মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনী | Manik Bandopadhyay Biography in Bengali

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনী: gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Manik Bandopadhyay Biography in Bengali. আপনারা যারা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়) সম্পর্কে জানতে আগ্রহী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কে ছিলেন? Who is Manik Bandopadhyay?

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯ মে, ১৯০৮ – ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৬) ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তার প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবী জুড়ে মানবিক মূল্যবোধের চরম সংকটময় মুহূর্তে বাংলা কথা-সাহিত্যে যে কয়েকজন লেখকের হাতে সাহিত্যজগৎে নতুন এক বৈপ্লবিক ধারা সূচিত হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তার রচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল মধ্যবিত্ত সমাজের কৃত্রিমতা, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, নিয়তিবাদ ইত্যাদি।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এক জায়গায় বলেছেন, সচেত নভাবে বাস্তব বাদের আদর্শ গ্রহণ করে সেই দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে সাহিত্য করিনি বটে কিন্তু ভাবপ্রবণতার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিক্ষোভ সাহিত্যে আমাকে বাস্তবকে অবলম্বন করতে বাধ্য করেছিল।

বাস্তবিক পক্ষে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম মহারথী এই সাহিত্য সাধকের সমস্ত রচনার মধ্যেই ছড়িয়ে আছে মধ্যবিত্ত কৃত্রিমতা ও ভাবপ্রবণতার বিরুদ্ধে। তার তীব্র ক্ষোভ ও অন্তর্দাহ।

বস্তুতঃ অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার আপসহীন সংগ্রাম, সমাজের নিম্নস্তরের মানুষদের দারিদ্রক্লিষ্ট সহজ সরল জীবনের বাস্তব প্রতিরূপ অঙ্কনের মধ্যেই তার সাহিত্য লাভ করেছিল সার্থকতা। তার রচিত পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, পদ্মা নদীর মাঝি ইত্যাদি উপন্যাস ও অতসীমামী, প্রাগৈতিহাসিক, ছোটবকুলপুরের যাত্রী ইত্যাদি গল্পসংকলন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলে বিবেচিত হয়।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনী – Manik Bandopadhyay Biography in Bengali

নামমানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়)
জন্ম19th মে 1908
পিতাহরিহর বন্দ্যোপাধ্যায়
মাতানীরদাসুন্দরী দেবী
জন্মস্থানদুমকা, সাঁওতাল পরগনা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা দুমকা জেলা, ঝাড়খণ্ড)
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার
মৃত্যু3rd ডিসেম্বর 1956 (বয়স 48)

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম: Manik Bandopadhyay’s Birthday

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ সালের ১৯ মে জন্মগ্রহণ করেন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতামাতা ও জন্মস্থান: Manik Bandopadhyay’s Parents And Birth Place

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম হয়েছিল সাঁওতাল পরগনার দুমকায় ১৯০৮ খ্রিঃ ২৯ শে মে। পিতা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায়। মাতার নাম নীরদাসুন্দরী। তাদের আদি নিবাস ছিল ঢাকার বিক্রমপুরে।

সাহিত্যক্ষেত্রে মানিক পরিচিত হয়েছিলেন তার ছেলেবেলার ডাক নামে। পিতৃদত্ত নাম ছিল প্রবােধকুমার। মানিকের প্রথম গল্প অতসী মামী প্রকাশিত হয়েছিল বিচিত্রা পত্রিকায়। সেই সময় তিনি কলেজের ছাত্র। আত্মবিশ্বাসের অভাবে লেখক হিসেবে ডাক নামটি ব্যবহার করেছিলেন।

১৯২৮ খ্রিঃ অতসী মামী প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বাংলা সাহিত্যে তার আসন নির্দিষ্ট হয়ে যায়। ফলে তার ডাক নামটিই স্থায়ী হয়ে যায়।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটবেলা: Manik Bandopadhyay’s Childhood

পিতা হরিহর ছিলেন সরকারী চাকুরে। নানা স্থানে তাকে বদলি হতে হয়েছে কর্মসূত্রে। ফলে বাংলা ও বিহার অঞ্চলে মানিকের বাল্যকাল কেটেছে। পিতার চাকরির সুবাদে বিভিন্ন স্থানে পরিভ্রমণের ফলে শৈশবে মানিক নানান পরিবেশ ও বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ করবার সুযােগ পেয়েছিলেন। এই সময় থেকেই জীবনবােধ সম্বন্ধে তার সজাগ চেতনা গড়ে উঠেছিল, যা পরবর্তীকালে তার সাহিত্যে বিস্তার লাভ করেছিল।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাজীবন: Manik Bandopadhyay’s Educational Life

মেদিনীপুরে দিদির কাছে কিছুকাল থাকতে হয়েছিল মানিক কে। মেদিনীপুর জিলাস্কুল থেকেই প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন। ১৯২৮ খ্রিঃ বাঁকুড়ার ওয়েসলিয়ান মিশন কলেজ থেকে আই – এস – সি পাশ করে অঙ্কে অনার্স নিয়ে কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা: Written by Manik Bandopadhyay

এই সময়ই বিচিত্রা পত্রিকায় তার প্রথম গল্প অতসী মামী প্রকাশিত হয়। প্রথম আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গেই সাহিত্য জগতে সাড়া পড়ে। মানিকের প্রথম উপন্যাস দিবারাত্রির কাব্য একুশ বছরের রচনা। সাহিত্য ক্ষেত্রের খ্যাতি মানিকের কলেজ জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটায়। তার আর বি.এস.সি.পরীক্ষা দেওয়া হয় না। সাহিত্যকেই জীবিকার একমাত্র অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নেন।

বাংলা সাহিত্যক্ষেত্রে সেই সময়ে চলছে কল্লোল যুগ। মানিক ও ভিড়ে গেলেন কল্লোল পত্রিকার লেখক গােষ্ঠীর সঙ্গে। শুরু হলাে নিরন্তর সাহিত্য সাধনা। মানিকের প্রথম উপন্যাস জননী প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ খ্রিঃ। তৎকালীন বিখ্যাত সাহিত্য সাময়িকী ভারতবর্ষে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয় তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিনটি উপন্যাস পুতুলনাচের ইতিকথা ও পদ্মানদীর মাঝি

পূর্ববঙ্গের সাধারণ সমাজের কথা, তাদের জীবনের বিচিত্র আলেখ্য মরমী শিল্পীর মত তিনি চিত্রিত করেছেন। এ ছিল এক নতুন জীবন দর্শন, নতুন দিগন্তের উন্মােচন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেন। সাহিত্যে সূচনা হল এক নতুন যুগের।

নানা কারণে প্রচন্ড অর্থ কষ্টের মধ্য দিয়ে চলতে হয়েছিল মানিককে। খাটি লেখক হবার প্রেরণায় তিনি বড় চাকরির প্রলােভনও প্রত্যাখ্যান করেছেন। শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তার জন্য সাহিত্যিক বৃত্তির ব্যবস্থা করেন।

সংগ্রামী – জীবনের সার্থক রূপকার মানিক মার্কসবাদে দীক্ষিত হয়েছিলেন। তার সাহিত্যে এই প্রভাব অতি স্পষ্ট। বস্তুতঃ মার্কসবাদই তাকে মধ্যবিত্ত সুলভ ভাবপ্রবণতার গণ্ডি থেকে উত্তরণের পথ নির্দেশ করেছিল। তিনি লাভ করেছিলেন প্রশস্ততর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি। পঞ্চাশটিরও বেশি উপন্যাস, বহু গল্প ও কবিতা রচনা করেছেন মানিক। তার উল্লেখযােগ্য উপন্যাস পদ্মানদীর মাঝি, পুতুলনাচের ইতিকথা, অমৃতস্য পুত্রাঃ, সহরতলী, প্রাণেশ্বরের উপাখ্যান প্রভৃতি।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু: Manik Bandopadhyay’s Death

মাত্র আটচল্লিশ বছর বয়সে ১৯৫৬ খ্রিঃ ৩ রা ডিসেম্বর, কঠিন রােগ ভােগের পর সংগ্রামী জনতার শ্রম ও স্বেদের রূপকার মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়।

Leave a Comment