ব্লেজ পাস্কাল জীবনী – Blaise Pascal Biography in Bengali

ব্লেজ পাস্কাল জীবনী: gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Blaise Pascal Biography in Bengali. আপনারা যারা ব্লেজ পাস্কাল সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ব্লেজ পাস্কাল এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

ব্লেজ পাস্কাল কে ছিলেন? Who is Blaise Pascal?

ব্লেজ পাস্কাল (জুন ১৯, ১৬২৩ – ১৯ আগস্ট ১৬৬২) একজন ফরাসি গণিতজ্ঞ, পদার্থবিদ, উদ্ভাবক, লেখক এবং ক্যাথলিক দার্শনিক। তিনি একজন বিস্ময় বালক ছিলেন যিনি তার কর সংগ্রাহক বাবার মাধ্যমে শিক্ষিত হয়েছিলেন। পাস্কালের শুরুর দিকের কাজ ছিল প্রকৃতি ও ব্যবহারিক বিজ্ঞানের উপর যেখানে প্রবাহী পদার্থের সম্পর্কিত তার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তিনি প্রথম চাপ এবং শূন্য অবস্থা ধারণা স্পষ্ট করেন। পাস্কাল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পক্ষে লিখতেন।

ব্লেজ পাস্কাল জীবনী – Blaise Pascal Biography in Bengali

নামব্লেজ পাস্কাল
জন্ম19 জুন 1623
পিতাইতিয়েন পাস্কাল
মাতাআন্তোয়েনেট বেগন
জন্মস্থানক্লেরমোঁ-ফেরঁ, ফ্রান্স
জাতীয়তাফরাসি
পেশাগণিতজ্ঞ, পদার্থবিদ, উদ্ভাবক, লেখক এবং ক্যাথলিক দার্শনিক
মৃত্যু19 আগস্ট 1662 (বয়স 39)

ব্লেজ পাস্কাল এর জন্ম: Blaise Pascal’s Birthday

ব্লেজ পাস্কাল ১৬২৩ সালের ১৯ জুন জন্মগ্রহণ করেন।

ব্লেজ পাস্কাল এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Blaise Pascal’s Parents And Birth Place

ব্লেইজ পাস্কালকে বলা হয় আধুনিক দর্শন – জিজ্ঞাসার প্রথম পুরুষ। অথচ বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কারের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। ১৬২৩ খ্রিঃ ফ্রান্সের এক সাধারণ পরিবারে তাঁর জন্ম। মাত্র তিন বছর বয়সেই মাতৃহারা হন তিনি।

ব্লেজ পাস্কাল এর শিক্ষাজীবন: Blaise Pascal’s Educational Life

বাবা এতিয়েঁর স্নেহ যত্ন ও শিক্ষায় বড় হয়ে উঠতে থাকেন। এতিয়েঁর নিজেই তাঁর সন্তানদের পড়াতেন। ছোট ছোট উদাহরণ দিয়ে গল্পের ভঙ্গিতে তিনি তার সন্তানদের শিক্ষা দিতেন। কখনোই পড়ালেখার জন্য কাউকে চাপ দিতেন না। কোন কারণে যাতে পড়াশোনার ওপরে তাদের বিরক্তি বা অনিচ্ছার ভাব না জাগে সে বিষয়ে সর্বদাই সতর্ক থাকতেন।

পিতার বিজ্ঞানের আগ্রহ পূর্ণমাত্রায় সঞ্চারিত হয়েছিল পাস্কালের মধ্যে সেই ছেলেবেলা থেকেই। এতিয়েঁর বলতেন, অঙ্কই হল পড়াশোনার সেরা। যেমন বলতেন তেমনি নানাভাবে অঙ্কের প্রতি সন্তানদের আগ্রহ সৃষ্টির চেষ্টাও করতেন। তার শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতি ছিল অদ্ভুত।

শিশু পাস্কালেরও যে তারই মত অঙ্কের প্রতি আগ্রহ জন্মেছে তা বুঝতে পারা সত্ত্বেও তিনি পুত্রকে কখনো শক্ত শক্ত অঙ্ক কষতে দিতেন না। তাঁর আগ্রহ বজায় রাখার জন্য তিনি মাতৃভাষা ফরাসি শেখানোর ফাকে ফাকে গ্রীক ল্যাটিন ভাষা শেখানোর দিকে জোর দিতেন। ধাপে ধাপে ভূগোল ইতিহাসের দিকে এগোতেন ৷ আর পাস্কালের দাদা দিদিদের যখন জ্যামিতি বা অঙ্ক বোঝাতে বসতেন তখন পাস্কালকে সামনে বসিয়ে রাখতেন।

এতিয়েঁর পক্ষপাত ছিল জ্যামিতির দিকে। তার অভিমত ছিল, জ্যামিতিই হল অঙ্কশাস্ত্রের প্রবেশপথ। তাই ছেলেমেয়েদের অঙ্ক শেখাতে বসে জ্যামিতি দিয়েই শুরু করতেন। আর একটা ব্যাপার, ছোটদের বুদ্ধি একটু সড়গড় না হলে যে অঙ্কের গোলক ধাঁধায় তাদের ঢোকাতে নেই তা এতিয়ঁ ভালই জানতেন।

সেকারণে পাছে পাঙ্কালের অঙ্কের প্রতি আগ্রহ চটে যায় সেই ভয়ে ষোল বছরের আগে গণিত বীজগণিত বা জ্যামিতির কোন বই তার হাতে দেননি তিনি। তবে তাকে ধরাছোঁয়ার কাছেই রাখতেন। কিন্তু এত করেও শেষ পর্যন্ত এতিয়েঁ পাস্কালের ক্ষেত্রে তার বাঁধাধরা নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটাতে বাধ্য হন।

শুনে শুনে নিজের চেষ্টাতেই পাস্কাল মাত্র বারো বছর বয়সেই ইউক্লিডের জ্যামিতির অনেক সমাধান রপ্ত করে ফেলেন। কেবল তাই নয় নিজেই চিন্তা ভাবনা করে ইউক্লিডের সরল রেখার নতুন নামকরণ করলেন bar এবং বৃত্তের নাম দিলেন গোল বস্তু বা round অবসর সময়ে জ্যামিতির উপপাদ্যর জট ছাড়ানর চর্চা হয়ে উঠেছিল পাস্কালের খেলাধুলার মত। তাই নিয়েই মেতে থাকতেন।

ছেলের অসাধারণত্ব দেখে বিস্মিত না হয়ে পারতেন না এতিয়েঁ। অথচ পাস্কালের স্কুলের পড়াশোনার ফলাফল নিয়ে যথেষ্টই খেদ ছিল তাঁর। স্কুলের পরীক্ষায় কখনোই সন্তোষজনক ফল দেখাতে পারতেন না পাস্কাল। ফলে স্কুলে শিক্ষকদের বক্রোক্তি শুনতে হতো মাথা নত করে। প্রতিবারেই মন তৈরি করে নিতেন পরবর্তী পরীক্ষায় ভাল ফলের জন্য। কিন্তু অদ্ভুতভাবে প্রতিবারেই পরীক্ষার ফল দেখে হতাশ হতে হত।

অথচ ওইটুকু ছেলেই ঘরে বাবাকে জ্যামিতি নিয়ে চিন্তার অতীত কাজ দেখিয়ে বিস্মিত করে দিতেন। এতিয়েঁ কিন্তু হতাশ হতেন না। ষোল বছর বয়সের জন্য অপেক্ষা না করে ছেলেকে অঙ্কের ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছিলেন। ফল যা হল তা যেমন অদ্ভুত তেমনি অবিশ্বাস্য। পাস্কাল যখন ষোল বছরে পড়লেন তখন নিজেই জ্যামিতির ওপর নিজের নানা পরীক্ষা – নিরীক্ষা একত্র জড় করে একটা ছোটখাট বই – ই ছাপিয়ে ফেললেন। নাম দিলেন ESSAYS ON CONICS: যার অর্থ করলে দাঁড়ায় শঙ্কু গণিতের ওপর প্রবন্ধ।

এই বইতে কিশোর পাস্কাল জ্যামিতিকে অদ্ভুত পথে অঙ্ক দিয়ে বোঝালেন। বইটি যে রীতিমত আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল তা নিশ্চয় বলে বোঝাবার অপেক্ষা রাখে না। এর আগে দেগুয়ে বলে একজন গণিতবিদ জ্যামিতিকে অঙ্ক দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করেছিলেন। স্বভাবতঃই অঙ্ক বিজ্ঞানীরা কিশোর পাস্কালের প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে অভিনন্দিত করলেন।

সতের শতকের যুক্তিবাদী বিজ্ঞানী রেনে দেকার্ত এবিষয়ে ছিলেন একমাত্র ব্যতিক্রম। তিনি পাস্কালের কাজকে ধন্যবাদ না জানিয়ে বরং দেগুয়ের কাজের ওপর পাকামো বলেই অভিহিত করলেন। আসলে রেনে দেকার্ত পাস্কালের বইটির প্রতিপাদ্য বোঝার চেষ্টা আর্দী করেন নি, ছেলেমানুষের ছেলেমানুষি ভেবেই বইটি সরিয়ে রেখে ছিলেন। তা না হলে তিনি দেখতে পেতেন দেগুয়ের ওপরে কারসাজি করেননি পাস্কাল, বরং দেগুয়ের জ্যামিতি যেখানে ঠোক্কর খেয়ে থেমে গিয়েছিল, পাস্কাল সেখান থেকেই তাকে উদ্ধার করে সমাধানে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

ব্লেজ পাস্কাল এর কর্ম জীবন: Blaise Pascal’s Work Life

আধুনিক কালে গণকযন্ত্র বা ক্যালকুলেটর নামটি সকলেরই পরিচিত। এই গণকযন্ত্রের প্রথম হদিশ কিন্তু দিয়েছিলেন পাস্কাল ১৬৪০ খ্রিঃ। গণকযন্ত্রের একটি একক হল পাস্কাল। বই প্রকাশের পরের বছরেই মজার ঘটনাটি ঘটেছিল। পাস্কালের তখন মাত্র সতের বছর বয়স। সেই সময় রাজস্ব বিভাগ থেকে ট্যাক্স কালেক্টরের দায়িত্ব দিয়ে এতিয়েঁকেরুয়েন রাজ্যে যাবার হুকুম এল। পাস্কালও গেলেন বাবার সঙ্গে।

গোটা ব্যাপারটাই হিসাব নিকাশের। কাজে নেমে কালঘাম ছুটে যেতে লাগল এতিয়েঁর। হিসাব নিয়ে বসে কোন কোন দিন রাত ভোর হয়ে যেত। পাস্কাল বাবার খাটুনি দেখে খুবই পীড়া বোধ করতে থাকেন। মনে মনে ঠিক করেন, বাবার কাজের চাপ কমাবার একটা উপায় যে করেই হোক বার করতে হবে। যেমনি চিন্তা অমনি কাজেও নেমে পড়লেন। দীর্ঘ পাঁচ বছরের একটানা চেষ্টা ও পরিশ্রমে ক্যালকুলেটর তৈরি হয়ে গেল।

বারবার পরীক্ষা করে নিজের যন্ত্র সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হন পাস্কাল। গর্ব ও আনন্দের সঙ্গে লক্ষ্য করেন, শক্ত শক্ত যোগ বিয়োগ যেগুলোর ফল মেলাতে কুড়ি পঁচিশ মিনিটেরও বেশি সময় দরকার হয়, সেগুলো অনায়াসেই দুমিনিটের মধ্যে হয়ে যাচ্ছে। এবারে বাবাকে জানালেন, যন্ত্রের কার্যকারিতাও দেখালেন। এতিয়েঁ আনন্দে তৃপ্তিতে ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।

সবচেয়ে বড় কথা, তার রাতভর পারিশ্রমের তিন চতুর্থাংশই কমে গেল পুত্রের উদ্ভাবিত যন্ত্রের দৌলতে। পাস্কালও বাবাকে অনেকটা নিরুদ্বিগ্ন ও নিশ্চিন্ত দেখতে পেয়ে খুশি হলেন। এরপরে মাথায় এল, ব্যবসায়িকভাবে যন্ত্রটাকে বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করলে তো মন্দ হয় না। কোমর বেঁধে নেমে পড়লেন। সকলের ব্যবহারযোগ্য একটা ক্যালকুলেটর তৈরি করে ফেললেন ১৬৫২ খ্রিঃ মধ্যেই।

দেকার্তের অকাল মৃত্যুর কারণ হয়েছিলেন সুইডেনের রানী ক্রিস্টিনা। তিনি অঙ্ক ও দর্শনের পাঠ নেবার জেদ ধরে দেকার্তকে রাজপ্রাসাদে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। রানীর অনুনয় বিনয়ে বাধ্য হয়েই সম্মত হতে হয়েছিল চিররুগ্ন দেকার্তকে। প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় রানী যে ঘরে বসে দেকার্তের কাছে দর্শন ও অঙ্কের পাঠ নিতেন, সেই ঘরটি ছিল অসম্ভব ঠান্ডা। সেই ঠান্ডা ঘরে দিনের পর দিন বসে মাস তিনেকের মধ্যেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন দেকার্ত।

পাস্কাল তার নতুন গণকযন্ত্রটি সেই বিজ্ঞান রসিক রানী ক্রিস্টিনাকেই উপহার হিসেবে পাঠিয়ে দিলেন। পাস্কালের বয়স তখন ঊনিশ। রেনেসাঁর শুভাগমনের পদধ্বনিতে সারা ইউরোপের সেই সতের শতকে ঘুম ভাঙ্গতে শুরু করেছে। যুক্তিবাদী বিজ্ঞান চর্চার একটা শুদ্ধ আবহাওয়া ক্রমশই গড়ে উঠছে। ধর্ম আর অন্ধবিশ্বাসের অন্ধকার কুঠুরিতে জীবনের জয়গান ধ্বনিত হতে শুরু করেছে।

সেই শুভ মুহূর্তেই গ্যালিলিও শুনিয়েছিলেন রোমাঞ্চকর নতুন কথা — পৃথিবী নয়, সূর্যই সৌরজগতের কেন্দ্র। চার্চের বিচারে বাইবেল বিরোধী প্রচারণার জন্য গ্যালিলিওকে দন্ডিত হতে হলেও, সেদিন গ্যালিলিওর কাছ থেকে মানবসভ্যতা লাভ করেছিল এক নতুন পথের দিশা। গোটা ইউরোপ জুড়েই সেদিন শুরু হয়েছিল মুক্তিপাগল মানুষের অভিযান। বিদ্যানুরাগীদের উৎসাহে প্যারিসে গড়ে তোলা হয়েছিল বিজ্ঞান আকাদেমি লিব্রে।

বিশ্ববিখ্যাত এই আকাদেমিরই বর্তমান নাম হল আকাদেমি দেচ সায়েনসেস ৷ পাস্কালের বাবা এতিয়েঁও ছিলেন এই আকাদেমির উৎসাহী সদস্য। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আশ্চর্যভাবে উপস্থিত ছিলেন চার্চের একজন যাজকও। তাঁর নাম ফাদার সারসেনে। এই ধর্মযাজক যে তথাকথিত ধর্মপিতাদের থেকে চিন্তায় ও কাজে স্বতন্ত্র ছিলেন তা তার বিজ্ঞান আকাদেমির সদস্য তালিকায় উপস্থিতি থেকেই বোঝা যায়। অঙ্ক ও দর্শনের ওপরে ছিল তাঁর অগাধ পান্ডিত্য।

রোমান ক্যাথলিকদের ওপরে ছিল তার অপ্রতিহত প্রভাব। তাই তাঁর সচিব পদ আকাদেমির বিজ্ঞান নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার ক্ষেত্রে রক্ষাকবচের মত হয়েছিল। বাবার মুখে বিজ্ঞানজগতের নতুন নতুন বিস্ময়কর আবিষ্কারের কথা পাস্কাল সহজেই জেনে যেতেন। এভাবে অল্পবয়সেই গ্যালিলিও টরিসেলি ও অন্যান্য বিজ্ঞানসাধকদের কর্মকৃতিত্বের অনেক খবরাখবর তিনি জানতে পেরেছিলেন।

ঊনিশ বছর বয়সেই টরিসেলির ব্যারোমিটার আবিষ্কারের গল্প বাবার মুখে শুনে মুগ্ধ ও উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। সেই ক্ষণজন্মা বিজ্ঞানী মারা গেলেন ১৬৪৭ খ্রিঃ। তার পাঁচবছর আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন টরিসেলির গুরু গ্যালিলিও। গ্যালিলিওর অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণতা দিয়েছিলেন টরিসেলি।

কিন্তু এই দুই বিজ্ঞানীর কাজের ফলে বিজ্ঞানের সামনে দেখা দিয়েছিল অনেক প্রশ্ন। নলের শূন্য আবহ সম্পর্কেও গ্যালিলিও বা টরিসেলি কোন নতুন তত্ত্ব সাজাতে পারেননি। যাই হোক টরিসেলির অকাল প্রয়াণের আগেই ইতালির ফ্লোরেন্স থেকে টরিসেলির শূন্যতা নিরীক্ষণের মূল্যবান কাগজপত্র একদিন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিজ্ঞান আকাদেমিতে পৌঁছে গিয়েছিল।

এই সংবাদ জানতেন কেবল আকাদেমির সচিব ফাদার সারসেনে। পাস্কাল তো নয়ই, আকাদেমির সদস্য তার বাবা এতিয়ঁরও বিষয়টা অজ্ঞাত ছিল। গণকযন্ত্র উদ্ভাবনের দশ বছর পূর্ণ হবার আগেই ১৬৬৪ খ্রিঃ অদ্ভুত এক ঘটন ঘটল পাস্কালের জীবনে। ফ্রান্সের দুর্গ তৈরি ও বন্দর বিকাশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পিয়েরে পেতিত একদিন হঠাৎ উপস্থিত হলেন পাস্কালের বাড়িতে।

তার কাছেই এতিয়েঁর সেদিন প্রথম শুনতে পান যে টরিসেলির শূন্যতা নিরীক্ষণের পদ্ধতি আকাদেমির বিজ্ঞানীরা নতুন করে পরীক্ষা শুরু করেছেন। জলের মত টাকা খরচ হচ্ছে এই কাজে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা কেউই বুঝতে পারছেন না টরিসেলি আসলে কি করবার চেষ্টা করেছেন, আর তাঁর উদ্দেশ্যটাই বা কি ছিল।

কথায় কথায় পিয়েরে পেতিত এতিয়ঁরকে জানালেন, টরিসেলির পরীক্ষাটা সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না একটা কাচের নলের অভাবে। অনেকবার নল বানাবার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারেই অজ্ঞাত কারণে নল মাঝপথে ভেঙ্গে যাচ্ছে। পেতিত সরকারি উঁচু মহলের লোক। বিজ্ঞানী অনুরাগী কেবল নয়, বিজ্ঞানের নতুন কোন গবেষণার সংবাদ পেলেই তিনি সবার আগে সাগ্রহে ছুটে যান।

বিজ্ঞান আকাদেমিরও হর্তাকর্তাদের একজন তিনি। রুয়েন শহরের কাচ শিল্প বিখ্যাত। আকাদেমির কাজের জন্য তিনি এখানে এসেছিলেন একমুখ – বন্ধ চার ফুটের ভাল কাচের নল তৈরি করিয়ে নেবার উদ্দেশ্যে। অর্ডার মাফিক কাজটা হাতে পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে এসেছিলেন পাস্কালদের বাড়িতে দেখাসাক্ষাৎ করতে। পাস্কালরা বাপবেটা দুজনেই বিজ্ঞানের মানুষ। স্বভাবতঃই আকাদেমির সমস্যার কথা শুনে কিছুটা চিন্তার মধ্যে পড়ে গেলেন।

ব্লেইজ কিন্তু উৎসাহে টগবগ করে উঠলেন। নিজেই বসে গেলেন নল নিয়ে পরীক্ষায়। কিছুদিনের মধ্যেই যে সমাধানে পৌঁছলেন সে সম্বন্ধে বললেন, “The force holding up the quick silver comes without, and the quick silvers enters and rises in a column just high enough to make equilibrium with the weight of the external air which force it up.” অর্থাৎ বাইরে থেকে আসা বলই পারদতলকে ওপরে তুলে ধরে।

পারদ যতটা ওঠে নলের ভেতরের পারদও ততটাই ওঠে এবং বাইরের যে বায়ুচাপ পারদকে ধরে রাখে তার ওজনের সঙ্গে সাম্যতার অবস্থায় আসে। ধারণাটা পেয়ে যাবার পরেই পরীক্ষাটাকে নতুনভাবে সাজাবার কাজে লেগে গেলেন পাস্কাল। দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আকারে প্রত্যেকটি আলাদা এমন কয়েকটি কঁাচনল নিলেন তিনি প্রথমে ৷ নলগুলোর মধ্যে দুটোর উচ্চতা ৩ ফুট ১০ ইঞ্চি।

প্রত্যেকটি নলেই একের পর এক নানান তরল ঢেলে দেখতে পান জল যে নির্দিষ্ট উচ্চতায় উঠে স্থির হয়ে যায় তা সর্বদাই ৩৪ ফুট। লাল মদের স্থির উচ্চতা ৩৪.৬ ফুট। তেলের নির্দিষ্ট উচ্চতা ৪০ ফুট। পাস্কাল লক্ষ্য করেলেন নলের প্রস্থ বা শূন্য আবহের আয়তন কোন সমস্যার মধ্যেই পড়ে না। তিনি সিদ্ধান্তে আসেন যে টরিসেলির নলের মাথায় যে শুন্য স্থান রয়েছে তা প্রকৃতই শূন্য। এই শূন্যতাকে আপাত শূন্য বলার কোন কারণই থাকতে পারে না।

নিজের গবেষণার বিবরণ নিয়ে কিছুদিনের মধ্যেই পাস্কাল লিখে ফেললেন দীর্ঘ একটা প্রবন্ধ। পুস্তিকা আকারে ছাপিয়ে প্রকাশও করলেন। টানা কয়েকদিনের কঠোর প্ররিশ্রমের ধকল শরীর সইতে পাবল না। অসুস্থ হয়ে শয্যা নিলেন পাস্কাল। এতিয়েঁর সুচিকিৎসার জন্য ছেলেকে নিয়ে এলেন প্যারিসে। সেই সময় তার বয়স চব্বিশ। একদিন আকস্মিকভাবে রেনে দেকার্ত এলেন অসুস্থ পাস্কালকে দেখতে। তার মত বিশ্রুত বিজ্ঞানীকে এরকম অভাবিতভাবে কাছে পেয়ে অভিভূত হয়ে গেলেন পাস্কাল ৷

শ্রদ্ধায় ভক্তিতে, কৃতজ্ঞাতায় তাঁর মাথা নত হয়ে গেল। দেকার্ত জানালেন, পাস্কালের গবেষণার কথা তিনি আগেই শুনেছেন। সুযোগ পেয়ে এখন এসেছেন দেখা করতে। দুই বিজ্ঞানী মুখোমুখি হলেন। একজন সম্ভাবনাময় তরুণ। অপরজন প্রবীণ, সাফল্যে উজ্জ্বল। সেদিন দুজনের আলোচনায় বারবারই ঘুরেফিরে এল টরিসেলির শূন্য আবহের তত্ত্ব।

রেনে দেকার্ত এই সম্পর্কে তার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতে দ্বিধা করলেন না। তার মুখে শোনা যায় অ্যারিস্টটলের প্রতিধ্বনি, শূন্যতা বিশ্বপ্রকৃতিতে অসম্ভব, তা একটা তত্ত্ব হতেই পারে না। সেদিনের সেই সাক্ষাৎকার পাস্কালের জীবনে প্রেরণার স্থায়ী ছাপ রাখে। সুস্থ হয়ে পাস্কাল বাড়ি ফিরে আসেন। তবে চিকিৎসকরা তাকে সতর্ক করে দেন, গবেষণার ধকল কমাতে হবে। কিন্তু টরিসেলির নল মাথায় গেঁথেই ছিল।

বাড়ি ফিরেই শুরু করলেন নতুন করে ভাবনা – চিন্তা। হঠাৎ খেয়াল হয়, নল নিয়ে ওপর নিচ করে দেখা যেতে পারে। খেয়াল হতেই প্যারিসের সবচেয়ে উঁচু বাড়ির ওপর তলায় উঠে আসেন নল নিয়ে। ক্ষ্য করেন, ওপরে পারদতল তার ৩০ ইঞ্চি সাধারণ উচ্চতা থেকে খানিকটা নেমে গেছে। কিন্তু নিচে নেমে আসবার সঙ্গে সঙ্গেই নলের পারদতলও ৩০ ইঞ্চি উঠে আসে। পারদতলের উচ্চতার হেরফেরের কারণ বুঝবার জন্য আরও একটু ভালভাবে পরীক্ষা করবার দরকার হল।

পাস্কাল তার এক ভগ্নিপতি পেরিয়ারের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর দুজনে মিলে একদিন চলে আসেন ফ্রান্সের ক্লারমন্ট শহরে। শহরের গা ঘেঁষেই দাঁড়িয়ে আছে পুইদে দোম পাহাড়। টরিসেলির নল সঙ্গে নিয়ে দুজনেই উঠে যান শিখরে। পাস্কাল লক্ষ্য করলেন, যতই ওপরে উঠছেন, নলের পারদতলও তরতর করে ততই নেমে যাচ্ছে। মেপে দেখেন দোমের শিখরে পারদতলের উচ্চতা ২৭ ইঞ্চি। স্বাভাবিক উচ্চতা থেকে ৩ ইঞ্চি নেমে গেছে। আর এর ফলে শূন্য আবহের দৈর্ঘ্য বাড়ল ৩ ইঞ্চি। স্বাভাবিক দৈর্ঘ্য ছিল ১৮ ইঞ্চি, তার সঙ্গে যোগ হল ৩ ইঞ্চি। ফলে মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াল ১৮ +৩ = ২১ ইঞ্চি।

পাহাড় থেকে নেমে আসতেই দেখা গেল পারদতল ৩০ ইঞ্চি আগের উচ্চতায় ফিরে গেল। এরপর নানা তরল নিয়ে দিনের পর দিন গবেষণা চালিয়ে একটি চমৎকার সূত্র আবিষ্কার করেন পাস্কাল। সেই সূত্রই হল বিখ্যাত Pascal’s Principle। এই নীতির মূল কথা হল, বদ্ধ কোন পাত্রের ভেতরে কোন তরল পদার্থকে আটকে যদি ওই তরলের যে কোনও স্থানে চাপ প্রয়োগ করা হয় তাহলে সেই চাপ তরলের সব অংশেই সমানভাবে ছড়িয়ে পড়বে এবং পাত্রের ওপর অংশের সঙ্গে সমকোণে কাজ করে যাবে।

এই নীতির ভিত্তিতেই তৈরি হয় হাইড্রলিক প্রেস, হাইড্রলিক জ্যাক ইত্যাদি। জলবাহী এসব পেষাক ও তোলকের সাহায্যে সামান্য চাপকে ১০০, ২০০, ৩০০ গুণ ছাড়িয়েও যত খুশি বাড়ানো সম্ভব। হাইড্রলিক জ্যাকের নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্টভাবে কুড়ি বা ত্রিশ বল চাপালে তার দ্বারা ৩০০০ পাউন্ডের গাড়িকেও অনায়াসে ওপরে তোলা সম্ভব হয়। কাজ করছিলেন টরিসেলির নলের শূন্যতার ওপরে, পাস্কাল তা থেকে উদ্ভাবন করে ফেললেন হাইড্রলিক মেসিনের সুলুকসন্ধান।

বিশ্বপ্রকৃতির নিয়মগুলো যে একই সুতোয় বাঁধা, একটি টানলে আরেকটিতেও টান পড়ে, এক সত্য থেকে বিজ্ঞানীদের হাতে আর এক সত্য আবিষ্কৃত হয়, এ থেকেই তার প্রমাণ হয়। পাস্কালের জীবন বিজ্ঞানের পথ ধরেই অগ্রসর হয়ে চলেছিল। এমনি সময়ে ১৬৪৬ খ্রিঃ আকস্মিক এক ঘটনার মধ্য দিয়ে তাঁর গোটা জীবনেই অদ্ভুত এক পরিবর্তনের সূচনা হল। ঈশ্বর বিশ্বাসী তিনি কোন কালেই ছিলেন না।

সতের শতকের ধর্মবিশ্বাস আর সংস্কারের যুগে বসেও তিনি স্বচ্ছন্দে এড়িয়ে থাকতেন বাইবেল ও গির্জা। ক্বচিৎ কখনো যদি বাবার তাড়নায় গীর্জায় যেতে বাধ্য হতেন তাহলে প্রার্থনার সময়ে অন্য চিন্তায় মন চলে যেত। সেই নাস্তিক পাস্কাল হঠাৎ ঈশ্বর বিশ্বাসী হয়ে উঠলেন। ঘটনাটা বলা যেতে পারে।

পাস্কালের পিতা এতিয়েঁর দীর্ঘ দিনের অভ্যাস সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর খানিকক্ষণ বাস্তায় বেড়ানো। তারপর বাড়ি ফিরে এসে প্রাত্যহিক কাজ নিয়ে বসেন। এই নিয়মেই এক শীতের সকালে এতিয়েঁর প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছেন। কিন্তু যেই সময়ে ফিরে আসার কথা, সেই সময় উত্তীর্ণ হয়ে গেল তবু তিনি ফেরেন না। বাড়িতে পাস্কাল ও তাঁর ভাইবোনেরা খুবই চিন্তায় পড়ে গেলেন। সকলে মিলে খুঁজতে বেরোন বাবাকে।

এদিক সেদিক খোঁজাখুঁজির পর এক বরফের স্তূপ থেকে এতিয়েঁকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হল। দেখা গেল বরফে পা পিছলে পড়ে পায়ের মালাইচাকি ভেঙ্গে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় এতিয়েঁরকে রুয়েনের হাসপাতালে ভর্তি করা হল। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানালেন, তাদের পক্ষে মালাইচাকি সারানো সম্ভব নয় ৷ এতিয়েঁরকে প্যারিসে নিয়ে গিয়েই চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

পাস্কাল ভাইবোনেরা খুবই বিপন্ন হয়ে পড়লেন। রুগীর যা অবস্থা তাতে অতদূরে নিয়ে যাবার ধকল সইবে না। যে কোন মুহূর্তে পথেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই সঙ্কটাপন্ন সময়ে, যখন সকলেই উদভ্রান্ত অবস্থায় সময় গুণছেন, এমন সময় পাস্কালদের বাড়িতে উপস্থিত হলেন দেচাম ভ্রাতৃদ্বয়। মানব সেবা ও মানব কল্যাণে ব্রতী এই দুই ভাই সারা ফ্রান্সেই সুপরিচিত। দুঃখ তাপে দগ্ধ মানুষকে নিশ্চিত্ততার ছায়াদানই এই দুই মানব হিতৈষী সহোদরের জীবনের ব্রত।

পাস্কাল ভাইদের নিশ্চিন্ত করে দেচাম ভাইরাই এতিয়েঁর সেবার দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিলেন। তাঁদের চিকিৎসা সেবা ও যত্নে অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যুপথযাত্রী এতিয়েঁর একসময় উঠে বসেন। পাস্কালদের বাড়িতে আবার আনন্দ ফিরে আসে। সামান্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের অবকাশটুকু না দিয়ে কর্তব্য সম্পূর্ণ করেই দেচাম ভাইরাও বিদায় নেন। দেচামদের মানব সেবার নিষ্ঠা ও মহানুভবতা বিজ্ঞানী পাস্কালের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এই সেবা — এও ধর্মের একটা দিক। এই দিকটির প্রতি এতকাল তার কোন নজরই পড়েনি। ধর্মভাবনা এক নতুন রূপ নিয়ে তাঁকে মুগ্ধ করে। বিজ্ঞানের গবেষণা এবারে শিকেয় উঠল। গোটা পরিবার বাইবেল পাঠ, নিয়মিত প্রার্থনা ইত্যাদিতে মগ্ন হয়ে গেল। বিজ্ঞানী পাস্কালের মন জুড়ে চিন্তার আলোড়ন। তাঁর মনে হতে লাগল, ‘ বিজ্ঞান নিয়ে মেতে থেকে এতদিন মূল্যবান সময় অপচয়ই শুধু করেছেন।

এইভাবে কিছুদিন কাটল। সাময়িক আবেগ প্রশমিত হতেই যুক্তিবাদী মন আবার বিজ্ঞানের চিন্তাভাবনায় ফিরে গেল। বাইবেলের স্থান নিল বিজ্ঞানের নানা বই। ১৬৪৮ খ্রিঃ থেকে ১৬৫৪ খ্রিঃ এই সময়ে পাস্কাল বিজ্ঞানকে দান করলেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। এরপরই পর পর দুটি ঘটনায় আবার পাস্কালের জীবনে ঝড় নেমে এল। এতিয়েঁর মারা গেলেন। পাস্কালের এক দিদি জ্যাকুইলিন সন্যাসিনীর ব্রত নিয়ে মঠে চলে গেলেন।

পাস্কাল হয়ে পড়লেন একেবারেই একা। নিজের গবেষণার উৎসাহ প্রেরণার যাবতীয় উৎস ছিলেন দুজন, বাবা এতিয়েঁর এবং দিদি জ্যাকুইলিন। দুঃখ হতাশায় একেবারে ভেঙ্গে পড়লেন পাস্কাল। সান্ত্বনা খুঁজবার জন্য মন আবার গীর্জার শরণাপন্ন হল। জীবনের সার্থকতার সন্ধান করতে দর্শনের বই নিয়ে বসলেন পাস্কাল।

একদিন খুব ভোরে বারান্দায় এসে বসেছেন। ভোরের আকাশে কুয়াশার আস্তরণ। বসে ভাবছিলেন মানবজীবনের কথা — অর্থ কি এভাবে, এই বেঁচে থাকার ? সার্থকতা কোথায় লুকিয়ে আছে জীবনের ? ভাবতে ভাবতে এক অনাস্বাদিত আনন্দানুভূতিতে মন ভরে উঠল। জীবনের সমস্ত বিচার বিশ্লেষণ কোথায় ভেসে গেল। সেই প্রভাতেই নতুন পাস্কালের জন্ম সম্পূর্ণ হল। ঈশ্বর চিন্তাতেই মন থিতু হল।

পরিচিত লোকজনরা এরপর থেকে পাস্কালকে দেখলেই নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, বাবাকে হারিয়ে দিদিকে সন্ন্যাসিনী হতে দেখে পাস্কাল মানুষটা একেবারেই বদলে গেছে। বিজ্ঞান নিয়ে তাঁর মুখে আর কোন কথাই শোনা যায় না। আসলে দর্শন আর বিজ্ঞানে মেশামেশি হয়ে নতুন ভাবনায় জারিত হচ্ছিলেন পাস্কাল। জীবনের শেষপ্রান্তে পৌঁছে জ্যামিতির দর্শন ভাবনা নিয়ে বই লিখলেন। নাম দিলেন এসপ্রিত দে জিওমেত্রি। বই প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সারা ইউরোপ জুড়ে আলোড়ন উঠল।

এর পরেই আরো এক কান্ড করে বসলেন পাস্কাল। দেখা গেল প্যারিসের জুয়ার আড্ডায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন তিনি। আর কিছুই নয় গণিতের সম্ভাবনা তত্ত্বকে উদ্ধার করবার জন্যই জুয়ার আড্ডায় আনাগোনা। কিছুদিন পরেই প্রকাশ পেল পাস্কালের ম্যাথামেটিক্যাল থিওরি অব প্রবাবিলিটি।

আধুনিক বিজ্ঞানের বহু গুরুত্বপূর্ণ অবদানই পাস্কালের এই তত্ত্বের ভিত্তিতেই সম্ভব করে তুলেছেন প্রখ্যাত গণিতবিদগণ। পাস্কালের বিচিত্র জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল মাত্র ৩৯ বছর বয়সে। এই সামান্য সময় সীমার মধ্যেই তিনি বিজ্ঞান ও দর্শনের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। ভাবীকালের বিজ্ঞানীদের জন্য পথ তৈরি করে দিয়ে গেছেন।

আজ ক্যালকুলেটর জীবনের নিত্যসহচর, অল্টিমিটার ধরে উড়োজাহাজ পৃথিবীর নানা প্রান্তে পাড়ি জমাচ্ছে, শিল্পক্ষেত্রে হাইড্রোলিক প্রেসের ভূমিকা অনিবার্য, প্রতিদিনের জীবনের দায় মেটায় তোলক, স্ট্যাটিসটিকস বা পরিসংখ্যান, গণিতের জটিল গণনাঙ্ক বা ক্যালকুলাস – বিশ শতকের এই সব কিছুই পাস্কালের গবেষণার অবদান। – পাস্কালের দর্শন – জিজ্ঞাসার তত্ত্ব বিশ্লেষণের আলোকে নির্মিত জীবন – সত্যের ভাবনা তাকে মহাদার্শনিকের অভিধাযুক্ত করেছে। তার যুক্তিবাদী বিশ্লেষক মন দর্শনকে নতুন পথের সন্ধান দিয়েছে।

ব্লেজ পাস্কাল এর মৃত্যু: Blaise Pascal’s Death

১৬৬২ খ্রিঃ ১৯ আগস্ট ব্লেজ পাস্কাল এর জীবনাবসান হয়।

Leave a Comment