জোসেফ নিসেফোর নিপেস জীবনী – Joseph Nicephore Niepce Biography in Bengali

জোসেফ নিসেফোর নিপেস জীবনী: gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Joseph Nicephore Niepce Biography in Bengali. আপনারা যারা জোসেফ নিসেফোর নিপেস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী জোসেফ নিসেফোর নিপেস এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

জোসেফ নিসেফোর নিপেস কে ছিলেন? Who is Joseph Nicephore Niepce?

Joseph Nicéphore Niépce (7 মার্চ 1765 – 5 জুলাই 1833), সাধারণভাবে পরিচিত বা কেবল Nicéphore Niépce নামে পরিচিত, একজন ফরাসি উদ্ভাবক ছিলেন, সাধারণত ফটোগ্রাফির উদ্ভাবক এবং এতে অগ্রগামী হিসেবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। ক্ষেত্র নিপেস হেলিওগ্রাফি তৈরি করেছিলেন, একটি কৌশল যা তিনি একটি ফটোগ্রাফিক প্রক্রিয়ার বিশ্বের প্রাচীনতম টিকে থাকা পণ্য তৈরি করতে ব্যবহার করেছিলেন: 1825 সালে একটি ফটো এনগ্রেভড প্রিন্টিং প্লেট থেকে তৈরি একটি মুদ্রণ। 1826 বা 1827 সালে, তিনি একটি আদিম ক্যামেরা ব্যবহার করেছিলেন। একটি বাস্তব বিশ্বের দৃশ্যের সবচেয়ে পুরানো জীবিত ফটোগ্রাফ. নিপসের অন্যান্য আবিষ্কারের মধ্যে পাইরেওলোফোর ছিল, যা বিশ্বের প্রথম অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনগুলির মধ্যে একটি, যা তিনি তার বড় ভাই ক্লদ নিপসের সাথে কল্পনা করেছিলেন, তৈরি করেছিলেন এবং বিকাশ করেছিলেন।

জোসেফ নিসেফোর নিপেস জীবনী – Joseph Nicephore Niepce Biography in Bengali

নামজোসেফ নিসেফোর নিপেস
জন্ম7 মার্চ 1765
পিতাক্লদ নিপেস
মাতাক্লদ বারাল্ট
জন্মস্থানচলন-সুর-সাওনে, সাওনে-এট-লোয়ার, ফ্রান্স
জাতীয়তাফরাসি
পেশাউদ্ভাবক, ফটোগ্রাফার
মৃত্যু5 জুলাই 1833 (বয়স 68)

জোসেফ নিসেফোর নিপেস এর জন্ম: Joseph Nicephore Niepce’s Birthday

জোসেফ নিসেফোর নিপেস 1765 সালের 7 মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।

জোসেফ নিসেফোর নিপেস এর কর্ম জীবন: Joseph Nicephore Niepce’s Work Life

ফরাসী বিজ্ঞানী জোসেফ নিয়েপসের গবেষণার বিষয় ছিল ফটোগ্রাফি। আধুনিক ফটোগ্রাফির সূত্রপাত বলতে গেলে তিনিই ঘটান। নিয়েপসের পরেও ফটোগ্রাফি নিয়ে অনেকানেক গবেষণা হয়েছে এবং বহু উল্লেখযোগ্য তথ্য আবিষ্কৃত হয়েছে। কিন্তু চিত্রকে স্থায়ীভাবে ধরে রাখার পদ্ধতি তিনিই আবিষ্কার করেছিলেন। আজকে আমরা যেসব ক্যামেরা দেখি তার ক্রিয়াকৌশল ইত্যাদি তখনকার দিনে কিন্তু এরকম ছিল না।

সেই সময় ক্যামেরা বলতে ছিল একটি ছোট কাঠের বাক্স। এই বাক্সের গায়ে থাকত একটি ছিদ্র ৷ ছিদ্রের সোজাসুজি বাক্সের ভেতরের দেয়ালের গায়ে ঝোলানো থাকত একখানা ঘষা কাচের পর্দা। বাক্সের গায়ের ছিদ্রপথে আলো পর্দার ওপর পড়ত এবং দৃশ্যবস্তুর একটা উল্টো প্রতিবিম্ব দেখে শিল্পী কাগজে ছবি আঁকতেন। বহু পূর্বকাল থেকে এই পদ্ধতিতেই ছবির কাজ করা হয়ে আসছিল। কে যে কবে এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন তা জানা যায় না।

যাই হোক কোন একটি বিষয়ের হুবহু ছবি পেতে হলে বাক্স নামক ক্যামেরা এবং চিত্রশিল্পীর যৌথ উদ্যোগেই তা সম্ভব হত। গবেষক বিজ্ঞানীর অভাব তো প্রাচীনকালেও ছিল না। তাঁদের অনেকেই উন্নততর ক্যামেরা উদ্ভাবনের চেষ্টায় গবেষণাও করছিলেন। বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও চিত্রকর লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি এই পচলিত পদ্ধতির কিছুটা উন্নতিসাধন করেছিলেন। তিনি ছবিকে অধিকতর স্পষ্ট করে তুলবার জন্য বাক্সের ছিদ্রের গায়ে একখানা লেন্স জুড়ে দিয়েছিলেন।

কিন্তু তিনি এতেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি। যন্ত্রের মাধ্যমে ছবি আপনা থেকে সৃষ্টি হবে এমনটি হওয়াই তো স্বাভাবিক। ক্যামেরার পটে প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীকে বা কোন মানুষের প্রতিকৃতিকে স্থায়িত্ব দানের উপায় উদ্ভাবনের চেষ্টা চলতে লাগল। এবিষয়ে সম্ভবতঃ নিয়েপসেই প্রথম উৎসাহী হয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি বুঝতে পেবেছিলেন কোন রাসায়নিক পদার্থের সাহায্যেই ছবিকে পর্দার গায়ে স্থায়িত্ব দানের চেষ্টা সফল হতে পারে। সেই সময় সিলভার ক্লোরাইড নামের একটি রূপার যৌগিক পদার্থের পরিচয় বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছিলেন। সিলভার ক্লোরাইডের দ্রবণকে সূর্যের আলোতে ধরলে তা কালো হয়ে যায়।

অনেক ভাবনা চিন্তার পর নিয়েপসে এই বিশেষ দ্রবণটিকেই কাজে লাগাবেন বলে স্থির করলেন। তিনি প্রথমে একটা কাগজ সিলভার ক্লোরাইড দিয়ে ভিজিয়ে নিলেন। তারপর ক্যামেরার বাক্সের ভেতরে ঘষা কাচের পর্দার ওপর ঝুলিয়ে দিলেন। এরপর এমন ব্যবস্থা করলেন যাতে ছিদ্রের মুখ ইচ্ছেমত খোলা ও বন্ধ করা চলে। এরপর ছিদ্রপথে দৃশ্যবস্তু থেকে আলো যখন সিলভার ক্লোরাইডে সিক্ত কাগজের ওপরে পড়ল তখন গঠিত হল একটি সুন্দর ছবি। স্থায়ী ছবি।

তার জন্য অন্য কোন চিত্রশিল্পীর সাহায্যের দরকার হল না। সবই হল, কিন্তু কাগজের গায়ে ছবিটা হল উল্টো। নিয়েপসে স্থায়ী ছবির ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু ছবিটি উল্টো হবার কারণ তিনি ব্যাখ্যা করতে পারেননি। আর এই উল্টো ছবি থেকে প্রকৃত নিখুঁত ছবি পাওয়ার কোন চেষ্টাও তিনি করেননি। সম্ভবতঃ ছবির জন্য এই ধরনের ঝক্কিঝামেলা নিয়েপসের পছন্দ ছিল না। এই সম্পর্কে তিনি আর মাথা না ঘামিয়ে নতুন কোন পদ্ধতি আবিষ্কার করা যায় কিনা সেই চেষ্টাই করতে লাগলেন ৷

এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করলেন। দীর্ঘ গবেষণার পর সফল হলেন নিয়েপসে। নতুন একটি কৌশল আবিষ্কার করলেন। এবারে তার সরঞ্জাম হল একটি তামার পাত। সিলভার ক্লোরাইডের পরিবর্তে তাতে মাখিয়ে নিলেন বিটুমেন। এই পাতটি ক্যামেরার মধ্যে রেখে তাতে ছিদ্রপথে সূর্যের আলো ফেলে অদ্ভূত ফল পাওয়া গেল। দেখা গেল, যেখানে রোদ পড়ে সেখানে বিটুমেন শক্ত হয়ে এঁটে যায় ৷ রোদ যেখানে পড়ে না বিটুমেন সেখানে আগের মত নরমই থাকে।

এইভাবে তামার পাতটিকে কয়েকঘন্টা রাখার পর ল্যাভেন্ডার তেল দিয়ে ধুয়ে ফেলা হল বিটুমেন। দেখা গেল, যেখানে যেখানে বিটুমেন শক্ত হয়ে গিয়েছিল সেখানে তামার পাতের কোন ক্ষতি হয়নি। কিন্তু যেখানে রোদ পড়েনি এবং বিটুমেন নরম ছিল সেখানে তামার পাত ক্ষয়ে গেছে ৷ এর ফলে পাতের গায়ে সৃষ্টি হয়েছে সুন্দর একটি ছবির ছাঁচ। এবারে নিয়েপসে তামার পাতের গায়ে কালি মাখিয়ে কাগজে ছাপ দিলেন। দৃশ্যবস্তুর অবিকল একটি প্রতিচ্ছবি পাওয়া গেল। ছবি দেখে খুশি হলেন নিয়েপসে।

কিন্তু এখানেই থেমে থাকলেন না তিনি। স্থায়ী ছবিটিকে কি করে আরও সুন্দরভাবে পাওয়া যেতে পারে সেই চেষ্টা করতে লাগলেন। দ্যগোরে নামে এক শিল্পীর সঙ্গে আলাপ ছিল নিয়েপসের। তিনিও এসে জুটলেন তার সঙ্গে। দুজনে মিলে মেতে উঠলেন ক্যামেরা নিয়ে ৷ ইতিমধ্যে আকস্মিকভাবে নিয়েপসের মৃত্যু হল। দ্যগোরে একা হয়ে পড়লেন। কিন্তু দমলেন না। নিয়েপসের আরব্ধ কাজ সম্পূর্ণ করবার চেষ্টায় পরিশ্রম করে চললেন।

কিছুদিন গবেষণার পর নিয়েপসের পদ্ধতিকে সার্থকভাবে কাজে লাগাবার পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন তিনি। আধুনিক ক্যামেরার আবিষ্কার তখনো অবশ্য অনেক দূরে। বিজ্ঞানী আরগো নিয়েপসের মৃত্যুর ছ’বছর পরে এই কাজটি করেছিলেন। তবে তাঁর কৃতিত্বেও নিয়েপসের দানই সর্বাধিক। ফ্রান্সের এক অভিজাত পরিবারে ১৭৬৫ খ্রিঃ ৭ ই মার্চ নিয়েপসের জন্ম হয়। প্রাচুর্যের মধ্যেই বড় হয়েছিলেন নিয়েপসে।

কিন্তু ভোগবিলাসের প্রতি কোন আসক্তি ছিল না তার। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ছিলেন চিন্তাশীল। লেখাপড়ায়ও বরাবর ছিলেন কৃতি ছাত্র। বিজ্ঞানের প্রতিই ছিল ঝোক। স্কুলের পড়া শেষ করে বিজ্ঞান শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। ফরাসী বিপ্লবে সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। দুর্ভাগ্যবশতঃ এই সময়ে তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়তে থাকে, চোখদুটিও খারাপ হয়। বাধ্য হয়ে সৈন্য বিভাগের চাকরি ছেড়ে বাড়িতে ফিরে আসতে হয় তাঁকে।

সুচিকিৎসার সাহায্যে হৃতস্বাস্থ্য ফিরে না এলেও অনেকটাই সুস্থতা ফিরে পেলেন ৷ তবে চাকরি করার ক্ষমতা আর রইল না। বিজ্ঞানের গবেষণা আগেই আরম্ভ করেছিলেন, এবারে তা নিয়েই মগ্ন হলেন। ক্যামেরা নিয়েই একরকম গোটা জীবন অতিবাহিত করেছেন তিনি।

জোসেফ নিসেফোর নিপেস এর মৃত্যু: Joseph Nicephore Niepce’s Death

১৮৩৩ খ্রিঃ নিয়েপসের মৃত্যু হয়।

Leave a Comment