আর্থার কম্পটন জীবনী | Arthur Compton Biography in Bengali

আর্থার কম্পটন জীবনী: Gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Arthur Compton Biography in Bengali. আপনারা যারা আর্থার কম্পটন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী আর্থার কম্পটন এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

আর্থার কম্পটন কে ছিলেন? Who is Arthur Compton?

আর্থার হলি কম্পটন কম্পটন ক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য ১৯২৭ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তার জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে। যুক্তরাষ্ট্রেই তার শিক্ষা এবং কর্মজীবন কেটেছে। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের দায়িত্ব পালন করেন।

আর্থার কম্পটন জীবনী – Arthur Compton Biography in Bengali

নামআর্থার কম্পটন
জন্ম10 সেপ্টেম্বর 1892
পিতাইলিয়াস কম্পটন
মাতাওটেলিয়া কম্পটন
জন্মস্থানউস্টার, ওহাইও, যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তাযুক্তরাষ্ট্র
পেশাপদার্থবিজ্ঞানী
মৃত্যু15 মার্চ 1962 (বয়স 69)

আর্থার কম্পটন এর জন্ম: Arthur Compton’s Birthday

আর্থার কম্পটন 10 সেপ্টেম্বর 1892 জন্মগ্রহণ করেন।

বিজ্ঞান ও ঈশ্বর এই দুই বিষয়ের তথাকথিত দ্বন্দ্ব সুবিদিত। অথচ বিশ্বখ্যাত এক বিজ্ঞানীর মুখ দিয়ে উচ্চারিত হয়েছে এক বিস্ময়কর উক্তি। ‘Science is the glimps of God’s purpose in native. The very existence of the amazing world of the atom and radiation points to a purposefull creation, to the idea that there is a God and an inteligent purpose back of everything.’

অণু থেকে পরমাণু, প্রকৃতি – আশ্রয়ী সমস্ত কিছুর মধ্যেই রয়েছে এক মহাশক্তির সৃষ্টিমুখী উদ্দেশ্য। এই বুদ্ধিদীপ্ত উদ্দেশ্যের মধ্যেই পরম শক্তি ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বয়ং প্রকাশ ৷ ঈশ্বর বিশ্বাসী এই মহাবিজ্ঞানী হলেন আর্থার হোলি কম্পটন। পরমাণু বিস্ফোরণের ইতিহাসে যাঁকে নিয়ে গোটা বিশ্বে গড়ে উঠেছিল বিতর্কের আবহ।

১৮৯৫ খ্রিঃ কনরাড রন্টগেন এক্স – রে নামক এক অজানা রশ্মি আবিষ্কার করে বিশ্ববিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনার পথ উন্মোচন করে দিয়ে ছিলেন। কম্পটন এই এক্স – রে নিয়ে গবেষণা করে পদার্থবিদ্যার গবষেণায় নতুন গতি সঞ্চার করেছিলেন।

আর্থার কম্পটন এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Arthur Compton’s Parents And Birth Place

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও রাজ্যের উস্টার শহরে ১৮৯২ খ্রিঃ ১০ ই সেপ্টেম্বর এক ধর্মপরায়ণ পরিবারে কম্পটন জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ইলিয়াস এবং মা ওটেলিয়া উভয়েই ছিলেন মানবপ্রেম ও অহিংসায় বিশ্বাসী। চার ভাইবোনের মধ্যে আর্থার ছিলেন তৃতীয়।

আর্থার কম্পটন এর শিক্ষাজীবন: Arthur Compton’s Educational Life

ছেলেবেলায় বিদুষী মায়ের কাছে গল্প শুনে শুনেই বিশ্বমানবের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ পুরুষ বুদ্ধ, জরাথুস্ট্র, কনফুসিয়াস, যিশু প্রমুখের জীবন কাহিনী ও আদর্শের সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন আর্থার কম্পটন। একই সঙ্গে মানুষের আদি সভ্যতার পীঠভূমি মিশর, ব্যাবিলন, গ্রিস দেশের কথা, হিপোক্রিটাস, আর্কিমিডিস, নিউটন, গ্যালিলিও প্রভৃতির মত বিজ্ঞানীদের সম্পর্কেও অনেক কথা জানা হয়ে গিয়েছিল তার।

মায়ের প্রেরণাতেই সব ইতিহাসের ইতিহাস প্রাণিবিদ্যার প্রতি আগ্রহান্বিত হয়ে উঠেছিলেন কম্পটন। প্রাণিবিদ্যা থেকেই এক সময়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের চিন্তাভাবনা বাসা বাঁধল মাথায়। মায়ের মুখে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাস শোনার পরেই কিশোর বয়সে তিনি পড়ে ফেলেছিলেন টলেমি, পিথাগোরাস, গ্যালিলিও, কোপার্নিকাস ও কেপলারের আবিষ্কারের নানা বই।

বয়স যখন কুড়িতে পড়েছে, সেই সময় তিনি নিজেই এমন এক উড়োজাহাজ বানান যা আকাশে বেশ কিছুক্ষণ উড়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিল। কম্পটনের বাবা ইলিয়াস ছিলেন উস্টার কলেজের বিজ্ঞানের অধ্যাপক। এই কলেজ থেকেই স্নাতক হন তিনি। এই কলেজে পড়ার সময়েই কম্পটন নিজের হাতে একটি জাইরোস্কোপ বানিয়ে বাজারে তার পেটেন্ট নেন। জাইরোস্কোপ যন্ত্রটি উড়োজাহাজের গতিনিয়ন্ত্রণের কাজের সহায়ক।

কম্পটনের দাদা কার্ল প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় পি.এইচ.ডি করে উচ্চতর গবেষণায় যশস্বী হয়েছেন। তিনি ছোটভাইয়ের জাইরোস্কোপ দেখে তাঁকে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত ও পদার্থবিদ্যায় উচ্চতর শিক্ষা নেবার উপদেশ দিলেন। দাদার পরামর্শে প্রিন্সটনে ভর্তি হয়ে চব্বিশ বছর বয়সে ডক্টরেট হয়ে বেরোলেন কম্পটন।

পদার্থবিদ্যার ডিগ্রি নেওয়া হলেও কম্পটনের মনে ছিল মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর দিকেই ঝোঁক। এর মধ্যেই, ১৯১৬ খ্রিঃ মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা বিভাগে ইনস্ট্রাকটরের চাকরি পেয়ে গেলেন। কিন্তু একবছর যেতে না যেতেই ওয়েস্টিং হাউস ইলেকট্রিক অ্যান্ড ম্যানুফাকচারিং কোম্পানিতে গবেষক যন্ত্রবিদ হিসেবে যোগ দিলেন। কিন্তু এই কাজেও সন্তুষ্ট হতে পারলেন না।

আর্থার কম্পটন এর কর্ম জীবন: Arthur Compton’s Work Life

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আবহাওয়ায় দেশাত্মবোধের আহ্বানে যোগ দিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংকেত – বাহিনীতে। উড়োজাহাজের নানা অংশের উন্নতি কি করে করা যায় — এখানে এই ছিল কম্পটনের কাজ। ১৯১৮ খ্রিঃ যুদ্ধ থেমে গেলে কম্পটন সামরিক বাহিনীর কাজ ছেড়ে চলে এলেন ইংলন্ডে। কাজ নিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাভেন্ডিস ল্যাবরেটরিতে। দু বছর টানা এখানে কাজ করলেন।

১৯২০ খ্রিঃ দেশে ফিরে এলেন। এবারে অধ্যাপনার কাজ নিলেন সেন্ট লুই শহরের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে। প্রধান অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানের গুরুদায়িত্ব নেন। তিন বছরের মধ্যেই আবার এল কর্মস্থল পরিবর্তনের আহ্বান। সেই সময়, ১৯২৩ খ্রিঃ শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা বিভাগে কাজ করছেন জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও নোবেলজয়ী অ্যালবার্ট আব্রাহাম মাইকেলসন। পদার্থ বিদ্যার কিছু ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য তিনিই ডেকে পাঠালেন কম্পটনকে। তিনিও হাজির হলেন যথারীতি।

বসে গেলেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার চেয়ারম্যান পদে। গবেষণার কাজ। কাজেই মনের মত হয়েছিল। এই কাজেই বাইশ বছর থেকে যোগ্যতা ও প্রতিভার পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। এখানেই কম্পটন পরমাণু পদার্থবিদ্যার গবেষণার কাজ আরম্ভ করেন।

১৮৯৫ খ্রিঃ রন্টজেন এক্স – রে নামক অজানা এক রশ্মি আবিষ্কার করেছিলেন। তখনো পর্যন্ত এক্স – রে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ কাজ হয় নি। কম্পটন এই এক্স – রে নিয়েই কাজ করতে বসলেন। তাঁর গভীর গবেষণার ফলেই আবিষ্কৃত হল এক্স – রে সম্পর্কে একটি জগদ্বিখ্যাত তত্ত্ব। যার নাম হল কম্পটন এফেক্ট। কম্পটন তাঁর আবিষ্কাবে দেখালেন, এক্স – রে ও ইলেকট্রনিকের সংঘর্ষের ফলে এক্স – রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বাড়ে ও কিছু পরিমাণ শক্তি এক্স – রে থেকে সরাসরি মিশে যায় ইলেকট্রনে।

অখ্যাত কম্পটন এই একটি গবেষণার মাধ্যমেই পরমাণু পদার্থবিদ্যায় কৃতিত্ব দেখিয়ে বিশ্ববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নিজের স্থানটি নির্দিষ্ট করে নিলেন। কম্পটনের এই আবিষ্কারের ফলে ম্যাক্স প্লাঙ্ক ও আইনস্টাইনের কোয়ান্টাম তত্ত্বের সত্যতা নির্ভুল প্রমাণ হয়ে গেল। আইনস্টাইনের আলোকতড়িৎ সম্পর্কিত তত্ত্বগুলিও দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে গেল। আরও প্রমাণ হল আলোকের মত এক্স – রশ্মিও তরঙ্গ ও কণা দুই ভাবেই নিজেকে প্রকাশ করে।

কম্পটন এফেক্ট – এর স্বীকৃতি এলো ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দেই। পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিনি। তবে একা নয়, যুগ্মভাবে। সি.টি. উইলসন নামে বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছিলেন পরমাণু পদার্থবিদ্যা গবেষণার এক অসাধারণ যন্ত্র ‘ মেঘ – কক্ষ ’। এই যন্ত্রের সাহায্যে কম্পটনের এক্স – রে ও ইলেকট্রনের সংঘর্ষের পরীক্ষাটি করা সম্ভব হয়েছিল। নোবেল কমিটি তাই সেই বছরের পদার্থ বিদ্যার পুরস্কারের জন্য দুই জনকেই বেছে নিয়েছিলেন।

নোবেল পাবার পর কম্পটন বসলেন মহাজাগতিক রশ্মি নিয়ে গবেষণায়। দীর্ঘ আট বছর এই গবেষণায় ডুবে রইলেন তিনি। মহাজাগতিক রশ্মির প্রকৃতি ও উৎস নিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে সারা পৃথিবীর মহাজাগতিক রশ্মির নির্ভুল হিসেব সংগ্রহের প্রয়োজন হল। তিনি এই কাজের জন্য বিশাল এক গবেষক টিম গঠন করে তাঁদের পাঠালেন বিভিন্ন দিকে। উত্তর মেরুর তুষার ক্ষেত্র থেকে শুরু করে এশিয়া, ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকার দুরারোহ পর্বতশৃঙ্গ সর্বত্র তার দল মহাজাগতিক রশ্মির তথ্য সংগ্রহ করে বেড়াল৷

এইভাবে জানা গেল, পরমশক্তি সমৃদ্ধ পারমাণবিক কণারা কল্পনাতীত দূরাঞ্চলের মহাজাগতিক রশ্মির আবহ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে নিঃসরিত হয়ে চলেছে। এই পারমাণবিক কণারা ধনাত্মক বিদ্যুতযুক্ত আধান। অর্থাৎ প্রোটন ও পজিট্রন। কম্পটন তার পরীক্ষা দ্বারা নতুন এক ধরনের মহাজাগতিক রশ্মির সন্ধান পেলেন স্ট্র্যাটোস্পিয়ারের ওপরের স্তরের বায়ুর মধ্যে।

তিনি দেখলেন এই নতুন মহাজাগতিক রশ্মির কণার প্রকৃতি সাধারণ মহাজাগতিক রশ্মির চেয়ে পৃথক। এই কণা সাধারণ বায়ুস্তরে প্রবেশ করতে পারে না। তার আনাগোনা স্ট্র্যাটোস্পিয়ারের সীমা পর্যন্ত। বারবার পরীক্ষা করে কম্পটন বুঝতে পারেন এই কণাগুলি সম্পূর্ণভাবেই বিদ্যুৎ – নিরপেক্ষ বা প্রশম। ধনাত্মক বা ঋণাত্মক কোন বিদ্যুৎই এই সব কণ৷য় অনুপস্থিত। দীর্ঘ আট বছরের গবেষণার কাজে ছেদ পড়ল ১৯৩৮ খ্রিঃ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিধ্বংসী আগুন তখন ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবী জুড়ে। কম্পটনকে হাতে নিতে হল অন্য এক গবেষণার কাজ। ইতিমধ্যে পরমাণু বিজ্ঞানীরা শক্তির এক অফুরন্ত উৎসের সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন ৷ তা হল ইউরেনিয়াম নামক ভারী এক প্রাকৃতিক মৌল। এই ইউরেনিয়াম মৌলের তেজস্ক্রিয় বিকিরণের প্রথম সন্ধান পেয়েছিলেন হেনরি বেকেরেল নামে এক অখ্যাত ফরাসি বিজ্ঞানী। তারপর থেকে এই বিকিরণ সংক্রান্ত গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন নামক এক পারমাণবিক তড়িৎ – নিরপেক্ষ কণার দ্বারা আলোড়িত করলে এক অদ্ভুত ধরনের বিক্রিয়ার উৎপত্তি হয়।

তাঁরা এই বিক্রিয়ার নাম দিয়েছেন চেইন রিঅ্যাকশন। এই বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন বিকিরণ থেকে প্রচন্ড তাপের সঞ্চার হয়। বাধ্য হয়েই মহাযুদ্ধকালে ইউরেনিয়াম ঘটিত গবেষণায় কম্পটনকে যুক্ত হতে হল। ইতিমধ্যে আর এক বিজ্ঞানী অর্নেস্ট লরেন্স সাইক্লোট্রন নামে ইউরেনিয়াম বিদারণের যন্ত্র আবিষ্কার করলেন। এই যন্ত্রও যুক্ত হল কম্পটনের পারমাণবিক শক্তির প্রয়োগ – সন্ধানের গবেষণায়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকারের পরিকল্পনার পূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল কম্পটনের হাতে।

তার যোগ্য নেতৃত্বে এই পরিকল্পনা রূপায়িত হয়ে চলল ১৯৪১ খ্রিঃ মাঝামাঝি সময় থেকে। প্রয়োজনটা ছিল সামরিক দপ্তরের। তাই কাজ চলছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে। সমকালীন যুগের ধুরন্ধর মার্কিন পরমাণু বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল জাতীয় বিজ্ঞান আকাদেমির কম্পটন কমিটি। কমিটির নাম রাখা হয়েছিল এস -১ কমিটি। পরে কমিটি যখন পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এল, তার নাম বদলে বাখা হল ম্যানহাটান পরিকল্পনা।

সময়টা তখন ১৯৪২ খ্রিঃ। কম্পটনের কর্তৃত্বাধীন এই কমিটির প্রধান কাজ ছিল ইউরেনিয়াম -২৩৫ ও কৃত্রিম কণা প্লুটোনিয়াম – ২৩৯ এই দুই মৌল সংগ্রহ করা। বিজ্ঞানীরা দেখেছিলেন কেবলমাত্র এই দুই মৌলের নিউক্লিয়াস বিদারণ করেই সর্বাধিক মাত্রার শক্তি আহরণ সম্ভব। তাই কম্পটনের তত্ত্বাবধানে এই দুই মৌল সংগ্রহের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলতে লাগল। পরমাণু বিস্ফোরণের কাজে কম্পটনের অধীন এই কমিটির কাজ ছিল সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কম্পটন জাতীয় গুরুদায়িত্ব সঠিক প্রতি পালনের সাফল্য লাভ করলেন ১৯৪২ খ্রিঃ ২ রা ডিসেম্বর। তিনি এক গোপন বার্তার মাধ্যমে সাফল্যের সংবাদটি জানালেন এস -১ কমিটির সমকালীন প্রধান জেমস কোন্যান্টকে। এরপর ১৯৪২ খ্রিঃ থেকে ১৯৪৫ খ্রিঃ মধ্যে বিভিন্ন ধাপে এগিয়ে চলল পরমাণু বোমা সম্পূর্ণ করার কাজ। বিশ্ববিজ্ঞান ইতিহাসের পাতায় এক নতুন ঐতিহাসিক অধ্যায় সূচিত হল ১৯৪৫ খ্রিঃ ১২ ই জুলাই। এই দিন নিউ মেক্সিকোর মরু অঞ্চলে মার্কিন উদ্যোগে প্রথম পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হল।

এই পরীক্ষার নাম হলে ট্রিনিটি টেস্ট। বিস্ফোরণের পরেই দেশজুড়ে দেখা দিল গণরোষ। পরমাণু বোমা বিস্ফোরণ গবেষণারত বিজ্ঞানীরা পড়লেন তীব্র সমালোচনার মুখে। কমিটির চেয়ারম্যান আর্থার কম্পটনই প্রধানতঃ হলেন গণসমালোচনার মূল লক্ষ ! সেই প্রথম তিনি এক নারকীয় ঘোষণা রাখলেন। বললেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেই বোঝা যায় পরমাণু অস্ত্রের প্রয়োগ কত জরুরী হয়ে পড়েছে।

বস্তুত জার্মানিতে পরমাণু বোমা তৈরির কাজ জোর কদমে এগিয়ে চলেছে এমন সংবাদ মার্কিন নাগরিক বিজ্ঞানীদের মুখে শুনতে পেয়েই মার্কিন সরকার গোটা বিশ্বজুড়ে মহা অঘটন ঘটার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি পারমাণবিক বোমা তৈরি ও পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটাবার উদ্যোগ নিয়েছিল। ১৯৪৫ খ্রিঃ ৬ ই আগস্ট সকালে প্রথম পারমাণবিক বোমাটি বিস্ফোরিত হল জাপানের সমৃদ্ধ শহর হিরোসিমায়।

দ্বিতীয় বোমাটি পড়ল দুদিন পরে ১৯৪৫ খ্রিঃ ৯ ই আগস্ট জাপানের অপর বর্ধিষ্ণু শহর নাগাসাকিতে। দুটি শহরই ধূলিসাৎ হয়ে গেল। সংখ্যাহীন জাপানির মৃতদেহের স্তূপে বিশ্বমানবতার এক কলঙ্কময় ইতিহাস রচিত হল। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন বীভৎস অমানুষিক কার্যের দ্বিতীয় নজির নেই। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই পাশবিক আচরণকে ধিক্কার জানাল সমগ্র বিশ্বের মানুষ। ১৯৪৫ খ্রিঃ ১০ ই আগস্ট নিঃশর্তে আত্মসমর্পণ করল জাপান।

সেই সঙ্গে অবসান ঘটল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের। এই পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের জন্য কম্পটন সুখ্যাতি ও কুখ্যাতি দুই পেলেন। বিজ্ঞানীদের কাছে পেলেন খ্যাতি, বিশ্বের মানবতাবাদীরা তাঁকে জানাল ধিক্কার। নৃশংসতাকে রোধ করতে পারে উচ্চতর নৃশংসতার ঘটনা এই নীতিতে বিশ্বাসী হয়েই কম্পটন তাঁর জাতীয় কর্তব্য সম্পাদন করেছিলেন।

তাই নিন্দা প্রশংসা দুই অবস্থাতেই তিনি রইলেন নির্বিকার। যুদ্ধ শেষ হলে কম্পটন আবার ফিরে এলেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে। ১৯৪৫ খ্রিঃ কম্পটন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদের দায়িত্ব পেলেন। অবিচল নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন।

আর্থার কম্পটন এর মৃত্যু: Arthur Compton’s Death

আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের অন্যতম রূপকার কম্পটন সত্তর বছর বয়সে ১৯৬২ খ্রিঃ মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Comment