। বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে তিনি করে দেখ নামক তিন খন্ডের একটি গ্রন্থও রচনা করেন।

গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ‘র জীবনী – Gopal Chandra Bhattacharya Biography in Bengali

নামগোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য
জন্ম1 আগস্ট 1895
পিতাঅম্বিকাচরণ ভট্টাচার্য
মাতাশশীমুখী দেবী
জন্মস্থানলোনসিং, ফরিদপুর, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাপতঙ্গবিশারদ, উদ্ভিদবিদ
মৃত্যু8 এপ্রিল 1981 (85 বছর বয়স)

গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ‘র জন্ম: Gopal Chandra Bhattacharya’s Birthday

গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ১৮৯৫ সালের ১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।

গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ‘র পিতামাতা ও জন্মস্থান: Gopal Chandra Bhattacharya’s Parents And Birth Place

আমাদের দেশে আধুনিক বিজ্ঞানের চর্চা শুরু হয়েছিল ইংরেজ আমলে। বিজ্ঞানের নানা বিষয়ের অগ্রগতির সংবাদ নিয়মিত ভারতে পৌঁছাতো। তাতেই অনুপ্রেরণা লাভ করেছে এদেশের বিজ্ঞানীদের কর্মপ্রচেষ্টা, ক্রমোন্নতি ঘটেছে বিজ্ঞান গবেষণার। বিজ্ঞানের অন্য অনেক বিষয়ের চর্চা হলেও বিশেষ একটি শাখা এদেশে ছিল একেবারেই অবহেলিত। তা হলো প্রকৃতি বিজ্ঞান।

বিদেশের চার্লস ডারউইন, ফ্যাবার, লরেঞ্জ বা টিনবার্গেন — বিশিষ্ট প্রকৃতি বিজ্ঞানী হিসেবে এঁদের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। বিবর্তনবাদের প্রবক্তা চার্লস ডারউইন প্রায় সমগ্র পৃথিবী পরিভ্রমণ করে তাঁর গবেষণার বিষয় সংগ্রহ করেছেন। সেসব নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পরে তিনি ধারণা করতে পেরেছিলেন তাঁর যুগান্তকারী মতবাদের সূত্রটিকে। বস্তুতঃ প্রকৃতির নানা নিগূঢ় রহস্য উদঘাটনে সারাজীবন ব্যয় করবেন, এমন ধরনের বিজ্ঞানসাধক গোটা পৃথিবীতেই বিরল।

আমাদের দেশে একটি মাত্র মানুষই এই কাজ করেছিলেন, তিনি হলেন গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য। কেবলমাত্র অন্তরের প্রেরণায় তিনি অসীম ধৈর্যও অধ্যবসায় নিয়ে প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করেছেন, দেশের পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ এদের আচার – আচরণ, জীবনযাত্রা প্রণালী ইত্যাদি বিষয়ে তিনি জীবনব্যাপী সাধনা করে গেছেন। এদেশে প্রকৃতিবিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে গোপালচন্দ্র ছিলেন অন্যতম পথিকৃৎ।

গোপালচন্দ্র বিদেশ ভ্রমণ করেননি, কিন্তু দেশের বনবাদাড়, মাঠ – ময়দান, ঝোপজঙ্গল, নদী – নালা – বিল বা মজা পুকুরের ধারে ধারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অপরিসীম ধৈর্যের সঙ্গে পোকামাকড় কীটপতঙ্গের জীবনধারা সম্পর্কে গবেষণা করে গেছেন। পর্যবেক্ষিত সকল বিষয়ের নিখুঁত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন সরল বাংলায়। বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার জলাজঙ্গলে ঘেরা এক গ্রাম লোনসিং। সেই গ্রামে ১৮৯৫ খ্রিঃ ১ লা আগস্ট এক দরিদ্র পরিবারে গোপালচন্দ্রের জন্ম। পিতা অম্বিকাচরণের পারিবারিক পেশা ছিল যজমানি। সংস্কৃত চর্চা ছিল তাঁর নেশা।

মা শশিমুখী ছিলে অত্যন্ত বুদ্ধিমতী ও দৃঢ় চরিত্রের মহিলা। চারটি ছেলেমেয়েকে চরম দুঃখকষ্টের মধ্যে তিনি মানুষ করেছিলেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই গোপালচন্দ্র পিতৃহীন হন। সংসারের অনটন সত্ত্বেও মা তাঁকে গ্রামের পাঠশালায় ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন। গোপালচন্দ্র ছিলেন পিতামাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান। ফলে সংসার চালাবার জন্য তাঁকেও শিশুবয়স থেকেই মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন কাজকর্ম করতে হত।

গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ‘র শিক্ষাজীবন: Gopal Chandra Bhattacharya’s Educational Life

পারিবারিক যজমানি ও পড়াশোনা একই সঙ্গে করতে হতো তাঁকে। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। পাঠশালার পড়া শেষ করে ভর্তি হয়েছিলেন লোনসিং স্কুলে। ক্লাসে বরাবর প্রথম হয়ে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই স্কুল থেকেই ১৯১৩ খ্রিঃ ম্যাট্রিক পাশ করেন প্রথম বিভাগে। সমস্ত ফরিদপুর জেলায় এই পরীক্ষায় তিনিই পেয়েছিলেন সর্বোচ্চ নম্বর। জনৈক বিদ্যানুরাগী ব্যক্তি তার পড়ার খরচ বহন করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

উচ্চতর বিদ্যালাভের আশায় গোপালচন্দ্র ভর্তি হলেন ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে। থাকতেন হস্টেলে। কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে পড়ার সময়ই পৃথিবীব্যাপী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের তোলপাড় শুরু হল। চারিদিকে অভাব অনটন প্রকট হয়ে উঠল। যিনি পড়ার খরচ চালাতেন তিন তা বন্ধ করে দিলেন। বাধ্য হয়ে কলেজ ছেড়ে গোপালচন্দ্রকে বাড়িতে চলে আসতে হল।

গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ‘র কর্ম জীবন: Gopal Chandra Bhattacharya’s Work Life

লোনসিং স্কুলের কৃতি ছাত্রকে স্কুলকর্তৃপক্ষ ভূগোলের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করলেন। সালটা ১৯১৫, গোপালচন্দ্রের বয়স উনিশ। এই স্কুলে পাঁচ বছর পড়িয়েছিলেন তিনি। বিয়েও করলেন এই সময়ের মধ্যেই।

স্কুলে নিয়মিত ক্লাস চালাবার ফাকে ফাকে জল – জঙ্গলে, বন – বাদাড়ে প্রায়ই তিনি ঘুরে বেড়াতেন। কৈশোর থেকেই তার একটা নেশা ছিল, ঝোপজঙ্গলে, মজা পুকুরের ধারে ঘুরে কীটপতঙ্গের গতিবিধি এবং আচার – আচরণ লক্ষ করা। লোনসিংস্কুলে এ বিষয়ে তাঁর আগ্রহ বৃদ্ধি করেছিলেন একজন শিক্ষক – যোগেন মাস্টার। পরবর্তীকালে তার স্মৃতিচারণে গোপালচন্দ্র লিখেছেন: ‘মাঝে মাঝে যোগেন মাস্টার ছেলেদের ডেকে এনে ম্যাজিকের খেলা দেখাতেন। একটা মজার জিনিস দেখাবেন বলে একদিন তিনি সবাইকে ডেকে নিয়ে এলেন। পকেট থেকে গাঢ় খয়েরি রঙের কতকগুলি বিচি বের করে টেবিলের ওপরে রাখার কয়েক মিনিট পরেই একটি বিচি প্রায় চার ইঞ্চি উঁচুতে লাফিয়ে উঠল। তারপর এদিক ওদিক থেকে প্রায় সবগুলি থেকে থেকে লাফাতে শুরু করে দিল। অবশেষে মাস্টারমশাই ছুরি দিয়ে একটা বিচি চিরে ফেলতেই দেখা গেল তার ভেতরে রয়েছে একটা পোকা (লার্ভা)।’….. সুরেন নামে একটা ছেলে বন – জঙ্গল চষে বেড়াত। সেই চাষীর ছেলের কাছেও কীটপতঙ্গ সম্বন্ধে নানা তথ্য জেনেছেন তিনি।

এভাবেই গোপালচন্দ্রের মনে পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ সম্পর্কে কৌতূহল জেগেছিল। নতুন কোন পোকা বা গাছপালা বা লতাপাতার কোনও বৈশিষ্ট্য নজরে পড়লে তাঁর মনে নানা প্রশ্ন জাগত। অবশ্য অধিকাংশ প্রশ্নেরই উত্তর সেই সময় তিনি পেতেন না। অত্যন্ত অনুসন্ধিৎসুও কৌতূহলী মন এবং পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ছিল গোপালচন্দ্রের সহজাত।

স্কুলের মাইনেতে সংসার খরচ কুলতো না। বাধ্য হয়ে সামান্য মাইনের চাকরি ছেড়ে তিনি কলকাতায় চলে এলেন বেশি মাইনের চাকরির চেষ্টায়। চাকরি পেলেন বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সের কাশীপুরের একটি অফিসে। কাজ ছিল টেলিফোন অপারেটরের যদিও একাজে কোন অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল না। এই সময়েই আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর সঙ্গে গোপালচন্দ্রের যোগাযোগ ঘটে অত্যন্ত আকস্মিক ভাবে ৷

এই ঐতিহাসিক যোগাযোগই গোপালচন্দ্রের জীবনে ঘটাল পালাবদল, যা তাকে স্মরণীয় প্রকৃতিবিজ্ঞানী হয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল। পচা গাছপালার জৈব আলো নিয়ে গোপালচন্দ্র একটি লেখা বঙ্গবাসী পত্রিকায় পাঠিয়েছিলেন। ১৯২০ সালের পৌষসংখ্যায় ‘পচা গাছপালার আশ্চর্য আলো বিকিরণের ক্ষমতা’ শিরোনামে পঞ্চশস্য বিভাগে ছাপা হয়েছিল। এই লেখাটি আচার্য জগদীশচন্দ্রের নজরে এসেছিল। তারই সূত্র ধরে বিজ্ঞানাচার্য ডেকে পাঠিয়েছিলেন তাকে। বিষয়টা ছিল আলেয়ার আলো।

বিজ্ঞানাচার্যের ইচ্ছা ছিল বিষয়টা নিয়ে লেখকের সঙ্গে আলোচনা করে বিশদভাবে জানবেন। ‘মনেপড়ে’ শীর্ষক স্মৃতিকথায় এ সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতার অসাধারণ বর্ণনা দিয়েছেন গোপালচন্দ্র। তিনি লিখেছেন: “সন্ধ্যার পর একদিন স্কুল বোর্ডিংয়ে কয়েকজন বসে গল্প করছি। বর্ষাকাল, অনবরত টিপটিপ বৃষ্টি চলছে। হঠাৎ একটা দমকা হাওয়া উঠল। তার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গেল মুষলধারে বৃষ্টি। বোর্ডিং – এর কিছুদূরেই গাছপালা বর্জিত একটা বিস্তীর্ণ প্রান্তরের মাঝখানে মাটি থেকে ৩/৪ হাত উঁচুতে এই বৃষ্টিধারার মধ্যেই হঠাৎ যেন একটা আগুনের গোলা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল।

কিছুক্ষণ পরেই এলোমেলোভাবে ছুটোছুটি করে কিছুদূর গিয়েই আবার অদৃশ্য হয়ে গেল। অন্ধকার রাত্রিতে এই গ্রামের অনেকেই নাকি পাঁচীর মার ভিটাতে আগুন জ্বলতে দেখেছে। কৌতূহল অদম্য হয়ে উঠল — পাঁচীর মার ভিটার ব্যাপারটা দেখতে হবে। দিন কয়েক পরে দুজন সঙ্গী নিয়ে পাঁচীর মার ভিটার দিকে রওনা হলাম। সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হয়ে গেছে — অনবরত টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। সঙ্গে ছাতা, লন্ঠন ও দেশলাই নিয়েছি। ঝোপঝাড় ও জঙ্গলের মধ্য দিয়ে কর্দমাক্ত পিছল রাস্তা এঁকেবেঁকে চলে গেছে। এই রাস্তা ধরেই অতি কষ্টে পাঁচীর মার ভিটার উত্তর প্রান্তে এসে পড়লাম।

চারদিক ঘন জঙ্গলে ঘেরা খোলা মাঠের মতো একটা বিস্তীর্ণ জায়গা।…. মাঝে মাঝে এক একটা লতাগুল্মের ঝোপ। এরূপ একটা ঝোপের আড়াল থেকে দক্ষিণ পশ্চিম কোণের সেই জমাট বাঁধা অন্ধকারের মধ্যে যেন একটা স্পষ্ট আলোর রেখা দেখা গেল। …. আরও অগ্রসর হওয়া উচিত কি না ভাবছি – ইতিমধ্যে আলোটা যেন হঠাৎ নিবে গেল ; কিন্তু পরমুহূর্তেই আবার দপ্ করে জ্বলে উঠলো। কিছুক্ষণ ধরে ক্রমাগত এরূপ ব্যাপারই ঘটতে লাগলো।… ভয়ে আমার গা ছমছম করছিল বটে, কিন্তু তবু কেন যেন মনে হচ্ছিল – ওটা ভৌতিক ব্যাপার নয় — অন্য কিছু একটা হবে। সঙ্গীর অনুরোধ উপেক্ষা করে আরও খানিকটা এগিয়ে দেখা গেল প্রায় ৪-৫ হাত দূরেই বেশ বড় একটা অগ্নিকুন্ড। আগুনের শিখা নেই।

কাঠকয়লা পুড়ে যেমন গনগনে আগুন হয়, অনেকটা সেইরকম। আলোর তীব্রতা নেই। স্নিগ্ধ নীলাভ আলোতে আশপাশের ঘাস পাতাগুলি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। পতিত একটা গাছের গুঁড়ি থেকে আলো নির্গত হচ্ছিল। … এই অপরূপ দৃশ্য আর কখনও নজরে পড়েনি। বিস্ময়ের পরিসীমা রইলো না। …. গুঁড়িটার পাশেই, আমাদের দিকে, বেশ বড় একটা কচুগাছ জন্মেছিল। তার পাতা এমনভাবে হেলে পড়েছিল যে, একটু বাতাসেই উপরে নীচে ওঠা – নামা করে আন্দোলিত হত। দূর থেকে আলোটাকে একবার জ্বলতে আবার নিভে যেতে দেখেছিলাম — এখন তার প্রকৃত কারণ বোঝা গেল।

আলেয়ার সম্বন্ধে এই অভিজ্ঞতা যখন হয় তখন গোপালচন্দ্র বিশ – বাইশ বছরের যুবক। লোনসিং গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তখনো পর্যন্ত তার জানা ছিল না যে, পচা ঘাসপাতা, লতাগুল্ম ইত্যাদি জলে ভিজলে তা থেকে মিথেন গ্যাস বের হয়। সেই গ্যাস বাতাসের সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে। এই হলো তথাকথিত ভৌতিক আলো আলেয়া। বিপ্লবী পুলিনবিহারী দাস গোপালচন্দ্রকে নিয়ে গেলেন বিজ্ঞানাচার্যের কাছে। এই সাক্ষাতের পরে জগদীশচন্দ্রের আহ্বানে তিনি যোগ দিলেন নবপ্রতিষ্ঠিত বসু বিজ্ঞান মন্দিরে।

সময়টা ১৯২১ খ্রিঃ। বিজ্ঞান মন্দিরে নানা প্রয়োজনের কথা ভেবে জগদীশচন্দ্র গোপালচন্দ্রকে ইলেকট্রিশিয়ানের প্রশিক্ষণ দেওয়ালেন। বিজ্ঞান বিষয়ের ছবি আঁকার জন্য অঙ্কন শিক্ষার জন্য তাঁকে বেঙ্গল আর্ট স্কুলেও পাঠানো হয়েছিল। গোড়ার দিকে টাইপকরা, যন্ত্রের ড্রয়িং; ফটোতোলা, ব্লক তৈরি নানা ধরনের কাজ তাকে করতে হতো। এসব কাজের ফাঁকে তিনি গাছপালা, পোকামাকড়, কীটপতঙ্গের আচার – আচরণের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহ করতে লাগলেন।

১৯২৮ খ্রিঃ জার্মান প্রকৃতিবিজ্ঞানী হ্যানস মলিশ ভিজিটর প্রফেসর হয়ে বসু বিজ্ঞান মন্দিরে এসেছিলেন। সেই সময় জগদীশচন্দ্রের নির্দেশে গোপালচন্দ্র তাঁর সহকারী হয়ে কাজ করেছিলেন। প্রায় ছয় মাসকাল তাঁর সঙ্গে থেকে কীটপতঙ্গের আকৃতি প্রকৃতি, খাদ্য সংগ্রহের ধারা, আত্মরক্ষার কৌশল, বংশবিস্তার, আলো দেওয়া কীটপতঙ্গ এবং লতাপাতা সম্বন্ধে পর্যবেক্ষণ করে তিনি প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। জগদীশচন্দ্রের উৎসাহে স্বাধীনভাবে নিজের বিষয়ে গবেষণা করবার সুযোগ পেয়েছিলেন গোপালচন্দ্ৰ ৷

তিনি ১৯৩১ খ্রিঃ থেকে ১৯৪১ খ্রিঃ সময়ের মধ্যে ষোলটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন। তার গবেষণার মধ্যে তিনি মাকড়সা, পিঁপড়ে, শুঁয়োপোকা, প্রজাপতি ইত্যাদির জীবন – রহস্যের নানা দিক বিশ্লেষণ করেছেন। তার এই প্রবন্ধগুলি বসু বিজ্ঞান মন্দিরের ট্রানজাকশন, বোম্বে জার্নাল অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটি, সায়েন্স অ্যান্ড কালচার, কারেন্ট সায়েন্স, আমেরিকান সায়েন্টিফিক মান্থলি, ন্যাচারাল হিস্ট্রি ম্যাগাজিন ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

গোপলচন্দ্র ছিলেন স্বভাব – বিজ্ঞানী। তার নীরব সাধনাই এদেশে প্রকৃতি বিজ্ঞানের পথ প্রশস্ত করেছে। পোকা – মাকড় বিষয়ে তার কয়েকটি আবিষ্কার ও গবেষণা ছিল আন্তর্জাতিক স্তরের। গোপালচন্দ্রের গবেষণার ফলে জানা সম্ভব হয়েছিল স্ত্রী ও পুরুষ মাকড়সার আচার – আচরণের পার্থক্য, স্ত্রী – মাকড়সা কর্তৃক পুরুষ মাকড়সাকে গলাধঃকরণ, ডিমের প্রতি স্নেহ – যত্ন, ডুবুরি মাকড়সা, মাছ – শিকারি মাকড়সা, টিকটিকি – শিকারি মাকড়সা প্রভৃতি বিচিত্র বিষয়। শুঁয়োপোকা, বোলতা, ব্যাঙাচি, কানকোটারি পোকা প্রভৃতি সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবিষ্কার করেন গোপালচন্দ্র ৷

মাছখেকো বা পিঁপড়ে অনুকারী মাকড়সার প্রকৃতি ও শিকার ধরার কৌশল সম্বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন তিনি। এক ধরনের মাকড়সার তিনি সন্ধান পেয়েছেন, যারা বিশেষ শ্রেণীর কিছু পিঁপড়ের গায়ের রং, দেহের গঠন ইত্যাদি নিখুঁত অনুকরণ করে স্বচ্ছন্দে পিঁপড়েদের দলে মিশে থাকে। এই কৌশল তারা অবলম্বন করে পিঁপড়েদের খাদ্যে ভাগ বসাবার জন্য। তিনি এই জাতের মাকড়সার নাম দিয়েছেন অনুকারী মাকড়সা ৷ পিঁপড়েদের স্ত্রী পুরুষ ও কর্মীসংখ্যা নির্ধারণের বিষয় নিয়ে গোপালচন্দ্র নানা পরীক্ষা – নিরীক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবিষ্কার করেছিলেন।

তার গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, বিশেষ খাদ্যবস্তুর প্রভাবে কোনও কোনও শ্রেণীর পিঁপড়ে বাচ্চারা ডিম ফুটে বেরিয়ে কেউ শ্রমিক, কেউ পুরুষ, কেউ রানীতে পরিণত হয়। গোপালচন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছিলে, খাদ্য – উপাদানই এই রহস্যঘন বিষয়টির কারণ হিসেবে কাজ করে।

গাছ – উকুনের শরীর থেকে নিঃসৃত রস ও ফুলের মধু খেয়ে শ্রমিক পিঁপড়েরা বাসায় এসে সদ্য ডিম ফুটে বেরিয়েছে এমন বাচ্ছাদের সামনে উগড়ে দেয়। বাচ্চারা তাই খেয়েই বাড়তে থাকে। গাছ – উকুনের রস ও মুকুলের মধুতে থাকা ভিটামিন বি – এর প্রভাবে পিঁপড়ের শ্রেণী বিন্যাস সংঘটিত হয়। এই খাদ্য যারা যারা বেশি পরিমাণে পায় তারা হয় রানি। যারা কিছু কম পরিমাণ পায় তারা পরিণত হয় পুরুষে। সবচেয়ে কম যারা পায় তাদের সংখ্যাই বেশি, তারা হয় শ্রমিক। খুব হালে এই তথ্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে কয়েকটি গবেষণায়।

বিষয়টি নিয়ে দুটি মতবাদও প্রচলিত হয়েছে। একটি জেনেটিক অপরটি ট্রাফিক মতবাদ। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি গোপালচন্দ্র করেছিলেন আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে সেই আবিষ্কার অজ্ঞাত থেকে গিয়েছিল বিশ্বের বিজ্ঞানী মহলে। একজাতের পতঙ্গ আছে, তাদের চলতি বাংলা নাম কানকোটারি। ইংরাজিতে ইয়ারউইগ। এই পোকারা ডিম পাড়ার পর শত্রুব হাত থেকে তা রক্ষা করবার জন্য যে কৌশল অবলম্বন করে তা গোপালচন্দ্রই প্রথম লক্ষ করেছিলেন।

ডিমপাড়ার পর কানকোটারি পিছনের পায়ে কাদা মাখিয়ে বেশ মজবুত করে নেয় ৷ পা দুটো আয়তনেও বাড়ে। শত্রু কাছে এলেই কাদামাখা পায়ের মোক্ষম লাথি ছুঁড়ে ঘায়েল করে। সরু কাচের নল বা পিপেট দিয়ে জল ঢেলে পায়ের কাদা ধুয়ে দেয়ার পর গোপালচন্দ্র দেখেন পোকাগুলো আবার পায়ে কাদা মাখাচ্ছে। কীটপতঙ্গের জগতে যন্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে এ এক অভিনব আবিষ্কার।

পিঁপড়ের প্রকৃতি ও যৌন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অনুসন্ধানের জন্য গোপালচন্দ্র এক অদ্ভুত কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। হালকা লাল রঙের নালসে পিঁপড়েরা সাধারণতঃ আম জামরুল প্রভৃতি গাছে পাতা জুড়ে জুড়ে বাসা তৈরি করে। গোপালচন্দ্র এদের দিয়ে পাতার পরিবর্তে স্বচ্ছ সেলোফেন কাগজ দিয়ে বাসা তৈরি করিয়ে ছিলেন অভিনব এক কৌশল অবলম্বন করে।

ল্যাবরেটরিতে ওই পিঁপড়েদের মধ্যে স্বচ্ছ সেলোফেন কাগজ রেখে দিলে সেই কাগজ জুড়ে জুড়ে তারা বাসা বানায়। সেই বাসার বাইরে থেকে তিনি পিঁপড়েদের ঘর – সংসারের খুঁটিনাটি বিষয় লক্ষ্য করেছিলেন। কীট পতঙ্গের কাজকর্মের ব্যাপারটাকে বিজ্ঞানীরা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি বলে ব্যাখ্যা করেন। বুদ্ধি শব্দটা তারা এদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে চান না। অবশ্য কেউ কেউ বলেন, কখনো কখনো কীট পতঙ্গরা প্রকৃত বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে থাকে।

এ ব্যাপারেও গোপালচন্দ্র পরীক্ষা – নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করেছেন। একবার আঠার শিশিতে একটা আরশোলা পড়ে মরেছিল। তিনি আরশোলা সমেত আঠা ফেলে দেন। কিছু সময় পরে দেখা যায় পিঁপড়ের দল এসে জুটেছে। তারা আরশোলার চারপাশে ঘোরাফেরা করছে, কিন্তু আঠার জন্য আরশোলার কাছে পৌঁছতে পারছে না। এভাবে কিছুক্ষণ কাটল। পিঁপড়েদের সংখ্যাও বাড়ল। আর দেখা গেল তারা ছোট ছোট কাকর মুখে করে এনে আঠার ওপর জড় করছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আঠার ওপর দিয়ে একটা কাঁকরের পথ তৈরি হয়ে গেল; পিঁপড়েরাও এবারে স্বচ্ছন্দে আরশোলার কাছে পৌঁছে গেল।

খাবার সংগ্রহ ছাড়াও, আত্মরক্ষা, যুদ্ধবিগ্রহ ইত্যাদি নানা ব্যাপারে পিঁপড়েদের অদ্ভুত বুদ্ধি কৌশল তিনি লক্ষ্য করেছিলেন। ব্যাঙাচির রূপান্তর বিষয়েও গোপালচন্দ্রের পর্যবেক্ষণ বিশেষ গরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানের ভাষায় যা বলে মেটামরফসিস তা হল ব্যাঙাচি থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙের রূপান্তর। গোপালচন্দ্র ব্যাঙাচির ওপর পেনিসিলিন প্রয়োগ করে লক্ষ্য করলেন, ব্যাঙাচি থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে সময় অনেক বেশি লাগছে।

প্রত্যেক প্রাণীরই পরিপাকনালীর ভেতরে নানা ধরনের এককোষী প্রাণী বাস করে। এদের অনেকে ক্ষতিকর হলেও অনেকেই একধরনের রাসায়নিক পদার্থ সৃষ্টি করে যা প্রাণীর পুষ্টির সহায়ক। বাইরের কোন ওষুধে এই সব উপকারী এককোষী প্রাণীর ক্ষতি হলে প্রাণীর দেহে স্বাভাবিক ভাবেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন বা রাসায়নিক পদার্থের অভাব ঘটে। ফলে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি বাধা পায়।

পেনিসিলিন প্রয়োগের ফলে ব্যাঙাচির দেহে যে শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে তার ফলেই এদের পুষ্টি ও বৃদ্ধি বিলম্বিত হয়েছিল। এছাড়া, ব্যাঙাচির থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থায়রক্সিন ও ট্রাইআয়োডো থাইরোনিন নামে হর্মোন এদের বৃদ্ধি, পুষ্টি ও রূপান্তর ঘটাবার সহায়ক ভূমিকা অবলম্বন করে। পেনিসিলিন প্রয়োগের ফলে থাইরয়েড গ্রন্থি প্রভাবিত হয়েও ব্যাঙাচির রূপান্তর ব্যাহত হয়ে থাকতে পারে।

গোপালচন্দ্রের এরকম আরো কিছু গবেষণা প্রাণী – রসায়ন বিষয়ের গবেষণার ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় আলোকপাত করেছে। গোপালচন্দ্রের গবেষণা বসু বিজ্ঞান মন্দিরের চারদেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পথে ঘাটে, শহরের বাইরে বন – জঙ্গল খানা – ডোবা, পুকুর – বিল সবই ছিল তাঁর গবেষণাগার। কীটপতঙ্গের ছবি তুলতে গিয়ে তাদের বিশেষ ক্রিয়াকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে অসীম ধৈর্য নিয়ে যেমন তিনি ঘণ্টার পব ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন, তেমনি অনেক সময়েই অজ্ঞ গ্রামের মানুষের কাছে তাঁকে বিদ্রুপ ও অবজ্ঞাসূচক ব্যবহার পেয়ে বিব্রত হতে হয়েছে।

গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ‘র রচনা: Written by Gopal Chandra Bhattacharya

গোপালচন্দ্র তার গবেষণার বিষয় নিয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ প্রবাসী দেশ আনন্দবাজার প্রভৃতি পত্রিকায় লিখেছেন। নিজের সম্পাদিত জ্ঞান ও বিজ্ঞান পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। ইংরাজিতে লেখা বেশ কিছু প্রবন্ধও বোম্বাইয়ের ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির মুখপত্র, মডার্ণ রিভিউ, সায়েন্স অ্যাণ্ড কালচার ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বিদেশী কোন কাগজে তাঁর প্রবন্ধ প্রকাশিত হলে তার মৌলিক কাজগুলোর খবর বিদেশে পৌঁছত। এবং বলাই বাহুল্য আন্তর্জাতিক স্তরের খ্যাতিমান বিজ্ঞানীদের তালিকায় গোপালচন্দ্রের নামও স্থান পেত।

তবে এটুকুই আমাদের সান্ত্বনা যে বিলম্বে হলেও নিজের দেশে গোপালচন্দ্ৰ স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন এবং প্রকৃতিবিজ্ঞান গবেষণায় এদেশে তিনি অন্যতম পথিকৃৎ রূপে স্বীকৃত হয়েছেন। গোপালচন্দ্র ছিলেন বিজ্ঞানী – গবেষক এবং বাংলাভাষার একজন সুলেখক। তিনি জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয় সহজ সরল বাংলা ভাষায় লিখে গেছেন।

গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ‘র পুরস্কার ও সম্মান: Gopal Chandra Bhattacharya’s Awards And Honors

বিজ্ঞান সাহিত্য রচনায় তাঁর দক্ষতা ছিল প্রশ্নাতীত। সাহিত্য কর্মের জন্য গোপালচন্দ্র প্রথম স্বীকৃতি লাভ করেন ১৯৬৮ খ্রিঃ। আনন্দ পুরস্কারে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। ১৯৪৭ খ্রিঃ আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু ফলক ও ১৯৭১ খ্রিঃ বাংলার কীটপতঙ্গ গ্রন্থের জন্য তাঁকে দেওয়া হয় রবীন্দ্র পুরস্কার আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ প্রাতষ্ঠা করেন ১৯৪৮ খ্রিঃ।

পরিষদের মুখপত্র জ্ঞান ও বিজ্ঞান পত্রিকার শুরু থেকেই গোপালচন্দ্র তাঁর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি অনেককেই বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ে লিখতে উৎসাহিত করেছেন। পরবর্তীকালে এঁদের অনেকেই সার্থক বিজ্ঞান লেখক রূপে স্বীকৃতি লাভ করেছেন। এই সার্থকতা গোপালচন্দ্রের অন্যতম কৃতিত্ব।

সুবিখ্যাত ভারতকোষ সম্পাদনার কাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ গোপালচন্দ্রের প্রতিভাকে স্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ১৯৫১ খ্রিঃ প্যারিসে সামাজিক পতঙ্গ বিষয়ক আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় শাখা পরিচালনার জন্য গোপালচন্দ্রকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি যেতে পারেন নি।

গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ‘র মৃত্যু: Gopal Chandra Bhattacharya’s Death

১৯৭১ খ্রিঃ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় গোপালচন্দ্রকে সাম্মানিক ডি.এসসি উপাধি প্রদান করেন। এর কয়েক মাস পরেই ৮ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

Leave a Comment