বায়ুপুঞ্জ ও বায়ুপুঞ্জের উৎস স্থল – Air Mass and Source Region of Air Mass

বায়ুপুঞ্জ ও বায়ুপুঞ্জের উৎস স্থল – Air Mass and Source Region of Air Mass: বায়ুপুঞ্জ (Air Mass) – বায়ুপুঞ্জ হল এক বিস্তৃর্ন অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত বায়ুমন্ডল যার উষ্ণতা, আদ্রতা ও হাইড্রোস্ট্যাটিক স্থিতিশীলতা অনুভূমিক ভাবে প্রায় সর্বত্র সমান। এটি ১৬০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত ও কয়েক কিমি পর্যন্ত গভীর।

A.N.Strahler & A.H.Strahler এর মতে – একটি বায়ু স্তর যার মধ্যবর্তী উদ্ধগামী বায়ুর উষ্ণতা ও আদ্রতার ঢাল একটি বিস্তৃর্ন অঞ্চল জুড়ে প্রায় সর্বত্র সমান, তাকে বায়ুপুঞ্জ বলে।

বায়ুপুঞ্জের উৎপত্তি স্থল (Source Regions)

সংজ্ঞা – একটি বিশাল অঞ্চল যেখানে বায়ুপুঞ্জের সৃষ্টি বা উৎপত্তি হয়, তাকে বায়ুপুঞ্জের উৎপত্তি স্থল বলে। যার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ন ভাবে উষ্ণতা ও আদ্রতার দ্বারা নির্ধারিত হয়।

বায়ুপুঞ্জ সৃষ্টির জন্য বাতাস কে একটি বিস্তৃর্ন ও সমপ্রকৃতির ভূমিরূপের উপর একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থির ও শান্ত অবস্থায় থাকতে হবে সেই অঞ্চলের স্থানীয় বৈশিষ্ট্য আয়ত্ত্বের জন্য।

বায়ুপুঞ্জের উৎপত্তি স্থলের নিয়ন্ত্রক 

১. অঞ্চল টি কে বিস্তৃত ও সম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন পৃথিবী পৃষ্ঠ হতে হবে।

২. সেখানে বায়ুর মিলন হবে না, বরং তার পরিবর্তে বিপরীত মুখী বায়ু প্রভাবিত হবে যাতে বায়ু সেই 

অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করে।

৩.  দীর্ঘ সময় সেখান কার আবহাওয়া স্থির অবস্থায় থাকবে, যাতে বায়ু উক্ত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য গুলি লাভ করতে পারে।

বায়ুপুঞ্জের উৎপত্তি স্থলের প্রকারভেদ

১. প্রাথমিক উৎস স্থল (Primary Source Region)

সারা বছর ধরে বায়ুপুঞ্জ গড়ে তোলার আদর্শ পরিবেশ বিরাজ করে ক্রান্তীয় সমুদ্র ও উষ্ণ মরুভূমি অঞ্চলে এবং শীতকালে সুমেরু অঞ্চলের উপর। এই অঞ্চল গুলিকেই  প্রাথমিক উৎস স্থল বলে। এগুলি উষ্ণ ও শীতল দুই প্রকারের হয়ে থাকে।

উদাহরণ – ক্রান্তীয় আটলান্টিক সমুদ্র (বারমুন্ডার চারপাশ), ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগর ( হাওয়ায় দ্বীপপুঞ্জ), সাহারা মরুভূমি অঞ্চল ও সাইবেরিয়ার মধ্যবর্তী স্থান। 

২. গৌন উৎস স্থল (Secondary Source Region)

প্রাথমিক উৎস স্থল বাদে পৃথিবীতে এমন কিছু বিস্তৃত স্থান রয়েছে যেখানে বায়ু একেবারে স্থির প্রকৃতির নয়। যদি বাতাস সেই অঞ্চলের উপর দিয়ে যায় তাহলে বাতাস গুলি পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য গুলি লাভ করে, এই অঞ্চল গুলিকেই  গৌন উৎস স্থল বলে।

উদাহরণ – কানাডা ও সাইবেরিয়ার মধ্যবর্তী উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, কানাডা ও উত্তর ইউরোপের মধ্যবর্তী উত্তর আটলান্টিক অঞ্চল ও  আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিন – পশ্চিম শুষ্ক অঞ্চল।

পৃথিবীর ৬ টি প্রধান বায়ুপুঞ্জের উৎস স্থল হল :

ক) মেরু সামুদ্রিক অঞ্চল (উত্তর আটলান্টিক অঞ্চল ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল)

খ) সুমেরু স্থলভাগ অঞ্চল (ইউরেশিয়া ও উত্তর আমেরিকার বরফাবৃত অঞ্চল)

গ) ক্রান্তীয় সামুদ্রিক অঞ্চল

ঘ) ক্রান্তীয় স্থলভাগ (সাহারা  মরুভূমি, আরবীয় মরুভূমি)

ঙ) নিরক্ষীয় অঞ্চল

চ)  মৌসুমি বায়ু প্রভাবিত অঞ্চল ও দক্ষিন পূর্ব এশিয়া

Leave a Comment