জেসি ওয়েন্স জীবনী | Jesse Owens Biography in Bengali

জেসি ওয়েন্স জীবনী: Gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Jesse Owens Biography in Bengali. আপনারা যারা জেসি ওয়েন্স সম্পর্কে জানতে আগ্রহী জেসি ওয়েন্স এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

জেসি ওয়েন্স কে ছিলেন? Who is Jesse Owens?

জেমস্‌ ক্লিভল্যান্ড জেসি ওয়েন্স (সেপ্টেম্বর ১২, ১৯১৩ – মার্চ ৩১, ১৯৮০) জনপ্রিয় মার্কিন ক্রীড়াবিদ। বার্লিনে অনুষ্ঠিত ১৯৩৬ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক্‌সে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার, দীর্ঘ লম্ফ ও ৪×১০০ মিটার রিলে দৌড়ে স্বর্ণপদক জয় করে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন।

জেসি ওয়েন্স জীবনী – Jesse Owens Biography in Bengali

নামজেসি ওয়েন্স
জন্ম12 সেপ্টেম্বর 1913
পিতাহেনরি ক্লিভল্যান্ড ওয়েন্স
মাতামেরি এমা ফিটজেরাল্ড
জন্মস্থানওকভিল, আলাবামা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তামার্কিন
পেশাক্রীড়াবিদ
মৃত্যু31 মার্চ 1980 (বয়স 66)

জেসি ওয়েন্স এর জন্ম: Jesse Owens’s Birthday

জেসি ওয়েন্স 12 সেপ্টেম্বর 1913 জন্মগ্রহণ করেন।

দারিদ্র্য, অভাব – আভিযোগ যে মানুষের অদম্য প্রতিভাকে একনিষ্ঠ সাধনার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে না, সকল বাধা – বিপত্তিকে উপেক্ষা করে প্রতিভা তার নিজের বিকাশের পথ উন্মুক্ত করে নেয় জেসি ওয়েন্সের কঠোর সংগ্রামী জীবন এই সত্যের অন্যতম উদাহরণ। নিদারুণ দারিদ্র্য তাঁকে কখনো ব্রতচ্যুত করতে পারেনি।

জীবনের সকল ক্ষেত্রের পার্থিব বাধা – বিঘ্নকে তিনি হাসিমুখে উপেক্ষা করে জীবন সংগ্রামে জয়লাভ করেছেন। বিশ্বের ক্রীড়াক্ষেত্রে দৌড় ও লাফানোর প্রতিযোগিতায় এই নিগ্রোবীর যে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টি করেন, তা আজও অম্লান হয়ে রয়েছে। মানুষের পক্ষে যে কত কম সময়ে কতটা দূরত্ব দৌড়ে অতিক্রম করা সম্ভব, শারীরিক ক্ষমতায় কতটা দূরত্ব দীর্ঘ লাফ দিয়ে পার হওয়া সম্ভব তার দৃষ্টান্ত রেখে জেসি ওয়েন্স পৃথিবীর মানুষকে বিস্ময়ে স্তম্ভিত করেছেন।

পৃথিবীর ইতিহাসে হিটলারের আবির্ভাব এক বিপর্যয়কর ঘটনা। ১৯৩৬ খ্রিঃ। হিটলারের দাপটে সেই সময় সন্ত্রস্ত পৃথিবীর সমস্ত শক্তি। এরই মধ্যে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ খেলাধুলার আসর অলিম্পিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় হিটলারের জার্মানীতে। ১৯৩৬ খ্রিঃ অলিম্পিকে ওয়েন্স ১০০ মিটার দৌড় ১০.২ সেকেন্ডে, ২০০ মিটার দৌড় ২০.১ সেকেন্ডে, লংজাম্পে ২৬ ফুট ৫ ইঞ্চি অতিক্রম করে এবং ৪ × ১০০ মিটার রিলেতে আমেরিকার রিলে দলকে বিজয়ী করে একাই চারটি স্বর্ণপদক লাভ করেন।

জেসি ওয়েন্স এই অলিম্পিকে যে চারটি বিষয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেছিলেন সেই চারটি বিভাগেই বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল। সেই আসরের ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার দৌড়ের সময় এবং লংজাম্পের দূরত্বের রেকর্ড আজও রয়েছে অম্লান। পরবর্তীকালে ওয়েন্স লংজাম্পে নিজস্ব রেকর্ড ভঙ্গ করে ২৬ ফুট ৮ ইঞ্চি দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন যে বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছিলেন আজও তা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ রেকর্ড হিসাবে অম্লান হয়ে রয়েছে।

জেসি ওয়েন্সের সাফল্যে পৃথিবীর মানুষ সেদিন এমনই অভিভূত হয়েছিলেন যে তারা বার্লিন অলিম্পিককে জেসি ওয়েন্সের অলিম্পিক বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। এই শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবীরকে সম্মান জানাতে সেদিন সম্ভ্রান্ত আমেরিকান এবং নাৎসী জনসাধারণের কাছে চামড়ার সাদাকালোর বর্ণবিদ্বেষ বাধা হয়ে ওঠেনি।

সংবাদপত্রে জেসি ওয়েন্সের অবিশ্বাস্য সাফল্যকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছিল— “A record of such commanding excellence demands explaination. A theory has been advanced that through some physical characteristic of the race involving the bone and muscle construction of the foot and leg the Negro is ideally adapted to the Sprints and Jumping events.’

জেসি ওয়েন্স এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Jesse Owens’s Parents And Birth Place

আমেরিকার অন্তর্গত ডেকটার আলাতে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে ১৯১৩ খ্রিঃ ১২ ই সেপ্টেম্বর জেসি ওয়েন্সের জন্ম। তার পিতার নাম হেনরী ক্লেভল্যান্ড ওয়েন্স এবং মাতার নাম এমা ফিটজারেল্ড। ক্লেভল্যান্ড ওয়েন্স ছিলেন একজন সামান্য ঢালাইকর। এই কাজের আয় থেকে সংসারের খরচ সংকুলান হত না।

জেসি ওয়েন্স এর শিক্ষাজীবন: Jesse Owens’s Educational Life

কয়েক একর চাষের জমি ছিল। সেই জমির উৎপাদিত তুলো ও শস্য বিক্রি কবে জমিদারের খাজনা দিয়ে যা অবশিষ্ট থাকতো তা দিয়ে কোন রকমে সংসার ঠেকা দেবার চেষ্টা করতেন। চাষী পরিবারের ছেলে এই জেসিকে সাত বছর বয়স থেকেই বাবার সঙ্গে খামারে কাজ করতে হতো। এই কাজের ফাকে যখন সুযোগ মিলত তখন স্কুলে যেতেন।

স্কুলটা ছিল বাড়ি থেকে মাইল খানেক দূরে। কিন্তু পথটা এমনই খারাপ ছিল যে বর্ষার দিনে সেই পথে চলাচল করা সম্ভব হত না। ফলে বর্ষার দিনগুলোতে স্কুলে যাওয়া প্রায় হতই না বলা চলে। তবে পড়াশুনার প্রতি ছিল জেসির যথেষ্ট আগ্রহ। প্রখর বুদ্ধি আর মেধা পেয়েছিলেন জন্মগত ভাবেই। ফলে যতটুকু যা পড়াতেন বা শুনতেন সহজেই তা বুঝে নিতে পারতেন।

জেসি ওয়েন্স এর কর্ম জীবন: Jesse Owens’s Work Life

অভাবের সংসারের প্রয়োজনেই জেসির মেজবোন লীলা মে একটা চাকরি নিয়ে ক্লেভল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। একবার ছুটিতে বাড়িতে এসে সংসারের বেহাল অবস্থা দেখে সপরিবারে ক্লেভল্যান্ডে গিয়ে বসবাস করবার জন্য পিতাকে পীড়াপীড়ি করলেন। কিন্তু পূর্বপুরুষের ভিটে ছেড়ে যেতে তিনি রাজি হলেন না। কিন্তু ১৯২২ খ্রিঃ, জেসির বয়স তখন নয় বছর মাত্র, এক প্রকার পোকার আক্রমণে খামারের ফসল নষ্ট হয়ে গেল।

বাধ্য হয়েই তখন ক্লেভল্যান্ড ওয়েন্সকে বিষয় সম্পত্তি বিক্রি করে ক্লেভল্যান্ডে চলে যেতে হল। জেসির বড় দাদা প্রেনটিসও সঙ্গে গিয়েছিলেন। সেখানে বাপ – বেটা দুজনেই সৌভাগ্যক্রমে কাজ পেয়ে যান। মাস তিনেক পরে জেসি, তাঁর মা ও অন্যান্য ভাই বোনেরা বাবার কাছে ক্লেভল্যান্ডে চলে আসেন। এই নতুন জায়গায় এসেই জেসির প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়। তাকে ভর্তি করে দেওয়া হল স্থানীয় সেস্টক্লেয়ার প্রাথমিক স্কুলে। সংসারে অভাব অনটন লেগেই ছিল।

তার মধ্যেই কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশুনা চালিয়ে গেলেন জেসি। বোল্টন স্কুলের পাশেই ছিল ফেয়ারমাউন্ট জুনিয়ার হাইস্কুল। পাশাপাশি থাকার ফলে প্রায়ই এই দুই স্কুলের মধ্যে খেলাধুলার প্রতিযোগিতা হতো। ছাত্রদের উৎসাহে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের জন্যই জেসি দৌড়নো ও লাফানোর অনুশীলন আরম্ভ করেন।

ফেয়ারমাউন্ট স্কুলে খেলাধুলা নিয়মিত পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। খেলাধুলার আকর্ষণেই জেসি মাকে রাজি করিয়ে এই স্কুলে ভর্তি হয়ে যান। এখানে এসেই তিনি তার শিক্ষাগুরু চার্লি রিলের সাক্ষাৎ লাভ করেন। চার্লি রিলে ছিলেন ফেয়ারমাউন্ট স্কুলের ট্রাক কোচ। ছেলেদের তিনি ট্রাক ও ফিল্ডের বিভিন্ন রকম শিক্ষা দিতেন। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গেই তিনি এই কাজটি করতেন। চার্লি ছিলেন পাকা জহুরী। বালক জেসিকে দেখেই তিনি তার প্রতিভার পরিচয় পেয়ে যান।

তাঁর ধারণা হয় উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পেলে জেসি ট্রাক ও ফিল্ডে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারবে। ফলে জেসিকে তিনি আলাদা ভাবে শিক্ষা দেবার ব্যবস্থা নিলেন। স্কুল ছুটির পরে অন্যান্য ছেলেরা বাড়ি চলে যেত। কিন্তু চার্লি সেই সময়ে জেসিকে নিয়ে অনুশীলনে নেমে পড়তেন। অনুশীলন শেষ হলে জেসিকে নিয়ে বেড়াতে যেতেন পার্কে। হাঁটতে হাঁটতে, কখনো কোন গাছের ছায়ায় বসে সেই সময় তিনি জেসিকে পৃথিবীর বড় বড় দৌড়বীরদের কৃতিত্বের গল্প শোনাতেন।

সেসব কাহিনী মুগ্ধ হয়ে শুনতেন জেসি — তাঁর মনেও স্বপ্ন জেগে উঠত। ফেয়ারমাউন্ট স্কুলের নিয়ম ছিল, এখানে দোড়তে হলে ডাক্তারের সার্টিফিকেট ও অভিভাবকের সম্মতি আনতে হতো। জেসি যখন মাকে এই কথা বললেন, তিনি অসম্মতি প্রকাশ করলেন। তখন মাকে গোপন করে মেজবোন লীলা মেকে দিয়ে অভিভাবকের অভিমতপত্রে সই করিয়ে জেসি স্কুলদলের অন্তর্ভুক্ত হলেন। চার্লি রিলের স্নেহচ্ছায়ায় এবং প্রশিক্ষণে ক্রমশই জেসির উন্নতি হতে লাগল।

স্কুলে দৌড়নোর আলাদা ট্রাক না থাকায় জেসিকে বড় রাস্তার পাশেই দৌড়নোর অনুশীলন করতে হতো। এভাবেই বিভিন্ন দূরত্বে দৌড়ের অভ্যাস করে চললেন তিনি। নিয়মিত অনুশীলনের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই জেসি ২৩ ফুট লংজাম্পে অভ্যস্থ হয়ে উঠলেন। ১২০ গজ নিচু হার্ডল ১৫.৩ সেকেন্ডে এবং ২২০ গজ দৌড় ২৪.৭ সেঃ অতিক্রম করতে পারতেন। কিছুদিনের মধ্যেই ২২০ গজ দূরত্ব ২২.১ সেকেন্ডে দৌ – অতিক্রম করা তাঁর পক্ষে সহজ হয়ে উঠল।

ফেয়ারমাউন্ট স্কুলের পাঠ শেষ করে জেসি ভর্তি হলেন ইস্ট টেকনিক্যাল হাইস্কুলে। এখানে যেই শিক্ষকের কাছে তিনি অ্যাথলেটিকস – এর শিক্ষা নিতেন তার নাম হল এডওয়েন। জেসি কিন্তু তবুও প্রতিদিনই তার শিক্ষাগুরু চার্লির কাছে যেতেন এবং উপদেশ নিতেন। তার চেষ্টাতেই জেসি ইস্ট টেকনিক্যাল স্কুলে শ্রেষ্ঠ অ্যাথলিট হিসেবে নিজের স্থান নির্দিষ্ট করে নিলেন। এই সময়ে শিকাগোতে আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

জেসি ওয়েন্স এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এক বিস্ময়কর চমকের সৃষ্টি করেন। ওয়েন্স ১০০ গজ দৌড়ে বিশ্বরেকর্ডের সমান সময়ে অর্থাৎ ৯.৪ সেকেন্ডে অতিক্রম করেন। এর সঙ্গে ছিল ২৪ ফুট ১১ ইঞ্চি ব্রড জাম্প এবং ২২০ গজ দৌড়। উভয় বিষয়েই প্রথম স্থান অধিকার করে সমগ্র আমেরিকাতেই বিস্ময়ের সৃষ্টি করেন। রাতারাতি ওয়েন্সের নাম সারা আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে আসতে থাকে অপ্রত্যাশিত সব প্রস্তাব।

স্কুল থেকে পাস করবার পর ভর্তি হবার জন্য ওয়েন্সের কাছে ২৮ টি কলেজ থেকে অনুরোধপত্র আসে। চার বছরের জন্য বৃত্তির প্রস্তাবও দেওয়া হয় কোন কোন কলেজ থেকে। ওয়েন্স কিন্তু সমস্ত প্রলোভন এড়িয়ে নিজ রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়েই যোগদান করেন। সেই সময় ল্যারি স্নাইডার ছিলেন ওহিও বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষ ট্রাক শিক্ষক। তার বিশেষ উৎসাহ ও প্রেরণা লাভ করলেন এবারে ওয়েন্স। সংসারের অভাব ওয়েন্সের পেছনে লেগেই ছিল। ও

হিওতে পড়বার সময়েও কখনো এলিভেটর অপারেটর হিসাবে, কখনো পেট্রোল পাম্পে কাজ করে সংসারে অর্থ সাহায্য করতে হতো। ১৯৩৫ খ্রিঃ ২৫ শে মে দিনটি ওয়েন্সের জীবনে যেমন তেমনি খেলাধুলার ইতিহাসেও একটি স্মরণীয় দিন। এই দিনে শিকাগোতে অনুষ্ঠিত হয় পশ্চিম আঞ্চলিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ওয়েন্স ওহিও বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ১২০ গজ দৌড়, ২২০ গজ নিচু হার্ডলস এবং ব্রডজাম্পে নতুন বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেন। ১০০ গজ দৌড়ের সময়েও তিনি বিশ্বরেকর্ডের সমান হন।

এবারে ওয়েন্স নিজ কৃতিত্বে আমেরিকার আশাভরসাস্থল হয়ে উঠলেন। আগামী বার্লিন অলিম্পিকে তার যোগদানের বিষয়টি একরকম নিশ্চিতই করে ফেললেন আমেরিকার ক্রীড়াজগতের কর্তাব্যক্তিরা। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত হল আমেরিকার শ্রেষ্ঠ অ্যাথলিটদের প্রতিযোগিতা। সেখানেও সর্বাধিক সাফল্যলাভ করে ওয়েন্স নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত করলেন।

এই প্রতিযোগিতা চলাকালীনই সংবাদপত্রে একটা চমকপ্রদ খবর প্রকাশিত হল। খবরটা হল, ওয়েন্স কুইনকেলা নিকারসন নামে এক ধনীকন্যাকে শিঘ্রই বিবাহ করবেন। কথা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই বার্লিনের মেয়র ওয়েন্সকে দুহাতে জড়িয়ে বুকে টেনে নেন। অলিম্পিক প্রত্যাগত ওয়েন্সকে আমেরিকার জনসাধারণ বিপুলভাবে সংবর্ধিত করে তাদের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানিয়েছিল।

সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা লাভ করলেও রাষ্ট্রের কাছ থেকে ওয়েন্স কোন সম্মান পাননি। রাষ্ট্রের কর্ণধারদের এই অবজ্ঞা ব্যথিত করেছিল ওয়েন্সকে। তিনি অচিরেই পেশাদার বৃত্তি গ্রহণ করেন। ওয়েন্স বিশ্বাস করতেন, খেলাধুলার মধ্য দিয়ে যে কোন শিশুকে সকল প্রকার মলিনতা থেকে মুক্ত করে সুস্থ, সবল ও দরদী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

এই কারণেই পেশাদার জীবনে দেখা গেছে অধিক সময় তিনি শিশুদের মধ্যেই অতিবাহিত করতেন। বিশ্ববিখ্যাত অ্যাথলেট জেসি ওয়েন্স ১৯৫৫ খ্রিঃ অক্টোবর মাসে পনের দিনের শুভেচ্ছা সফরে ভারতে এসেছিলেন। এই সময় বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে অ্যাথলেটিকস – এর উন্নত কৌশল কি করে লাভ করা যায় সেই বিষয়ে শিক্ষা দান করেন।

জেসি ওয়েন্স এর মৃত্যু: Jesse Owens’s Death

31 মার্চ 1980 (বয়স 66) জেসি ওয়েন্স এর জীবনাবসান হয়।

Leave a Comment