হজরত মুহাম্মদ জীবনী | Muhammad ibn Abdullah Biography in Bengali

হজরত মুহাম্মদ জীবনী: Gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Muhammad ibn Abdullah Biography in Bengali. আপনারা যারা হজরত মুহাম্মদ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হজরত মুহাম্মদ এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

হজরত মুহাম্মদ কে ছিলেন? Who is Muhammad ibn Abdullah?

মুহাম্মাদ (আরবি: مُحَمَّد‌‎) (২৯ আগস্ট ৫৭০– ৮ জুন ৬৩২) মোহাম্মদ এবং মুহম্মদ নামেও পরিচিত ছিলেন একজন আরবের ধর্মীয়, সামাজিক এবং রাজনৈতিক নেতা এবং ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা। ইসলামী মতবাদ অনুসারে, তিনি হলেন ঐশ্বরিকভাবে প্রেরিত ইসলামের সর্বশেষ নবী যার উপর ইসলামের প্রধান ধর্মগ্রন্থ কুরআন অবতীর্ণ হয়। আদম, ইব্রাহিম, মূসা, যীশু এবং অন্যান্য নবীদের মতোই মুহাম্মদ একেশ্বরবাদী শিক্ষা প্রচার করার জন্য প্রেরিত। অমুসলিমদের মতে, তিনি ইসলামি জীবনব্যবস্থার প্রবর্তক।

অধিকাংশ ইতিহাসবেত্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, মুহাম্মাদ ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা। তার এই বিশেষত্বের অন্যতম কারণ হচ্ছে আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উভয় জগতেই চূড়ান্ত সফলতা অর্জন। তিনি ধর্মীয় জীবনে যেমন সফল ছিলেন, তেমনই রাজনৈতিক জীবনেও। সমগ্র আরব বিশ্বের জাগরণের পথিকৃৎ হিসেবে তিনি অগ্রগণ্য; বিবাদমান আরব জনতাকে একীভূতকরণ তার জীবনের অন্যতম সাফল্য। কুরআনের পাশাপাশি তার শিক্ষা এবং অনুশীলনগুলি ইসলামী ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তি স্থাপন করে।

হজরত মুহাম্মদ জীবনী – Muhammad ibn Abdullah Biography in Bengali

নামহজরত মুহাম্মদ
জন্ম২৯ আগস্ট ৫৭০
পিতাআব্দুল্লাহ
মাতাআমিনা
জন্মস্থানমক্কা, হেজাজ, আরব উপদ্বীপ
(অধুনা মক্কা, সৌদি আরব)
জাতীয়তাসৌদি
পেশাআরবের ধর্মীয়, সামাজিক এবং রাজনৈতিক নেতা এবং ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা
মৃত্যু৮ জুন ৬৩২ (বয়স ৬২)

হজরত মুহাম্মদ এর জন্ম: Muhammad ibn Abdullah’s Birthday

হজরত মুহাম্মদ ২৯ আগস্ট ৫৭০ জন্মগ্রহণ করেন।

হজরত মুহাম্মদ এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Muhammad ibn Abdullah’s Parents And Birth Place

হজরত মহম্মদ লোহিতসাগর আর পারস্য উপসাগরের কোলে আরবের মরুদিগন্তে সুপ্রাচীন মক্কানগরী। এই নগরীর এক নিভৃত কুটিরে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে, আনুমানিক ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের, সোমবার শুক্লা দ্বাদশী তিথিতে নিখিল মানবতার মূর্ত প্রতীক বিশ্বনবী হজরত মহম্মদ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হজরত আবদুল্লা ৷ মাতা আমিনা। হজরত মহম্মদের অপর নাম আহমদ।

মহম্মদ কথাটির অর্থ হল চরম প্রশংসিত। আর আহমদ কথার অর্থ চরম প্রশংসাকারী। এই দুই নামেরই প্রকৃত অর্থবহনকারী ছিল এই মহামানবের পবিত্র জীবন। একদিকে তিনি ছিলেন বিশ্বনিয়ন্ত স্রষ্টার দ্বারা সর্বত্র চরম প্রশংসিত। আবার অপরদিকে সৃষ্টি ও স্রষ্টার সাথে সেতুবন্ধন স্বরূপ এবং স্রষ্টার চরম প্রশংসাকারী।

বিধাতার প্রেরিত যে সকল মহাপুরুষ মানবজাতির জন্য অনন্ত কল্যাণ ও আশীর্বাদ বহন করে মাটির পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেন, মানবজাতির সর্বকালের চরম ও পরম আদর্শরূপে দেদীপ্যমান থাকেন, জন্মের বহু পূর্বে থেকেই তাদের অবির্ভাবের কথা নানাভাবে ঘোষিত হয়ে থাকে। হজরত মহম্মদও ছিলেন প্রতিশ্রুত এবং সর্বশেষ পয়গম্বর। আবির্ভাবের বহু পূর্বেই এই কথা নির্ধারিত হয়েছিল।

তাকে উপলক্ষ করেই অপরাপর যাবতীয় সৃষ্টি সার্থকতা লাভ করেছিল। হজরত মহম্মদের পূর্বসুরী হজরত আদম, হজরত নূহ, হজরত মুসা, হজরত ইব্রাহিম, হজরত ঈশা প্রমুখ পূর্ববর্তী সকল পয়গম্বর ও তত্ত্বদর্শী মহাপুরুষ সর্বশেষ পয়গম্বরের নিশ্চিত আবির্ভাবের কথা জানতেন। আর তা জানতেন বলেই তারা সকলেই হজরত মহম্মদের আগমন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন।

তৎকালীন পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধর্মগ্রন্থেও তার গুণগান ও শুভাগমনের বার্তা ঘোষিত হয়েছে দেখা যায়। বেদ পুরাণ, জেন্দাবেস্তা, দিঘ – নিকায়া, তত্তরাৎ, জব্বুব, বাইবেল, ইঞ্জিল প্রভৃতি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ গুলিতেই স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির শুভ আবির্ভাবের আভাস ব্যক্ত হয়েছে। হিন্দুদের ভবিষ্যপুরাণে উল্লেখ পাওয়া যায় এভাবে— “এতস্মিন্নস্তরে ম্লেচ্ছ আচার্যেন সমন্বিতঃ মহামদ ইতি খ্যাতঃ শিষ্যশাখা সমন্বিতঃ নৃপশ্চৈব মহাদেবং মরুস্থলনিবাসিনম্ গঙ্গাজলৈশ্চ সংস্থাপ্য পঞ্চগব্যসমন্বিতৈঃ চন্দনাদি তিরভ্যার্চ তুষ্টাব মনসা হরম নমস্তে গিরিজানাথ মরুস্থল নিবাসিনে ত্রিপুরাসুরনাশয় বহুমায়া প্রবর্তিনে।”

এখানে বলা হয়েছে, যথাসময়ে ‘মহামদ’ নামে সেই ব্যক্তি, যার বাস মরুস্থলে (অর্থাৎ আরবদেশে) তার অন্তরঙ্গ পার্ষদদের নিয়ে আবির্ভূত হবেন। হে আরবের প্রভু, হে জগৎগুরু, তোমাকে আমি বন্দনা করি। জগতের সমুদয় কলুষ নাশ করবার বহু উপায় তুমি জান ৷ তোমাকে নমস্কার। অল্লোপনিষদ নামক প্রচীন গ্রন্থের একস্থানে দেখা যায় বলা হচ্ছে— “হোতারমিন্দ্রোঃ হোতারমিন্দ্রোঃ মহাদুরিন্দ্রাঃ। অল্লো জ্যেষ্ঠং শ্রেষ্ঠং বারম পুণং ব্রহ্মণ অম্লম। অল্লোরসুলমহম্মদকং বরস্য অল্লো অল্লাম। আদল্লাকমে ফকম আল্লাবুক নিখাতকম।” অর্থাৎ আল্লাহ সকল গুণের অধিকারী, তিনি পূর্ণ ও সর্বজ্ঞ। মহম্মদ আল্লাহর রসুল। আল্লাহ জ্যোতির্ময়, অব্যয়, অদ্বৈত, চির পরিপূর্ণ এবং স্বয়ম্ভু।

বাইবেলেও হজরত মহম্মদের আবির্ভাব বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণীর বহু প্রমাণ পাওয়া যায়। যিশুর জন্মের কিছুকাল পূর্বেই সাধু যোহনের জন্ম হয়েছিল। তিনি ছিলেন যিশুর মাসির ছেলে। ঈশ্বরপুত্রের আবির্ভাবের বার্তাবাহী ছিলেন তিনি। সাধু যোহন অল্পবয়সেই গৃহত্যাগ করে বিশ্বস্রষ্টার গুণগাথা মানুষকে শোনাতে থাকেন। এরপর একসময় তিনি সকলকে বাপ্তাইজ (Baptize) করতে থাকেন।

এই সংবাদ জানতে পেরে জেরুজালেম থেকে ইহুদীরা কয়েকজন সাধুকে তার পরিচয় জানবার জন্য পাঠান। সেই সাধুপুরুষরা যোহনের নিকটে এসে কিছু প্রশ্ন করেন। তার উত্তরে সাধু যোহন যে কথা বলেন, তার মধ্যেই মহম্মদ – এর শুভাবির্ভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বাইবেলে যিশু নিজেও একজায়গায় বলেছেন— “Nevertheless I tell you the truth. It is expedient for you that I go away, for if I go not away, the comforter will not come unto you: but I depart, I will not send him unto you (John.chap 17.7-8)” If you love me, keep my commandments . And I will pray and He shall give you another comforter that he inay abide with you for ever (John chap.14: 15-16) যে শান্তিদাতার কথা এখানে বলা হয়েছে, তিনি হজরত মহম্মদ ছাড়া আর কেউ নয়।

কেন না একমাত্র তিনি ছাড়া যিশুখ্রিস্টের পরে আর কোন পয়গম্বরের আবির্ভাব হয়নি। পার্সীদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ জেন্দাবেস্তা ও দসাতির।হজরত মহম্মদের আবির্ভাবের কথা সুস্পষ্টভাবে এখানে পাওয়া যায়। আহমদ নামটিরও এখানে উল্লেখ পাওয়া যায়। “Naid te Ahmad dragoyeitim framraomi spetame Zarathustra yam dahmam vangnim afritim. Yunad hake hahi humananghad hvakanghad Hushyan thand hudaenad.”

অর্থাৎ আমি ঘোষণা করছি, হে স্পিতাম জরথুষ্ট্র পরম পবিত্র আহম যিনি ন্যায়বানদিগের আশীর্বাদ স্বরূপ, নিশ্চয়ই আবির্ভূত হবেন। যাঁর নিকট থেকে তোমরা সৎচিন্তা, সৎবাক্য সৎকার্য এবং বিশুদ্ধ ধর্ম লাভ করবে। ” বস্তুতঃ জগৎ ও জীবের মঙ্গলের জন্যই চরম সংকটকালে সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধিরূপে মহাপুরুষদের আবির্ভাব হতে দেখা যায়। যুগ যুগ ধরে প্রবাহমান জীবনে যখন কলুষ – কালিমা সঞ্চিত হয়ে স্রষ্টার সৃষ্টিকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়, সেই সময়েই সত্য ও ন্যায়ের সম্মার্জনী দিয়ে মহাপুরুষগণ সংস্কারের কাজে ব্যাপৃত হন।

এভাবে ভগ্ন জীর্ণ পুরাতনের ধ্বংস স্তূপের ওপরেই গড়ে ওঠে নতুন ইমারত— প্রবর্তিত হয় নতুন যুগের। হজরত মহম্মদের আবির্ভাবের সময়েও আরবের সমকালীন অবস্থার দিকে তাকালে আমরা একই দৃশ্য দেখতে পাই। সেই সময় আরবজাতির অবস্থা ছিল অতীব শোচনীয়। খুনকা বদলা খুন এই ছিল সেখানকার সামাজিক নীতি।

বংশ পরম্পরায় চলত এই নেশা – রক্তের বদলে রক্ত ঝরাবার প্রয়াস। আর অবিচার, ব্যভিচার, খুন, ডাকাতি, নারীহরণ, মদ্যপান ইত্যাকার যত দুর্নীতি ও অন্যায় কর্ম সবই পূর্ণমাত্রায় প্রবাহিত ছিল আরবদের চরিত্রে। নিষ্প্রাণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মূর্তিপূজা আর অন্ধ কুসংস্কারে মানুষের সৎ গুণাবলী আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছিল। ৩৬০ টিরও বেশি মূর্তি পবিত্র কাবা ঘরে রক্ষিত ছিল।

আরবরা নিয়মিত সেসব মূর্তি পূজা করত। জাতির ধাত্রীস্বরূপ যে নারীজাতি সমাজে তাদের অবস্থান নির্ণয় করেই কোন জাতির সভ্যতা ও অগ্রগতির পরিচয় লাভ করা যায় ৷ তৎকালীন আরবে নারীজাতির কোনরূপ সম্মান তো ছিলই না, তাদের চরম ঘৃণার চোখে দেখা হত। তাদের ইচ্ছামত ব্যবহার করা হতো গৃহপালিত পশুর মতো। কোন পরিবারে কন্যা সন্তানের জন্ম হলে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হত। বিবাহবন্ধন বলে কোন কিছু ছিল না। বিবাহিতা স্ত্রীকে যখন খুশি ইচ্ছা ত্যাগ করা চলত।

একই নারী একই সময়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে মেলামেশা করত। মোটকথা সামাজিক শৃঙ্খলা বলে কোন বস্তু আরবে ছিল না। আবার সেই সময়ে মানুষ বেচা – কেনার ব্যবসাও চলত পূর্ণ মাত্রায়, যাকে বলা হয় দাস ব্যবসায়। হাটে – বাজারে প্রকাশ্যভাবে দাস – দাসী কেনাবেচা হত। ইতিহাসবিদদের অভিমত, এই সময় কাবাগৃহের দেবদেবী মূর্তির সামনে নরবলির প্রচলনও ছিল। এমনই সেই সমাজ যে তা মানুষের হলেও সেখানে পশু আর মানুষের বিশেষ পার্থক্য ছিল না বললেই চলে।

জোর যার মুলুক তার এই যেখানে নিয়ম – রীতি সেখানে ক্ষমতাবানের লোভ লালসা ও অত্যাচারে ধর্ম নীতি বলে যে কিছু থাকা সম্ভব নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অন্ধকার যুগে নরপশুদের তান্ডব থেকে মানুষকে সত্য ও আলোকের পথ প্রদর্শনের জন্যই আবির্ভূত হয়েছিলেন বিশ্বনবী হজরত মহম্মদ। স্রষ্টার রাজ্যে সৃষ্টির বিকৃতি মোচনের জন্যই তিনি এসে ঘোষণা করেছিলেন সেই আলোকময় শাশ্বত বাণী — লা ইলাহা ইল্লাল্লা মহম্মদুর রসুলুল্লাহ।

অর্থাৎ আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়– তিনি ভিন্ন দ্বিতীয় কোন উপাস্য নেই। হজরত মহম্মদ তাঁরই প্রেরিত পয়গম্বর (রসুল)। এই অমোঘ বাণীর মধ্যেই নিহিত রয়েছে ইসলামের চরম সত্য। পরম প্রাপ্তি। পবিত্র কোরানেই হজরত মহম্মদের প্রকৃত পরিচয় ব্যক্ত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “ রসুলকে যাহা আদেশ দিয়াছি, তাহা করিলে কোনই অন্যায় হয় না” (৩৩:৩৮)। “নিশ্চয়ই আল্লাহর রসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে।” (৩৩:২১)।

পবিত্র কোরান শরিফের সর্বত্র তাঁকে রসুলুল্লাহু– হে আমার রসুল ‘ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। এমন নিকট সম্বোধন আর কোন পয়গম্বরের ক্ষেত্রে দেখা যায় না ! যদিও সকল পয়গম্বরই পরমেশ্বরের প্রেরিত। আদি পিতা হলেন হজরত আদম, তাকে বলা হয়েছে ‘ আদম সফিউল্লাহ ‘। হজরত নূহকে সম্বোধন করা হয়েছে নূহ নবীউল্লাহ বলে। হজরত ইব্রাহিমকে ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ। হজরত ইসমাইলকে ইসমাইল জীবিউল্লাহ্ ; হজরত মুসাকে মুসা মলিমুল্লাহ এবং হজরত ঈশাকে ইসা – রূহ – আল্লাহ্ বলা হয়েছে।

হজরত মুহাম্মদ এর ছোটবেলা: Muhammad ibn Abdullah’s Childhood

একমাত্র হজরত মহম্মদকে বলা হয়েছে মহম্মদ রসুলুল্লাহ্। এই থেকেই প্রমাণিত হয় তিনি ছিলেন পূর্বাপর পয়গম্বরদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ — সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে প্রিয়ভাজন ৷ মহম্মদ যেই বংশে জন্মগ্রহণ করেন তা আরবের অতি সম্ভ্রান্ত কুরেশ বংশ। তার জন্মের পূর্বেই পিতা আবদুল্লাহ মারা যান। কয়েক বছর পরেই তিনি মাকে হারান। ছয় বছর বয়সের মধ্যেই তিনি এতিম হয়ে পড়েন। শিশু মহম্মদ প্রথমে তার ঠাকুর্দা ও পরে পিতৃব্য আবু তালিবের কাছে লালিত পালিত হন।

মহম্মদের যখন বারোবছর বয়স সেই সময় তিনি চাচা আবু তালিবের সঙ্গে সিরিয়া যান। বাইরের জগৎ সম্পর্কে সেই প্রথম তার অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ ঘটে। বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের লোকের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। যৌবন বয়স পর্যন্ত মহম্মদকে পাহাড়ে, উপত্যকায় ছাগল ভেড়া চরাতে হয়েছে। সকলের সঙ্গেই সহজভাবে মেলামেশা করতেন তিনি। কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতেন না। তিনি হয়ে উঠেছিলেন পবিত্রতা ও নম্রতার প্রতীক।

হজরত মুহাম্মদ এর বিবাহ জীবন ও পরিবার: Muhammad ibn Abdullah’s Marriage Life And Family

এই গুণের জন্য কোরায়েশরা তাঁকে শ্রদ্ধাবশতঃ নাম দিয়েছিল আল – আমিন বা পরম বিশ্বাসী। সেই সময় মক্কায় এক ধনাঢ্য বিধবা মহিলা ছিলেন। তার কাফেলা সুদূর সিরিয়া পর্যন্ত ব্যবসার কাজে যাতায়াত করত। মহম্মদের সুখ্যাতি শুনে তিনি তাঁকে তাঁর ব্যবসার কাজে নিযুক্ত করলেন। মহম্মদ অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করলেন। তার কর্মদক্ষত ও সততায় মুগ্ধ হলেন খাদিজা। তিনি মহম্মদকে বিবাহ করলেন। সেই সময় খাদিজার বয়স চল্লিশ আর মহম্মদের বয়স পঁচিশ। সময়টা ৫০৫ খ্রিঃ।

বয়সের এই পার্থক্য সত্ত্বেও তাদের পারিবারিক জীবন সুখের হয়েছিল। মহম্মদ ও খাদিজার দুই পুত্র ও চার কন্যা জন্ম গ্রহণ করে। কিন্তু তাঁদের জীবিতাবস্থায় একমাত্র কন্যা ফতিমা ছাড়া বাকি পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। খাদিজা মারা যান পঁয়ষট্টি বছর বয়সে। মহম্মদের তখন বয়স ছিল পঞ্চাশ। বাল্য বয়স থেকেই মহম্মদ ছিলেন ধর্মপ্রাণ। বিয়ের আগে থেকেই তিনি মাঝে মাঝেই মক্কার উত্তর অংশে হেরা পর্বতের গুহায় নির্জনে বসে পরমেশ্বরের উপসনায় মগ্ন হতেন।

বিবাহের পর একদিন তিনি যখন উপাসনায় মগ্ন সেই সময় ওহি বা ঈশ্বরাদেশ লাভ করলেন। দৈবাদেশ হল, পৌত্তলিকতা পাপ — সমাজ থেকে এই পাপ দূর করে আব্রাহাম প্রবর্তিত একেশ্বরবাদের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। সর্বশক্তিমান আল্লাহতালা এক এবং অদ্বিতীয়। যারা আল্লাহতালার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তারা তার আশীর্বাদ লাভ করে। রোমাঞ্চিত কলেবর মহম্মদ এই আদেশ শ্রবণ করলেন। তার অন্তরের ভক্তি বিশ্বাস আল্লাহতালার প্রতি নিবেদিত হল।

হজরত মুহাম্মদ এর কর্ম জীবন: Muhammad ibn Abdullah’s Work Life

তিনি স্থির করলেন পৌত্তলিকতার অবসান ঘটিয়ে সমাজে এক আল্লাহর উপাসনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু সেই কালের নানা বিবদমান গোষ্ঠীতে বিভক্ত আরব সমাজে পৌত্তলিকতা দূর করা ছিল এক কঠিন কাজ। তথাপি পরমেশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তিনি ঈশ্বরাদেশ প্রতিপালনে ব্রতী হলেন। পৌত্তলিকপন্থী কোরায়েশদের মধ্যে ধর্মের নতুন কথা প্রচার করতে গিয়ে অশেষ দুঃখ ও লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছে মহম্মদকে। বহুবার তার জীবন পর্যন্ত বিপন্ন হয়েছে।

তথাপি তিনি অবিচল বিশ্বাসে নিজের পথে এগিয়ে গেছেন। মহম্মদ যে একেশ্বরবাদ প্রচার করেন তার নাম ইসলাম। আল্লাহর প্রতি অবিচল আত্মসমর্পণ ও তার সৃষ্ট জীবের প্রতি ভালবাসা প্রদান এই ছিল এই নব ধর্মের মূল কথা। মক্কায় প্রথম যিনি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস স্থাপন করেন তিনি একজন মহিলা। তিনি হলেন মহম্মদের সাধ্বীপত্নী খাদিজা। এরপর মক্কার কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এঁদের মধ্যে আবুবকর, হজরত – জামাতা আলী, জিয়াদ নামে এক মুক্ত ক্রীতদাসও ছিলেন।

অত্যন্ত সঙ্গোপনে ধর্মান্তঃকরণের কাজ চলতে লাগল — বছর চারেকের মধ্যে ইসলাম ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা দাঁড়াল চল্লিশ জন। কোরায়েশরা ইসলাম ধর্মাবলম্বী মুসলিমদের সম্পর্কে সম্যক সচেতন ছিল। তারা নানাভাবে মহম্মদ এবং তার অনুগামীদের উৎপীড়ন করত। অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত একদল মুসলমান আবিসিনিয়ায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হল। কোরায়েশদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আরেক দল মুসলিম পরের বছর আশ্রয় নিল সেখানে ৷ মহম্মদ রয়ে গেলেন অবশ্য মক্কাতেই। আবুতালেব ছিলেন ধর্মপ্রাণ।

তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করলেও সর্বপ্রকারে মহম্মদকে কোরায়েশদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করতে লাগলেন ৷ পৌত্তলিক কোরায়েশদের কোন প্রকার চাপের কাছেই তিনি মাথা নত করলেন না। মহম্মদের জীবন মক্কায় দুর্বিসহ হয়ে উঠেছিল। ঈশ্বরে গভীর বিশ্বাস ও ভক্তির বলেই তিনি হাসিমুখে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে চলেছিলেন। ইতিমধ্যে মহম্মদের জীবনে নেমে এল মস্ত আঘাত। তার পতিপ্রাণা পত্নী খাদিজা ৬১৯ খ্রিঃ প্রাণত্যাগ করলেন।

পরের বছরেই তার প্রধান পৃষ্ঠপোষক পিতৃব্য আবু তালেবের মৃত্যু হল। স্বাভাবিক ভাবেই বিধর্মী কোরায়েশরা এবারে বেপরোয়া হয়ে উঠল। মহম্মদ নিজে এবং তার মুষ্টিমেয় সংখ্যক নব্যমুসলিম কোরায়েশদের অত্যাচারে উৎপীড়নে শেষ পর্যন্ত মক্কা পরিত্যাগ করে যেতে বাধ্য হলেন। মদিনার কয়েকজন তীর্থযাত্রী মক্কায় এসেছিলেন। তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন। তাঁদের আনুকূল্যে মহম্মদের অনুগামীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে মদিনায় গিয়ে আশ্রয় নিল। মদিনাতেও ধর্মান্তরকরণের কাজ চলতে লাগল।

একবছরের মধ্যেই সেখানে নব্যমুসলিমদের সংখ্যা দাঁড়াল তিয়াত্তরজন পুরুষ ও দুই জন স্ত্রীলোক। পরম বিশ্বস্ত অনুচর আবুবকর ও আলীকে নিয়ে মহম্মদ মক্কাতেই ছিলেন। এক রাতে কোরায়েশরা দলবদ্ধ ভাবে মহম্মদের বাড়ি আক্রমণ করল। আবুবকর গোপনে মহম্মদকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে মক্কার অদূরে এক পর্বতের গুহায় আশ্রয় নিলেন। করুণাময় ঈশ্বরের অনুগ্রহে সেখানে তারা নিরাপদেই রইলেন। হিংস্র কোরায়েশরা অনেক খুঁজেও তাঁদের সন্ধান করতে ব্যর্থ হল। জন্মভূমি মক্কা পরিত্যাগ করে হজরত মহম্মদ মদিনায় আসেন ৬২২ খ্রিঃ ২০ শে জুন।

তার এই প্রস্থানকে বলা হয় হিজিরা। পরবর্তীকালে এই সময় থেকেই মুসলিমদের বর্ষপঞ্জী হিজরি সনের শুরু হয়। মদিনায় মুসলিমরা মহম্মদকে সাদরে বরণ করে নিলেন। এখানে তাঁর তত্ত্বাবধানে মুসলিমদের শহর গড়ে উঠল। ইসলামের প্রথম মসজিদ তৈরি হল মদিনায় ৷ মক্কার কোরায়েশরা মহম্মদের মদিনায় প্রস্থানের সংবাদ যথাকালে পেয়ে গেল। তারা এই ঘটনাকে ভালভাবে মেনে নিতে পারল না। তারা মহম্মদের অনুগামী মুসলিমদের বিধর্মী বলেই গণ্য করত।

কাজেই এই বিধর্মীদের নির্মূল করবার জন্য তারা নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগল। এর ফলে মদিনার মুসলিমদের সঙ্গে মক্কার কোরায়েশদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চলেছিল দীর্ঘ দশ বছর ধরে। হিজরতের পরবর্তী বছরে কোরায়েশরা দশ হাজার সশস্ত্র সৈন্যের বাহিনী নিয়ে মদিনা আক্রমণের উদ্দেশ্যে যুদ্ধযাত্রা করল। যথাকালে মদিনার মুসলিমরাও অগ্রসর হল কোরায়েশদের প্রতিরোধ করবার জন্য। কিন্তু তাদের সংখ্যা নিতান্তই নগণ্য। মাত্র তিনশ তেরো জন।

মদিনা থেকে ত্রিশ মাইল দূরে বদর নামক স্থানে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হল। মক্কা থেকে এই স্থানের দূরত্ব ছিল অনেক বেশি দুশো কুড়ি মাইল। কোরায়েশদের বিশাল বাহিনী আর কিছু মাইল অগ্রসর হলেই মদিনায় পৌঁছে যেত। যাইহোক, বিপক্ষের বিপুল সংখ্যক সৈন্য দেখে মহম্মদ ভাবিত হলেন। যুদ্ধ আরম্ভ হবার আগে তিনি প্রিয়তম শিষ্য আবুবকরকে নিয়ে তাঁর তাঁবুতে এলেন। তারপর তিনি আল্লাহর আরাধনায় মগ্ন হলেন। এরপর যুদ্ধ যখন শুরু হল মুষ্টিমেয় সংখ্যক মুসলিম সৈন্যই অপরাজেয় হয়ে উঠল।

কোরায়েশরা প্রাণপণ যুদ্ধ করেও নিজেদের পরাজয় রোধ করতে পারল না। অসংখ্য সৈন্যের সঙ্গে বহু কোরায়েশ প্রধানও যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারাল। আধ্যাত্মিক চেতনার সত্তা হলেও মহম্মদের বাস্তব জ্ঞান ছিল অসাধারণ। লৌকিক ও অলৌকিকের সমন্বয় ঘটেছিল তার মধ্যে। তাঁর যুদ্ধ কৌশলেই মক্কাবাসীদের পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল। বদরের যুদ্ধে জয়লাভের ঘটনা মুসলিমদের নতুন প্রেরণায় উৎসাহিত করে তুলল।

তারা বুঝতে পেরেছিলেন, প্রথমবারের মত পরাজিত কোরায়েশরা মক্কায় পলায়ন করলেও পুনরায় তারা আক্রমণের চেষ্টা করবে। তাই বিপুল উদ্যমে তারা নিজেদের অনাগত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে লাগল। অবশ্য সব বিষয়ে সর্বক্ষেত্রে মহম্মদের উপদেশ নির্দেশই ছিল তাঁদের পথ প্রদশক। কোরায়েশরা একবছর ধরে শক্তি সংগ্রহ করল। যাদের নীতিই হল খুন কা বদলা খুন। বদরের যুদ্ধের পরাজয় তাদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না।

তাই পরের বছরই তারা আবার বিপুল সংখ্যক সৈন্য নিয়ে মদিনার দিকে অগ্রসর হল। কোরায়েশদের আক্রমণ প্রতিহত করবার জন্য মহম্মদের নেতৃত্বে মুসলিমরা খুলুদ নামক প্রান্তরে উপস্থিত হন। মদিনা থেকে মাত্র তিন মাইল উত্তরে ছিল খুলুদের অবস্থান। এবারে মহম্মদের সঙ্গে ছিল একহাজার সশস্ত্র সৈন্য। তাব মধ্যে আবদুল্লা ইবন উবের নিজের নেতৃত্বে তিনশ সৈন্য নিয়ে কোরায়েশদের আক্রমণ করতে অগ্রসর হন। মহম্মদের সঙ্গে রইল সাতশ সৈন্য। এবারেও উভয় পক্ষে তুমুল যুদ্ধ হল।

উভয় পক্ষেই প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়ে চলল ৷ কিন্তু এবারে আর সহজে জয় পরাজয় নির্ণয় হল না। কোরায়েশরা লড়াই করছিল মরিয়া হয়ে। তাদের অবিশ্রান্ত আক্রমণে বিপুল ক্ষতি স্বীকার করে শেষ পর্যন্ত মুসলিমদের বাধ্য হয়ে পিছু হটে যেতে হল। কিন্তু তারা গড়ে তুলল প্রবল প্রতিরোধ। মক্কাবাসীরা এই প্রতিরোধ ভেদ করা যাবে না বিবেচনা করে সৈন্যবাহিনী সরিয়ে নিল। এই দুই যুদ্ধে একটি বিষয় পরিষ্কার ছিল দিনের আলোর মত। তা হল, উভয় যুদ্ধেই আক্রমণকারী ছিল মক্কাবাসী কোরায়েশরা।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের ধ্বংস করা। কিন্তু দুই যুদ্ধেই মহম্মদের ভূমিকা ছিল রক্ষণাত্মক। তিনি তার অনুগতদের নিয়ে কেবল আক্রমণ প্রতিহত করবার চেষ্টা করে গেছেন। এরপর একটি বছর নির্বিঘ্নেই কাটল। কিন্তু দ্বিতীয় বছরেই কোরায়েশরা আবার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হল। তারা সহযোগী সম্প্রদায়দেরও একত্রিত করে নিজেদের শক্তিবৃদ্ধি করল। তাদের সৈন্যসংখ্যা দাঁড়াল চব্বিশ হাজার। প্রস্তুতি পর্ব শেষ হলে কোরায়েশরা পুনর্বার মদিনার ওপর আক্রমণ চালাল।

প্রথমে চব্বিশ হাজার সৈন্য মদিনা অবরোধ করল। মুসলিমদের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভেদ করে অগ্রসর হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হল না। একই অবস্থানে দীর্ঘ একমাস অতিবাহিত হল। ইতিমধ্যে মক্কাবাসীদের বিপদ অন্যদিক থেকে এসে উপস্থিত হল। বিরূপ প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের তাবু উড়ে গেল, সমস্ত সমরাযোজন লন্ডভন্ড হয়ে গেল। তাদের রসদেও টান পড়ল।

শেষ পর্যন্ত কোরায়েশরা অবরোধ অপসারিত করল। হজরত অবাধে অনুচরদের নিয়ে জন্মভূমি মক্কায় তীর্থযাত্রা করলেন। মক্কাবাসীদের অনেকেই এবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করল। পরিশেষে বিনা রক্তপাতেই কোরায়েশরা আত্মসমর্পণ করল। ইসলামের এই চূড়ান্ত বিজয়ের ফলে অবিলম্বেই পবিত্র কাবাঘর পৌত্তলিকতা মুক্ত হল। দেবদেবীর মূর্তিপূজার বদলে সেখানে পরমেশ্বর আল্লাহর উপাসনা প্রবর্তিত হল ৷ মহম্মদের পরিচালনায় আরবদের উশৃঙ্খল সমাজে শৃঙ্খলা ও ন্যায় নীতি প্রতিষ্ঠিত হল।

হজরত মুহাম্মদ এর মৃত্যু: Muhammad ibn Abdullah’s Death

নিজকার্য সম্পন্ন করে মহামানব হজরত মহম্মদ ৬৩২ খ্রিঃ দেহত্যাগ করলেন।

Leave a Comment