বর্ধমান মহাবীর ও জৈনধর্ম | Mahavir And Jainisn

বর্ধমান মহাবীর ও জৈনধর্ম | Mahavir And Jainisn: শ্রী মহাবীর জৈন, বর্ধমান নামে পরিচিত, হলেন জৈন ধর্মের ২৪তম তীর্থংকর (প্রধান প্রচারক) যিনি জৈনধর্মকে পুনরুজ্জীবিত করেন। তিনি ২৩তম জৈন তীর্থঙ্কর বা আধ্যাত্মিক গুরু পার্শ্বনাথের পরবর্তী জৈন তীর্থঙ্কর। মহাবীর খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকের গোড়ার দিকে প্রাচীন ভারতের বিহারের রাজকীয় ক্ষত্রিয় জৈন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মাতার নাম ত্রিশলা এবং পিতার নাম রাজা সিদ্ধার্থ। ত্রিশলা এবং সিদ্ধার্থ ছিলেব পার্শ্বনাথের একনিষ্ঠ ভক্ত। মহাবীর ৩০ বছর বয়সে পার্থিব সম্পদ এবং রাজবৈভব পরিত্যাগ করে আধ্যাত্মিক জাগরণের জন্য সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন এবং একজন সন্ন্যাসী হয়ে উঠেন। মহাবীর প্রায় ১২ বছরের বেশি সময় ধরে কঠোর ধ্যান-সাধনা এবং তপস্যা করেন। পরবর্তীতে, তিনি কেবল জ্ঞান বা সর্বজ্ঞান লাভ করেন।

তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে ধর্ম প্রচার করেন এবং খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শব্দীর দিকে মোক্ষ (জৈন বিশ্বাস) লাভ করেন, যদিও বা এই সময়কাল নিয়ে জৈনসম্প্রদায় সমূহের মধ্যে মতভেদ আছে। মহাবীর শিক্ষা দেনে যে, আধ্যাত্মিক মুক্তির জন্য অহিংসা (অহিংসা), সততা (সত্য), অস্তেয় (চুরি না করা), ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহ (বাসনা ত্যাগ) অঙ্গীকার পালন করা প্রয়োজন। তিনি অনেকান্তবাদ (বহুবিধ বাস্তবতা), স্যাদ্বাদ এবং ন্যায়বাদ এই নীতিগুলো শিক্ষা দেন। মহাবীরের শিক্ষা বা বাণীগুলো তাঁর প্রধান শিষ্য ইন্দ্রভূতি গৌতম কর্তৃক জৈন আগম বা জৈন সাহিত্য হিসেবে সংকলিত হয়েছে। জৈন সন্ন্যাসীগণ এসব বাণী বা শিক্ষাগুলো মুখস্থ করে মনে রাখতেন এবং তাদের শিষ্যদের মধ্যে প্রচার করতেন। মনে করা হয়, সম্ভবত খ্রিষ্টীয় প্রথম শতাব্দীর আগে মহাবীরের এই শিক্ষাগুলো প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে, যেগুলো প্রচলিত ছিল সেগুলো শ্বেতাম্বর পদ্ধতিতে প্রথম লিপিবদ্ধ করা হয়। মহাবীর কর্তৃক প্রচারিত শিক্ষাগুলো জৈন আগম বা সাহিত্যের মূল ভিত্তি। জৈনদের দুটি সম্প্রদায় – শ্বেতাম্বর এবং দিগম্বর সম্প্রদায়ের মধ্যে মহাবীরের শিক্ষাগুলোর মধ্যে যেগুলো লিখিত হয়েছে তা নিয়ে বিস্তর মতভেদ রয়েছে।

মহাবীর সাধারণত বসা বা দাঁড়ানো ধ্যানের মূর্তি, তার নিচে একটি সিংহ এর প্রতীক সঙ্গে অঙ্কিত হয়। তার প্রাচীনতম অঙ্কিত চিত্র উত্তর ভারতের শহর মথুরার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। এটি তৈরি করার সময় সম্ভবত, খ্রিস্টপূর্ব ১শ শতাব্দী থেকে দ্বিতীয় শতাব্দীর দিকে। তার জন্ম মহাবীর জয়ন্তী হিসাবে পালিত হয়, এবং তার নির্বরণ জৈন দ্বারা দীপালি হিসাবে পালন করা হয়।

বর্ধমান মহাবীর ও জৈনধর্ম | Mahavir And Jainisn

1)জৈন ধর্মে ধর্ম গুরুদের কি বলা হয়?

Ans: তীর্থঙ্কর।

2) তীর্থঙ্কর শব্দের অর্থ কি?

Ans: সংসার দুঃখ পারাপারের ঘাট বা তীর্থ নির্মাণকারী।

3) জৈন ধর্মে মোট কতজন তীর্থঙ্কর ছিলেন?

Ans: 24জন।

4) জৈন ধর্মের প্রথম তীর্থঙ্কর কে ছিলেন

Ans: ঋষভদেব/আদিনাথ।

5) ঋষভ দেবের প্রতীক কি ছিল?

Ans: ষাঁড়।

6) জৈন ধর্মের 23 তম তীর্থঙ্কর কে ছিলেন?

Ans: পার্শ্বনাথ বা পরেশনাথ।

7) পার্শ্বনাথ বা পরেশনাথের প্রতীক কি ছিল?

Ans: ফণা তলা সাপ।

8) জৈন ধর্মের একমাত্র মহিলা তীর্থঙ্কর কে ছিলেন?

Ans: 19তম তীর্থঙ্কর মালিনাথ।

9) জৈন ধর্মের 24 তম তীর্থঙ্কর কে ছিলেন?

Ans: বর্ধমান মহাবীর।

10) মহাবীর এর প্রতীক কি ছিল?

Ans: সিংহ।

11) জৈন ধর্মের প্রকৃত প্রবর্তক কাকে বলা হয়?

Ans: বর্ধমান মহাবীর কে।

12) মহাবীরের বাবার নাম কি?

Ans: সিদ্ধার্থ।

13) মহাবীরের মায়ের নাম কি?

Ans: ত্রিশলা।

14) মহাবীরের মা কোন বংশের রাজকন্যা ছিলেন?

Ans: লিচ্ছবি।

15) মহাবীর এর স্ত্রীর নাম কি?

Ans: যশোদা।

16) মহাবীরের মেয়ের নাম কি?

Ans: প্রিয়দর্শনা।

17) মহাবীর কোন উপজাতি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?

Ans: জ্ঞাতৃক।

18) মহাবীর কত মাস কঠোর তপস্যা করে নির্গ্রন্থ হন?

Ans: 13 মাস।

19) মহাবীর কবে কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

Ans: আনুমানিক 540 খ্রিস্টপূর্বাব্দে বৈশালীর কুন্দপর গ্রামে।

20″নির্গ্রন্থ” শব্দের অর্থ কি?

Ans: বন্ধন মুক্ত হওয়া।

21) “কৈবল্য”শব্দের অর্থ কি?

Ans: সর্বজ্ঞ।

22) “জিন” শব্দের অর্থ কি?

Ans: জিতেন্দ্রিয়।

23) মহাবীর কত বছর বয়সে দিব্য জ্ঞান লাভ করেন?

Ans: 42 বছর বয়সে।

24)মহাবীর কোন গাছের নিচে দিব্য জ্ঞান লাভ করেন?

Ans: শাল গাছ।

25) মহাবীরের প্রথম সন্ন্যাস গুরু কে ছিলেন?

Ans: গোসাল।

26) মহাবীরের প্রথম শিষ্য কে ছিলেন?

Ans: জৈমেলী (জামাতা)।

27)মহাবীর কবে কোথায় দেহত্যাগ করেন?

Ans: 468 খ্রিস্টপূর্বাব্দে বিহারের রাজগিরের পাবাপুরীতে।

28) মহাবীর কত বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন?

Ans: 72 বছর বয়সে।

29) জৈন ধর্মের অনুরাগী কয়েকজন নরপতির নাম লেখ?

Ans: হর্ষঙ্ক বংশের রাজা বিম্বিসার ও অজাতশত্রু, মৌর্য বংশের রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য,কলিঙ্গরাজ খারবেল প্রমুখ।

30) জৈন ধর্ম শাস্ত্র কে কি বলা হয়?

Ans: আগম।

31) জৈন ধর্মের প্রধান নীতি গুলি কি কি?

Ans: চতুর্যাম,পঞ্চমহাব্রত,ত্রিরত্ন।

32)জৈন ধর্মে কে চতুর্যাম প্রবর্তন করেন?

Ans: পার্শ্বনাথ।

33)চতুর্যামের চারটি নীতি কি কি?

Ans: সত্যবাদিতা,অহিংসা, অচৌর্য ও অপরিগ্রহ।

34) জৈনধর্মে পঞ্চ মহাব্রত কে প্রবর্তন করেন?

Ans: মহাবীর।

35) পঞ্চ মহাব্রতের পাঁচটি মহাব্রত কি কি?

Ans: সত্যবাদিতা, অহিংসা, অচৌর্য, অপরিগ্রহ ও ব্রহ্মচর্য।

36) জৈন ধর্মে ত্রিরত্ন কি কি?

Ans: সৎ বিশ্বাস, সৎ জ্ঞান ও সৎ আচরণ।

37) জৈন ধর্মাবলম্বীরা কোন কোন শাখায় বিভক্ত?

Ans: শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর।

38) কোন সম্রাটের রাজত্বকালে জৈন ধর্মাবলম্বীরা শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর- এই দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে যায়?

Ans: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।

39) শ্বেতাম্বর কাদের বলা হয়?

Ans: যেসকল জৈন ধর্মাবলম্বী স্থূলভদ্রের নেতৃত্বে শ্বেতবস্ত্র পরিধান করে উত্তর ভারতে মহাবীরের ধর্মীয় বাণী প্রচার করেন, তাদের শ্বেতাম্বর বলা হয়।

40) দিগম্বর কাদের বলা হয়?

Ans: যেসকল জৈন ধর্মাবলম্বী ভদ্রবাহুর নেতৃত্বে দক্ষিণ ভারতে মহাবীরের আদর্শ অনুযায়ী নিজেদের পরিধান বস্ত্র ত্যাগ করে জৈন ধর্ম প্রচার করেন, তাদের দিগম্বর বলা হয়।

41)জৈনদের প্রথম লিখিত ধর্ম শাস্ত্রের নাম কি?

Ans: কল্পসূত্র।

42) “কল্পসূত্র” গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

Ans: ভদ্রবাহু।

43) “কল্পসূত্র” গ্রন্থের বিষয়বস্তু কি?

Ans: মহাবীরের জীবনী।

44) উত্তর ভারতে কার নেতৃত্বে জৈন ধর্ম প্রচারিত হয়?

Ans: স্থূলভদ্র।

45) দক্ষিণ ভারতে কার নেতৃত্বে জৈন ধর্ম প্রচারিত হয়?

Ans: ভদ্রবাহু।

46) কয়েকটি জৈন ধর্ম শাস্ত্রের নাম লেখ।

Ans: কল্পসূত্র, ভগবতী সূত্র, পরিশিষ্ট পার্বণ, জৈন সিদ্ধান্ত ইত্যাদি।

47) জৈনদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম কি?

Ans: “দ্বাদশ অঙ্গ”।

48) “দ্বাদশ অঙ্গ” কোন ভাষায় রচিত?

Ans: প্রাকৃত ভাষায়।

49)প্রথম জৈন সংগীতি কবে কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

Ans: 300 খ্রিস্টপূর্বাব্দ পাটলিপুত্রে।

50) প্রথম জৈন সম্মেলন এর সভাপতি কে ছিলেন?

Ans: স্থূলভদ্র।

51) দ্বিতীয় জৈন সংগীতি কবে কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

Ans: 512 খ্রিস্টাব্দে বৈশালীতে।

52) দ্বিতীয় জৈন সম্মেলন এর সভাপতি কে ছিলেন?

Ans: Devardhi Kshammaramana.

Leave a Comment