জিম থর্প জীবনী | Jim Thorpe Biography in Bengali

জিম থর্প জীবনী: Gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Jim Thorpe Biography in Bengali. আপনারা যারা জিম থর্প সম্পর্কে জানতে আগ্রহী জিম থর্প এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

জিম থর্প কে ছিলেন? Who is Jim Thorpe?

জিম থর্প (২২শে মে ১৮৮৭ – ২৮শে মার্চ ১৯৫৩) পূর্ণনাম জেমস ফ্রান্সিস থর্প। তিনি ছিলেন একজন আমেরিকান অ্যাথলেট এবং অলিম্পিক স্বর্ণপদক প্রাপ্ত৷ তিনি স্যাক অ্যান্ড ফক্স জাতির সদস্য আমেরিকার হয়ে স্বর্নপদক অর্জনকারী প্রথম নেটিভ আমেরিকান ছিলেন। তিনি আধুনিক ক্রীড়াগুলোর অন্যতম বহুমুখী ক্রীড়াবিদ হিসেবে বিবেচিত, থর্প ১৯১২ এর পেন্টাথলন এবং ডেকাথলনে অলিম্পিক স্বর্নপদক জিতেছিলেন এবং আমেরিকান ফুটবল (কলেজিয়েট এবং প্রফেশনাল ), প্রফেশনাল বেসবল এবং বাস্কেটবল খেলেন। অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার আগে সেমি-প্রফেসনাল বেসবলের দুটি মরসুম খেলার জন্য তাকে বেতন দেয়া হয়েছিল বলে সন্ধান পাওয়া যায় পরবর্তীতে তিনি তার খেতাব টি হারিয়ে ফেলেন, এবং সেখানকার অপেশাদারবাদের নিয়ম লংঘন করেছিলেন। ১৯৮৩ সালে, তার মৃত্যুর ৩০ বছর পর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) তার অলিম্পিক পদক পুনরুদ্ধার করে।

জিম থর্প জীবনী – Jim Thorpe Biography in Bengali

নামজিম থর্প
জন্ম22 বা 28 মে 1887
পিতাহিরাম থর্প
মাতাশার্লট ভিউক্স
জন্মস্থানপ্রাগের কাছে, ভারতীয় অঞ্চল
(আধুনিক ওকলাহোমা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে)
জাতীয়তাআমেরিকান
পেশামার্কিন দৌড়বিদ ও বেসবল খেলোয়াড়
মৃত্যুমার্চ 28, 1953 (বয়স 65)

জিম থর্প এর জন্ম: Jim Thorpe’s Birthday

জিম থর্প 22 বা 28 মে 1887 জন্মগ্রহণ করেন।

১৯১২ খ্রিঃ সুইডেনের রাজধানী স্টক হলমে পঞ্চম অলিম্পিকের আসর বসেছে। রাজা গুস্তভ নিজেও খেলাধুলায় বিশেষ উৎসাহী। শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখবার জন্য তাই প্রতিদিনই হাজির হন অলিম্পিক আসরে। ডেকাথলন ও পেন্টাথলন প্রতিযোগিতা শেষ হলে রাজা গুস্তভ নিজের নির্দিষ্ট আসন ছেড়ে অ্যাথলেটদের বেশ পরিবর্তনের ঘরের দিকে অগ্রসর হন।

রাজার দেহরক্ষী ও সৈনিকেরা তটস্থ হয়ে রাজাকে অনুসরণ করতে থাকে, এভাবে রাজাকে দেখে পরিচালকমন্ডলীও কম বিস্মিত হন না। কিছুক্ষণ আগেই ডেকাথলন ও পেন্টাথলন প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে। প্রতিযোগীরা ফিরে এসে কেউ বিশ্রামরত, কেউ বেশ পরিবর্তন করছেন। এমনি সময় রাজা গুস্তভ অকস্মাৎ দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকলেন।

অসময়ে এই স্থানে রাজাব অবির্ভাব ছিল অকল্পনীয়। হতবাক হয়ে যান সকলে ৷ রাজা গুস্তভের কিন্তু কোন দিকে লক্ষ্য নেই। তিনি উৎসুকভাবে চারদিকে দৃষ্টিপাত করে কাকে যেন খুঁজতে থাকেন। ঘরের এককোণে বসে ছিল এক যুবক। সুঠাম ঋজুদেহের অধিকারী সে। উজ্জ্বল তামার মত গায়ের রঙ। তখন ঘামে সিক্ত। তার ওপরে নজর পড়তেই রাজা গুস্তভ দ্রুত পায়ে এগিয়ে যান।

সুইডেনের রাজা মুহূর্তে যেন ভুলে যান তার মর্যাদার, আভিজাত্যের কথা। দুই হাত বাড়িয়ে সাগ্রহে জড়িয়ে ধরেন বিস্মিত হতবাক যুবককে। রাজা আবেগ জড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন, হে বন্ধু, তুমি আমাদের সম্মানীয় অতিথি — বিশ্বের শ্রেষ্ঠ অ্যাথলেট তুমি। অনুগ্রহ করে আমার সঙ্গে যদি একবার করমর্দন কর তাহলে নিজেকে আমি ধন্য মনে করব। আনন্দে উদ্বেল যুবক দুহাতে রাজার হাত জড়িয়ে ধরে করমর্দন করেন। পরিতৃপ্ত প্রফুল্লতায় সুইডেনের রাজা গুস্তভ ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে যান।

প্রতিভার অপরিমিত শক্তি যখন কোন বিশেষ মানুষকে আশ্রয় করে আত্মপ্রকাশ করে তখন সেই মানুষ অবলীলায় ইতিহাস সৃষ্টি করে; সে হয়ে ওঠে অনন্য, চিরস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। খেলাধুলার ইতিহাসে এমনি একজন প্রতিভাবান মানুষ নিজের কর্মকৃতিত্ব ও অপরিমিত শক্তির পরিচয় রেখে চিরস্মবর্ণীয় চিরবরণীয় হয়ে আছেন।

এই প্রতিভাধর মানুষটির দুর্লভ জীবনেতিহাস মানুষকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়, একজন মানুষের পক্ষে খেলাধুলার নানা বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা কষ্টসাধ্য নয়। প্রেরণার চির – দ্যুতি স্বরূপ এই মানুষটি হলেন জিম থর্প। আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার শ্রেষ্ঠ আসর অলিম্পিক। এই আসরের কঠিনতম প্রতিযোগিতা দুটির নাম হল ডেকাথলন ও পেন্টাথলন। ১০০ মিটার, ৪০০ মিটার ও ১৫০০ মিটার দৌড়, ১১০ মিটার হার্ডলস, হাইজাম্প, সটপট, বর্শা ছোঁড়া, পোলভল্ট, ব্রডজাম্প এবং ডিসকাস ছোঁড়া এই ১০ টি প্রতিযোগিতা নিয়ে হল ডেকাথলন।

আর পেন্টাথলন হল, ব্রডজাম্প, বর্শা ছোঁড়া, ডিসকাস ছোঁড়া, ২০০ মিটার ও ১৫০০ মিটার দৌড় — এই পাঁচটি প্রতিযোগিতা। সর্বমোট এই পনেরটি প্রতিযোগিতায় সাফল্য লাভ করে যিনি সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট অর্জন করেন তিনিই বিজয়ীর সম্মানে ভূষিত হন। বলাই বাহুল্য অ্যাথলেটিকসের সকল বিভাগে যিনি চরম উৎকর্ষতা লাভ করতে পারেন কেবল তাঁর পক্ষেই ডেকাথলন ও পেন্টাথলনে জয় লাভ করা সম্ভব।

অলিম্পিকের ইতিহাসে জিম থর্প ছাড়া আজ পর্যন্ত অন্য কোন অ্যাথলিটই ডেকাথলন ও পেন্টাথলন এই উভয় বিভাগেই বিজয়ীর গৌরব লাভ করতে সমর্থ হননি। তিনি এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টি করেন ১৯১২ খ্রিঃ। কিন্তু নিয়তির এমনই নিষ্ঠুর পরিহাস যে এই অবিশ্বাস্য প্রতিভাধর ও অনন্যসাধারণ ইতিহাসের স্রষ্টার নাম আজ অলিম্পিকের ইতিহাসের পাতায় পাওয়া যাবে না।

পরবর্তীকালে বিজয়ীর সম্মান থেকে অবহেলিত রেড ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভূত এই মানুষটি বঞ্চিত হন। তার অপরাধ ? অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় যোগদানের আগে থর্প পেশাদারী বেসবল খেলায় যোগদান করেছিলেন — অলিম্পিকের রীতিভঙ্গের এই অপরাধের জন্যই বিজয়ীর তালিকা থেকে তার নাম মুছে ফেলা হয়। তাঁর কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হয় বিজয়ীর স্বর্ণপদক।

অলিম্পিকের ইতিহাসে বিজয়ীর তালিকায় জিম থর্পের নাম না থাকলেও বিশ্ব ক্রীড়ারসিকদের মনে তিনি তার কীর্তির সঙ্গে অমলিন হয়ে আছেন। যুগ যুগ ধরে মানুষ তাকে স্মরণ করছে, আগামীদিনেও স্মরণ করতে বাধ্য হবে। জিম থর্পই অ্যাথলেটিকসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অ্যাথলেট কেবল এটুকুই তার সবটুকু পরিচয় নয়। বেসবল ও রাগবী খেলায় তিনি আমেরিকার শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের সম্মান লাভ করেছেন। বন্দুক ছোঁড়া, স্কেটিং, টেনিস, হকি এবং ল্যাক্রোসি খেলাতেও তিনি প্রতি বছর অসংখ্য পুরস্কার লাভ করে খ্যাতিমান হয়েছিলেন।

জিম থর্প এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Jim Thorpe’s Parents And Birth Place

১৮৮৮ খ্রিঃ ২৮ শে মে প্রাগের নিকটবর্তী একস্থানে জন্মগ্রহণ করেন জিম। তার পিতার নাম ছিল হিরাম থর্প, মায়ের নাম চার্লেট ভিউ থর্প। নিজের জন্মস্থানটি বর্তমানে একলাহোমার অন্তর্গত। মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই জিম ঘোড়ার পিঠে চাপতে পারতেন। সাঁতার কাটতেও শিখেছিলেন শৈশবেই।

জিম থর্প এর শিক্ষাজীবন: Jim Thorpe’s Educational Life

যখন দশ বছরের বালক সেই সময়ে তিনি একটা হরিণ শিকার করেছিলেন। নিজের প্রথম শিক্ষা শুরু হয়েছিল ম্যাক – ফক্স রিসার্ভেশন স্কুলে। স্কুলের পাঠ শেষ করে পরবর্তী পাঠ্যজীবন আরম্ভ করেন হাস্কেল ইনস্টিটিউটে। ছাত্রজীবন শেষ হয় পেনসিলভেনিয়ার কারলিসিল ইন্ডিয়ান স্কুলে। এই স্কুলে খেলাধুলার শিক্ষক ছিলেন গ্লেন.এল.ওয়ার্নার। তার চোখেই প্রথম জিমের অ্যাথলেটিকস প্রতিভা ধরা পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯০৭ খ্রিঃ।

সেদিন স্কুলের ছেলেরা হাইজাম্পের অনুশীলন করছিল। একটা জায়গায় এসে সকলেই আটকে যাচ্ছিল। কিছুতেই আর সেই বাধাটি অতিক্রম করতে পারছিল না। জিম দূরে বসে এই দৃশ্য দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আর থাকতে না পেরে জামাজুতো পরা অবস্থাতেই দৌড়ে এসে অনায়াসে সেই বাধাটি পার হয়ে গেলেন। জিমের এই অদ্ভুত ক্ষমতা দেখে ছেলেরা স্তম্ভিত হল।

ক্রীড়াশিক্ষক ওয়ার্নার সেদিনই বুঝতে পারলেন উপযুক্ত শিক্ষা পেলে এই বালকই একদিন অসাধ্য সাধন করতে পারবে। ওয়ার্নার মনোযোগ দিলেন জিমের প্রতি। ক্রমেই তাঁর প্রতিভা বিকাশ লাভ করতে লাগল। জিম তার অবিস্মরণীয় প্রতিভার প্রথম পরিচয় দিলেন একবছরের মাথাতেই। পার্শ্ববর্তী আর একটি স্কুল দলের সঙ্গে অ্যাথলেটিক প্রতিযোগতিায় থর্প একাকী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্কুলদলকে বিজয়ীর সম্মান এনে দিয়েছিলেন।

বিভিন্নমুখী প্রতিভা নিয়ে জন্মেছিলেন জিম থর্প। যখন যে বিষয়ে হাত দিয়েছেন তাতেই নিজের গৌরব প্রতিষ্ঠা করেছেন। ১৯০৯ খ্রিঃ ছাত্র অবস্থাতেই তিনি উইস্টন সালেন, ফয়েটেভিল ও রকিমাউন্ট প্রভৃতি শক্তিশালী পেশাদারী বেসবল দলের হয়ে খেলে পুরস্কার লাভ করেছেন। দুবছর পরেই আবার রাগবী খেলায় আমেরিকার শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের সম্মান লাভ করেছেন অবলীলায়। জিম থর্পের অফুরন্ত প্রাণশক্তি বলে বন্দুক ছোঁড়া, স্কেটিং, টেনিস, হকি, সাঁতার ও ল্যাক্রেসী খেলাতেও তিনি নিজের কালে আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

জিম থর্প এর কর্ম জীবন: Jim Thorpe’s Work Life

১৯১২ খ্রিঃ স্টকহলমের পঞ্চম অলিম্পিকে বিশ্বের জনগণ প্রথম স্তম্ভিত বিস্ময়ে জিম থর্পের অসাধারণ প্রতিভা প্রত্যক্ষ করে। সেই আসরেই তিনি সকল প্রকার খেলাধুলার একচ্ছত্র সম্রাট রূপে স্বীকৃতি লাভ করেন। ডেকাথলন ও পেন্টাথলনে অবিস্মরণীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে বিজয়ীর যে গৌরব বিশ্বক্রীড়াঙ্গনে সেদিন তিনি লাভ করেছিলেন, অলিম্পিকের ইতিহাসে দ্বিতীয় কোন মানুষের পক্ষে তা অর্জন করা আজও পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

সেদিন অযাচিত উপহার ও পারিতোষিকের দ্বারা অভিনন্দিত হয়েছিলেন তিনি। সুইডেনের রাজা গুস্তভ তাঁকে বেশ পরিবর্তনের ঘরে উপস্থিত হয়ে অভিনন্দিত করেছিলেন। কেবল তাই নয়, বহুমূল্যবান মণিমানিক্যখচিত একটি সুদৃশ্য বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ অ্যাথলিট বলে সম্বোধন করেছিলেন। থর্পের এই সাফল্যে আনন্দ লাভ করেছিল বিশ্বের ক্রীড়ামোদি মানুষ। অকুণ্ঠ প্রশংসায় তাঁকে অভিনন্দন জানাতে দ্বিধা করেন নি। কিন্তু নিয়তির এমনই পরিহাস যে থর্পের স্বদেশবাসী অনেকেই তাঁর সাফল্যকে মেনে নিতে পারেননি।

অনেকেই হয়ে পড়েছিলেন ঈর্ষাকাতর। সেই সঙ্গীর্ণমনা লোকগুলো আমেরিকার অ্যাথলেটিক ইউনিয়নের কাছে জিম থর্পের নামে অভিযোগ উত্থাপন করল যে তিনি অলিম্পিক প্রতিযোগিতার আগে পেশাদারী বেসবল খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। যথারীতি জিমের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হল— অলিম্পিকের রীতিবিরুদ্ধ কাজ তিনি করেছেন কিনা।

খেলাধুলায় নিবেদিত প্রাণ ও আদর্শের নিষ্ঠাবান পূজারী জিম সত্যকে এতটুকু বিকৃত না করে অভিযোগের উত্তরে জানালেন, “আমি ছাত্রাবস্থায় সহপাঠী ছাত্রদের সঙ্গে ওই খেলায় যোগদান করেছিলাম। সেদিন যে ছাত্ররা আমার সঙ্গে মাঠে খেলেছিলেন তারা কেউই পেশাদার ছিলেন না। সকলেই শৌখিন খেলোয়াড় হিসাবে পরিচিত ছিলেন। আমি তখন একজন অনভিজ্ঞ স্কুলের ছাত্র মাত্র এবং আন্তর্জাতিক খেলাধুলার বা অলিম্পিকের আইন – কানুন কিছুই জানার সুযোগ আমার ছিল না”।

অবিকৃত এই সত্যভাষণে কিন্তু সন্তুষ্ট হতে পারেন নি আমেরিকার অ্যাথলেটিক ইউনিয়ন, যাঁরা তাঁকে অপেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে স্টকহলমে পাঠিয়েছিলেন। ১৯১৩ খ্রিঃ জানুয়ারী মাসের শেষ নাগাদ অলিম্পিকের বিজয়ীর তালিকা থেকে জিম থর্পের নাম মুছে দেওয়া হল। নিরলস সাধনা ও বহু কষ্টে যে স্বর্ণপদক দুটি তিনি লাভ করেছিলেন, তা ফিরিয়ে নেওয়া হল তার কাছ থেকে।

আরও আশ্চর্য যে, জিম থর্পের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া পদকগুলিই পুনরায় উপহার দেওয়া হয়েছিল দ্বিতীয় স্থান অধিকারী সুইডেনের এইচ.উইস ল্যান্ডারকে। প্রথম স্থান অধিকারী হিসেবে ঘোষণা করা হয় তাঁরই নাম। এরপর ১৯১৩ খ্রিঃ থেকে ১৯১৯ খ্রিঃ পর্যন্ত আমেরিকার শ্রেষ্ঠ পেশাদারী বেসবল খেলোয়াড় হিসাবে জিম থর্প অজস্র অর্থ উপার্জন করেন। ১৯১৯ খ্রিঃ বেসবল খেলা থেকে অবসর নেন জিম থর্প। তিনি এরপর রাগবী খেলার সংগঠনের কাজে ব্রতী হন। রাগবী অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতি হন তিনি।

১৯২০ থেকে ১৯২৬ খ্রিঃ পর্যন্ত নিউইয়র্ক জায়ান্টস ছিল আমেরিকার শ্রেষ্ঠ রাগবী দল। জিমই ছিলেন এই দলের প্রাণপুরুষ। রাগবী খেলায় প্রভৃত অর্থ উপার্জন করে ১৯২৯ খ্রিঃ তিনি অবসর নেন। খেলাধুলার জগৎ থেকে বিদায় নিলেও অফুরন্ত প্রাণশক্তিতে ভরপূর জিম নিশ্চেষ্ট বসে থাকেন নি। অংশ নিলেন অভিনয় জগতে। এই ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যেই। মেট্রো গোল্ডউইন মেয়ার জিম থর্পের জীবনী অবলম্বনে একটি ছবি তুলেছিলেন। ছবির নাম দেওয়া হয়েছিল ব্রোঞ্চম্যান।

এই ছবির মাধ্যমে জিম থর্প – এর পারদর্শিতা দেখে পৃথিবীর সকল দেশের অসংখ্য মানুষ অপরিসীম আনন্দ লাভ করেছিলেন। জিমের জীবনের একটা অধ্যায় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এবং বিভিন্ন খেলাধুলার উপদেষ্টা হিসেবে অতিবাহিত হয়। ১৯৩৭ খ্রিঃ ওকলাহোমাতে ফিরে এসে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন জিম। ১৯৪০ খ্রিঃ খেলাধুলার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে জিম বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতা করে বেড়িয়েছেন।

তার বক্তৃতার বিষয় ছিল, খেলাধুলার উপকারিতা, খেলাধুলায় উন্নতি লাভের উপায়, খেলার সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার সম্পর্ক প্রভৃতি। ১৯৪৩ খ্রিঃ ওকলাহোমার আইন – সভা আমেরিকার অ্যাথলেটিক ইউনিয়নের কাছে অনুরোধ জানান যাতে জিম থর্পের অলিম্পিক রেকর্ড স্বীকার করে নেওয়া হয়। এবিষয়ে আইন সভাকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন দুজন রেড ইন্ডিয়ান সদস্য ৷ আইন সভার অন্য একজন রেড ইন্ডিয়ান সদস্য অ্যাথলেটিক ইউনিয়নের কাছে প্রস্তাব করেন জিম থর্পকে বিখ্যাত কোন কলেজে শরীর শিক্ষার উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ করার জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় কোন প্রস্তাবই গ্রাহ্য হয়নি।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হলে জিম আমেরিকার স্থল ও নৌবাহিনীতে কাজ করেন। জিম বিবাহ করেছিলেন তিনবার। ১৯১৩ খ্রিঃ ইভা মিলার, ১৯২৬ খ্রিঃ ফ্রিডা প্যাট্রিক এবং ১৯৪৫ খ্রিঃ প্যাট্রিকা গ্লাভিন এসকিউকে বিবাহ করেন। অনেক পুত্রকন্যার পিতা থর্পের শেষ জীবন ছিল খুবই করুণ ও বিষাদময়। জীবনে অজস্র অর্থ উপার্জন করেছিলেন কিন্তু শেষ বয়সে চরম অর্থকষ্টে তাঁকে দিন কাটাতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত রাজপথের পাশে একটা ট্রেলার গাড়ির মধ্যে পাওয়া যায় তার মৃতদেহ।

চৌষট্টি বছর বয়সে বিশ্বের অবিস্মরণীয় ক্রীড়া প্রতিভা জিম থর্প মৃত্যুবরণ করেন। অলিম্পিকে জিম থর্পের সাফল্যের তালিকা আজও বিশ্বের বিস্ময় উৎপাদন করে। তালিকাটি এই রকম-

পেন্টাথলনঃ ব্রডজাম্প— প্রথম — দূরত্ব ২৩ ফিট ২ ইঞ্চি।

ডিসকাস ছোঁড়া— প্রথম — দূরত্ব ১১৬ ফিট ৮.৪ ইঞ্চি।

বর্শাছোঁড়া— তৃতীয়—— দূরত্ব ১৫৩ ফিট ২ ইঞ্চি।

২০০ মিটার দৌড় — প্রথম — সময় ২২.৯ সেকেন্ড।

১৫০০ মিটার দৌড়— প্রথম — সময় ৪ মি ৪৪.২০ সেকেন্ড।

ডেকাথলনঃ ১০ — ১৫০০ মিটার দৌড় — প্রথম— সময় ৪ মি ৪০

১১০ মিটার হার্ডলস— প্রথম – সময় ১৫

হাইজাম্প— প্রথম— উচ্চতা ৬ ফিট ইঞ্চি।

সটপট- প্রথম — দূরত্ব ৪২ ফিট ৫.৩ ইঞ্চি।

১০০ মিটার দৌড়— তৃতীয়- সময় ১১ সেকেন্ড।

ডিসকাস ছোঁড়া – তৃতীয়— দূরত্ব ১২১ ফিট ৩.৯ ইঞ্চি।

পোলভল্ট— তৃতীয় — উচ্চতা ১০ ফিট ৮ ইঞ্চি।

ব্রডজাম্প— তৃতীয়— দূরত্ব ২২ ফিট ৫.৩ ইঞ্চি।

বৰ্ণা ছোঁড়া— চতুর্থ— দূরত্ব ১৪৯ ফিট ১ : ২ ইঞ্চি।

৪০০ মিটার দৌড় — চতুর্থ – সময় ৫২ সেকেন্ড।

জিম থর্প এর মৃত্যু: Jim Thorpe’s Death

২৮শে মার্চ ১৯৫৩ জিম থর্প এর জীবনাবসান হয়।

Leave a Comment