জনি ওয়েইসমুলার জীবনী | Johnny Weissmuller Biography in Bengali

জনি ওয়েইসমুলার জীবনী: Gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Johnny Weissmuller Biography in Bengali. আপনারা যারা জনি ওয়েইসমুলার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী জনি ওয়েইসমুলার এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

জনি ওয়েইসমুলার কে ছিলেন? Who is Johnny Weissmuller?

জনি ওয়েইসমুলার (জোহান পিটার ওয়েইসমুলার) (2 জুন, 1904 – 20 জানুয়ারী, 1984) একজন আমেরিকান অভিনেতা এবং অলিম্পিক সাঁতারু ছিলেন। তিনি টারজান দ্য এপ ম্যান – এ এডগার রাইস বুরোসের টারজান , এমজিএম দ্বারা নির্মিত পাঁচটি সিক্যুয়েল এবং আরকেও-র ছয়টি অতিরিক্ত চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত ছিলেন। ওয়েইসমুলার 20 শতকের সেরা প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারের রেকর্ডের জন্যও পরিচিত ছিলেন। ওয়েইসমুলার অলিম্পিকে পাঁচটি স্বর্ণপদক জয়ের পাশাপাশি অসংখ্য বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন।তিনি 100 মিটার ফ্রিস্টাইল এবং 4 × 200 মিটার জিতেছেনরিলে টিম ইভেন্ট 1924 সালে প্যারিস গেমসে এবং আবার 1928 সালে আমস্টারডাম গেমসে। ওয়েইসমুলার প্যারিসে ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতায় 400 মিটার ফ্রিস্টাইলে সোনার পাশাপাশি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।

জনি ওয়েইসমুলার জীবনী – Johnny Weissmuller Biography in Bengali

নামজনি ওয়েইসমুলার
জন্ম2শে জুন 1904
পিতাপিটার ওয়েইসমুলার
মাতাএলিজাবেথ ওয়েইসমুলার
জন্মস্থানঅস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি
জাতীয়তাআমেরিকান
পেশাঅভিনেতা, অলিম্পিক সাঁতারু
মৃত্যু20 জানুয়ারী 1984 (বয়স 79)

জনি ওয়েইসমুলার এর জন্ম: Johnny Weissmuller’s Birthday

জনি ওয়েইসমুলার 2শে জুন 1904 জন্মগ্রহণ করেন।

জনি ওয়েইসমুলার এর কর্ম জীবন: Johnny Weissmuller’s Work Life

প্রেম ও হিংসা – দ্বন্দ্বের সঙ্গে অতুলনীয় বীরত্ব গৌরবে এবং বিস্ময়কর অভিনয় গুণে টারজানের বিভিন্ন ছায়াছবি চলচ্চিত্র জগতের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রেক্ষাগৃহে বসে আজও এসব ছবি উপভোগ করেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের দর্শক সাধারণ। এইসব ছবি দেখতে বসে মুহুর্মুহু শিহরণ জাগে দর্শকের মনে।

নায়ক টারজানের দৈনন্দিন জীবন কাটে অরণ্যের গভীরে বাঘ, সিংহ, হাতি, গন্ডার প্রভৃতির সঙ্গে মরনপণ যুদ্ধ করে। কখনো তিনি বিপন্নকে উদ্ধার করবার জন্য পাহাড়ের চূড়া থেকে খরস্রোতা নদীর বুকে ঝাপিয়ে পড়ছেন, কখনো বন্যজন্তুর কবল থেকে আত্মরক্ষা করছেন লতার গুচ্ছ মুঠি চেপে ধরে ঝুলে এক গাছ থেকে অন্য গাছে আরোহন করে।

পরম শক্তিমান এই নায়কের শক্তিমত্তা ও বীরত্ব দেখতে দেখতে স্তব্ধ বিস্ময়ে দর্শকচিত্তে বারবার আন্দোলিত হতে থাকে একটি প্রশ্ন – কে এই বিস্ময়কর মানুষ যাঁকে অতিমানব না বলে উপায় থাকে না ! টারজানের বিস্ময়কর ভূমিকায় অভিনয় করে যিনি গোটা বিশ্বের মানুষের হৃদয় জয় করেছেন, তাঁর নাম জনি উইসমুলার।

তার অন্য পরিচয় তিনি অপরাজেয় সন্তরণবীর। একাধারে জল ও স্থলের শৌর্যময় বীর। কেবল আমেরিকাই নয় সমগ্র বিশ্বে সন্তরণ বীরদের আদর্শ। উইসমুলার ৬৭ টি সাঁতার রেকর্ডের গৌরবের অধিকারী। দূরত্বের হিসেবে ৫০ গজ থেকে আধ মাইল পর্যন্ত সাঁতারের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বিস্ময়কর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন মাত্র ষোল বছর বয়সেই ১৯২৪ খ্রিঃ।

অষ্টম অলিম্পিকে সাঁতারের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সর্বপ্রথম একাকী তিনটি স্বর্ণপদক লাভ করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। চারবছর পরে ১৯২৮ খ্রিঃ আমস্টার্ডাম অলিম্পিকেও উইসমুলারের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সন্তরণ জগতে উইসমুলারের আবির্ভাব ছিল নাটকীয়, বলা চলে এক অস্বাভাবিক ঘটনা। শৈশবে তাঁর শরীর ছিল খুবই দুর্বল।

বহু চিকিৎসার পর চিকিৎসক উপদেশ দিলেন কোন ওষুধপত্র নয়, নিয়মিত সস্তরণেই তাঁর সুস্থ ও সবল দেহ লাভ করা সম্ভব। কতকটা ভয়ে এবং কতকটা অবজ্ঞায় সেদিন উইসমুলার ডাক্তারের উপদেশ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ভৎসনা লাভের পর কিশোর উইসমুলার সকাতরে জানিয়ে ছিলেন, জীবনে তিনি কখন জলে নামেন নি — তার পক্ষে কি করে সাঁতার কাটা সম্ভব !

শেষ পর্যন্ত ডাক্তারের উপদেশেও পিতামাতার অনুরোধ উপরোধে উইসমুলারকে জলে নামতে হয়েছিল। বাড়ির কাছেই ছিল ডেসক্লেনস নদী। বয়স তখন তেরো ছুঁয়েছে। উইসমুলার এই নদীর কিনারে ঘোলাটে জলে জীবনে প্রথম সাঁতার অভ্যাস শুরু করেন। গোড়ার দিকে অবশ্য দু – চার মিনিটের বেশি জলে থাকতে পারতেন না। অনিচ্ছার সঙ্গেই তাকে মেনে নিতে হয়েছিল এই ব্যবস্থা।

তাই বিরক্তি এসে যেতো অল্পেতেই। এছাড়া জলেরও কেমন একটা ভয় ছিল। কোন রকমে কয়েক মিনিট হাত – পা নাড়াচাড়া করে জল থেকে উঠে আসতেন। কিন্তু সাঁতারে আসাটা নিয়মের মধ্যে দাঁড়িয়ে যারার ফলে জলে থাকার সময়ও ধীরে ধীরে বেড়ে যেতে লাগল। ক্রমে বিরক্তি কেটে গিয়ে আসক্তি জন্মাল। ভয় দূর হয়ে মনে এলো ভালোবাসা। বাড়ল আগ্রহ।

ফলে নিজের চেষ্টাতেই একদিন সাঁতার শিখে গেলেন ৷ পরে এমন অবস্থা দাঁড়াল যে, একদিন যে জলে নামতে গিয়ে ভয়ে সঙ্কুচিত হয়েছেন, সেই জলই হল তার আনন্দের সঙ্গী— দিনের বেশিরভাগ সময়টাই কাটতে লাগল নদীর জলে। – সাঁতার শেখার পর ধীরে ধীরে নানান গতিবেগও রপ্ত করে নিলেন উইসমুলার সহজাত দক্ষতায় ৷ তখনকার দিনের দক্ষ সাঁতারুরা মিচিগ্যান হ্রদের জলে সাঁতারের কৌশল অনুশীলন করতেন।

উইসমূলার তীরে বসে একমনে তাদের সাঁতারের কৌশলগুলো দেখতেন। পরে নিজে তা অনুশীলন করতেন। নিজের চেষ্টাতেই এভাবে একদিন সাঁতারের বিভিন্ন কৌশল উইসমুলারের করায়ত্ব হল। সাঁতারকে মনেপ্রাণে ভালবেসে ফেলেছিলেন উইসমুলার। তাই বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষার জন্য নাম লেখালেন ইলিনিয়াম অ্যাথলেটিক ক্লাবে। এখানে সাঁতারের গুরু হিসাবে পেলেন বিল বেচারকে। উপযুক্ত গুরুর উন্নত শিক্ষার ফলে উইসমুলারের প্রতিভা দ্রুত বিকাশ লাভ করতে থাকে। এরপর এল আত্মপ্রকাশের আহ্বান।

১৯২১ খ্রিঃ উইসমুলার প্রথম অবতীর্ণ হলেন আমেরিকার জাতীয় সম্ভরণ প্রতিযোগিতায়। সেই সময় তাঁর বয়স ষোল বছর। আমেরিকার শ্রেষ্ঠ সাঁতারুরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। ফলে প্রত্যেকটি বিভাগেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হত প্রবল। কে কোন বিভাগে জয়ী হবেন আগে হিসেব কষে তা বলার উপায় থাকত না। উইসমুলার ছিলেন সাঁতারের জগতে সম্পূর্ণ নবাগত — অপরিচিত তো বটেই।

তিনি যখন প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হলেন তার সাফল্যের বিষয়ে তাই কারোর মনেই কোন আগ্রহ বা কৌতূহল সঞ্চার করতে পারেনি। তবে তাঁর শিক্ষক বিল বেচার ছিলেন আশান্বিত। প্রতিযোগিতা শেষ যখন হল তখন উইসমুলার আর উপেক্ষিত রইলেন না। দেখা গেল সন্তরণ জগতে অখ্যাত ও নবাগত উইসমুলার সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রতিযোগিতা ৫০ গজ ও ২২০ গজ সাঁতারে বিজয়ী বলে ঘোষিত হলেন।

এই সুবাদে জনি উইসমুলার নামটি পরিচিতি লাভ করল আমেরিকার সন্তরণ রসিক মহলে ! সাফল্যের জয়যাত্রা শুরু হলো এইভাবেই। উৎসাহিত উইসমুলার নিজের প্রতিভাকে উন্নত করার জন্য নিয়মিত সাধনা আরম্ভ করলেন। ফলে অচিরেই আমেরিকার সন্তরণ জগতে পুরনো সমস্ত রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন নতুন রেকর্ড প্রতিষ্ঠার গৌরবের অধিকারী হতে লাগলেন উইসমূলার। ৫০ গজ থেকে ৮৮০ গজ দূরত্বের সাঁতারে বিভিন্ন নতুন রেকর্ডের পাশে উইসমুলারের নাম স্থায়ী হয়ে যায়।

কেবল ফ্রিস্টাইল সাঁতারেই নয়, ব্যাক স্ট্রোক ও পিঠ – সাঁতারেও তিনি নতুন রেকর্ড স্থাপনে সক্ষম হন। সেই সময়ে অলিম্পিকের ১০০ মিটার সাঁতারে রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন ডিউক কোহানামাকো। ১৯১২ খ্রিঃ স্টকহলমে অনুষ্ঠিত পঞ্চম অলিম্পিকে এবং ১৯২০ খ্রিঃ অ্যান্টোয়ার্পে অনুষ্ঠিত সপ্তম অলিম্পিকে কোহানামাকো ১০০ মিটার সাঁতারে নতুন রেকর্ড স্থাপন করে বিজয়ী হয়েছিলেন।

১৯২৪ খ্রিঃ প্যারিস অলিম্পিকে উইসমুলার ও কোহানামাকো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হলেন। সাঁতার আরম্ভ হওয়ার সঙ্কেত পাবার সঙ্গে সঙ্গেই উইসমুলার তীব্র গতিতে এগিয়ে যেতে থাকেন। প্রবীণ ও নবীনের এই প্রতিযোগিতা অধীর আগ্রহ নিয়ে প্রত্যক্ষ করতে থাকেন সমগ্র দর্শক মণ্ডলী। উইসমুলারকে ধরবার জন্য ডিউক প্রাণপণ করলেন। কিন্তু ব্যর্থ হলেন।

ডিউককে পেছনে ফেলে মাত্র ৫৯ সেকেন্ডে উইসমুলার ১০০ মিটার অতিক্রম করে বিজয়ী হলেন। ৪০০ মিটার সাঁতারেও উইসমুলারের গতিবেগ সকল প্রতিযোগীকে পরাজিত করল। তিনি এই দূরত্ব অতিক্রম করলেন মাত্র ৫ মিনিট ৪.২ সেকেন্ডে। সেবারে ১০০ মিটার ও ৪০০ মিটারে প্রথম স্থান অধিকার করা ছাড়াও উইসমুলার ৮০০ মিটার সাঁতারে বিজয়ী হয়ে আমেরিকা দলকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিলেন।

অলিম্পিকের সাঁতারে বিজয়ীদের মধ্যে উইসমুলারই প্রথম ব্যক্তি যিনি তিনটি স্বর্ণপদক লাভের গৌরব লাভ করেছেন। ১৯২৪ খ্রিঃ এই বিস্ময়কর সাফল্যের পর উইসমুলারের নাম আমেরিকার ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়। এরপর ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের আসর বসল আমস্টার্ডামে। সেবার আমেরিকার দলের নেতৃত্ব করলেন উইসমুলার।

এই অলিম্পিকে ১০০ মিটার সাঁতারে নিজের গড়া রেকর্ড ভঙ্গ করলেন উইসমুলার নিজেই্। ৫৮.৬ সেকেন্ডে সময় নিয়ে তিনি নতুন রেকর্ড প্রতিষ্ঠা করে পরপর দুবার বিজয়ীর স্বর্ণপদক লাভ করলেন। সেবারেও ৮০০ মিটার সাঁতারে উইসমুলারের কৃতিত্বের জন্যই আমেরিকান দল পুনরায় সাফল্যলাভ করল। প্রতিযোগিতামূলক সন্তরণ থেকে উইসমূলার অবসর নেন ১৯২৯ খ্রিঃ। সেই সময় পর্যন্ত তার শ্রেষ্ঠত্ব ছিল অক্ষুণ্ণ। সম্ভরণবীর উইসমুলার ছিলেন সুদর্শন ও স্বাস্থ্যবান।

অবসর নেবার পর তিনি দর্শকচিত্ত জয় করবার জন্য আবির্ভূত হলেন ছায়াছবিতে। টারজানের বিভিন্ন ছবিতে নামভূমিকায় তিনি যে অভিনয় করলেন, তাতে সমস্ত বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হল। কায়াতে অসামান্য কীর্তির অধিকারী উইসমুলার ছায়াতেও অবিশ্বাস্য কীর্তি স্থাপন করলেন। সস্তরণের ক্ষেত্রে তার দৃপ্তভঙ্গিমা, জল কেটে অগ্রসর হবার কৌশল ও সাবলীল গতিবেগ দর্শকচিত্তকে উদ্বেলিত করত।

তার ক্রীড়াকৃতিত্বের গৌরব সগর্বে বুকে ধারণ করে আছে বিশ্ব অলিম্পিকের ইতিহাস। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তার প্রাণবন্ত ও মনমাতানো দক্ষতা ও দুঃসাহসিক ক্রিয়াকৌশল রুপোলী পর্দার বুকে অক্ষয় অমলীন হয়ে আছে। সব মিলিয়েই জনি উইসমুলার স্বয়ং হয়ে রয়েছেন ইতহাস।

জনি ওয়েইসমুলার এর মৃত্যু: Johnny Weissmuller’s Death

20 জানুয়ারী, 1984 জনি ওয়েইসমুলার এর জীবনাবসান হয়।

Leave a Comment