হামফ্রে ডেভি জীবনী – Humphry Davy Biography in Bengali

হামফ্রে ডেভি জীবনী: gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Humphry Davy Biography in Bengali. আপনারা যারা হামফ্রে ডেভি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হামফ্রে ডেভি র জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

হামফ্রে ডেভি কে ছিলেন? Who is Humphry Davy?

স্যার হামফ্রে ডেভি (Sir Humphry Davy) একজন আবিষ্কারক এবং প্রখ্যাত রসায়নবিদ। তিনি একাধিক ক্ষার ধাতু এবং মৃৎ ক্ষার ধাতু আবিষ্কার করেছেন।

হামফ্রে ডেভি জীবনী – Humphry Davy Biography in Bengali

নামহামফ্রে ডেভি
জন্ম17 ডিসেম্বর 1778
পিতারবার্ট ডেভি
মাতাগ্রেস মিলেট
জন্মস্থানপেনজান্স, কর্নওয়াল, ইংল্যান্ড
জাতীয়তাব্রিটিশ
পেশারসায়নবিদ
মৃত্যু29 মে 1829 (বয়স 50)

হামফ্রে ডেভি র জন্ম: Humphry Davy’s Birthday

হামফ্রে ডেভি 1778 সালের 17 ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।

হামফ্রে ডেভি র পিতামাতা ও জন্মস্থান: Humphry Davy’s Parents And Birth Place

বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আবিষ্কারের কৃতিত্বের অধিকারী টমাস আলভা এডিসন। তার পরে আবিষ্কারক হিসেবে যে রসায়ন বিজ্ঞানীর নাম করা হয়, তিনি হলেন স্যার হামফ্রে ডেভি। তাঁর অবদান রসায়ন বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে গতি সঞ্চার করেছিল। হামফ্রে ডেভি জন্মেছিলেন ইংলন্ডে ১৭৭৮ খ্রিঃ ১৭ ই ডিসেম্বর।

হামফ্রে ডেভি র শিক্ষাজীবন: Humphry Davy’s Educational Life

বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তার বিজ্ঞান প্রতিভার স্ফুরণ ঘটেছিল। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে চিকিৎসক বৃত্তি গ্রহণ করেন। স্কুলজীবনেই ডেভি এটা সেটা নিয়ে পরীক্ষা করতে বসতেন। বিজ্ঞান নিয়ে এভাবেই হয়েছিল তার হাতেখড়ি। তীব্র অনুসন্ধিৎসা আর কৌতূহল ছিল ডেভিব সহজাত। চারপাশের যা কিছু তার মনে প্রশ্ন জাগাত, তাই নিয়েই চিন্তাভাবনা করা তাঁর অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল।

হামফ্রে ডেভি র কর্ম জীবন: Humphry Davy’s Work Life

এই অভ্যাসের বশেই চিকিৎসা বৃত্তি গ্রহণ করার পর তিনি নিজস্ব প্রয়োজনে একটি ছোট গবেষণাগার তৈরি করে নিলেন। অবসর সময়ে সেখানে নানা বিষয়ের গবেষণায় মেতে থাকতেন। গোড়ার দিকে তার গবেষণার প্রধান বিষয় ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞান ভিত্তিক। নানা রাসায়নিক পদার্থের ওষুধ হিসেবে গুণাগুণ পরীক্ষাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। এইভাবে দিনের পর দিন পরীক্ষা করতে করতেই ১৭৯৯ খ্রিঃ আকস্মিকভাবে তিনি একটা নতুন বিষয়ের সন্ধান পেয়ে গেলেন।

তিনি লক্ষ করলেন নাইট্রাস অক্সাইডে রয়েছে চেতনানাশক গুণ। মাত্র আঠারো বছর বয়সে এই আবিষ্কার তাঁকে বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত করে তুলল। সাফল্যের প্রেরণায় এরপর তিনি গবেষণায় মেতে উঠলেন। রোগী দেখা একরকম বন্ধই হয়ে গেল। তার সময় কাটতে লাগল গবেষণাগারে। দিনে দিনে রসায়ন বিজ্ঞান তার অবদানে সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে লাগল। ডেভির উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারগুলির মধ্যে প্রধান বলা যায় বিদ্যুতের সাহায্যে রাসায়নিক পদার্থের বিশ্লেষণ পদ্ধতি।

এই পদ্ধতির সাহায্যে তিনি ১৮০৭ খ্রিঃ সোডিয়াম ও পটাসিয়াম নামক দুটি ক্ষার ধাতু আবিষ্কার করেন। এই সময়ে তড়িৎ বিশ্লেষণ সম্বন্ধেও ডেভি অনেক তথ্য প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে এই তথ্যগুলি বহু বিজ্ঞানীর গবেষণার বিষয়বস্তু হয়েছিল। ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন প্রভৃতি মৌলিক পদার্থগুলি হ্যালোজেন গ্রুপের অন্তর্গত। ডেভি একসময় দীর্ঘ গবেষণায় রত হলেন ক্লোরিন নিয়ে। বহু মূল্যবান তথ্য তাঁর কাছ থেকে লাভ করল রসায়ন বিজ্ঞান ৷

এই সময়ে বিজ্ঞানীদের একটি বড় ভুলও তিনি সংশোধন করে দেন। অ্যাসিড মাত্রই অক্সিজেনের একটি যৌগিক, সেই সময়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই ছিল প্রচলিত ধারণা। তাঁরা জানতেন যে কোন অ্যাসিডকে বিশ্লেষণ করলেই অক্সিজেন পাওয়া যাবে। ডেভি হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডকে বিশ্লেষণ করে প্রথম দেখালেন সব অ্যাসিডেই অক্সিজেন থাকে না। তবে হাইড্রোজেনের অবস্থান বাধ্যতামূলক। বিজ্ঞানীদের দেওয়া অক্সিজেন নামটাই যে ভুল তা তার পরীক্ষা থেকে প্রমাণিত হল। কারণ অক্সিজেন অ্যাসিড উৎপাদক মাত্র।

হ্যালোজেন পরিবারের বিখ্যাত মৌলিক পদার্থ ক্লোরিন নিয়ে ডেভির গবেষণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক্লোরিন নিয়ে গবেষণা করেও তিনি বহু মূল্যবান তথ্য আবিষ্কার করেছিলেন। ডেভির জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি লিথিয়াম নামের ক্ষার ধাতুর আবিষ্কার। এছাড়াও তিনি আবিষ্কার করেন বেরিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম নামক ধাতু দুটি। মৃত্তিকা ধাতু স্টনসিয়ামের সঙ্গে তার নামও যুক্ত। খনিতে ব্যবহৃত সেফটিল্যাম্প বা নিরাপত্তা বাতি ডেভির এক মহান আবিষ্কার। খনিশ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি এই বাতি আবিষ্কার করেছিলেন ১৮১৬ খ্রিঃ।

তারই নামানুসারে বাতিটির নামকরণ হয়েছে ডেভির নিরাপত্তা বাতি। আজকাল খনির কাজে বিদ্যুতের ব্যবহার প্রচলিত হয়েছে। শ্রমিকরা সাধারণতঃ বৈদ্যুতিক বাতিই ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু ডেভি প্রবর্তিত নিরাপত্তা বাতির প্রয়োজন এখনও ফুরায়নি। হয়তো ভবিষ্যতে আরো বহুকাল খনি শ্রমিকরা ডেভির নিরাপত্তা বাতির সুবিধা ভোগ করবে। বিজ্ঞানের ইতিহাসে ডেভির সবচেয়ে বড় অবদান সম্ভবতঃ বিজ্ঞানী ফ্যারাডেকে আবিষ্কার। স্কুল কলেজের প্রথাগত শিক্ষাবর্জিত অতি সাধারণ এক বই বাঁধাইয়ের দপ্তরীকে তিনি নিজের হাতে গড়েপিটে উত্তরকালে এক অসাধারণ বিজ্ঞানীতে পরিণত করেছিলেন।

বিজ্ঞান বিষয়ে ফ্যারাডের প্রতিভা উপলব্ধি করতে ডেভির ভুল হয়নি। তাঁর চেষ্টাতেই জগৎ লাভ করেছিল এক মহান বিজ্ঞানীকে। ফ্যারাডের আবিষ্কারই বিজ্ঞান জগতে বিদ্যুৎ যুগের সূচনা ঘটিয়েছিল। ডেভি ছিলেন সহজ সরল অনাড়ম্বর জীবনের মানুষ। বিজ্ঞান সাধনা তাঁকে দিয়েছিল যশ, অর্থ, সম্মান। কোন কিছুতেই তিনি আচ্ছন্ন হননি। বিজ্ঞানের গবেষণা যখন তাঁর জীবনে প্রাধান্য লাভ করল তখনও তিনি সময় ও সুযোগ মত জনসেবা করেছেন চিকিৎসকরূপে। এই কাজ করেছেন তিনি আমৃত্যু।

হামফ্রে ডেভি র পুরস্কার ও সম্মান: Humphry Davy’s Awards And Honors

ডেভি তাঁর জীবদ্দশাতেই বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর সম্মান লাভ করেছিলেন। দেশ বিদেশের বহু প্রতিষ্ঠান তাঁকে সম্মান জানিয়েছিল।

হামফ্রে ডেভি র মৃত্যু: Humphry Davy’s Death

ডেভি যখন বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস নিয়ে গবেষণা করছিলেন, সেই সময় একদিন অজ্ঞান হয়ে গেছিলেন। তারপর থেকেই তাঁর শরীর অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। অনেকের ধারণা ক্লোরিন গ্যাসের গবেষণাই তাঁর মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছিল। মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে ১৮২৯ খ্রিঃ ২৯ শে মে ডেভির মৃত্যু হয়।

Leave a Comment