জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস জীবনী | John Franklin Enders Biography in Bengali

জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস জীবনী: Gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে John Franklin Enders Biography in Bengali. আপনারা যারা জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস কে ছিলেন? Who is John Franklin Enders?

জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস (১০ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৭ – ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫) একজন মার্কিন বিজ্ঞানী। তাকে “আধুনিক প্রতিষেধকের জনক” বলা হয়। তিনি ১৯৫৪ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস জীবনী – John Franklin Enders Biography in Bengali

নামজন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস
জন্ম10 ফেব্রুয়ারী 1897
পিতাজন অস্ট্রম এন্ডার্স
মাতা
জন্মস্থানওয়েস্ট হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট
জাতীয়তামার্কিন
পেশাবিজ্ঞানী
মৃত্যু8 সেপ্টেম্বর 1985 (বয়স 88)

জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস এর জন্ম: John Franklin Enders’s Birthday

জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস 10 ফেব্রুয়ারী 1897 জন্মগ্রহণ করেন।

জীববিজ্ঞানের ভাষায় ক্ষুধার্ত জীবাণু ভাইরাসের নাম ব্যাকটেরিওফাজ। ল্যাটিন শব্দ ফাজাইন থেকে এসেছে ফাজ কথাটা যার অর্থ কুরে খাওয়া। মারাত্মক জীবাণু ব্যাকটেরিয়াকে ও অনায়াসে খেয়ে নেয় বলে ভাইরাসকে এই নাম দেওয়া হয়েছে। প্রাণীদেহের কোষের মাংস যে এই ভাইরাসের অতি প্রিয় খাদ্য হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই মারাত্মক জীবাণুটিকে প্রথম তামাক পাতার মধ্যে আবিষ্কার করেছিলেন ইভানোস্কি নামে এক জীববিজ্ঞানী ১৮৯২ খ্রিঃ। তামাক পাতায় পাওয়া গিয়েছিল বলে ইভানোস্কি এই জীবাণুর নাম দিয়েছিলেন টোব্যাকো মোজাইক ভাইরাস। ইংরাজিতে সংক্ষেপে বলা হয় টি.এম.ভি। ভাইরাস কথাটা এসেছে ল্যাটিন থেকে। এর অর্থ তরল বিষ। প্রাণিদেহে প্রথম ভাইরাসের সন্ধান পেয়েছিলেন লোয়েফলার নামে এক বিজ্ঞানী ১৮৯৮ খ্রিঃ।

১৯০০ খ্রিঃ পিত্তঘটিত পীতজুরের ওপর গবেষণা করতে গিয়ে ওয়াল্টার রিড নামে এক বিজ্ঞানী লক্ষ করেন এক ধরনের ভাইরাসই এই রোগের কারণ। এইভাবে ভাইরাস জীববিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা করল। ভাইরাসকে কব্জা করবার জন্য বিজ্ঞানীরা গবেষণায় মেতে উঠলেন। ক্রমে আবিষ্কৃত হল ভ্যাক্সিন, অ্যান্টিবায়োটিক, সালফাড্রাগ যা ভাইরাসকে ধ্বংস করে ভাইরাসঘটিত রোগের কবল থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে।

এইসব প্রতিষেধক আবিষ্কার করবার জন্য পৃথিবীর অসংখ্য জীববিজ্ঞানী দীর্ঘ অনলস গবেষণায় জীবন ব্যয় করেছেন। মানবকল্যাণের লক্ষে যে সব বিজ্ঞানসাধক জীবনদায়ী ওষুধ আবিষ্কার করেছেন তাদের মধ্যে বিশিষ্ট নামটি হল জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস। এই বিশ্ববরেণ্য জীববিজ্ঞানী দীর্ঘ ত্রিশ বছর ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করে বিশ্ববিজ্ঞানের ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন।

জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: John Franklin Enders’s Parents And Birth Place

১৮৯৭ খ্রিঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল শহরে এক ধনী পরিবারে বিজ্ঞানী এন্ডারসের জন্ম। স্বাভাবিকভাবেই ছেলেবেলা থেকেই লেখাপড়া শেখার প্রশস্ত সুযোগ লাভ করেন এন্ডারস। কিন্তু তাঁর যত আগ্রহ ভাষা ও সাহিত্যের বিষয়ে। বই পেলেই গোগ্রাসে গিলতে বসেন। যত অনীহা তাঁর বিজ্ঞানের বিষয়ে। কি জীবনবিজ্ঞান, কি রসায়ন বা পদার্থবিদ্যা- এসবের ত্রিসীমানায় ঘেঁষেন না তিনি।

অঙ্কের কথা শুনলেই শিউরে উঠে চোখ বোজেন, এমনি অবস্থা। এন্ডারস স্বপ্ন দেখেন ভবিষ্যৎ জীবনে হবেন এক মস্ত লেখক। লিখবেন গল্প, উপন্যাস, নাটক। জীবনের কি রহস্যময় গতিবিধি, এই মানুষই একদিন আকস্মিক ভাবে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে বিজ্ঞান সাধনার মাধ্যমে বিশ্ববিজ্ঞানের ইতিহাসে নিজের বিশেষ স্থানটি নির্দিষ্ট করে নেন।

জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস এর শিক্ষাজীবন: John Franklin Enders’s Educational Life

এন্ডারস ১৯১৯ খ্রিঃ ইয়েল শহরের কলেজ থেকে স্নাতক হয়ে বেরলেন। সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে ভর্তি হলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানে ইংরাজি সাহিত্যের ক্লাশ করতে করতেই ঘটল একদিন অঘটন। কি একটা কাজে একদিন জীবাণুবিদ্যার ক্লাশে ঢুকে একটা অদ্ভুত বিষয়ের বই হাতে পেলেন। বইটা হল হ্যান্স জিন্সার রচিত উকুনের জীবনবৃত্তান্ত।

বিশেষ করে বিষয়ের আকর্ষণেই বইটা পরে কিনে নিলেন তিনি। বই পড়ে তো হতভম্ব এন্ডারস। একটা তুচ্ছ কীটের এমন রোমাঞ্চকর জীবনেতিহাস যে সম্ভব তা ছিল তার কল্পনারও অগোচর। কী আশ্চর্য ভাবে জন্মের পর থেকে জীবনচক্রের ধাপে ধাপে প্রাণীটার চেহারা, বুদ্ধি ও বৈশিষ্ট্যের রূপান্তর ঘটে, অদ্ভুত জীবনযাত্রার মধ্য দিয়ে বংশ বিস্তার ও অবশেষে আসে মৃত্যু। বিশ্বপ্রকৃতির এক অজানা রহস্য উন্মোচিত হয় এন্ডারসের চোখের সামনে।

তার বিস্ময়ের অবধি থাকে না সামান্য এক জীবন নিয়ে অসামান্য বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের ধৈর্য ও কুশলতার কথা ভেবে। ওই উকুনই এন্ডারসের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলে। উকুনের জীবনবৃত্তান্ত বইটির লেখক হ্যান্স হার্ভাডের জীবাণুবিদ্যা বিভাগেরই স্বনামখ্যাত অধ্যাপক – গবেষক। এন্ডারস বইটি শেষ করে পরদিনই গিয়ে দেখা করলেন তাঁর সঙ্গে। তিনি ততক্ষণে মনস্থির করে নিয়েছেন, সাহিত্য নয়, জীবাণুবিদ্যার গবেষণাতেই জীবন উৎসর্গ করবেন।

জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস এর কর্ম জীবন: John Franklin Enders’s Work Life

অধ্যাপক হ্যান্স এন্ডারসের সঙ্গে কথা বলেই বুঝতে পারলেন বিজ্ঞানের উজ্জ্বল সম্ভাবনার প্রতিশ্রুতি নিয়েই জন্মেছেন তিনি। নিজেই উদ্যোগী হয়ে তার ল্যাবরেটরিতে এন্ডারসের ডক্টরেট করবার সুযোগ করে দিলেন। এন্ডারস তার জীববিজ্ঞানের গবেষণা আরম্ভ করলেন হ্যান্সের অধীনে। এন্ডারস তার গবেষণার বিষয় নির্বাচন কলেন অ্যালার্জি। আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থার নাম হল ইমিউনলজি। এই কাজটি করে শ্বেতকণিকা।

বাইরের কোন জীবাণু শরীরে ঢুকলে শ্বেতকণিকারা জীবাণুর মোকাবিলার জন্য রক্তে একধরনের প্রোটিন তৈরি করে। এর নাম হল এন্টিবডি। আর বাইরের জীবাণুকে বলে অ্যান্টিজেন। আমাদের শরীরের জটিল প্রাণ – রাসায়নিক প্রক্রিয়ার ফলেই একধরনের অ্যান্টিজেনে বা বহিরাগত রেণুর অনুপ্রবেশের দরুন কোষের মধ্যে অতিরিক্ত সাড়া জেগে ওঠে।। ফলে শরীরে তৈরি হয় হিস্টামিন নামে একটি জৈব রাসায়নিক।

এই রাসায়নিকটি এমন যে এটি তৈরি হওয়া মাত্র শরীরে কতগুলি প্রতিক্রিয়া ফুটে ওঠে, যেমন চুলকানি, চোখ ফোলা, নাকে সুড়সুড়ি ইত্যাদি। এই অবস্থারই নাম অ্যালার্জি। যেসব জিনিস থেকে শরীরে অ্যালার্জি দেখা দেয় এর মধ্যে আছে, জন্তু জানোয়ারের গায়ের লোম, ধুলাবালি, বোলতা বা মৌমাছির হুল, ডিমের সাদা অংশ, দুধ, কার্বন কাগজ ইত্যাদি। অ্যালার্জি বহু প্রকার ৷

এন্ডারস, হ্যান্সের ল্যাবরেটরিতে নানা প্রকার অ্যালার্জি নিয়ে পরীক্ষা চালাতে লাগলেন। এন্ডারসের ডক্টরেট ডিগ্রি এল অ্যালার্জির ওপর উচ্চমানের গবেষণার জন্য। ফুসফুস সংক্রান্ত রোগ বা ফুসফুসের প্রদাহকেই বলা হয় নিউমোনিয়া। অ্যালার্জির পর এন্ডারস গবেষণা আরম্ভ করলেন নিউমোনিয়া নিয়ে। অচিরেই এন্ডারস আবিষ্কার করলেন একধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমন থেকেই নিউমোনিয়ার উৎপত্তি।

এন্ডারস নিউমোনিয়া রোগের জীবাণুনাশক অনুসন্ধানের জন্য পরীক্ষা – নিরীক্ষা আরম্ভ করলেন। পাশাপাশি চলতে থাকে যক্ষ্মারোগ সংক্রান্ত গবেষণা। এই রোগটিও ব্যাকটেরিয়া জাতীয় জীবাণুঘটিত ৷ ইতিমধ্যে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করায় নানা প্রকার অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের পথ সুগম হল। একে একে আবিষ্কৃত হল, স্ট্রেপটোমাইসিন, ক্লোরোমাইসেটিন, ক্লোরামপেনিপল প্রভৃতি জীবনদায়ী ওষুধ। ফলে ব্যাকটেরিয়াঘটিত যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া জাতীয় রোগের প্রকোপ কমে গেল।

এন্ডারস পরীক্ষা করে দেখালেন, এমন কিছু ভাইরাস রয়েছে যারা কোন অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধেই জব্দ হয় না। এন্ডারস পরীক্ষা শুরু করলেন এই কারণ নির্ণয়ের লক্ষে। বিভিন্ন ভাইরাস নিয়ে পরীক্ষা – নিরীক্ষা করে এন্ডারস এদের স্বরূপ উদ্ঘাটন করলেন ৷ দেখা গেল সব ভাইরাসই এককোষী। এদের আকৃতি এতই ক্ষুদ্রাকার যে খালিচোখে তো দূরের কথা, অত্যন্ত শক্তিশালী অণুবীক্ষণ দিয়ে দেখেও বোঝার উপায় থাকে না এরা জীবিত না মৃত।

অতি ক্ষুদ্র অবয়ব নিয়ে অতি সহজেই এরা শরীরে ঢুকে পড়ে। এদের আক্রমণের স্থান হল কোষ। অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে এরা কোষকে ধ্বংস করে নিজেদের বংশবিস্তার করে। কোষ থেকে ক্রমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে। এই ভাবেই রোগাক্রান্ত শরীরে একসময় নেমে আসে মৃত্যু। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক বছর আগে ১৯৩৮ খ্রিঃ ইলেকট্রো মাইক্রোস্কোপ তৈরি হল। ফলে জীবাণু গবেষণায় যুগান্তর এল।

এই শক্তিশালী অণুবীক্ষণের সাহায্যেই আবিষ্কৃত হল প্রথম ভাইরাস টোব্যাকো মোজাইক ভাইরাস। দেখা গেল এই ভয়াবহ জীবাণুর গড় আকারের পরিমাপ এক ইঞ্চির দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ মাত্র। ক্রমে ভাইরাসের শরীরতন্ত্র সম্পর্কেও বহু তথ্য জানা সম্ভব হল। বিভিন্ন ভাইরাসের শরীরে উপাদানও বিভিন্ন ৷ বিজ্ঞানীরা জানালেন ভাইরাস এক ধরনের নিউক্লিও প্রোটিনের অণুযুক্ত সংক্রামক কণা।

এদের নিজস্ব বিপাকক্রিয়া বলতে কিছু নেই। কোষে অনুপ্রবেশের পর এই সংক্রামক কণারা কোষীয় বিপাক ক্রিয়াকে অবলম্বন করে নিজেদের বংশবৃদ্ধি ঘটায়। এই ভাবেই এরা কোষকে ধ্বংস করে দেয়। বহু ধরনের ভাইরাসের প্রত্যেকেই শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। এরা যে কেবল মানুষের কোষকেই ধ্বংস করে তাই নয়, উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গ, মৎস্য, সরীসৃপ, পাখি এমনকি জীবাণু ব্যাকটেরিয়া পর্যন্ত এদের শিকারের আওতাভুক্ত।

এন্ডারস গভীরভাবে গবেষণা করে বহুবিধ ভাইরাসের অস্তিত্ব আবিষ্কার করলেন। তার এবং অন্যান্য গবেষকদের গবেষণার ফলে এ পর্যন্ত চার হাজার রকমের ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। আশ্চর্য ব্যাপার হল, এই বিরাট সংখ্যক ভাইরাসের প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা চরিত্র এবং প্রত্যেকেই ক্ষতিকারক। এরা কেউই জীবজগতের কোন প্রকার উপকারে আসে না। এন্ডারস এদের অনেকের মধ্যেই মানবকোষের প্রতি বিশেষ প্রবণতা লক্ষ করলেন ৷

মানবকোশে অনুপ্রবেশের পর এরা নিজেদের লালা থেকে একধরনের এনজাইম ছড়িয়ে দিতে থাকে। এই এনজাইম অতি দ্রুত কোষের আবরণকে গালিয়ে ফেলে। কোন কোন ভাইরাসের আছে ছোট ছোট লেজ। তার ভেতরটা আবার নলাকৃতি। তারা এই তীক্ষ্মাগ্র লেজটিকে মানবকোষের গায়ে কাঁটার মত বিঁধিয়ে দেয়। তারপর নলাকৃতি লেজের ভেতর দিয়ে ভাইরাসের যাবতীয় বৈশিষ্ট্যের বাহক জিনটি কোষের ভেতরে ঢুকে পড়ে।

এই জিন কোষের বিপাক ক্রিয়াকে অবলম্বন করে কোষের ভেতরেই অসংখ্য ভাইরাস তৈরি করে। অল্প সময়ের মধ্যেই এদের দাপটে কোষ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরে রোগ লক্ষণ দেখা দেয়। এন্ডারস বিভিন্ন ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করলেও বিশেষভাবে কাজ করেছেন ভাইরাস বাহিত হামরোগ নিয়ে। হাম এমনই এক রোগ যা ছমাস বয়সের পর থেকে যে কোন বয়সের মানুষেরই হতে পারে। তবে অল্প বয়সেই এই রোগ বেশি হতে দেখা যায়।

একবার হাম হলে দ্বিতীয়বার হবার সম্ভাবনা কম থাকে। একসময়ে হাম থেকে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটত। হাম ছড়িয়ে পড়ত মহামারীর মত। এন্ডারস দেখলেন, হামের ভাইরাস শরীরকে এমন দুর্বল করে দেয় যে সহজেই নিউমোনিয়া কিংবা মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত পক্ষাঘাতে আক্রাস্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় মানুষের শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। থাইলার নামে এক বিজ্ঞানী বহুদিন আগেই পীতজুরের ভাইরাসের কালচার তৈরি করে এই রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছিলেন।

এন্ডারসও একই ধারা অনুসরণ করে হামের ভ্যাকসিন তৈরি করতে সমর্থ হলেন। এন্ডারসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল পোলিও ভাইরাসের কালচার তৈরি করা। তার কাজের সূত্র ধরেই পরবর্তীকালে জনাস সঙ্ক পোলিও রোগের সার্থক ভ্যাকসিন তৈরি করেছিলেন। সল্ক মুক্ত কন্ঠে এন্ডারসের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “Dr, John Enders pitched a very long forword pass, and I happend to be in the right spot to receive it.”

জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস এর পুরস্কার ও সম্মান: John Franklin Enders’s Awards And Honors

সারাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এন্ডারস ১৯৫৪ খ্রিঃ চিকিৎসা শাস্ত্র ও শারীরবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেলেন। পুরস্কার প্রাপ্তির পরেই এন্ডারস আবাব হাম নিয়ে গবেষণা আরম্ভ করলেন। ইতিপূর্বে তিনি হামের যে ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছিলেন তার দ্বারা সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব হয়নি।

এবারে, ১৯৫৪ খ্রিঃ তিনি একটি এগারো বছরের বালকের রক্ত ও গলা থেকে শ্লেষা নিয়ে পরীক্ষা করে তার মধ্যে হামের ভাইরাস পেয়ে যান। তা থেকে তৈরি করেন সেই ভাইরাসের টিস্যু কালচার। তা থেকেই দুবছরের চেষ্টায় তৈরি করলেন হামের ভ্যাকসিন। পরীক্ষা করে দেখা গেল এই ভ্যাকসিনে শতকরা ৯৬ ভাগ ক্ষেত্রেই রোগ নিরাময় ঘটে। ভাইরাসের এন্ডারসের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ফলে ষাটটিরও বেশি কালচার তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। অনাগত ভবিষ্যতে তাঁর অনুসরণেই হয়তো দুরারোগ্য ক্যানসারের ভাইরাস বধের অস্ত্রও পাওয়া যাবে।

জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস এর মৃত্যু: John Franklin Enders’s Death

৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডারস এর জীবনাবসান হয়।

Leave a Comment