সরলবর্গীয় বনভূমি কাষ্ঠ শিল্পে উন্নত কেন?

সরলবর্গীয় বনভূমি কাষ্ঠ শিল্পে উন্নত কেন?: সরলবর্গীয় অরণ্যে সমৃদ্ধ দেশ গুলি কাষ্ঠ শিল্প কাগজ শিল্পে খুবই উন্নত। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, ক্যানাডা, রাশিয়া, নরওয়ে, সুইডেন ইত্যাদি দেশগুলির সরলবর্গীয় বনভূমি অঞ্চলে প্রাপ্ত পাইন, ফার, ওক, সিডার প্রভৃতি বৃক্ষের নরম কাঠ কে কাজে লাগিয়ে কাষ্ঠ শিল্পের ব্যাপক উন্নতি সাধন ঘটেছে।  সরলবর্গীয় বনভূমি কাষ্ঠ শিল্পে উন্নত কেন, তার কারণ গুলি নিম্ন আলোচনা করা হল। 

1) একই প্রজাতির গাছের পাশাপাশি অবস্থান – সরলবর্গীয় বনভূমির বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে এক প্রকারের গাছ পাশাপাশি জন্মায় বলে গাছের নমুনা সমীক্ষা এবং যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে সহজেই গাছ কাটা হয়। 

2) কাঠ সংগ্রহের সুবিধা – এই অরণ্যে শীতকাল দীর্ঘস্থায়ী ও খুব শীতল হাওয়ায় এই ঋতুতে একটানা তুষারপাতের ফলে গাছের গোড়ায় লতাপাতা, ঝোপঝাড়, আগাছা প্রভৃতি জন্মাতে পারে না। এই কারণে গাছের গোড়া পরিষ্কার থাকে বলে এই বনভূমি থেকে সহজেই কাঠ সংগ্রহ করা যায়। এছাড়া এখানকার গাছের কাঠ নরম হয় বলে কাঠ কাটতেও কোন অসুবিধা হয় না। 

3) সুলভ পরিবহন – এই অঞ্চলের শীতকালে নদীর জল জমে বরফে পরিণত হয়। এ ঋতুতে গাছ কেটে নদীর উপর রেখে দেওয়া হয়। গ্রীষ্মকালে বরফ গলে গেলে গাছের গুড়ি গুলি নদীর স্রোতে ভেসে নিচে নেমে আসে এবং তীরবর্তী কাঠ চেরাই কল গুলিতে সহজেই পৌঁছে যায়। ফলে পরিবহনের বিশেষ ব্যয় হয় না।

4) সুলভ, দক্ষ ও কর্মঠ শ্রমিকের প্রাচুর্য – এই বনভূমি অঞ্চল শীতকালে তুষারে ঢাকা থাকে। ফলে এই সময় এখানে চাষবাস বিশেষ হয়না। এজন্য শীতকালে গাছ কাটার সময় সুলভ শ্রমিক এর অভাব হয় না। নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু জন্য এই শ্রমিকেরা খুবই কষ্ট হয়। এছাড়া সুচারুভাবে গাছ কেটে গুড়িতে দাগ দিয়ে বরফের ওপর রাখার ক্ষেত্রে এই শ্রমিকেরা খুব দক্ষ হয়। 

5) স্বচ্ছ জলের জোগান – এই অঞ্চলে কাঠ ভিত্তিক বিভিন্ন শিল্প, যেমন – কাগজ শিল্প, রেশম শিল্প প্রভৃতি শিল্পে প্রচুর পরিমাণে স্বচ্ছ জলের প্রয়োজন হয়। এই অঞ্চলে বরফ গলা জলে পুষ্ট নদী গুলি থেকে প্রচুর পরিমাণে স্বচ্ছ জল পাওয়া যায়। 

6) সুলভ জলবিদ্যুৎ – সরলবর্গীয় অরণ্য অঞ্চলের অন্তর্গত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, রাশিয়া, নরওয়ে, সুইডেন প্রভৃতি দেশের বরফ গলা জলে পুষ্ট খরস্রোতা নদী গুলি থেকে প্রচুর পরিমাণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, যা এখানকার কাগজ শিল্প ও কাষ্ঠ শিল্পের উন্নতি তে যথেষ্ট সাহায্য করেছে।

7) উন্নত কারিগরি বিদ্যার প্রয়োগ – সরলবর্গীয় বনভূমি অঞ্চলের দেশ গুলি প্রযুক্তি ও কারিগরি বিদ্যায় খুব উন্নত হওয়ায়, এই অঞ্চলে কাগজ শিল্পের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। 

8) সহায়ক শিল্পের অবস্থান – প্রয়োজনীয় সহায়ক শিল্প হিসেবে রাসায়নিক শিল্পের অবস্থানের জন্য এই  অঞ্চলে কাগজে ও রেয়ন শিল্প খুব উপকৃত হয়েছে। 

9) মূলধন সরবরাহ – কাগজ, রেয়ণ, কাঠ প্রভৃতি শিল্প নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের অন্যতম অর্থকরী শিল্প হিসাবে পরিচিত। এই কারণে এসব শিল্পে প্রচুর পরিমাণে মূলধন বিনিয়োগ করা হয়। 

10) চাহিদা – সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে কাগজের চাহিদা দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর পাশাপাশি কাঠ জাত বিভিন্ন শিল্পের চাহিদাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই এসব শিল্পের উন্নতি ঘটেছে। 

Leave a Comment