বায়ুর আর্দ্রতা কাকে বলে?

বায়ুর আর্দ্রতা কাকে বলে? এখানে বায়ুর আর্দ্রতা কাকে বলে, বায়ুর আর্দ্রতা ও উষ্ণতার সম্পর্ক, চরম আর্দ্রতা, আর্দ্রতার গুনাঙ্ক, আপেক্ষিক আর্দ্রতা কাকে বলে প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। 

বায়ুর আর্দ্রতা – বায়ুর আর্দ্রতা বলতে সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কে বোঝানো হয়। বায়ুর অন্যান্য উপাদান গুলির তুলনায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ যত সামান্য হলেও (মাত্র 4%) এটি তাপ বাজেট ও প্রতিদিনের আবহাওয়ার পরিবর্তন এ অতি গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

বায়ু মণ্ডলে জলকে তিনটি অবস্থায় পাওয়া যায় – কঠিন (বরফ), তরল (জল)  ও গ্যাসীয় ( জলীয় বাষ্প)। বায়ুমন্ডল এর মধ্যেই এটি এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় ক্রমাগত রূপান্তরিত হয়ে থাকে। যেমন বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় জল গ্যাসীয় অবস্থা তথা জলীয় বাষ্পে পরিণত হয় আবার ঘনী ভবন প্রক্রিয়ায় জলীয় বাষ্প কঠিন ও তরল মাধ্যমে পরিণত হয়। যখন বরফ সরাসরি জলীয় বাষ্পে বা জলীয় বাষ্প সরাসরি বরফে পরিণত হয় (জলে পরিণত না হয়েই) তখন তাকে sublimation বলে।

বায়ুর আর্দ্রতা ও উষ্ণতার সম্পর্ক – বায়ুর উষ্ণতা ও আর্দ্রতার মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে বায়ুতে কি পরিমাণ জলীয় বাষ্প উপস্থিত থাকবে তা নির্ভর করে বায়ুর উষ্ণতার ওপর। বায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আবার তাপমাত্রা হ্রাস পেলে বা জলীয় বাষ্প ধারণ করা ক্ষমতা কমে যায় অর্থাৎ বায়ুর আর্দ্রতা হ্রাস পায়। 

একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ু একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কি পরিমাণ জলীয় বাষ্প ধারণ করতে সক্ষম তাকে বায়ুর ধারণ ক্ষমতা বলে। 

যখন বায়ু তে তার ধারণ ক্ষমতার সম পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকে তখন তাকে সম্পৃক্ত বায়ু বলে। 

বায়ুর আর্দ্রতার পরিমাপ – বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বিভিন্ন উপায়ে করা হয়। সেগুলো সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো।

1) চরম আর্দ্রতা (Absolute Humidity) – 

কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের (volume) বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কে চরম আর্দ্রতা বলে। বায়ুর চরম আর্দ্রতা গ্রাম/ঘন মিটার এককে প্রকাশ করা হয়। উষ্ণতা পরিবর্তনের সাথে সাথে চরম আর্দ্রতা র পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। 

2) আর্দ্রতার গুনাঙ্ক (Specific Humidity) – কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ (mass) বায়ু ও তাতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণের অনুপাত কে আর্দ্রতার গুনাঙ্ক বলে। এটি গ্রাম/কিলোগ্রাম এককে প্রকাশ করা হয়। আর্দ্রতার গুনাঙ্ক সবচেয়ে বেশি হয় নিরক্ষীয় অঞ্চলে এবং সবচেয়ে কম হয় মেরু অঞ্চলে। 

3) আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) – নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিমাণ বায়ুতে উপস্থিত প্রকৃত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ও একই উষ্ণতায় ওই পরিমাণ বায়ু কে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্পের প্রয়োজন হয় তার অনুপাত কে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। আপেক্ষিক আর্দ্রতা শতকরা এককে প্রকাশ করা হয়। সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা 100 শতাংশ হয়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা সবচেয়ে বেশি। হাইগ্রো মিটার যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা পরিমাপ করা হয়ে থাকে।

Leave a Comment