নেদারল্যান্ডের পোল্ডার ভূমি অঞ্চল দুগ্ধ শিল্প বা ডেয়ারি শিল্পে উন্নত কেন?

নেদারল্যান্ডের পোল্ডার ভূমি অঞ্চল দুগ্ধ শিল্প বা ডেয়ারি শিল্পে উন্নত কেন?: দুধ এবং ঘি, মাখন, পনির, জানা, চিজ ইত্যাদি দুগ্ধজাত দ্রব্যের উৎপাদনকে একত্রে দুগ্ধ শিল্প বা ডেয়ারি শিল্প বলা হয়। নেদারল্যান্ডের পোল্ডার ভূমি অঞ্চল হল পৃথিবীর দুগ্ধ শিল্প বা ডেয়ারি শিল্পে উন্নত দেশগুলির অন্যতম। এই দেশ বর্তমানে গুঁড়ো দুধ উৎপাদনে পৃথিবীতে তৃতীয় এবং চিজ উৎপাদনে পৃথিবীতে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে। নেদারল্যান্ডের পোল্ডার ভূমি অঞ্চলে দুগ্ধ শিল্প বা ডেয়ারি শিল্পের এই অভাবনীয় উন্নতির কারণগুলি হল নিম্নরূপ-

১)বিস্তীর্ণ তৃণভূমির অবস্থান-দুগ্ধ শিল্পের উন্নতির জন্য প্রচুর সংখ্যক দুগ্ধ প্রদায়ী গবাদি পশুপালন এবং ওই গবাদি পশু পালনের জন্য দীর্ঘ তৃণযুক্ত বিস্তীর্ণ তৃণভূমির প্রয়োজন হয়। নেদারল্যান্ডের উত্তরে পোল্ডার ভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত গ্রোনিনগেন প্রদেশে এই ধরনের পশু খাদ্যের উপযোগী তৃণযুক্ত বিস্তীর্ণ চারণভূমি রয়েছে, যা এই অঞ্চলের দুগ্ধ শিল্প বা ডেয়ারি শিল্পের উন্নতির অন্যতম কারণ।

২)নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু-দুগ্ধ শিল্প বা ডেয়ারি শিল্পের উন্নতির জন্য নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর প্রয়োজন হয়। সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত বলে নেদারল্যান্ডের পোল্ডার ভূমি অঞ্চলের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির। ফলে সারা বছর ধরে এই অঞ্চলের তৃণভূমিগুলিতে গবাদি পশু বিচরণ করতে পারে এবং দুগ্ধ উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হয়। ফলস্বরূপ দুগ্ধ শিল্প বা ডেয়ারি শিল্পের উন্নতি ঘটেছে ‌‌।

৩)পশুখাদ্যের প্রাচুর্য্য-নেদারল্যান্ডের পোল্ডার ভূমি অঞ্চলে মিশ্র কৃষি পদ্ধতিতে হে, ক্লোভার, আলফা আলফা ইত্যাদি তৃণ এবং ভুট্টা, বীট, ওট, বারসীম ইত্যাদি পশুখাদ্য উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত হওয়ায় এখানে গবাদি পশুগুলি থেকে প্রাপ্ত দুধের পরিমাণ বেশি হয়। ফলে দুগ্ধ শিল্প বা ডেয়ারি শিল্পের উন্নতি ঘটে।

৪)হিংস্র জীবজন্তুর অভাব-নেদারল্যান্ডের পোল্ডার ভূমি অঞ্চলে হিংস্র জীবজন্তুর উপদ্রব খুব কম হওয়ায় দুগ্ধ প্রদায়ী গবাদি পশুপালন এবং সেগুলি রক্ষণাবেক্ষণ সহজ ও স্বল্প ব্যায় সাপেক্ষ হয়। তাই এই অঞ্চলের শিল্প বা দুগ্ধ শিল্পের উন্নতি ঘটেছে।

৫)উন্নত প্রজাতির গবাদি পশুপালন-নেদারল্যান্ডের পোল্ডার ভূমি অঞ্চলে জার্সি, সুইস ব্রাউন, ফ্রিজিয়ান প্রভৃতি উন্নত প্রজাতির গবাদি পশুপালন করা হয়। ফলে দুগ্ধ উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং দুগ্ধ শিল্প বা ডেয়ারি শিল্পের উন্নতি ঘটে।

৬)উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা-দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য দ্রুত পচনশীল সামগ্রী বলে দুগ্ধ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে দ্রুত বাজারে প্রেরণের জন্য উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা আবশ্যক।নেদারল্যান্ডের পোল্ডার ভূমি অঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থা মোটামুটি উন্নত হওয়ায় দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য দ্রুত পরিবহনের সুবিধা হয়েছে। ফলস্বরূপ দুগ্ধ শিল্প ও ডেয়ারি শিল্পের উন্নতি ঘটেছে।

৭)উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা-দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য দ্রুত পচনশীল বলে এগুলিকে যথাযথ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ার জন্য এবং আধুনিক উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন হিমায়ন যুক্ত দুগ্ধ সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে ওঠার জন্য নেদারল্যান্ডের পোল্ডার ভূমি অঞ্চলের দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য সংরক্ষণ করা যায়। ফলে ডেয়ারি শিল্প বা দুগ্ধ শিল্পের উন্নতি ঘটেছে।

৮)পশুজাত দ্রব্যের চাহিদা-নেদারল্যান্ডের পোল্ডার ভূমি অঞ্চলে পালিত পশুগুলি থেকে প্রাপ্ত দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য উৎকৃষ্ট মানের হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশের বাজারে এগুলির ব্যাপক চাহিদা আছে। দেশে- বিদেশে দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের এই বিপুল চাহিদা নেদারল্যান্ডের পোল্ডার ভূমি অঞ্চলের দুগ্ধ শিল্প বা ডেয়ারি শিল্পের উন্নতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

Leave a Comment