গুলিয়েলমো মার্কনি জীবনী – Guglielmo Marconi Biography in Bengali

গুলিয়েলমো মার্কনি জীবনী: Gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Guglielmo Marconi Biography in Bengali. আপনারা যারা গুলিয়েলমো মার্কনি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী গুলিয়েলমো মার্কনি র জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

গুলিয়েলমো মার্কনি কে ছিলেন? Who is Guglielmo Marconi?

গুগলিয়েলমো জিওভানি মারিয়া মার্কোনি (২৫ এপ্রিল, ১৮৭৪- ২০ জুলাই, ১৯৩৭), যিনি ইতালি থেকে এফআরএসএ মার্কুইস এর প্রথম সদস্য, উদ্ভাবক এবং একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।

গুলিয়েলমো মার্কনি জীবনী – Guglielmo Marconi Biography in Bengali

নামগুলিয়েলমো মার্কনি
জন্ম25 এপ্রিল 1874
পিতাজিউসেপ্প মারকোনি
মাতাঅ্যানি জেমিওন
জন্মস্থানবোলোগনা, ইতালির রাজ্য
জাতীয়তাইতালীয়
পেশাইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার
মৃত্যু20 জুলাই 1937 (বয়স 63)

গুলিয়েলমো মার্কনি র জন্ম: Guglielmo Marconi’s Birthday

গুলিয়েলমো মার্কনি ২৫ এপ্রিল, ১৮৭৪ জন্মগ্রহণ করেন।

পদার্থবিজ্ঞানের সেরা পাঁচটি আবিষ্কারের মধ্যে একটি হল বিশেষ এক ধরনের তড়িৎ প্রক্রিয়া যার নাম বেতার টেলিবার্তা। দূরবর্তী স্থানে দ্রুত গতিতে খবরা খবর পাঠানোর এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন ইতালির পদার্থবিজ্ঞানী গুগলিয়েলমো মার্কোনি। বেতার টেলি যোগাযোগের আবিষ্কার সম্ভব হয়েছিল গাণিতিক ও পরীক্ষামূলক পদার্থবিদ্যা সংক্রান্ত গবেষণার ফলে।

এর সঙ্গে যুক্ত একা মার্কোনি নয় বহু বিজ্ঞানীর সাধনা। ইংরাজ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে প্রথম ধারণা করেছিলেন আলো ও তড়িতের মধ্যে রয়েছে রহস্যময় সংযোগ। এরপর তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ম্যাক্সওয়েল তড়িৎ ও আলোর সম্পর্কটিকে গাণিতিক প্রক্রিয়ায় তুলে ধরেন। পরবর্তী পর্যায়ে বিজ্ঞানী হার্ৎজ তাঁর বিখ্যাত পরীক্ষার মাধ্যমে আলো ও তড়িতের প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করেন।

হার্ৎজের পরীক্ষার আগেই বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন তড়িৎ ধারক বা ক্যাপাসিটরকে তড়িদাবিষ্ট করা হলে তা থেকে দোলনের নিয়মে তড়িৎ প্রবাহ তৈরি হয়। এই প্রবাহের বিস্তার আলোর অনুরূপ তরঙ্গায়িত। আধুনিক তড়িৎবিজ্ঞানের সূত্রপাত করেছিলেন হার্জ। সেই সঙ্গে বেতার টেলিবার্তার উদ্ভাবনের পথও সুগম হয়েছিল।

বিজ্ঞানীদের এই সব পরীক্ষা নিরীক্ষা ল্যাবরেটরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কেন না উদ্ভূত তড়িত্তরঙ্গের বিস্তার ছিল মাত্র কয়েক মিটার। এই নামমাত্র বিস্তারকে পৃথিবীময় সম্প্রসারিত করার পথ দেখিয়েছিলেন মার্কোনি। তিনি তাঁর পূর্বসূরী বিজ্ঞানীদের ত্রুটি – বিচ্যুতি সংশোধন করে যুগান্তকারী আবিষ্কার সম্ভব করে তুলেছিলেন। বিদ্যুৎ ও আলোর তরঙ্গের সাহায্যে সঙ্কেত পাঠাবার প্রথম কাজটি মার্কোনি শুরু করেছিলেন ১৮৯৫ খ্রিঃ। তখন তার বয়স মাত্র একুশ বছর।

তারপর ধীরে ধীরে এই কাজকে উন্নতস্তরে পৌঁছে দিতে পেরেছেন। মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বকে সম্প্রসারিত করে ১৮৯৭ খ্রিঃ তিনি কুড়ি কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে সংকেত পাঠাতে পেরেছিলেন। মার্কোনির সেই পথ অনুসরণ করেই উত্তরকালে হাজার হাজার মাইল দূরে সংকেত পাঠাবার কাজটি বিজ্ঞানীরা সম্ভব করে তুলেছেন।

গুলিয়েলমো মার্কনি র পিতামাতা ও জন্মস্থান: Guglielmo Marconi’s Parents And Birth Place

ইতালির বোলগনা শহরে ১৮৭৪ খ্রিঃ ২৫ শে এপ্রিল এক সম্পন্ন জোতদার পরিবারে মার্কোনির জন্ম। তার বাবার নাম গিসেপে মার্কোনি, মা অ্যানি। জোতদার পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতার অভাব ছিল না। ফলে ভাল টিউটর রেখে বাড়িতেই মার্কোনির শিক্ষার ব্যবস্থা করা হল।

গুলিয়েলমো মার্কনি র শিক্ষাজীবন: Guglielmo Marconi’s Educational Life

ছেলেবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন মার্কোনি। বিজ্ঞানের বিষয়গুলির মধ্যে বিশেষ করে পদার্থবিদ্যায় ছিল তাঁর অলৌকিক আকর্ষণ। সেই সঙ্গে ছিল গণিত। বাল্য বয়সেই ভৌততত্ত্ব ও তড়িৎ প্রসঙ্গে তার উৎসাহ এমন ছিল যে হাতের কাজ দেখিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিতেন।

স্কুল – কলেজের প্রথাগত শিক্ষা ছাড়াই মার্কোনি ম্যাক্সওয়েল, হার্জ, রিখি, লজ প্রমুখ জগদ্বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয় অধিগত করেন। ছেলের উৎসাহ দেখে বাবা গিসেপে তাঁদের পঁতেচিও শহরের জমিদারির মধ্যেই একটি ছোট ল্যাবরেটরি তৈরি করে দেন। সেই সময়ে মার্কোনির বয়স একুশ বছর।

গুলিয়েলমো মার্কনি র কর্ম জীবন: Guglielmo Marconi’s Work Life

এই নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে বসেই তিনি তড়িৎ সংক্রান্ত নানা পরীক্ষা – নিরীক্ষা শুরু করেন। গোড়া থেকেই তিনি যে কাজে হাত দেন তা হল বেতার – বার্তা দূরে পাঠাবার গবেষণা। ১৮৯৫ খ্রিঃ মার্কোনি দেড়মাইল দূরত্ব পর্যন্ত বেতার সংকেত পাঠাতে সক্ষম হন। পরের বছর, ১৮৯৬ খ্রিঃ মার্কোনি তার গবেষণার যন্ত্রপাতি ইতালি থেকে ইংলন্ডে নিয়ে এলেন। ডাক বিভাগের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার উইলিয়াম প্রিসের উপস্থিতিতে লন্ডনের সলবেরিতে তার বেতার টেলি – যোগাযোগের পরীক্ষাটি দেখান।

এই সময়ে তিনি বেতার সংকেত দু মাইল দূরত্ব পর্যন্ত ঘুরিয়ে আনতে পেরেছিলেন। পরীক্ষা – নিরীক্ষা চলতেই লাগল। পরের বছরেই, ১৮৯৭ খ্রিঃ দূরত্ব দুমাইল থেকে চার মাইলে বৃদ্ধি পেল। এরপর দুমাসের মধ্যেই চারমাইল পৌঁছল ন’মাইলে। ১৮৯৬ খ্রিঃ মার্কোনি উইলিয়াম প্রিসের সহযোগিতায় বেতার টেলিগ্রাফির পেটেন্ট পেয়ে গিয়েছিলেন।

১৮৯৭ খ্রিঃ উভয়ের উদ্যোগে গড়ে উঠল দ্য অয়ারলেস টেলিগ্রাফ অ্যান্ড সিগন্যাল কোম্পানি লিমিটেড। এইভাবেই বেতার টেলিবার্তা পৃথিবীতে এক নতুন যুগের সূচনা করল। ইতালি সরকারের ব্যবস্থাপনায় – ১৮৯৭ খ্রিঃ স্পেজিয়া শহরে এক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হল। সেখানে মার্কোনি বারো মাইল পর্যন্ত দূরত্বে টেলি যোগাযোগ সম্প্রসারিত করতে সমর্থ হন।

১৮৯৯ খ্রিঃ মধ্যেই ইংলিশ চ্যানেলের দূরত্বে ফ্রান্স ও ইংলন্ডের মধ্যে টেলি – যোগাযোগ গড়ে উঠল। তারপর থেকেই বিভিন্ন শহরে বেতার স্টেশন গড়ে উঠতে লাগল। ১৯০০ খ্রিঃ মার্কোনির কোম্পানির নাম বদল করে রাখা হল মার্কোনি বেতার টেলি – যোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড। পরীক্ষার ক্রমোন্নতি থেকেই বোঝা যায় মার্কোনি তার গবেষণা নিরন্তর চালিয়ে চলেছিলেন।

১৯০১ খ্রিঃ তিনি এক নতুন কথা ঘোষণা করলেন ডিসেম্বর মাসে। তিনি এক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখালেন যে বেতার তরঙ্গ পৃথিবীর বক্রতা দ্বারা প্রভাবিত হয় না। আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ে দুই শহর পলধু ও সেন্ট জনস। এই দুই শহরের পরস্পরের দূরত্ব দু হাজার একশো মাইল। এই দূরত্ব অতিক্রম করে দুই শহরের মধ্যে টেলিযোগাযোগ ঘটিয়ে এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটালেন।

এই ভাবেই সাধারণ সঙ্কেত থেকে টেলি – বার্তার ব্যবহার সংবাদে সম্প্রসারিত হল। ক্রমে এই যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাঁধা পড়ল সমগ্র বিশ্ব। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কালে, ১৯১৪ খ্রিঃ মার্কোনি ইতালির সেনাবাহিনীতে ল্যাফটেন্যান্টের চাকরি নিলেন। ক্রমে মহাযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল গোটা ইউরোপ। ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইতালিকেও জড়িয়ে পড়তে হল।

এই অবস্থায় মার্কোনির টেলি – যোগাযোগ যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠল।ফলে কর্মদক্ষতার গুণে মার্কোনি প্রথমে ক্যাপ্টেন ও ১৯১৬ খ্রিঃ জলবাহিনীর কম্যান্ডার পদে উন্নীত হলেন। ১৯১৭ খ্রিঃ ইতালি সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে জরুরী মিশন পাঠালেন তার অন্যতম সদস্য হলেন মার্কোনি। ১৯১৮ খ্রিঃ গোটা ইউরোপ শ্মশান ভূমিতে পরিণত করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থামল।

১৯১৯ খ্রিঃ প্যারিসে বসল শান্তি সম্মেলন। এই সম্মেলনে পূর্ণ ক্ষমতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হয়ে ইতালি থেকে যোগ দিলেন বিজ্ঞানী মার্কোনি। মহাযুদ্ধে দেশের সেবার স্বীকৃতি হিসাবে সেই বছরেই মার্কোনিকে দেওয়া হল ইতালির সামরিক পদক। দেশে ফিরে এসে মার্কোনি আবার তার গবেষণার কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। পরীক্ষা – নিরীক্ষা আরম্ভ করলেন শর্ট ওয়েভ বা হ্রস্ব – তরঙ্গ নিয়ে। সম্পূর্ণ, স্পষ্ট ও ত্রুটিহীনভাবে টেলিবার্তা পাঠানো নিশ্চিত করার জন্যই এই নতুন গবেষণা।

১৯২৩ খ্রিঃ মার্কোনি উদ্ভাবন করলেন নতুন বিম পদ্ধতি (Beam System)। এই নতুন পদ্ধতিতে ১৯২৬ খ্রিঃ মধ্যেই মার্কোনি তার গবেষণার কাজ সম্পূর্ণ করলেন। ১৯৩১ খ্রিঃ অত্যন্ত সুক্ষ্মতরঙ্গ তৈরি করে টেলিযোগাযোগের দূরত্বকে দূরাস্তরের সীমায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হলেন। পরের বছরেই ১৯৩২ খ্রিঃ পৃথিবীর প্রথম মাইক্রোওয়েভ রেডিও টেলিফোন ব্যবস্থা গড়ে উঠল।

টেলিফোনের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রথম কথাবার্তা হল ভ্যাটিকান শহর ও পোপের গ্রীষ্মাবাস ক্যাসেল গ্যানডফলো – এর মধ্যে। সমুদ্রের অনিশ্চিত জাহাজী যাত্রায় নতুন জীবন সঞ্চারিত হল নৌ – বিজ্ঞানে টেলিযোগাযোগের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে ১৯৩৪ খ্রিঃ। পরের বছরেই রেডার তত্ত্বের ব্যবহারিক উদ্যোগ প্রতিষ্ঠিত হল ইতালিতে।

গুলিয়েলমো মার্কনি র পুরস্কার ও সম্মান: Guglielmo Marconi’s Awards And Honors

জীবনব্যাপী অক্লান্ত গবেষণার মাধ্যমে মার্কোনি পদার্থবিজ্ঞানের ভূমিতে এক অনস্ত সম্ভাবনার বীজ রোপন করেছিলেন। তার বহুমুখীন ফল ভোগ করছে আজকের পৃথিবী। বিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের জন্য দেশ বিদেশের অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অসংখ্য সম্মান, পদক ও পুরস্কার লাভ করেছেন মার্কোনি।

গুলিয়েলমো মার্কনি র মৃত্যু: Guglielmo Marconi’s Death

১৯৩৭ খ্রিঃ ২০ শে জুলাই রোমে এই মহাবিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়।

Leave a Comment