বিখ্যাত ব্যাকরণ গ্রন্থ ও রচয়িতা তালিকা

বিখ্যাত ব্যাকরণ গ্রন্থ ও রচয়িতা তালিকা: প্রাচীন ও মধ্যযুগে বঙ্গদেশে প্রধানত সংস্কৃত ব্যাকরণেরই চর্চা হয়েছে; খুব সামান্য হয়েছে প্রাকৃত ব্যাকরণের চর্চা। এখানে পাণিনির (আনু. খ্রি.পূ পঞ্চম শতক) অষ্টাধ্যায়ীর সূত্রের সংক্ষিপ্ত রূপান্তরই বেশি জনপ্রিয় ছিল। বাংলাদেশে অষ্টাধ্যায়ীর রূপান্তরগুলির মধ্যে কাতন্ত্র (=ক্ষুদ্র তন্ত্র বা গ্রন্থ), বোপদেবের মুগ্ধবোধব্যাকরণ (মুগ্ধবোধ= মুগ্ধ অর্থাৎ মূঢ় বা অল্পজ্ঞদের বোধের নিমিত্ত রচিত ব্যাকরণ) এবং ক্রমদীশ্বরের (১৩শ শতক) সংক্ষিপ্তসার ও মহারাজ জুমরনন্দীকৃত (১৪শ শতক) এর বৃত্তি রসবতী বিশেষভাবে প্রচলিত ছিল। প্রাচীন ও মধ্যযুগে বাঙালির ব্যাকরণ চর্চা বলতে মোটামুটি এ ধরনের টীকাভাষ্য রচনাই বোঝায়। আর এগুলি রচনার কাজ সপ্তম শতকের দিকে শুরু হয়ে আধুনিক কালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ব্যাকরণকৌমুদী (১৮৫৩), চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কারের কাতন্ত্রছন্দঃপ্রক্রিয়া (১৮৯৬) প্রভৃতির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ও প্রায়-অবসিত হয়েছে।

বাংলা ভাষার ব্যাকরণ প্রথম রচনা করেন ইউরোপীয় পণ্ডিতরা। শুধু বাংলা ভাষার ব্যাকরণই নয়, নব্যভারতীয় প্রাদেশিক ভাষাগুলির অধিকাংশেরই ব্যাকরণ রচনার সূত্রপাত তাদের হাতে। বিদেশীরা নানা প্রয়োজনে ভারতবর্ষের আঞ্চলিক ভাষাসমূহ শিখতে ও সহগামীদের শেখাতে বাধ্য হয়েছিল। ফলে তাদের প্রয়োজনই বাংলাসহ অন্যান্য প্রাদেশিক ভাষার ব্যাকরণ রচনায় তাদেরকে উৎসাহিত করেছিল। আর এরকম প্রয়োজনের তাগিদেই পর্তুগিজ ধর্মযাজক মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ (Manoel da Assumpcam) পর্তুগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

বিখ্যাত ব্যাকরণ গ্রন্থ ও রচয়িতা তালিকা

নংরচয়িতাব্যাকরণ / ব্যাকরণ গ্রন্থ
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরব্যাকরণ কৌমুদী (১৮৫৩ )
ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহবাঙ্গালা ব্যাকরণ, বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত
ড. এনামুল হকব্যাকরণ মঞ্জরী
রাজা রামমোহন রায়গৌড়ীয় ব্যাকরণ
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়The Origin and Development of the Bengali Language (1926 ) – যার বাংলা অর্থ : বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশের বৃস্তৃতি
আবদুল হাইবাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত

বাংলা লিপি

  • বাংলা লিপির উদ্ভব হয় – ব্রাহ্মী লিপি হতে ।
  • বাংলা বর্ণমালার উদ্ভব হয় – ব্রাহ্মী লিপি হতে ।
  • বাংলা বর্ণমালা লিখা হয় – বঙ্গলিপি দ্বারা ।
  • বাংলা বর্ণমালা স্থায়ী রূপ লাভ করে – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর দ্বারা ।

Leave a Comment