জিওস্টেশনারী ও সানসিনক্রোনাশ উপগ্রহের পার্থক্য

জিওস্টেশনারী ও সানসিনক্রোনাশ উপগ্রহের পার্থক্য: স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষের এমন এক আবিষ্কার যা বাদ দিয়ে আধুনিক মানব সভ্যতা কল্পনা করা অসম্ভব। আধুনিক মানব সভ্যতার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে, যেমন – যোগাযোগ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, খনিজ সম্পদের সন্ধান, সুরক্ষা, ভূমিরূপ সম্পর্কে ধারণা প্রভৃতি প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে এই উপগ্রহের প্রয়োজন পড়ে আমাদের। এই স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ গুলি কে তাদের প্রবাহপথ, উচ্চতা, কার্যাবলী প্রভৃতি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, যথা – জিওস্টেশনারী উপগ্রহ ও সানসিনক্রোনাশ উপগ্রহ। এখানে এই জিওস্টেশনারী ও সানসিনক্রোনাশ উপগ্রহের পার্থক্য গুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। 

1. সংজ্ঞা 

  • ভূ পৃষ্ঠ থেকে অধিক উচ্চতায় যে সব স্যাটেলাইট পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট স্থান কে কেন্দ্র করে আবর্তন করে, তাদের জিওস্টেশনারী উপগ্রহ বলে। 
  • যে সব স্যাটেলাইট সূর্য কে কেন্দ্র করে অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতা বরাবর আবর্তন করে, তাদের সানসিনক্রোনাশ উপগ্রহ বলে।

2. উচ্চতা 

  • জিওস্টেশনারী উপগ্রহ ভূ পৃষ্ঠ থেকে প্রায় 36000 কিমি উচ্চতায় অবস্থান করে।
  • সানসিনক্রোনাশ উপগ্রহ ভূ পৃষ্ঠ থেকে প্রায় 700 থেকে 800 কিমি উচ্চতায় অবস্থান করে।

3. আবর্তনের দিক

  • জিওস্টেশনারী উপগ্রহ পৃথিবীর আবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে।
  • সানসিনক্রোনাশ উপগ্রহ গুলি উত্তর থেকে দক্ষিণে মেরু বরাবর আবর্তন করে থাকে। 

4. আবর্তনের সময় 

  • জিওস্টেশনারী উপগ্রহ গুলি পৃথিবীর আবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রদক্ষিণ করে বলে, এদের আবর্তনের সময় প্রায় 24 ঘন্টা।
  • সানসিনক্রোনাশ উপগ্রহ গুলি প্রায় 100 মিনিটে উত্তর দক্ষিণে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে। 

5. অবস্থান 

  • জিওস্টেশনারী স্যাটেলাইট গুলি কেবলমাত্র একটি স্থানের উপর অবস্থান করে ওই স্থান সম্পর্কেই তথ্য সংগ্রহ করে।
  • সানসিনক্রোনাশ স্যাটেলাইট সূর্য কে অনুসরণ করে আবর্তিত হয় বলে, এক দিনে বহু স্থানের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। 

6. আঞ্চলিক ব্যাপকতা

  • অধিক উচ্চতায় অবস্থান করায় জিওস্টেশনারী স্যাটেলাইটের সাহায্যে বিশাল এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
  • সানসিনক্রোনাশ স্যাটেলাইটের আঞ্চলিক ব্যাপকতা অনেক কম।

7. উদাহরণ 

  • Landsat, SPOT, IRS, NOAA, SEASAT প্রভৃতি  জিওস্টেশনারী স্যাটেলাইটের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
  • সানসিনক্রোনাশ স্যাটেলাইটের উদাহরণ হল আমেরিকার GOES, ভারতের INSAT, জাপানের Himavari প্রভৃতি।

8. কার্যাবলী

  • আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকাশে জিওস্টেশনারী স্যাটেলাইটের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
  • আবহাওয়া, সুরক্ষা, উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহ প্রভৃতই কাজে সানসিনক্রোনাশ স্যাটেলাইটের ব্যবহার করা হয়।

Leave a Comment