২৪ জন জৈন তীর্থঙ্করের নাম ও চিহ্নের তালিকা

২৪ জন জৈন তীর্থঙ্করের নাম ও চিহ্নের তালিকা: জৈনধর্মে একজন তীর্থঙ্কর হলেন এক সর্বজ্ঞ শিক্ষক ঈশ্বর, যিনি ধর্ম (নৈতিক পথ) শিক্ষা দেন। ‘তীর্থঙ্কর’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ‘তীর্থের প্রতিষ্ঠাতা’। জৈনধর্মে ‘তীর্থ’ বলতে বোঝায় ‘সংসার নামক অনন্ত জন্ম ও মৃত্যুর সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে প্রসারিত একটি সংকীর্ণ পথ’। জৈনদের মতে, জৈন শিক্ষা ধীরে ধীরে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়। তখন এক দুর্লভ ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটে, যিনি জীবনের একটি পর্যায়ে এসে স্বয়ং সংসার (জন্ম ও মৃত্যুর চক্র) জয় করার উদ্দেশ্যে গৃহ ও জাগতিক সম্পত্তি পরিত্যাগ করেন। তারপর আত্মার সত্য প্রকৃতি অবগত হওয়ার পর তারা ‘কেবল জ্ঞান’ (সর্বজ্ঞতা) অর্জন করেন এবং জৈনধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। এঁদেরই বলা হয় তীর্থঙ্কর। তীর্থঙ্করেরা অন্যদের পারাপারের জন্য সংসার ও মোক্ষের (মুক্তি) মধ্যে একটি সেতু স্থাপন করেন।

তীর্থঙ্করদের ‘শিক্ষক ঈশ্বর’, ‘পথ-স্রষ্টা’, ‘যাত্রাপথ-স্রষ্টা’ ও ‘নদীপারাপারের পথস্রষ্টা’ বলা হয়। জৈন বিশ্বতত্ত্ব অনুসারে, প্রত্যেক বিশ্বজনীন কালচক্রের অর্ধেক সময়ে ঠিক ২৪ জন তীর্থঙ্কর ব্রহ্মাণ্ডের এই অংশকে কৃপা করেন। প্রথম তীর্থঙ্কর ছিলেন ঋষভনাথ। কথিত আছে, তিনিই মানবজাতিকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাজবদ্ধ অবস্থায় বাস করার পদ্ধতি শিক্ষা দেন এবং সংগঠিত করেন। বর্তমান চক্রার্ধের ২৪শ তথা শেষ তীর্থঙ্কর ছিলেন মহাবীর (খ্রিস্টপূর্ব ৫৯৯-৫২৭ অব্দ)। মহাবীর এবং তার পূর্বসূরি ২৩শ তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

একজন তীর্থঙ্কর ‘সংঘ’ স্থাপন করেন। সংঘ হল সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনী এবং ‘শ্রাবক’ (পুরুষ অনুগামী) ও ‘শ্রাবিকা’দের (নারী অনুগামী) নিয়ে গঠিত একটি চতুর্মুখী প্রতিষ্ঠান।

২৪ জন জৈন তীর্থঙ্করের নাম ও চিহ্নের তালিকা

নংজৈন তীর্থঙ্করসংশ্লিষ্ট চিহ্ন
ঋষভনাথষাঁড়
অজিতনাথহাতি
সম্ভবনাথঘোড়া
অভিনন্দননাথবানর
সুমতিনাথবক
পদ্মপ্রভলাল পদ্ম
সুপার্শ্বনাথস্বস্তিকা
চন্দ্রপ্রভচাঁদ
সুবিধি বা পুষ্পদন্তকুমির
১০শীতলনাথকল্পবৃক্ষ
১১শ্রেয়াংসনাথগন্ডার
১২বাসুপুজ্যমহিষ
১৩বিমলনাথবন্য শূকর
১৪অনন্তনাথসজারু অথবা বাজপাখি
১৫ধর্মনাথবজ্রদন্ড
১৬শান্তিনাথহরিন
১৭কুন্থুনাথছাগল
১৮অরনাথমাছ
১৯মল্লিনাথকলস
২০মুনিসুব্রতনাথকচ্ছপ
২১নমিনাথনীলপদ্ম
২২নেমিনাথশাঁখ
২৩পার্শ্বনাথসাপ
২৪মহাবীরসিংহ

Leave a Comment