মনসবদারি প্রথা কী – What is Mansabdari System ?

মনসবদারি প্রথা কী – What is Mansabdari System ?: মনসবদারী প্রথা হল মুঘল যুগের সামরিক ও বে-সমারিক শাসনের সাংগঠনিক ভিত্তি। মনসবদারগণ নিজ নিজ পদমর্যাদা অনুসারে ১০ জন হতে ১০ হাজার পর্যন্ত সৈন্যবাহিনী পোষণের অধিকারী ছিলেন। মূলত সম্রাটের আত্মীয় বা বিশেষ আস্থাভাজন ব্যক্তির মধ্য হতে এঁরা মনোনীত হতেন। তবে এই পদ বংশানুক্রমিক ছিল না।

মনসবদারি প্রথা:

সামরিক বিভাগের শাসন ও সংগঠন উন্নত করার জন্য পারস্যের অনুকরণে আকবর মনসবদারি প্রথা প্রচলন করেন। মনসব কথার অর্থ হল পদমর্যাদা। এটি ছিল সামরিক ও অসামরিক মুঘল কর্মীদের বিভিন্ন স্তরের মর্যাদার প্রতীক।

মনসবদারি প্রথার বৈশিষ্ট্য হল:

  1. প্রতিটি মনসবদার নির্দিষ্ট সংখ্যক সেনা রাখত এবং প্রয়োজনে সম্রাটকে সৈন্যের যোগান দিত।
  2. অশ্ব ও সেনা সংখ্যার ভিত্তিতে মনসবদারি ব্যবস্থা 33 টি স্তরে বিভক্ত ছিল। মনসবদাররা 10 থেকে 10000 সৈন্য পর্যন্ত রাখার অধিকার পেতেন। আকবরের রাজত্বের শেষদিকে এই সংখ্যা 12000 পর্যন্ত ওঠে। 500 এর বেশি মনসবদারকে বলা হত আমীর। কেবলমাত্র রাজ পরিবারের সদস্যরাই 5 হাজারের বেশি মনসব রাখতে পারতেন।
  3. মনসবদার প্রথা বংশানুক্রমিক ছিল না। কর্মনিপুণতার মাধ্যমে এই মর্যাদা অর্জন করতে হত।
  4. মনসবদারদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বরখাস্ত করা সবকিছুই সম্রাটের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করত।

গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে মনসবদাররা সাম্রাজ্যে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেন। মনসবদারদের দক্ষতা ও সেবার ফলে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মোগল সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত হয়।

Leave a Comment