হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন জীবনী – Hans Christian Andersen Biography in Bengali

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন জীবনী: gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Hans Christian Andersen Biography in Bengali. আপনারা যারা হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

Table of Contents

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন কে ছিলেন? Who is Hans Christian Andersen?

হান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসন (এপ্রিল ২, ১৮০৫ – আগস্ট ৪, ১৮৭৫) ছিলেন ডেনীয় লেখক এবং কবি। তবে শিশু-সাহিত্যিক হিসাবে অধিক পরিচিত। রূপকথা লেখার জন্য তাকে রূপকথার জাদুকর নামে অভিহিত করা হয়। হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন বিশ্বের শিশু ও কিশাের সাহিত্যে সব দেশের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক। কেবলমাত্র রূপকথার গল্প লিখে বিশ্ব জোড়া খ্যাতিলাভ করেছেন। তাব মত এমন অন্তরঙ্গ সরস ভঙ্গীতে সহজ ও সরল ভাষায় এত সুন্দর রূপকথার গল্প আজ পর্যন্ত পৃথিবীর অন্য কোন সাহিত্যিক লিখতে পারেননি। তার গল্পগুলিতে পাওয়া যায় অসীম দরদ আর প্রাণের গভীর স্পর্শ।

অ্যান্ডারসনের রূপকথার নির্ভরযােগ্য অনুবাদ পৃথিবীতে কোন ভাষাতেই সম্ভ হয়নি। এই ত্রুটি সত্ত্বেও তিনি পৃথিবীর সকল দেশের শিশু ও কিশাের হৃদয়ে একান্ত আপনার জন হয়ে রয়েছেন। তার রূপকথাগুলি বড়দের কাছেও সমান উপভােগ্য ও প্রিয়।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন জীবনী – Hans Christian Andersen Biography in Bengali

নামহ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন
জন্ম2nd এপ্রিল 1805
পিতাহ্যান্স অ্যান্ডারসেন
মাতাঅ্যান মারি অ্যান্ডারসডেটার
জন্মস্থানওডেন্স, ফুনেন, ডেনমার্কের রাজ্য
জাতীয়তাডেনীয়
পেশালেখক, কবি
মৃত্যু4th আগস্ট 1875 (বয়স 70)

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন এর জন্ম: Hans Christian Andersen’s Birthday

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন ১৮০৫ সালের ২ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Hans Christian Andersen’s Parents And Birth Place

রূপকথার রূপকুশলী শিল্পী অ্যান্ডারসনের নিজের জীবনও ছিল একটি বিস্ময়কর রূপকথা। ১৮০৫ খ্রিঃ ২ রা এপ্রিল ডেনমার্কের অন্তর্গত ফুনিন দ্বীপের ছােট্ট শহরে ওডেন্সে হ্যান্সের জন্ম হয়। তার বাবা জুতাে তৈরি করে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন এর ছোটবেলা: Hans Christian Andersen’s Childhood

এই হতদরিদ্র মানুষটির একটি বিশেষ গুণ ছিল। তিনি চমৎকার গল্প বলতে পারতেন। আর তুচ্ছ জিনিস দিয়ে অপূর্ব সুন্দর পুতুল ও খেলনা বানাতে পারতেন। হ্যান্স শিশু বয়সে মুগ্ধ হয়ে বাবার মুখের গল্প শুনতেন আর পুতুল বানানাে দেখতেন। তার বৃদ্ধ ঠাকুমাও খুব ভাল গল্প বলতে পারতেন।

দুষ্টুমি আর খেলাধুলা ভুলে তিনি ঠাকুমার কাছে বসে মজার মজার রূপকথা শুনতে ভালােবাসতেন। তার জীবনে ছেলেবেলায় শােনা এই গল্পগুলির প্রভাব হয়েছিল খুবই গভীর।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন এর প্রথম জীবন: Hans Christian Andersen’s Early Life

সাহিত্যিক হওয়ার আগে পর্যন্ত বহুদিন তিনি কোপেনহেগেনে সম্রান্ত পরিবারে ছেলেমেয়েদের গল্প বলে দুবেলা অন্ন সংস্থান করেছেন। হ্যান্সের চেহারা ছিল অত্যন্ত কুৎসিত। শরীর ছিল রােগা প্যাকাটির মত। কিন্তু চোখ দুটি ছিল মায়াময়। নিখিল বিশ্বের অব্যক্ত বেদনায় যেন সর্বদা করুণ ও আর্দ হয়ে থাকত।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন এর শিক্ষাজীবন: Hans Christian Andersen’s Educational Life

ওডেন্স শহরে বােধহয় তাঁরাই ছিলেন সবচেয়ে গরীব। মাত্র আট বছর বয়সে তার বাবার মৃত্যু হয়। সংসার অচল হয়ে পড়তে দেখে মা মেরী দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেন। কিন্তু গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য তাকে প্রতিবেশীদের কাপড় কাচার কাজ করতে হত। এত দুঃখ কষ্টের মধ্যেও তিনি হ্যান্সকে ওডেন্সের একটি অবৈতনিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিলেন।

এসময়ে হ্যান্সের বয়স বারাে – তেরাে। পড়াশােনার অবসরে অন্য ছেলেমেয়েরা যখন খেলাধুলা করত তখন হ্যান্স বাড়িতে বসে বাবার তৈরি কাগজের ও কাঠের পুতুল গুলিকে নায়ক – নায়িকা সাজিয়ে অভিনয় করে সময় কাটাতেন। কখনাে নাটক লেখার চেষ্টা করতেন।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন এর কর্ম জীবন: Hans Christian Andersen’s Work Life

শহরে ভ্রাম্যমান থিয়েটার পার্টি এলে অথবা জিপসীদের দলের ঝলমলে পােশাক পরা অভিনেতা – অভিনেত্রীদের অভিনয় মন্ত্রমুগ্ধের মত তাকিয়ে দেখতেন। এই সময় থেকেই তার মনে ভবিষ্যৎ জীবনে অভিনেতা বা নাট্যকার হবার বাসনা দানা বাঁধতে শুরু করে।

এই দুর্নিবার আকাঙক্ষায় মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে হ্যান্স কিছু টাকা সম্বল করে একদিন ঘর ছেড়ে পায়ে হেঁটে দুদিনের পথ পাড়ি দিয়ে রাজধানী কোপেনহেগেনে এসে উপস্থিত হন।

তার মনে স্বপ্ন তিনি হবেন ডেনমার্কের শেক্সপীয়র। অর্থ ও যশ দেশজোড়া একসঙ্গে লাভ করবেন। কোপেনহেগেনে সেই সময় রয়্যাল থিয়েটারের খুব নাম ডাক। মনে আশা নিয়ে হ্যান্স থিয়েটারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করলেন। কিন্তু হতাশ হলেন। তবু দমলেন না। তাকে অভিনেতা হতে হবে, নাটক লিখতে হবে।

আর একদিন দেখা করলেন রয়্যাল একাডেমির মিউজিক কনডাক্টর সিবনির সঙ্গে। সেখানেও কপালে জুটল প্রত্যাখ্যান। তার কুৎসিত চেহারা আর গান সকলের হাসির উদ্রেক করল। তবে দয়া পরবশ হয়ে কেউ কেউ তাকে সামান্য অর্থ সাহায্য করল।

অভিনেতা হওয়ার আশা যখন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল, এই সময়েই হ্যান্স কোপেনহেগেনের সম্রান্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের অভিনয় ও গান শােনাতে শুরু করলেন। ছেলেমেয়েরা তার গল্প, অভিনয় ও গান শুনে আনন্দ পেত। সেই সঙ্গে বয়স্করাও। পরিবর্তে এঁদের কাছ থেকে তিনি আর্থিক সাহায্য ও দুবেলা খাবার পেতেন।

এইভাবে একদিন তার অভিনয়ের খ্যাতি ডেনমার্কের রাজকুমারীর কানে গিয়ে পৌছল। ডাক এল রাজপ্রাসাদ থেকে। রাজকুমারী হ্যান্সের আবৃত্তি অভিনয় ও গান শুনে মুগ্ধ হয়ে তাকে পুরস্কার দিলেন। হ্যান্সের জীবনে এই প্রথম প্রতিভার স্বীকৃতি।

এই সময়ে সুযােগ পেলেই তিনি নাটক লিখে পত্রিকায় পাঠাতেন। কিন্তু প্রত্যেকটি নাটকই অমনােনীত হয়ে ফেরত আসত। অবশেষে একদিন তার ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের জয় হল। অ্যাল ফসল নামে একটি সাময়িক পত্রিকায় তার একটি নাটক প্রকাশিত হল। আনন্দে আত্মহারা হ্যান্স সেদিন উপলব্ধি করলেন চেষ্টা করলে নিশ্চয়ই একদিন ডেনমার্কের শেক্সপীয়র হওয়া যাবে।

জোনাসকলিন নামে একজন রাজঅমাত্য ছিলেন রয়্যাল থিয়েটারের ডিরেক্টর। অ্যাল ফসল পত্রিকা হাতে করে একদিন হ্যান্স গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করলেন। নাটকটি অবশ্য মনােনীত হল না। কিন্তু এই সাক্ষাৎকার হ্যান্সের জীবনের মােড় ঘুরিয়ে দিল। জোনস কলিনের সুপারিশে তার লেখাপড়া শেখার জন্য সরকারী বৃত্তির ব্যবস্থা হল।

হ্যান্স সাইমন মাইসলিং নামে এক ভদ্রলােকের স্কুলে ভর্তি হলেন। এখানে অনেক অবহেলা লাঞ্ছনা সয়েও তিনি স্কুলের দুটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। এবারে ঠিক করলেন তিনি পুরােদমে নাটক ও কবিতা লিখতে শুরু করবেন।

রয়্যাল থিয়েটারেও তার নাটক অভিনীত হল। এবারে জোনাসকলিন রাজকোষ থেকে তার বিদেশ ভ্রমণের জন্য একটা বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেন। হ্যান্স সেই টাকায় দুবছর ধরে সারা ইউরােপ বেড়িয়ে ১৮৩৫ খ্রিঃ কোপেন হেগেনে ফিরে এলেন। ইতালির পটভূমিকায় আত্মচরিতমূলক The Improviatoe নামক উপন্যাস লিখে তিনি রাতারাতি ডেনিস সাহিত্যের একজন দিকপাল লেখক রূপে স্বীকৃতি লাভ করলেন।

এতদিন পরে বই বিক্রির টাকা হাতে পেয়ে তিনি অর্থচিন্তার হাত থেকে নিস্কৃতি পেলেন। হ্যান্সের দ্বিতীয় উপন্যাস যখন প্রেসে ছাপা হচ্ছে, এই সময় তার কিছু টাকার দরকার হয়ে পড়ল। অর্থের তাগিদেই তিনি ছােট ছেলেমেয়েদের জন্য তাড়াতাড়ি কতগুলাে রূপকথা লিখে ফেললেন।

বই আকারে লেখাগুলাে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সারা ইউরােপে সাড়া পড়ে গেল। রূপকথার গল্পগুলাে হয়ে উঠল সবচেয়ে জনপ্রিয়। আজ লােকতার কবিতা, নাটক, উপন্যাসের কথা ভুলে গেছে। কিন্তু অমর হয়ে আছে রূপকথা গুলােই।

অ্যান্ডারসন জীবনে একদিকে চরমতম দুঃখ অপরদিকে প্রভূত সম্মান লাভ করেছেন। এমন ঘটনা কদাচিৎ দেখা যায়। জীবদ্দশায় তার মত সম্মান ইউরােপের আর কোন সাহিত্যিকের ভাগ্যে জুটেছে কিনা সন্দেহ।

চার্লস ডিকেন্স, ভিক্টর হুগাে, আলেকজান্ডার দ্যুমা, ইনজম্যান প্রভৃতি দেশ বিদেশের মনীষী তার বন্ধু ছিলেন। হ্যান্স ছিলেন অকৃতদার। যৌবনে এক সহপাঠীর বােনকে ভালবেসেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন এর রচনা: Written by Hans Christian Andersen

তার লেখা রূপকথাগুলি পড়লে দেখা যায় প্রতিটি গল্পের মধ্যে অল্প – বিস্তর বেদনা মিশে আছে। এই বেদনার স্পর্শ গল্পগুলিকে আরও আবেগময়, সজীব ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। তার দ্য লিটল মারমেড, স্নাে কুইন, দ্য এম্পাররস নিউ ক্লোদস, দ্য পুওর লিটল ম্যাচ গার্ল, আগলি ডাকলিং প্রভৃতি গল্পের তুলনা পৃথিবীর কিশাের সাহিত্যে বিরল।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন এর মৃত্যু: Hans Christian Andersen’s Death

১৮৭৫ খ্রিঃ ৪ ঠা আগস্ট সত্তর বছর বয়সে রূপকথার যাদুকর হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের মৃত্যু হয়।

Leave a Comment