সম্পদ সংরক্ষণের সম্ভাব্য উপায় গুলি লেখ

সম্পদ সংরক্ষণের সম্ভাব্য উপায় গুলি লেখ: সম্পদ মানুষের অভাব পূরণের মাধ্যম কিন্তু গচ্ছিত বা অপুনর্ভব সম্পদগুলি একদিন পৃথিবী থেকে লুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সম্পদের জোগান অব্যাহত রাখা, সম্পদের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি করা, জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পুনর্ভব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব ইত্যাদি কারণগুলোর জন্য সম্পদ সংরক্ষণ একান্ত জরুরী। সম্পদ সংরক্ষণের সম্ভাব্য উপায় গুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। 

A. ব্যবহারের বাহুল্য হ্রাস – অতিমাত্রায় সম্পদ ব্যবহার করলে শীঘ্রই তা বিনাশপ্রাপ্ত হবে। তাই প্রয়োজন ভিত্তিক উৎপাদন ও ব্যবহার সম্পদের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ সহায়ক হবে।

B. পরিবর্ত দ্রব্য ব্যবহার – ক্ষয়িষ্ণু সম্পদের ব্যবহার কমিয়ে প্রবাহমান সম্পদের ব্যবহার বাড়ালে সংরক্ষিত হয়। যেমন- বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার কম করে জল বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে কয়লা সংরক্ষিত হয়।

C. অগ্রাধিকার ভিত্তিক ব্যবহার – যে ব্যবহারে অধিক প্রয়োজন মিটবে সেই উদ্দেশ্যে উক্ত সম্পদের ব্যবহার সংরক্ষণে সহায়তা করে। যেমন- বিদ্যুৎ উৎপাদনে খনিজ তেল ব্যবহার না করে পরিবহন কাজে ব্যবহার করলে খনিজ তেলের সাশ্রয় হয়।

D. উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বস্তুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি – সরাসরি কোন বস্তু বা পদার্থকে ব্যবহার না করে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ব্যবহার করলে তার উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং তা সংরক্ষনে সহায়তা করে।

E. অপচয় রোধ ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ব্যবহার – সম্পদ উৎপাদন ও ব্যবহারের সময় যাতে অপচয় না হয় তা লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন – বিদ্যুৎ সঞ্চয় করে রাখা যায় না, কিন্তু কয়লা সঞ্চিত রাখা যায়। তাই কয়ল পুড়িয়ে চাহিদার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে কয়লার অপচয় ঘটে। আবার, বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে খনিজ সম্পদ উত্তোলন করলে উত্তোলন করলে উত্তোলন কালে অপচয় বন্ধ হয়। যেমন – অভ্র উত্তোলনের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে তা ভেঙে নষ্ট না হয়। 

F. সম্পদের পুনর্ব্যবহার – একই বস্তু যদি উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে আবার ব্যবহার করা যায় তবে সম্পদে সাশ্রয় ঘটে। যেমন – লোহা ও ইস্পাত শিল্প কাঁচামাল হিসেবে বর্জ্য লোহার ব্যবহার আকরিক লোহা সংগ্রহ করে। একই ভাবে অ্যালুমিনিয়াম, তামা, দস্তা, সিসা ইত্যাদি ধাতব দ্রব্য গুলির পুন:ব্যবহার করা সম্ভব। 

G. কারিগরি উৎকর্ষতা বৃদ্ধি – কারিগরি উৎকর্ষতা বাড়লে কম কাঁচা মাল দিয়ে বেশি পরিমাণে শিল্প দ্রব্য উৎপাদন করা সম্ভব। যেমন – পূর্বে প্রায় 4 টন কয়লা  দিয়ে মাত্র 1 টন ইস্পাত উৎপাদন করা যেত। কিন্তু বর্তমানে 1 টন কয়লা দিয়েই 1 টন ইস্পাত উৎপাদন করা যায় বলে কয়লা সাশ্রয় হয়। 

H. উৎপাদনের বিশেষীকরণ – উৎপাদনে বিশেষীকরণ এর জন্য শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সম্পদের গুণমান ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায় । এটি  সম্পদ সংরক্ষণে সহায়ক। 

I. সম্পদের পুনঃস্থাপন – পূরণ শীল  সম্পদ গুলো ভোগের সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় উৎপাদন করলে সম্পদের ভারসাম্য বজায় থাকে। যেমন – গাছ কাটার পাশাপাশি নতুন নতুন চারা গাছ রোপণ করলে বা মৎস্য সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে মৎস্য সৃজনের কাজ করলে সম্পদ সংরক্ষণ হয়। 

J. সম্পদ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি – সম্পদ সচেতনতা সাধারণ মানুষ সহ সরকারী বেসরকারী সমস্ত স্তরে বাড়লে অর্থনৈতিক কাজকর্ম এ সম্পদের সংরক্ষণ ও উৎকর্ষ সাধিত হয়। 

K. সামাজিক প্রকল্প গ্রহণ – সামাজিক প্রকল্প গুলির মাধ্যমে বনসৃজন করলে একদিকে যেমন কাঠের জোগান বৃদ্ধি পাবে, অন্য দিকে ভূমিক্ষয় বন্ধ হয়ে জমির উর্বরতা ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, হ্রাস পাবে খরা ও বন্যার প্রবণতা। এইভাবে নানাবিধ সামাজিক প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে একদিকে যেমন – বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্পদ সৃষ্টির পথ সুগম হবে, অন্যদিকে তেমনি ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানের সম্পদ সংরক্ষণেও তা সাহায্য করবে।

L. সরকারী নীতি – জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অনেক দেশ নিজস্ব সম্পদ কম ব্যবহার করে অন্য দেশ থেকে সম্পদ আমদানি করে। যেমন – আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এ প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল সঞ্চিত থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব খনিজ তেলের ভান্ডার থেকে কম পরিমাণে তেল উত্তোলন করে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে খনিজ তেল আমদানি করে। 

Leave a Comment