কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থী নেতাগণ

কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থী নেতাগণ: নরমপন্থী – কংগ্রেসের নরমপন্থীরা ব্রিটিশ সরকারের ন্যায় বােধ, শাসনতান্ত্রিক নিয়ম কানুন ও শুভবুদ্ধির ওপর আস্থাশীল ছিলেন। তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, ব্রিটিশ সরকারের কাছে সঠিকভাবে দাবি জানাতে পারলে সরকার ভারতীয়দের দাবি মেনে নেবে। তাই জাতীয় কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতারা কোনােরূপ সক্রিয় আন্দোলনের পরিবর্তে সমঝােতার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁরা নিয়মতান্ত্রিক পথে আবেদন নিবেদন নীতির মাধ্যমে দাবি আদায়ের পক্ষপাতী ছিলেন। নরমপন্থীরা স্বায়ত্তশাসনাধিকার আদায়ের নীতি গ্রহণ করে ছিলেন। দাদাভাই নওরােজি, গােপালকৃষ্ণ গােখলে, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ নেতা ছিলেন নরমপন্থী।

চরমপন্থী – একদল তরুণ কংগ্রেস নেতা আবেদন নিবেদনের নম্র নীতির প্রতি আস্থাশীল ছিলেন না। নরমপন্থী নেতাদের দাবিদাওয়ার প্রতি ইংরেজ সরকারের উদাসীন মনােভাব এইসব তরুণ কংগ্রেসিদের হতাশ করে। এঁরা সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় প্রতিরােধ আন্দোলন দ্বারা ইংরেজ সরকারকে জব্দ করার পক্ষপাতী ছিলেন। বালগঙ্গাধর তিলক, লালা লাজপত রায়, বিপিনচন্দ্র পাল প্রমুখ ছিলেন অগ্রণী চরমপন্থী নেতা। চরমপন্থীদের আদর্শ ছিল ব্রিটিশ শাসনের নাগপাশ ছিন্ন করে পূর্ণ স্বরাজ অর্জন। তিলক এ ব্যাপারে বলেছিলেন, বিদেশি শাসনের সবথেকে শ্রেষ্ঠ রুপ অপেক্ষা স্বরাজ মঙ্গলজনক (“Swaraj is better than the best form of a foreign rule”)।

নরমপন্থী নেতাগণ

সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী

  • তিনি Indian Burke নামে পরিচিত ছিলেন।
  • তিনি দ্য বেঙ্গলি নামে একটি সংবাদপত্র প্রকাশ করতেন।
  • বঙ্গভঙ্গ হবার থেকে আপত্তি করেছিল।

দাদাভাই নৌরজি

  • তিনি ভারতের Grand Old Man নামে পরিচিত ছিলেন।
  • তিনি Voice of India প্রকাশ করেন।
  • তিনি প্রথম ভারতীয় যিনি ব্রিটিশ হাউস অফ কমন এর সদস্য ছিলেন।

গোপালকৃষ্ণ গোখলে

  • তিনি গান্ধীজীর রাজনৈতিক গুরু ছিলেন।
  • তিনি ১৯০৫ সালে Servants of India Society গঠন করেন।
  • তিনি প্রথম বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষার পক্ষে সওয়াল করেন।

জি. সুব্রামন্য আইয়ার

  • তিনি দক্ষিণ ভারতের Grand Old Man নামে পরিচিত ছিলেন।
  • তিনি মাদ্রাজ মহাজন সভা আয়োজন করেন।

নরমপন্থীদের মূল দাবী

  • ন্যায় ব্যবস্থাকে শাসন ব্যবস্থা থেকে পৃথক করা।
  • Legislative Council এর সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা।
  • ভারত ও ইংল্যান্ডে একই সময়ে ICS পরীক্ষার আয়োজন করা।
  • বাক স্বাধীনতা ও সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা।
  • ভূমি রাজস্ব হ্রাস এবং কৃষিজীবীদের জমিদারদের অত্যাচার ও অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা করা।

নরমপন্থীদের পদ্ধতি

  • নরমপন্থীদের ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থার প্রতিপূর্ণ বিশ্বাস ছিল।
  • নরমপন্থীরা আবেদন প্রস্তাব, সভা, প্রচারপত্র, পত্রিকা ইত্যাদির মাধ্যমে নিজেদের দাবি-দাওয়া পেশ করতেন।
  • তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধাপে ধাপে রাজনৈতিক অধিকার ও স্বরাজ লাভ করা।

চরমপন্থী উত্থানের কারণ

  • ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট এর দ্বারা লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সম্প্রসার ব্যতীত নরমপন্থীরা আর কোন উল্লেখযোগ্য সফলতা পাইনি।
  • ১৮৯৬ সালে দুর্ভিক্ষের সময় ব্রিটিশ সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়নি তথাপি নরমপন্থীরা ব্রিটিশ সরকারকে কোন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারেনি।
  • নরমপন্থীদের পদ্ধতি ও বিফলতাও চরমপন্থীদের উত্থানের অন্যতম কারণ।

চরমপন্থী নেতাগণ

লালা লাজপৎ রায়

  • তাঁকে পাঞ্জাব কেশরী বলা হয়।
  • তিনি ১৯১৬ সালে ভারতীয় হোমরুল লীগ গঠন করেন।

বাল গঙ্গাধর তিলক

  • তিনি লোকমান্য উপাধি পেয়েছিলেন।
  • তাঁকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রকৃত সূত্রধর হিসাবে গণ্য করা হয়।
  • তিনি আখরা, লাঠি এবং গোনিধন বিরোধী সমিতি চালু করেন।
  • ভ্যালেন্টাইন শিরাল তাঁকে Father of Indian Unrest বলে আখ্যা দেন।

বিপিনচন্দ্র পাল

  • তিনি প্রথম জীবনে নরমপন্থী হলেও পরবর্তীকালে চরমপন্থী হন।
  • তিনি তার অসাধারণ বক্তৃতা ও লেখনীর মাধ্যমে জাতীয়তাবাদের শিক্ষা প্রদান করেন।

অরবিন্দ ঘোষ

তিনি স্বদেশী আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেন এবং কারাবদ্ধ হন।

চরমপন্থীদের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি

  • ব্রিটিশ ন্যায় ব্যবস্থার ওপর কোন বিশ্বাস রাখেন নি।
  • তারা রাজনৈতিক অধিকার লড়াই করে পাওয়ায় বিশ্বাসী ছিল।
  • তাদের নিজেদের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও ভরসা ছিল।
  • স্বদেশী দ্রব্যদির প্রচার ও বিদেশী পণ্য বয়কট করার আহ্বান জানান।
  • জাতীয় শিক্ষার প্রচার করেন।

চরমপন্থীদের সফলতা

  • প্রথম স্বরাজকে জন্মগত অধিকার বলে দাবি করেন।
  • জনগণকে স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করে।
  • প্রথম সারা ভারতব্যাপী স্বদেশী আন্দোলন শুরু করে।

Leave a Comment