কয়লার শ্রেণীবিভাগ – কয়লার প্রকারভেদ ও শ্রেণি বিভাগ গুলো কি কি?

কয়লার শ্রেণীবিভাগ – কয়লার প্রকারভেদ ও শ্রেণি বিভাগ গুলো কি কি?: বহু কোটি বছর আগে পৃথিবীতে থাকে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ ভূমিকম্প বা অন্যান্য কারণ বশত মাটির নিচে চাপা পড়ে ভূগর্ভস্থ তাপ ও চাপের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে কয়লায় পরিণত হয়েছে। এই কয়লায় উপস্থিত অঙ্গার বা কার্বনের পরিমানের উপর ভিত্তি করে কয়লা কে প্রধানত চার টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। সেগুলি হল – পিট, লিগনাইট, বিটুমিনাস ও অ্যানথ্রাসাইট কয়লা। নিচে কয়লার শ্রেণীবিভাগ  সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। 

1. পিট কয়লা

  • গুণমান – প্রাথমিক পর্যায়ের জলাভূমি অঞ্চলে সৃষ্ট কয়লা ।
  • জলীয় বাষ্প – জলীয়বাষ্পের পরিমাণ খুব বেশি।
  • রং – উদ্ভিদের আঁশযুক্ত বাদামী রঙের।
  • কার্বন – কার্বনের পরিমাণ 30 শতাংশের কম।
  • তাপ উৎপাদন ক্ষমতা – অত্যন্ত কম। পোড়ালে প্রচুর ধোঁয়া নির্গত হয়। 
  • ব্যবহার – ব্যবহার প্রায় নেই। কোন কোন ক্ষেত্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

2. লিগনাইট

  • গুণমান – পিট অপেক্ষা উন্নত মানের কয়লা। 
  • জলীয় বাষ্প – জলীয়বাষ্পের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম (> 35%)।
  • রং – বাদামী রঙের কয়লা।
  • কার্বন – কার্বনের পরিমাণ 30 থেকে 50 শতাংশ।
  • তাপ উৎপাদন ক্ষমতা – অপেক্ষাকৃত বেশি। পোড়ালে প্রচুর ধোঁয়া নির্গত হয়। 
  • ব্যবহার – ব্যবহার পিট কয়লা অপেক্ষা বেশি। গ্যাস ও তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয় ।

3. বিটুমিনাস কয়লা

  • গুণমান – খুব উন্নতমানের নরম প্রকৃতির কয়লা। সবচেয়ে বেশি পরিমাণে এই  শ্রেণীর কয়লা পাওয়া যায় এবং এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
  • জলীয় বাষ্প – জলীয়বাষ্পের পরিমাণ খুব কম (15 – 30 শতাংশের মতো)।
  • রং – কালো রঙের হয়।
  • কার্বন – কার্বনের পরিমাণ 50 থেকে 85 শতাংশ।
  • তাপ উৎপাদন ক্ষমতা – কার্বনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় বিটুমিনাস কয়লার তাপ উৎপাদন ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি।
  • ব্যবহার – ব্যবহার সর্বাধিক। জ্বালানি কোক, গ্যাস, তাপ বিদ্যুৎ ও বিভিন্ন উপজাত দ্রব্য প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়।

4. অ্যানথ্রাসাইট কয়লা

  • গুণমান – অত্যন্ত শক্ত ও খুব উন্নতমানের কয়লা। পোড়ালে নীল উজ্জ্ব্জল আভা নির্গত হয়।     
  • জলীয় বাষ্প – জলীয়বাষ্পের পরিমাণ খুব সামান্য।
  • রং – উজ্জ্বল কালো রঙের।
  • কার্বন – কার্বনের পরিমাণ 85 শতাংশ বেশি। 
  • ব্যবহার –  এই শ্রেণীর কয়লা খুব কম পরিমাণে পাওয়া যায়় বলে ব্যবহার কম। কোক তাপ বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। 

Leave a Comment