হারমান ভন হেলমহোল্টজ জীবনী – Hermann von Helmholtz Biography in Bengali

হারমান ভন হেলমহোল্টজ জীবনী: gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Hermann von Helmholtz Biography in Bengali. আপনারা যারা হারমান ভন হেলমহোল্টজ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হারমান ভন হেলমহোল্টজ এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

হারমান ভন হেলমহোল্টজ কে ছিলেন? Who is Hermann von Helmholtz?

হারম্যান লুডভিগ ফার্দিনান্দ ভন হেলমহোল্টজ (৩১ আগস্ট ১৮২১ – ৮ সেপ্টেম্বর ১৮৯৪) ছিলেন একজন জার্মান পদার্থবিদ এবং চিকিৎসক যিনি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তম জার্মান অ্যাসোসিয়েশন, হেলমহোল্টজ অ্যাসোসিয়েশন, তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। ফিজিওলজি এবং সাইকোলজিতে, তিনি চোখের গণিত, দৃষ্টি তত্ত্ব, স্থানের চাক্ষুষ উপলব্ধি সম্পর্কে ধারণা, রঙ দৃষ্টি গবেষণা এবং স্বর সংবেদন, শব্দ উপলব্ধি এবং অভিজ্ঞতাবাদের জন্য পরিচিত।উপলব্ধির শারীরবিদ্যায়। পদার্থবিজ্ঞানে, তিনি শক্তির সংরক্ষণ, ইলেক্ট্রোডাইনামিকস, রাসায়নিক তাপগতিবিদ্যা এবং তাপগতিবিদ্যার যান্ত্রিক ভিত্তির উপর কাজ করার জন্য তাঁর তত্ত্বের জন্য পরিচিত। একজন দার্শনিক হিসাবে, তিনি তার বিজ্ঞানের দর্শন, উপলব্ধির আইন এবং প্রকৃতির নিয়মের মধ্যে সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণা, নন্দনতত্ত্বের বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের সভ্যতা শক্তি সম্পর্কে ধারণাগুলির জন্য পরিচিত।

হারমান ভন হেলমহোল্টজ জীবনী – Hermann von Helmholtz Biography in Bengali

নামহারমান ভন হেলমহোল্টজ
জন্ম31 আগস্ট 1821
পিতাআগস্ট ফার্দিনান্দ জুলিয়াস হেলমহোল্টজ
মাতাক্যারোলিন পেন
জন্মস্থানপটসডাম, ব্র্যান্ডেনবার্গ প্রদেশ, প্রুশিয়া রাজ্য, জার্মান কনফেডারেশন
জাতীয়তাজার্মান
পেশাপদার্থবিদ এবং চিকিৎসক
মৃত্যু8 সেপ্টেম্বর 1894 (বয়স 73)

হারমান ভন হেলমহোল্টজ এর জন্ম: Hermann von Helmholtz’s Birthday

হারমান ভন হেলমহোল্টজ ৩১ আগস্ট ১৮২১ জন্মগ্রহণ করেন।

হারমান ভন হেলমহোল্টজ এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Hermann von Helmholtz’s Parents And Birth Place

বিজ্ঞানের নীরব সাধক হেলমোহস জন্মগ্রহণ করেন জার্মানীর পোটসডমে ১৮২২ খ্রিঃ ৩১ শে আগস্ট। তার পিতা ছিলেন সাধারণ একজন স্কুল শিক্ষক। পুত্রকে যথোপযুক্ত শিক্ষা দেবার মত আর্থিক সঙ্গতি ছিল না তার। তবু পুত্রকে শিক্ষিত করে তুলতে যথাসাধ্য চেষ্টার ত্রুটি ছিল না তার।

হারমান ভন হেলমহোল্টজ এর শিক্ষাজীবন: Hermann von Helmholtz’s Educational Life

স্কুলে পড়াশোনার সময়েই বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট হন হেলমোহৎস। সহজাত প্রতিভা নিয়ে জন্মেছিলেন। সব বিষয়ে জানবার কৌতূহল ছিল প্রবল। তাঁর জিজ্ঞাসার জবাব দিতে গিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠতেন শিক্ষকরা। ছেলেবেলায় তিনি নিজের চেষ্টাতেই ঘরে বসে বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতির অনুকরণে নতুন নতুন খেলনা বানিয়ে নিতে পারতেন। তাঁর কারিগরি দক্ষতা দেখে শিক্ষকরা মুগ্ধ হতেন।

একবার একটি খেলনা দূরবীন বানিয়ে হেলমোহৎস তার স্কুলের শিক্ষকদের চমকে দিয়েছিলেন। তারা উচ্ছ্বসিত ভাবে তার কাজের প্রশংসা করেছিলেন। আর একবার বাবার জন্য একটি চশমা বানিয়ে দিয়েছিলেনতিনি। আশ্চর্য যে, চশমার কাচগুলো তিনি নিজেই তৈরি করেছিলেন। এভাবে ছেলেবেলাতেই তার অসাধারণ বিজ্ঞান প্রতিভার পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল। শিক্ষকরা বিশ্বাস করতেন বড় হয়ে তিনি নিশ্চয় দেশবরেণ্য বিজ্ঞানী হবেন। বলাবাহুল্য, তাদের সেই আশা ব্যর্থ হতে দেননি হেলমোহস।

হারমান ভন হেলমহোল্টজ এর কর্ম জীবন: Hermann von Helmholtz’s Work Life

বিদ্যালয়ের পড়া শেষ হলে তিনি চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে অধ্যয়ন করেন। উত্তীর্ণ হলেন কৃতিত্বের সঙ্গে। চিকিৎসকের চাকরি গ্রহণ করেন প্রুশিয়ার সৈন্য বিভাগে। এই সময়ে চিকিৎসা শাস্ত্র ছাড়াও তিনি বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেন। গবেষণা শুরু করেন চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়েই। অল্পকালের মধ্যেই ১৮৪২ খ্রিঃ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে জীবদেহের নার্ভ সেল আবিষ্কার করেন। তার আবিষ্কার বিজ্ঞানী মহলে স্বীকৃত হলে উৎসাহিত হয়ে বেলিন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে অ্যানাটমির অধ্যাপক করে নিয়ে আসেন।

তারপর ১৮৫১ খ্রিঃ হেলমোহস পশুদের চক্ষুনিঃসৃত আলোকরশ্মি নিয়ে অনুসন্ধানে রত হন। কাজের প্রয়োজনে একটি যন্ত্রও নিজেই আবিষ্কার করেন। মানুষের শ্রবণশক্তি নিয়ে হেলমোহৎসের গবেষণার ফলেই প্রথম আবিষ্কৃত হয় মানুষের শ্রবণেন্দ্রিয়ের অভ্যন্তরীণ গঠন ও কার্যপ্রণালী। এরপর অনুনাদকের সাহায্যে শব্দের গুণাগুণ বিশ্লেষণের বিষয় নিয়ে হেলমোহস গবেষণা করে কতকগুলো বিভাগে বিভক্ত করতে সমর্থ হন।

তাঁর এই গবেষণার ফলাফলকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীকালে হারমোনিয়ম ও পিয়ানো বাদ্যযন্ত্র নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও শব্দবিজ্ঞানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন হেলমোহস। তার এইসব গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য বেলিন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপনার দায়িত্ব দেন। ১৮৭১ খ্রিঃ পরে তিনি তড়িৎ বিজ্ঞান সম্বন্ধে গবেষণা আরম্ভ করেন।

এই ক্ষেত্রে তিনি মেক্সওয়েলের তড়িৎ – চুম্বক তরঙ্গ তত্ত্ব বিষয়ে খুবই আগ্রহান্বিত হন। বিদ্যুৎ পদার্থ কণা অথবা তরঙ্গ এ বিষয়ে তখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারেন নি। দীর্ঘ গবেষণার পর ১৮৮১ খ্রিঃ এই সম্পর্কে একটি মূল্যবান তত্ত্বের প্রচার করেন হেলমোহস।

তিনি ঘোষণা করেন, যে কোন মূল পদার্থই অ্যাটম বা পরমাণু দিয়ে গঠিত। ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক বিদ্যুৎ যাই হোক না কেন তাকেও অতি ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এই অবস্থায় তার নাম দেওয়া যেতে পারে বিদ্যুতের অ্যাটম।

হারমান ভন হেলমহোল্টজ এর মৃত্যু: Hermann von Helmholtz’s Death

৮ সেপ্টেম্বর ১৮৯৪ হারমান ভন হেলমহোল্টজ এর জীবনাবসান হয়।

Leave a Comment