গোষ্ঠ পাল জীবনী | Gostha Pal Biography in Bengali

গোষ্ঠ পাল জীবনী: Gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Gostha Pal Biography in Bengali. আপনারা যারা গোষ্ঠ পাল সম্পর্কে জানতে আগ্রহী গোষ্ঠ পাল এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

গোষ্ঠ পাল কে ছিলেন? Who is Gostha Pal?

গোষ্ঠ পাল (১৮৯৬ – ১৯৭৬) Gostha Pal একজন বিখ্যাত বাঙালি ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। রক্ষণে খেলার জন্য খ্যাতিলাভ করেছিলেন। দৈনিক ইংলিশম্যান তাকে চিনের প্রাচীর উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

গোষ্ঠ পাল জীবনী – Gostha Pal Biography in Bengali

নামগোষ্ঠ পাল
জন্ম20 আগস্ট 1896
পিতাশ্যামলাল পাল
মাতা
জন্মস্থানভোজেশ্বর, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাভারতীয় ফুটবলার
মৃত্যু8 এপ্রিল 1976 (বয়স 79)

গোষ্ঠ পাল এর জন্ম: Gostha Pal’s Birthday

গোষ্ঠ পাল 20 আগস্ট 1896 জন্মগ্রহণ করেন।

বাংলার সর্বকালের প্রিয় ফুটবলার গোষ্ঠ পালের নাম বাঙালী জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাক হিসেবে এই বরেণ্য বঙ্গ- সন্তানকে তখনকার দিনে ‘চাইনিজ ওয়াল’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। বস্তুতঃ তিনি রক্ষণভাগে যে ব্যূহ রচনা করতেন তা ভেদ করা কখনোই প্রতিপক্ষের সাধ্যে কুলিয়ে উঠত না।

সেই কালে সাহেবদের বিরুদ্ধে তার অংশগ্রহণে যে আলোড়ন ও উত্তেজনা সৃষ্টি হতো তা কেবল মাঠের চৌহদ্দিতেই সীমাবদ্ধ থাকতো না; তাঁর শৌর্য বীর্য পরাধীন ভারতের জনজীবনে জাতীয় চেতনা উদ্দীপিত করত। সাহেবরা খেলা করত বুটপরা অবস্থায়। আর স্রেফ খালিপায়ে তাদের আক্রমণ গোষ্ঠপাল কৃতিত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ করতেন।

বহু দূর থেকে অভ্রান্ত নিশানায় তিনি কিক করতে পারতেন। আর সেই বলে থাকতো বুলেটের গতি। জীবদ্দশায় একজন ফুটবলার এবং সর্বোপরি একজন মানুষ হিসেবে তিনি দেশবাসীর কাছ থেকে যে সম্মান ও শ্রদ্ধা লাভ করেছেন, তখনকার দিনে অপর কোন ফুটবলারের জীবনে তা সম্ভব হয়নি। বাঙালী ক্রীড়ামোদী জনসাধারণের মধ্যে বাঙাল এবং ঘটি — মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল এই দুই প্রতিপক্ষ দলকে কেন্দ্র করে বিভাজন এবং বিরুদ্ধবাদিতা প্রবাদতুল্য।

গোষ্ঠ পাল এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Gostha Pal’s Parents And Birth Place

মোহনবাগান দলের খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও প্রাচীন নবীন কিংবা বাঙাল অথবা ঘটি নির্বিশেষে সকলের কাছেই গোষ্ঠপাল আজও সমান জনপ্রিয়। অবিভক্ত বঙ্গের ফরিদপুর জেলার জোভেম্বর গ্রামে ১৮৯৬ খ্রিঃ ২০ শে আগস্ট গোষ্ঠপাল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতামাতার একমাত্র সন্তান। কিন্তু জন্মের মাত্র দুমাস পরেই পিতৃহারা হন। বিধবা মায়ের স্নেহ আদরে ও সতর্ক যত্নে বড় হতে থাকেন।

গোষ্ঠ পাল এর শিক্ষাজীবন: Gostha Pal’s Educational Life

বাল্যবয়স থেকেই গ্রামের মাঠে সমবয়সী বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলা শুরু করেন। স্কুল ছিল গ্রাম থেকে অনেক দূরে। তাই যাতায়াতের অসুবিধার জন্য মায়ের তত্ত্বাবধানেই বাল্যশিক্ষা সমাপ্ত করেন। আটবছর বয়সে, ১৯০৪ খ্রিঃ পড়াশুনার জন্য মা তাঁকে নিয়ে চলে আসেন কলকাতার কুমোরটুলিতে। এখানেই বাড়ির কাছে সারদাচরণ এরিয়ান ইনস্টিটিউশনে পড়াশুনো শুরু হয় তাঁর।

ফুটবল খেলার প্রতি ঝোঁক বরাবরের। এখানে এসেও ভিড়ে গেলেন ফুটবল দলের সঙ্গে। স্কুলের অপ্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন সরোজ রায়। তার সঙ্গে কুমোরটুলি পার্কের পশ্চিমদিককার গোলপোস্টের পেছনে নিয়মিত ফুটবল খেলা শুরু করেন গোষ্ঠপাল ৷ বস্তুতঃ প্রকৃত ফুটবল খেলার সঙ্গে পরিচয় তাঁর এখানেই ঘটে এবং খেলার প্রতি ক্রমেই আকৃষ্ট হতে থাকেন। পাড়াতেই ছিল ক্যালকাটা ইউনিয়ন ক্লাব। ১২ বছর বয়সেই এই দলে স্থান লাভ করলেন তিনি।

কিন্তু সে সময়ে তার খেলার প্রতিভা এমন কিছু প্রকাশ পায়নি যা থেকে বোঝা যায় উত্তরকালে তিনিই ভারতবিখ্যাত ফুটবলার রূপে জাতির গৌরব হয়ে উঠবেন। মোহনবাগানের খেলোয়াড় রাজেন সেনের আনুকূল্যেই গোষ্ঠপালের জীবনে উত্থান সম্ভব হয়ে ওঠে। ১৯১১ খ্রিঃ ২৯ শে জুলাই আই. এফ. এ শিল্ড বিজয়ী মোহনবাগানের ঐতিহাসিক খেলায় রাজেন সেন ছিলেন সেন্টার হাফ। তিনিই আকস্মিকভাবে আবিষ্কার করেছিলেন গোষ্ঠপালকে।

সেদিন তার নজরে না পড়লে গোষ্ঠপাল চায়নিজ ওয়াল হতে পারতেন কিনা সন্দেহ। অবশ্য প্রত্যেক ক্ষেত্রেই প্রতিভার বিকাশ লাভের অনুকূলে কারো না কারো অবদান থাকেই ৷ গোষ্ঠপালের জীবনে ছিলেন তেমনি রাজেন সেন। কলকাতায় স্কুলে গরমের ছুটি পড়লে প্রায় প্রতিবছরই গোষ্ঠপাল মায়ের সঙ্গে ভাগ্যকুলে মামার বাড়িতে বেড়াতে যেতেন। মামাদেরও ছিল ফুটবলে প্রচন্ড উৎসাহ। তাঁদের প্রেরণায় তার প্রতিভা বিকাশলাভের সুযোগ পায়।

গোষ্ঠ পাল এর কর্ম জীবন: Gostha Pal’s Work Life

১৯১২ খ্রিঃ ঘটনা। সেবার একরকম জোর করেই গোষ্ঠপালের মামারা তাঁকে মুকুন্দলাল শিল্ডের খেলায় ভাগ্যকুলের হয়ে খেলতে নামিয়ে দেন। ভাগ্যের যোগাযোগই বলতে হবে, ওই দলেই সেন্টার হাফ ছিলেন রাজেন সেন। গোষ্ঠপাল খেলেছিলেন রাইট হাফে। তখন তার বয়স ষোল। সেদিন এই অখ্যাত তরুণটির খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন দুদে ফুটবলার রাজেন সেন ৷ কথায় বলে জহুরীই জহর চেনে।

রাজেনবাবু সেদিন খেলা শেষ হলে কিশোর গোষ্ঠপালকে কাছে ডেকে আনেন। পরিচয় জেনে নিয়ে একসময় চুপিচুপি জিজ্ঞেস করলেন, “মোহনবাগান দলে খেলবে তুমি ?” মোহনবাগান দলের নাম তখন বাংলার মানুষের মুখেমুখে। ১৯১১ খ্রিঃ আই.এফ. এ. শিল্ড খেলায় শক্তিশালী শ্বেতাঙ্গদেব পরাজিত করে মোহনবাগান আলোড়ন সৃষ্টি করেছে দেশ জুড়ে। হয়ে উঠেছে সমগ্র কৃষ্ণাঙ্গ সমাজের প্রতিনিধি স্বরূপ এক সংগ্রামী প্রতীক।

বিখ্যাত সব খেলোয়াড়ের প্রতিভার আলোয় এই দল আলোকিত। স্বপ্নের এই দলে খেলার আমন্ত্রণ পেয়ে তরুণ গোষ্ঠপাল স্তম্ভিত হয়ে যান। আনন্দে উত্তেজনায় কথা হারিয়ে ফেলেন তিনি। তার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে আহ্লাদে পিঠ চাপড়ে দেন রাজেন সেন। পরে তাঁর কলকাতার ঠিকানা লিখে নেন। পরের বছরেই, ১৯১২ খ্রিঃ রাজেন বাবু গোষ্ঠ পালকে মোহনবাগান দলে নিয়ে আসেন। সেই সময় দলের নিয়মিত ব্যাক রেভারেন্ড সৃধীর চ্যাটার্জী অবসর নেবেন বলে স্থির করেছেন।

তাঁর অবর্তমানে ভুতু সুকুলের সঙ্গে ব্যাকে কে খেলবে এই চিন্তায় কর্মকর্তারা ভাবিত ছিলেন। গোষ্ঠপাল বরাবরই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। তিনি তখন হাফের প্লেয়ার। অথচ তার ট্যাকলিং ক্ষমতা ভেল্কি দেখায়। পায়েও রয়েছে রক্ষণভাগের প্লেয়ারের লম্বা জোরালো কিক। এই নিয়েই তিনি ১৯১৩ খ্রিঃ থেকে মোহনবাগানের হয়ে খেলতে শুরু করেন।

গোড়ায় বৃষ্টিভেজা মাঠে ব্ল্যাক ওয়াচের বিরুদ্ধে রাইট হাফে খেলতে নেমে গোষ্ঠপাল পুরোপুরি ব্যর্থ হন। পরের ম্যাচ ছিল ডালহৌসির সঙ্গে। কর্মকর্তারা গোষ্ঠপালের পজিশন নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছিলেন। ভুতু সুকুল সকলের সব আপত্তি উপেক্ষা করে একরকম জোর করেই গোষ্ঠপালকে ব্যাকে নিজের পাশে খেলালেন। রীতিমত চ্যালেঞ্জ ছিল সামনে। গোষ্ঠপাল কিন্তু সসম্মানেই এবারে উত্তীর্ণ হয়ে গেলেন। এরপর থেকে এই পজিশনেই সারা জীবনের মত স্থায়ী আসন নিয়ে নিলেন তিনি।

১৯১২ খ্রিঃ থেকে ১৯৩৫ খ্রিঃ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ বছর দলের হয়ে রাইট ব্যাকে খেলেছেন তিনি। ফুটবল খেলা থেকে গোষ্ঠপাল অবসর নেন ১৯৩৫ খ্রিঃ। তার আগের দিন পর্যন্ত এই জায়গায় তাঁকে ছাড়া আর কাউকে ভাবা যেত না। যতদিন তিনি ফুটবল খেলায় ছিলেন ততদিন অটুট সম্মানের সঙ্গেই খেলেছেন। দলের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ খেলায় তিনি ছিলেন অপরিহার্য।

মোহনবাগান ছাড়া অন্যান্য প্রতিনিধিত্বমূলক খেলাতেও অংশ নিয়েছেন গোষ্ঠপাল৷ সিভিল বনাম মিলিটারি, ইউরোপিয়ান বনাম ইন্ডিয়ান, সম্মিলিত রেল বনাম বাছাই দল এবং লিগ চ্যাম্পিয়ন বনাম অবশিষ্ট দল — সর্বত্রই গোষ্ঠপালের ডাক পড়েছে সবার আগে। সিংহলের বর্তমান নাম শ্রীলঙ্কা। ১৯৩৩ খ্রিঃ গোষ্ঠপাল ভারতীয় দল (আই. এফ. এ) নিয়ে সিংহল সফরে যান। পরের বছর তিনি ভারতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হন। সেই বছরই তাঁর দল নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবার কথা।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ অসুস্থতার জন্য দলের সঙ্গে যেতে পারেননি। দীর্ঘ ফুটবল জীবনে খেলার মাঠে গোষ্টপাল চীনের প্রাচীর নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। তৎকালীন দৈনিক ইংলিশম্যান তাঁকে প্রথম এই নাম দিয়েছিল। সময়টা ছিল ১৯২০ খ্রিঃ। এই সময় বর্মার (বর্তমান নাম মায়ানমার) একটি দল কলকাতায় খেলতে আসে। আই. এফ. এ. শিল্ডের প্রথম রাউন্ডেই মোহনবাগানের খেলা পড়ে বার্মার দলের সঙ্গে। মাঠে নেমে যেন ভেল্কি দেখাতে থাকে বার্মিজ ফুটবলারেরা।

তাদের ক্রমাগত ঝটিকা আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে মোহনবাগানের খেলোয়াড়রা। কিন্তু এত করেও বার্মিজ ফুটবলাররা কিন্তু গোষ্ঠপালকে টলাতে পারলেন না। তিনি রক্ষণভাগে দাঁড়িয়েছিলেন বিশাল এক প্রাচীরের মত। সেই প্রাচীরে ধাক্কা লেগে বার্মিজ ফুটবলারদের সমস্ত আক্রমণ ভোতা হয়ে যায়। বল নিয়ে তাদের কারোর পক্ষেই গোলের দিকে এগনো সম্ভব হয়নি। পরের দিন ইংলিশম্যান কাগজে বড় বড় হরফে গোষ্ঠাপালকে চাইনিজ ওয়াল নামে অভিহিত করা হয়।

সেই থেকে গোষ্ঠপালের আর এক নাম হয়ে যায় চাইনিজ ওয়াল। অবশ্য একথা ঠিক যে গোষ্ঠপালের খেলায় উমাপতি কুমারের মত শৈল্পীক সুষমা ছিল না। কিন্তু তিনি খেলতেন অত্যন্ত কার্যকরভাবে। তার পায়ের বল ছিল অসম্ভব শক্তিশালী। এই গুণের জন্যই তিনি প্রতিটি খেলায় বিপক্ষ দলের সম্ভ্রম আদায় করে নিতে পারতেন। খেলতেন ব্যাকে কিন্তু অনেকখানি জায়গা জুড়ে। মাঠে দাপিয়ে বেড়াতেন সিংহের বিক্রমে।

তার ট্যাকলিং কভারিং এবং অনুমান ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। তার সাইডপুশ সেই সময়ের শক্তিশালী ইংরাজদের কাছেও ছিল জীবন্ত আতঙ্কের মত ৷ মিলিটারি সাহেবদের যম ছিলেন গোষ্ঠপাল। পরাধীন দেশের ব্রিটিশ রাজকে লাঞ্ছিত অপমানিত ও কোনঠাসা দেখার জন্য চির বিদ্রোহী বাঙালীজাতির মন উদগ্রীব হয়ে থাকত। তাঁদের আকাঙ্ক্ষিত নায়কের সন্ধান তাঁরা পেয়েছিলেন খেলার মাঠে গোষ্ঠপালের মধ্যে।

তাঁর দুরন্ত খেলার কাছে ব্রিটিশদের বারবার ভূলুণ্ঠিত অপমানিত হতে দেখে বাঙালীজাতি আঞ্চলিকতা ও ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে পরম আদরে তাঁকে বুকে তুলে নিয়েছিল। এই বিচারেও, পরাধীন যুগে জাতীয় চেতনা উজ্জীবনেও গোষ্ঠপালের পরোক্ষ অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। গোঠপালের খেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তার শটের জোর। চাইনিজওয়ালের শট ছিল প্রবাদের মত। একবার বাহবা নেবার লোভে দশম মিডলসেক্সের সেন্টার ফরোয়ার্ড এলসন কাছ থেকে গোষ্ঠপালের কামানের গোলার মত শট বুক দিয়ে আটকাবার চেষ্টা করেন।

কিন্তু বুকে বল লাগবার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। আর একবার কায়দা করে লাফিয়ে দেহের পেছন দিক দিয়ে গোষ্ঠাপালের শট আটকাবার চেষ্টা করেছিলেন ডালহৌসির লেফট আউট। বেচারা বলের সঙ্গে ১০-১৫ হাত দূরে ক্যালকাটার মেম্বার স্ট্যান্ডে উড়ে গিয়ে ছিটকে পড়েছিলেন। সেইযুগে তাঁর সমকক্ষ শক্তিমান ফুটবলার দ্বিতীয় কেউ ছিলেন না। ফুটবল ছাড়াও হকি, ক্রিকেট এবং টেনিস খেলাতেও গোষ্ঠপাল যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন।

এই খেলাগুলিতেও তিনি মোহনবাগানের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। সেই সময়ে বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন বাংলার ‘ ডবলু জি গ্রেস ’ সারদারঞ্জন রায়। এই কলেজে পড়বার সময় তার উৎসাহে গোষ্ঠপাল এইসব খেলায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তিনি মোহনবাগানের হয়ে হকি খেলেছেন পাঁচ – ছয় বছর ধরে, টেনিস ক্লাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ক্লাবের হয়ে ক্রিকেট খেলাতেও তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অংশ নিয়েছেন।

গোষ্ঠ পাল এর পুরস্কার ও সম্মান: Gostha Pal’s Awards And Honors

ভারত সরকার সর্বকালের প্রিয় ফুটবলার গোষ্ঠপালের প্রতিভার স্বীকৃতি জানিয়েছেন ১৯৬২ খ্রিঃ পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ফুটবল খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনিই প্রথম এই সম্মান লাভ করেন।

গোষ্ঠ পাল এর মৃত্যু: Gostha Pal’s Death

১৯৭১ খ্রিঃ গোষ্ঠপালের গৌরবময় জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে।

Leave a Comment