প্রাথমিক স্তরের অর্থনৈতিক কাজ হিসাবে কৃষি কাজের গুরুত্ব আলোচনা করো।

প্রাথমিক স্তরের অর্থনৈতিক কাজ হিসাবে কৃষি কাজের গুরুত্ব আলোচনা করো: মানুষ যখন উদ্ভিদ ও প্রাণী জগতের স্বাভাবিক জন্ম ও বৃদ্ধি প্রক্রিয়া সুযোগ নিয়ে নিজেদের চাহিদা ও অভাব মেটানোর উদ্দেশ্যে উদ্ভিদ ও প্রাণী জাতীয় দ্রব্য উৎপাদন করে, তখন সেই উৎপাদনশীল প্রচেষ্টাকে কৃষিকাজ বলে। কৃষি কাজের মাধ্যমে মানুষ যেহেতু তার প্রাথমিক চাহিদা অর্থাৎ খাদ্যের চাহিদা মেটায় সেহেতু কৃষিকাজকে মানুষের প্রাথমিক স্তরের অর্থনৈতিক কাজ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। এই প্রাথমিক স্তরের অর্থনৈতিক কাজ হিসাবে কৃষি কাজের গুরুত্বগুলি হল নিম্নরূপ:

১)খাদ্যশস্য উৎপাদন: মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান শর্ত হলো খাদ্য। কৃষি কাজের মাধ্যমে অর্থাৎ ধান, গম, মিলেট, ফলমূল, মাছ, মাংস, দুধ ডিম প্রভৃতি উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটে।

২)জীবিকা নির্বাহ: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। উন্নত দেশ অপেক্ষা উন্নয়নশীল দেশগুলির মানুষ কৃষি কাজের দ্বারা জীবিকা নির্বাহ বেশি করে। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় 5% মানুষ এবং ভারতের প্রায় 66% মানুষ কৃষি কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে।

৩)খাদ্যের যোগান: পশু খাদ্যের উৎপাদন ও যোগানের ওপর উন্নত পশুপালন নির্ভর করে। উন্নত দেশগুলিতে পশু খাদ্যের জন্য জমিতে যব, ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা, হে, ক্লোভার প্রভৃতি চাষ করা হয়। তবে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে জনসংখ্যার চাপ বেশি থাকায় কৃষি জমিতে প্রধানত খাদ্যশস্য ও অর্থকরী ফসল চাষ করা হয়।

৪)শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ: কার্পাস বয়ন শিল্প, পাটশিল্প, চা শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রভৃতির কাঁচামাল কৃষিকাজের মাধ্যমে পাওয়া যায়। ফলে কৃষিনির্ভর শিল্পগুলির উন্নতির ক্ষেত্রে কৃষি কাজের গুরুত্ব অপরিসীম।

৫)সহযোগী শিল্পের উন্নতি: কৃষিকে ঘিরে রাসায়নিক সার শিল্প, কীটনাশক ও আগাছানাশক দ্রব্য উৎপাদন শিল্প, ট্রাক্টর, হারভেস্টার, পাম্পসেট ইত্যাদি যন্ত্র শিল্পের তথা সহযোগী শিল্পের বিকাশ ঘটে। ফলে কৃষির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে শিল্পের উন্নতি ঘটে।

৬)অর্থনৈতিক উন্নয়ন: কৃষি কাজ যে কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির তথা জাতীয় আয় বৃদ্ধির সহায়ক। অধিকাংশ দেশের মোট জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ আসে কৃষিক্ষেত্র থেকে। বর্তমানে ভারতের মোট জাতীয় আয়ের প্রায় 30: 35 শতাংশ আসে কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট উৎপাদন থেকে। এছাড়া কৃষি কাজের মাধ্যমে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় বলে সার্বিকভাবে কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে।

৭)বাণিজ্যের প্রসার ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বিভিন্ন কৃষিজাত দ্রব্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প দ্রব্য বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়। বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসারের ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন হয়। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।

৮)গবেষণামূলক কাজের সুযোগ বৃদ্ধি: জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় উন্নত প্রথায় কৃষি কাজের প্রয়োজনে কৃষি গবেষণার কাজে বহু মানুষ নিযুক্ত আছেন। ফলে কৃষির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Comment