মৃত্যুহার বৃদ্ধি জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে কিভাবে ভূমিকা রাখে ব্যাখ্যা করো

মৃত্যুহার বৃদ্ধি জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে কিভাবে ভূমিকা রাখে ব্যাখ্যা করো : কোন দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক হল জন্মহার ও মৃত্যুহার। জন্মহারের মতো মৃত্যুহারও জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। মৃত্যুহারের বৃদ্ধি এক দিকে যেমন জনসংখ্যা কমাতে সাহায্য করে আবার কোন কোন সময় জনসংখ্যা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। মূলত উন্নয়নদেশ গুলিতে বদ্ধিত মৃত্যুহার জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে।

শিশু মৃত্যু প্রজনন হারকে চারটি পরস্পর আন্তঃসম্পর্কীত নিয়ন্ত্রকের দ্বারা প্রভাবিত করে জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটায় । যেমন – শারীরবৃত্তীয় নিয়ন্ত্রক, প্রতিস্থাপনজনিত নিয়ন্ত্রক, বীমা বা ভবিষ্যৎ চাহিদাপূরণ ও আত্মবিশ্বাস ।

১. শারীরবৃত্তীয় নিয়ন্ত্রক – যখন কোন শিশু মারা যায় যা অনুন্নত দেশ গুলিতে প্রায়শই হয়ে থাকে , যার অন্তিম ফল হল মাতৃ দুগ্ধপান করানোর সমাপ্তি। আর এই মাতৃ দুগ্ধপান করানোর সমাপ্তি ‘প্রাকৃতিক গর্ভরোধ’ করার সহজাত ক্ষমতাকে অনেকটা কমিয়ে দেয় । উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় – একজন মা সাধারণত একটি শিশুকে ১৮ মাস মাতৃদুগ্ধ পান করায়, ফলে একটি সন্তান থেকে অপর সন্তান গ্রহনের মধ্যে সময়ের পার্থক্য কম করেও ২ থেকে ২.৫ বছর অবধি হয়ে থাকে। কিন্তু তার আগেই সন্তানের মৃত্যু হলে দুটি সন্তান গ্রহনের মধ্যে ব্যবধান অনেকটা কমে যায় ফলে মহিলারা আরো বেশি সন্তান ধারন করার সময় লাভ করে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে।

২. অধিক শিশু মৃত্যু ও প্রতিস্থাপন জনিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি – অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে অপুষ্টি, মহামারী প্রভৃতি কারণে প্রচুর শিশু প্রাপ্ত বয়স্কে পৌছানোর আগেই মারা যেত, ফলে এই সব দেশ গুলিতে অনেক গুলো সন্তান নেওয়া হত যেন একটি বা দুটি সন্তানের মৃত্যু হলেও অন্যান্য সন্তান গুলি সেই মৃত সন্তানদের প্রতিস্থাপন করে তাদের বংশ কে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করে। ফলে এই অধিক সন্তান নেওয়ার প্রবনতা জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটায়। আবার অনেক সময় কোন শিশুর মৃত্যু না হওয়ার ফলে এমনিতেই জনসংখ্যা বেড়ে যায়।

৩. বীমা বা ভবিষ্যৎ চাহিদাপূরণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি – অধিক শিশু মৃত্যুর প্রবণতা থেকেই ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণ বা বীমামূলক ধারনার উৎপত্তি হয়। কারণ বাবা মা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতে বেঁচে থাকার কতটা সম্ভাবনা রয়েছে তা জানে না এবং সম্ভাবনা থেকেই অধিক সন্তান গ্রহনের প্রবৃত্তি দেখা যায়। ফলে তারা তাদের পরিবার কে স্বাভাবিকের থেকে অনেক বড়ো আকারে গড়ে তোলে।

৪. বড়ো পরিবারের আকাঙ্খা ও মৃত্যুহার – অনুন্নত দেশ গুলির অর্থনীতি মূল ভিত্তি কৃষি এবং এই কৃষি কাজের জন্য প্রচুর শ্রমের দরকার হয়, এই শ্রমের প্রয়োজনেই এই সব দেশের পরিবার গুলির মধ্যে বেশি সন্তান নেওয়ার প্রবনতা থাকে। কিন্তু প্রজনন কালীন বা তার পরবর্তীকালে সন্তান মারা যেতে পারে এই ভয়ে সেই পরিবার গুলি তাদের কাঙ্খিত বড়ো পরিবারের লক্ষ্যে না পৌছানো অবধি সন্তান নিতেই থাকে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

এইভাবে মৃত্যুহারের বৃদ্ধি জনসংখ্যার বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। যদিও বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি, খাদ্যের জোগান বৃদ্ধি ও মহামারী জনিত কারণে শিশু মৃত্যুর হার অনেকটা হ্রাস পেয়েছে বলে উপরিক্ত কারণ জনিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও অনেক কমে গিয়েছে।

Leave a Comment