মার্টিন লুথার কিং জীবনী | Martin Luther King Biography in Bengali

মার্টিন লুথার কিং জীবনী: Gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Martin Luther King Biography in Bengali. আপনারা যারা মার্টিন লুথার কিং সম্পর্কে জানতে আগ্রহী মার্টিন লুথার কিং এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

মার্টিন লুথার কিং কে ছিলেন? Who is Martin Luther King?

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র (মাইকেল কিং জুনিয়র (15 জানুয়ারী 1929 – 4 এপ্রিল 1968) একজন আমেরিকান ব্যাপ্টিস্ট মন্ত্রী এবং কর্মী ছিলেন যিনি 1955 থেকে 1968 সালে তার হত্যা পর্যন্ত নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সবচেয়ে দৃশ্যমান মুখপাত্র এবং নেতা হয়েছিলেন। একজন আফ্রিকান আমেরিকান গির্জার নেতা এবং প্রারম্ভিক নাগরিক অধিকার কর্মী এবং মন্ত্রী মার্টিন লুথার কিং সিনিয়রের পুত্র, রাজা তার খ্রিস্টান বিশ্বাস এবং অহিংস সক্রিয়তার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে অহিংস এবং নাগরিক অবাধ্যতার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণের মানুষের জন্য নাগরিক অধিকারের অগ্রগতি করেছিলেন। মহাত্মা গান্ধী। দক্ষিণে নাগরিক অধিকারের কারণের নেতৃত্বে তার ভূমিকা বুকার টি. ওয়াশিংটন এবং কালো-এন্ড-টান দলটির নেতা পেরি উইলবন হাওয়ার্ড II দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করা পূর্ববর্তী আবাসনবাদী অবস্থান থেকে শৈলীতে ভিন্ন।

মার্টিন লুথার কিং জীবনী – Martin Luther King Biography in Bengali

নামমার্টিন লুথার কিং
জন্ম15 জানুয়ারী 1929
পিতামার্টিন লুথার কিং সিনিয়র
মাতাআলবার্টা উইলিয়ামস কিং
জন্মস্থানআটলান্টা, জর্জিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তাআমেরিকান
পেশাব্যাপ্টিস্ট মন্ত্রী, কর্মী
মৃত্যু4 এপ্রিল 1968 (বয়স 39)

মার্টিন লুথার কিং এর জন্ম: Martin Luther King’s Birthday

মার্টিন লুথার কিং 15 জানুয়ারী 1929 জন্মগ্রহণ করেন।

নিগ্রো জাতির মুক্তি ও জাগরণের ইতিহাসে চারজন মনীষীর দান অসামান্য। এঁরা হলেন আব্রাহাম লিঙ্কন, এলিজাবেথ বিচার স্টো, প্রেসিডেন্ট কেনেডি এবং মার্টিন লুথার কিং। যিশু খ্রিস্ট ও থরোর দর্শন এবং মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও বাণী থেকে সহিষ্ণুতা ও অহিংস প্রতিরোধের শিক্ষা লাভ করেছিলেন মার্টিন লুথার কিং।

সারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অহিংস সত্যাগ্রহ আন্দোলন সংগঠিত করে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে বর্ণবৈষ্যম্যের মনোভাব এত প্রবল ছিল যে কোন মার্কিন নাগরিক কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ বা নারী আত্মমর্যাদা বজায় রেখে মার্কিন জীবনের সঙ্গে পা ফেলে চলতে পারত না। বর্ণ বৈষম্যের বিষ ঢুকে পড়েছিল স্কুলের পবিত্র গন্ডির ভেতরেও। শিশুকাল থেকেই মার্কিন শ্বেতাঙ্গ শিশুর ঘৃণা আর অবজ্ঞা পেত কৃষ্ণাঙ্গ শিশুরা।

পথেঘাটে যানবাহনে সর্বক্ষেত্রেই সাদা ও কালোর অমানবিক পার্থক্য। মার্কিন সমাজের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে এই বেদনাময় পরিবেশ অনুশোচনায় বিদ্ধ করত। আমাদের ভারতবর্ষে অস্পৃশ্যতার অভিশাপ জাতির অগ্রগতিকে ব্যাহত করেছে, দেশকে দ্বিখন্ডিত করে দূরপনেয় কলঙ্কের বোঝা চাপিয়েছে জাতির কাঁধে। মার্কিন দেশেও শ্বেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ বর্ণবিদ্বেষ কুংসিতভাবে মার্কিন জনজীবনকে পশ্চাৎমুখী করেছে।

মানবিক মূল্যবোধ করেছে ধূলিণ্ঠিত। নিরপেক্ষ আইনের চোখেও কালো সাদার বাহ্যিক পার্থক্য কৃষ্ণাঙ্গদের হেয় করে রেখেছিল। জাতীয় জীবনের এই কলঙ্ক নির্মূল করবার জন্য আব্রাহাম লিঙ্কন জীবনপাত করেছেন। দাস প্রথার অবসান ঘটিয়ে নিগ্রো সমাজকে তিনি মানবিক অধিকার দিয়ে গিয়েছিলেন। মানুষকে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেবার জন্য আততায়ীর গুলিতে জীবন দিতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু এত সত্ত্বেও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশের কৃষ্ণাঙ্গ নরনারীর জীবন থেকে বৈষম্য ও বিদ্বেষের অভিশাপ দূর হয়নি।

একই জলহাওয়ায় শ্বেতাঙ্গদের পাশাপাশি বেড়ে ওঠা কৃষ্ণাঙ্গরা কেবল মাত্র চামড়ার রঙের পার্থক্যের জন্যই সমানাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত একই বিদ্বেষ ও ঘৃণার আবহাওয়া প্রবাহিত। ফলে সম্মানজনক বৃত্তি ও পেশার ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গরাই অগ্রবর্তী। নিগ্রো সমাজের নামমাত্র প্রতিনিধিত্ব মার্কিন গণতন্ত্রের কলঙ্ক হয়েই অবস্থান করেছিল।

মার্টিন লুথার এই জাতীয় বৈষম্যের প্রতিবাদে অহিংস সত্যাগ্রহ আন্দোলন সংগঠিত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি নিগ্রো শ্বেতাঙ্গ জনগণের সঙ্গে বিশ্বের সমস্ত দেশের জন সমর্থন লাভ করেছিলেন। অহিংসা এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি মার্টিন লুথারের আস্থা তাকে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের কাছে এক বরণীয় মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মার্টিন লুথার কিং এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Martin Luther King’s Parents And Birth Place

১৯২৯ খ্রিঃ ১৫ জানুয়ারী দক্ষিণ মন্টগোমারী রাজ্যের আটলান্টা শহরে এক নিষ্ঠাবান খ্রিস্টান পরিবারে মার্টিন লুথারের জন্ম। তাঁর পিতা ও পিতামহ ছিলেন ধর্মযাজক। এই যাজকবৃত্তির সঙ্গে নিগ্রো জাতির উন্নয়নের কার্যকে এঁরা ব্রত হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন। পশ্চাদপদ নিগ্রো জাতির মানুষদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা ও ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের চেষ্টায় লুথার কিং – এর পিতা ও পিতামহ তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

আর তাঁরা সচেষ্ট ছিলেন শ্বেতাঙ্গদের সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গদের সমতার দাবি প্রতিষ্ঠাকল্পে। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবার জন্য মার্টিন কিং – এর পিতামহ রেভারেন্ড অ্যালফ্রেড ড্যানিয়েল উইলিয়াম স্থাপন করেছিলেন National Asso ciation to the Advancement of Coloured Peoples নামে সংস্থা। এই বৃহৎ সংগঠনের মাধ্যমে শতাধিক বৎসর আগে থেকেই চলেছিল বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে নিগ্রোদের সংগ্রাম। সংগঠনের শাখা প্রশাখা বিস্তৃত হয়েছে প্রশাস্ত মহাসাগরের উপকূল থেকে পূর্বের আটলান্টিক উপসাগর পর্যন্ত। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সারা পৃথিবীর স্বীকৃতি লাভ করেছে এই সংস্থা।

মার্টিন লুথার কিং এর শিক্ষাজীবন: Martin Luther King’s Educational Life

ছাত্র হিসেবে লুথার কিং বরাবরই ছিলেন মেধাবী শিক্ষা দীক্ষা বাগ্মিতা ও ব্যক্তিত্বে যৌবনের প্রারম্ভ থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ। কলেজে পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে সমাজবিদ্যা ও আইন বিষয়েও গভীরভাবে পড়াশোনা করেন লুথার কিং। জর্জিয়ার আটলান্টায় বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অত্যন্ত কম বয়সেই তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

মার্টিন লুথার কিং এর কর্ম জীবন: Martin Luther King’s Work Life

এই সময়েই তিনি কোরেটা স্কট নামের অসাধারণ এক বিদুষীকে বিবাহ করেন। পরবর্তীকালে কোরেটা স্কট লুথার কিং – এর জীবনে এক অসাধারণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। বিয়ের পরেই ১৯৫৫ খ্রিঃ আলবামার মন্টগোমারিতে ব্যাপটিস্ট চার্চে লুথার কিং যাজকের বৃত্তি গ্রহণ করেন। ওই বছরেই বাসে নিগ্রোদের পেছনের সিটে বসার আইনের বিরুদ্ধে লুথার কিং আন্দোলন গড়ে তুললেন।

এই আন্দোলনের ফলে মার্কিন জনজীবনে নিগ্রোদের প্রতি যে অমানবিক বৈষম্য প্রতিষ্ঠিত তার প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। বাস ধর্মঘট সর্বাত্মক ভাবে সাফল্য লাভ করায় লুথার কিং নিগ্রোজাতির অবিসংবাদিত নেতা রূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেন। শ্বেতাঙ্গ মার্কিন সরকার লুথার কিং – এর জনপ্রিয়তায় আতঙ্কিত হয়ে তাঁর সঙ্গে আপোষ মীমাসাংয় আগ্রহী হন। মন্টগোমারিতে মেয়রের নেতৃত্বে গঠিত হয় White Citizan Council নামে সংগঠন।

এই সংগঠনের মাধ্যমে নিগ্রোদের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকে। কিন্তু নিগ্রো উন্নয়ন সমিতির নেতা লুথার কিং শ্বেতাঙ্গদের আপোষ আলোচনাকে অর্থহীন বিবেচনা করে আন্দোলন চালাতে বদ্ধপরিকর হন। শেষ পর্যন্ত শ্বেতাঙ্গ সরকার লুথার কিংকে কারারুদ্ধ করে আন্দোলনের কন্ঠরোধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফল হল বিপরীত। লুথার কিং – এর কারাবাস তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের কাছে জাগ্রত নিগ্রোজাতির জনক রূপে পরিচিত করে তুলল।

সারা বিশ্বের মানুষ মার্কিন সরকারের প্রতি ধিক্কার বর্ষণ করলেন। বিশ্বের বিবেক জাগ্রত হল। লুথার কিং কারামুক্ত হলেন। নিগ্রো জাতির উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষার আন্দোলন আরও জোরদার হল। এই আন্দোলনে লুথার কিং এক অসামান্য ভূমিকা পালন করলেন। ১৯৬৪ খ্রিঃ ওয়াশিংটনে প্রায় দুই লক্ষাধিক নিগ্রো সমবেত হয়েছিল তাঁর আহ্বানে।

১৯৬৫ খ্রিঃ সেলমা থেকে মন্টগোমারি পর্যন্ত নিগ্রোদের বিরাট অভিযানেও তাঁর নেতৃত্বের অবদান ছিল সর্বাধিক। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের জাতিগত সমস্যাকে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ পথে পরিচালনার জন্য ১৯৬৪ খ্রিঃ লুথার কিংকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয় ৷ পুরস্কারের সমস্ত টাকা তিনি দান করেন নিগ্রো জাতির উন্নয়নের স্বার্থে। এরপর শ্বেতাঙ্গদের সঙ্গে সকল বিষয়ে সমতার দাবিতে তিনি সমগ্র দেশজুড়ে আরম্ভ করলেন Freedom March।

তাঁর এই আন্দোলন ক্রমে জাতীয় আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে। সমতার দাবিতে লুথার কিং – এর আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গ মানুষদেরও সমর্থন লাভ করে। দিকে দিকে প্রতিবাদ ধ্বনিত হতে থাকে কোটি কোটি কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন নাগরিকের বঞ্চনার প্রতিবাদে।

মার্টিন লুথার কিং এর মৃত্যু: Martin Luther King’s Death

এই আন্দোলনের সাংগঠনিক কাজে যখন লুথার কিং উদয়াস্ত পরিশ্রম করে চলেছেন, সেই সময়েই ১৯৬৬ খ্রিঃ আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারালেন তিনি। সেই সময়ে তার বয়স মাত্র ৩৭ বছর। লুথার কিং – এর আকস্মিক মৃত্যুতে তার সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। সারা পৃথিবীতে ঘাতকের বিরুদ্ধে ধিক্কার ধ্বনিত হয়। আজ যে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিগ্রো জাতির জাগরণের উন্মাদনা বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করে, তার মূলে রয়েছে মার্টিন লুথার কিং – এর অবদান।

Leave a Comment