সিগমুন্ড ফ্রয়েড জীবনী | Sigmund Freud Biography in Bengali

সিগমুন্ড ফ্রয়েড জীবনী: Gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Sigmund Freud Biography in Bengali. আপনারা যারা সিগমুন্ড ফ্রয়েড সম্পর্কে জানতে আগ্রহী সিগমুন্ড ফ্রয়েড এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

সিগমুন্ড ফ্রয়েড কে ছিলেন? Who is Sigmund Freud?

সিগমুন্ড ফ্রয়েড (মে ৬, ১৮৫৬-সেপ্টেম্বর ২৩, ১৯৩৯) ছিলেন একজন অস্ট্রিয় মানসিক রোগ চিকিৎসক এবং মনস্তাত্ত্বিক। তিনি “মনোসমীক্ষণ” (Psychoanalysis) নামক মনোচিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভাবক। ফ্রয়েড “মনোবীক্ষণের জনক” হিসেবে পরিগণিত। তার বিভিন্ন কাজ জনমানসে বিরাট প্রভাব ফেলেছে। মানব সত্বার ‘অবচেতন’, ‘ফ্রয়েডিয় স্খলন’, ‘আত্মরক্ষণ প্রক্রিয়া’ এবং ‘স্বপ্নের প্রতিকী ব্যাখ্যা’ প্রভৃতি ধারণা জনপ্রিয়তা পায়। একই সাথে ফ্রয়েডের বিভিন্ন তত্ত্ব সাহিত্য, চলচ্চিত্র, মার্ক্সবাদী আর নারীবাদী তত্ত্বের ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব বিস্তার করে। তিনি ইডিপাস কম্পলেক্স ও ইলেক্ট্রা কম্পলেক্স নামক মতবাদ সমূহের জন্য অধিক আলোচিত।

সিগমুন্ড ফ্রয়েড জীবনী – Sigmund Freud Biography in Bengali

নামসিগমুন্ড ফ্রয়েড
জন্ম6 মে 1856
পিতাজ্যাকব ফ্রয়েড
মাতাআমালিয়া নে নাথানসন
জন্মস্থানমাহরেন, মোরাভিয়া, অস্ট্রিয়ান সাম্রাজ্যের ফ্রেইবার্গ (বর্তমানে প্রিবর, চেক প্রজাতন্ত্র)
জাতীয়তাঅস্ট্রিয়ান
পেশাচিকিৎসক এবং মনস্তাত্ত্বিক
মৃত্যু23 সেপ্টেম্বর 1939 (বয়স 83)

সিগমুন্ড ফ্রয়েড এর জন্ম: Sigmund Freud’s Birthday

সিগমুন্ড ফ্রয়েড 6 মে 1856 জন্মগ্রহণ করেন।

সিগমুন্ড ফ্রয়েড এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Sigmund Freud’s Parents And Birth Place

আধুনিক মনোবিজ্ঞানের জনক ও এই শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিন্তানায়ক সিগমুন্ড ফ্রয়েডের জন্ম ১৮৫৬ খ্রিঃ ৬ ই মে অস্ট্রিয়ার মোরাভিয়া প্রদেশের ফ্রেইসবার্গ শহরে এক ইহুদী পরিবারে। সিগমুন্ডের পিতা জ্যাকব ফ্রয়েড ছিলেন একজন পশমের ব্যবসায়ী। মা অ্যামিলিয়া ছিলেন বিদুষী। জ্যাকবের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ছিলেন অ্যামিলিয়া। সৎ ছেলেরা ছিল অ্যামিলিয়ার চাইতে বয়সে বড়।

সিগমুন্ড ছিলেন তার মায়ের সাতটি সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ।অ্যামিলিয়া তার সন্তানদের মধ্যে সিগমুন্ডকেই সব চেয়ে বেশি ভালবাসতেন। তার ধারণা ছিল সিগমুন্ড জন্মেছেন কোন মহৎ কাজের জন্য। পরিণত বয়সে বিশ্বজোড়া খ্যাতির অধিকারী সিগমুন্ড মায়ের স্নেহ ভালবাসার কথা স্মরণ করতে গিয়ে অভিভূত হয়ে পড়তেন।

তিনি বলেছেন, যে সন্তান মায়ের স্নেহ – যত্ন বেশি লাভ করে, আপনা থেকেই তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয় যা তাকে জীবন – সংগ্রামে জয়ী হতে সাহায্য করে। জ্যাকব তাতে পশমের কাপড় বুনতেন। জীবিকার প্রয়োজনেই ভিয়েনাতে এসে পাকাপাকি ভাবে বসবাস শুরু করেন। অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বড় শহর ভিয়েনা। এখানেই কেটেছে সিগমুন্ডের সারা জীবন।

সিগমুন্ড ফ্রয়েড এর শিক্ষাজীবন: Sigmund Freud’s Educational Life

আট বছর বয়স পর্যন্ত বাড়িতে বাবার কাছেই পড়াশুনা করেন সিগমুন্ড। পড়াশুনার প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ। স্কুলের পড়া শুরু হয়েছিল ভিয়েনার স্পার্ল স্কুলে। প্রথম বছরের পরীক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ পরীক্ষা পর্যন্ত প্রথম স্থানটি ছিল তার বাঁধা। সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, বিজ্ঞান সব বিষয়েই ছিল তার আগ্রহ। যখন যে বই হাতের নাগালে পেতেন তাই গভীর আগ্রহের সঙ্গে পড়তেন।

জার্মান সাহিত্য ও দর্শন তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করত। চোদ্দ বছর বয়সেই সিগমুন্ড দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিলের রচনাবলী থেকে বেশ কিছু অংশ জার্মান থেকে অনুবাদ করেছিলেন। কিশোর বয়সেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন ভবিষ্যতে বড় দার্শনিক বা মহান সাহিত্যিক হবেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব স্বচ্ছল ছিল না।

পিতাকে অর্থ সাহায্য করবার প্রয়োজনে একসময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তারি পড়বার। অবশ্য অন্য একটি আকর্ষণও ছিল ডাক্তারি পড়ার। চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের তত্ত্ব পড়ে তাঁর মনে হয়েছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানের মাধ্যমেই নতুন কিছু কাজ করবার সুযোগ রয়েছে। মৌলিক গবেষণার দিকেই ছিল তার ঝোক। তার ইচ্ছায় সতেরো বছর বয়সেই জ্যাকব সিগমুন্ডকে ভিয়েনা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়ে দিলেন।

স্থানীয় খ্রিস্টান ধর্মাভিলম্বীদের মধ্যে সেই সময় ইহুদী বিদ্বেষ ক্রমশই ছড়াতে শুরু করেছে। ফলে ক্লাশে সহপাঠীদের ব্যবহারে খুবই আঘাত পেতেন সিগমুন্ড। ক্লাসের মধ্যে তিনিই ছিলেন একমাত্র ইহুদী। অবজ্ঞা তাচ্ছিল্য ও অপমান সত্ত্বেও নিজের ধর্মের প্রতি কখনও বিশ্বাস হারাননি সিগমুন্ড। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্লাশে পড়াশুনা করতে করতেই সিগমুন্ডের মাথায় আসে মানুষের দেহের সঙ্গে মানসিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশুনা করবেন।

কিন্তু এই বিষয় নিয়ে আলাদা কোন বিভাগ সেই সময় ছিল না ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভিয়েনার সর্বশ্রেষ্ঠ শরীরতত্ত্ববিদ রবার্ট মেয়র ছাত্র ব্রুকে ছিলেন মেডিকেল কলেজের শরীরতত্ত্বের অধ্যাপক সিগমুন্ড অল্পদিনেই হয়ে উঠলেন তার প্রিয় ছাত্র। শরীরতত্ত্ব বিষয়ে এমনই আগ্রহ জন্মাল সিগমুন্ডের যে ব্রুকের গবেষণাগারেই বেশির ভাগ সময় কাটতে লাগল তার। ফলে কলেজের পাঁচ বছরের পাঠ্যসূচী শেষ করতে তার লাগল আট বছর।

এই সময়ের মধ্যে আরও একটি কাজ করেন সিগমুন্ড। স্নায়ুতন্ত্রের ওপরে বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ রচনা করে নিজের মৌলিক চিন্তাভাবনার পরিচয় দিয়েছিলেন। ১৮৮১ খ্রিঃ সিগমুন্ড এম.ডি. উপাধি নিয়ে কলেজ থেকে বেরলেন। সেই সময় তাঁর বয়স পঁচিশ। অর্থ উপার্জনের প্রয়োজনের কথা ভেবেই ডাক্তারি পড়তে এসেছিলেন সিগমুন্ড।

সিগমুন্ড ফ্রয়েড এর কর্ম জীবন: Sigmund Freud’s Work Life

তাই পাশ করে বেরিয়েই ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালে ইনটার্নি হিসেবে যোগ দিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই হলেন জুনিয়ার ডাক্তার। হাসপাতালে বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ থিওডর মেনারেত – এর অধীনে থেকে সিগমুন্ড মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর গবেষণা আরম্ভ করলেন। ইতিপূর্বে অধ্যাপক ব্রুসের সহকারী হিসেবে স্নায়ুতন্ত্রের ওপরে তিনি কাজ করেছিলেন।

মাছের স্নায়ুতন্ত্রের ওপরে তাঁর কাজ ব্রুসের প্রশংসা লাভ করেছিল। কাজেই অল্পদিনের মধ্যেই প্রতিভা, মেধা ও নিষ্ঠা বলে তিনি মেনারেত – এরও প্রশংসা অর্জন করলেন। ভিয়েনা হাসপাতালে কাজ করবার সময়েই সিগমুন্ড বিয়ে করলেন মার্থা বার্নেসকে। বিয়ের পর স্বাধীনভাবে চিকিৎসা ব্যবসা শুরু করলেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে। ইতিপূর্বে ভিয়েনা শহরে স্নায়বিক রোগের কোন চিকিৎসাকেন্দ্র ছিল না। সিগমুন্ডই তা প্রথম চালু করলেন।

দেখতে দেখতে পসারও জমে উঠল। চিকিৎসক হিসেবে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। সিগমুন্ডের এই প্রতিষ্ঠা ভিয়েনার চিকিৎসক – সমাজের ঈর্ষার কারণ হয়ে উঠল। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হতেও বিলম্ব হল না। রুগীরা যাতে তার কাছে না আসে তার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারপত্র ছাপিয়ে বিলি করা হতে লাগল। ডঃ শার্কের কাছ থেকে সিগমুন্ড সম্মোহন বিদ্যা শিখে এসেছিলেন।

রুগীদের রোগবিশ্লেষণের জন্য তা প্রয়োগ করা হতো। অনেকেই দেখা গেল বিষয়টাকে মেনে নিতে পারছিলেন না। সিগমুন্ডের প্রাক্তন শিক্ষক থিওডর মেনারেতও তাঁকে তিরস্কার করে চিঠি লিখলেন। কর্মজীবনের শুরুতেই সিগমুন্ডকে এভাবে প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হল যা ছিল অপ্রত্যাশিত। কিন্তু তিনি এতে বিচলিত হলেন না।

তিনি আরো মনোযোগ সহকারে রুগীর চিকিৎসা করতে লাগলেন। সেই সঙ্গে তাঁর গবেষণার কাজও চালিয়ে যেতে লাগলেন। সিগমুন্ডের গবেষণার বিষয় ছিল হিস্টিরিয়া রোগের উৎস, প্রকৃতি ও তার নিরাময়ের পন্থা। তাঁর এই গবেষণা চলল দীর্ঘ দশ বছর ধরে। ব্রুত্রে নামে এক চিকিৎসক ইতিপূর্বে বেশ কিছু মানসিক রুগীকে সুস্থ করে তুলেছিলেন।

একসময় তিনি স্বতঃপ্রবৃত্তহয়ে এগিয়ে এলেন সিগমুন্ডের সহযোগিতায়। দুজনে যুগ্মভাবে গবেষণায় মনোনিবেশ করলেন। দুজনের সম্মিলিত গবেষণার ফলাফল নিয়ে ১৮৯৫ খ্রিঃ প্রকাশিত হল Studies in Hysteria নামে একটি বই। মনস্তত্ত্বের চিকিৎসার জগতে এই বই এক নতুন জগতের সন্ধান এনে দিল। এতেই প্রথম প্রকাশিত হল মানুষের অবচেতন মনের অস্তিত্বের কথা। যা স্নায়ুসংক্রান্ত যাবতীয় রোগের মূল কারণ।

সিগমুন্ড মনোরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক নতুন ধারণার উদ্ভাবন করলেন। তার নাম তিনি দিলেন Psychoanalysis বা মনঃসমীক্ষণ। সিগমুন্ড তাঁর বইতে বললেন, মানুষের মনের স্তর দুইটি, একটি চেতন অপরটি অবচেতন। শৈশব থেকেই মানুষের অহংবোধ বা ইগো কোন কারণে অবদমিত হলে তার যৌনকামনা অনেকাংশে মনের চেতন স্তর থেকে অবচেতন স্তরে সংগুপ্ত হয়। এর ফলেই দেখা দেয় মানসিক বিকার।

শিশুর মধ্যে যে যৌনবোধ থাকে তা – ই অবদমিত হয়ে পরবর্তীকালে মনোরোগের সৃষ্টি করে। মোটকথা সিগমুন্ড মানুষের মনোবিশ্লেষণের ক্ষেত্রে তার যৌনবোধকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।, তিনি বললেন, ‘আমরা ঘুমের মধ্যে যে স্বপ্ন দেখি, প্রায় সময়ই ঘুমভেঙ্গে তা আর মনে থাকে না। কিন্তু এই স্বপ্নই হল মানুষের মনের চিন্তা ভাবনার প্রতিফলন। মনের অবদমিত ইচ্ছা বা কামনা – বাসনার প্রভাব থেকেই স্নায়ু অসুস্থ হয়ে রোগ দেখা দেয়।

রুগী সজ্ঞান বা অজ্ঞান অবস্থায় (হিপ্পোটাইসড) মনের সমস্ত কথা চিকিৎসকের কাছে প্রকাশ করেন। এই সময় তার মনের অবচেতন স্তরের কামনা – বাসনার কথাও প্রকাশ হয়ে পড়ে। তাকে বিশ্লেষণ করেই চিকিৎসক রুগীর চিকিৎসা করেন এবং নিরাময় করে তোলেন। ‘ সম্পূর্ণ নতুন কথা বলেই সিগমুন্ডের অভিমতের সঙ্গে কোন চিকিৎসকই একমত হতে পারলেন না। তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত চিন্তাভাবনা বলে কঠোরভাবে সমালোচনা করতে লাগলেন।

কিন্তু আবিষ্কৃত সত্য সম্পর্কে সিগমুন্ডের ছিল গভীর বিশ্বাস। তাই অতটুকু বিচলিত হলেন না। নিজের মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য তিনি একের পর এক বই লিখে চললেন। এগুলিতে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর অভিজ্ঞতা, গভীর জ্ঞান ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা। ১৯০০ খ্রিঃ থেকে ১৯৩২ খ্রিঃ পর্যন্ত সব মিলিয়ে এগারোটি বই সিগমুন্ড লিখেছিলেন।

ভিয়েনার চিকিৎসক সমাজ বিরূপ সমালোচনা করলেও কয়েকজন তরুণ চিকিৎসাবিজ্ঞানীকে সিগমুন্ডের মতবাদ আকৃষ্ট করল। এই প্রতিভাবান বিজ্ঞানীরা হলেন, হ্যাস্ক, সেটকন, অ্যাডনার গ্রাফ, ইয়ং প্রমুখ। সিগমুন্ডের ফ্রয়েডিয় মনঃসমীক্ষণতত্ত্ব উত্তরকালে এই বিজ্ঞানীদের দ্বারাই বিকশিত ও বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্বে মানুষের চিন্তা জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যে কয়েকটি বই তার মধ্যে অন্যতম হল ফ্রয়েডের Interpretation of Dream. এটি প্রকাশিত হয় ১৯০০ খ্রিঃ।

মানুষের স্বপ্ন সম্বন্ধে ফ্রয়েড তার বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ও বিচার বিশ্লেষণ এই বইতে প্রকাশ করেছেন। ইতিপূর্বে স্বপ্ন বিষয়ে চিকিৎসকদের কোন প্রকাব ধারণাই ছিল না। তারা এটাকে অবাস্তব কোন কল্পনা বলেই মনে করতেন। ফ্রয়েড এই প্রচলিত ধারণাকে নস্যাৎ করে স্বপ্নের ওপরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করলেন ৷ মনোরোগের ক্ষেত্রে স্বপ্নের ব্যবহার সম্পর্কে তিনি সুচিন্তিত পথ নির্দেশ করলেন।

সিগমুন্ড ফ্রয়েড এর রচনা: Written by Sigmund Freud

ফ্রয়েডের মতবাদ স্বাভাবিকভাবেই দেশে বিদেশে বিতর্কের সূচনা করল। বিশিষ্ট পন্ডিতরা এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা আরম্ভ করলেন। এই সুবাদে তার খ্যাতিও ছড়িয়ে পড়ল পৃথিবীর নানা দেশে। ইতিমধ্যে ফ্রয়েড আরও কয়েকটি বই প্রকাশ করলেন। সেগুলো হল The Psychology of everyday life and its relation to the unconscious (১৯০৪ খ্রি:), The three contribu tion to the theory of sexuality (১৯০৫ খ্রিঃ)।

মনঃসমীক্ষণ বিষয়ে বক্তৃতা দেবার জন্য ফ্রয়েড ১৯০৯ খ্রিঃ আমেরিকার ক্লার্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমন্ত্রণ পেলেন। শিষ্য ইয়ংকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আমেরিকা গেলেন। তাঁর বক্তৃতা গুণীজন সমাবেশে সমাদৃত হল, মতবাদ অভিনন্দিত হল বিপুলভাবে। ফ্রয়েডের মতবাদের গভীরতা মুক্ত মনে প্রথম উপলব্ধি করতে পারল আমেরিকা। ধর্মীয় ও মানসিক গোঁড়ামি বাধা হয়ে উঠল না।

ফ্রয়েড মানুষের যৌনবোধের ওপরেই অধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। অবদমিত যৌন কামনাই যে অধিকাংশ মনোরোগের কারণ, মনোরোগের ক্ষেত্রে যৌনতার এই গুরুত্ব মনোবিজ্ঞানীরা প্রথমে স্বীকার করতে না চাইলেও ধীরে ধীরে তাঁরা তা উপলব্ধি করতে পারলেন এবং ফ্রয়েডের মতবাদ বিভিন্ন দেশের পন্ডিতরা মেনে নিলেন। এবিষয়ে গবেষকরাও উৎসাহিত হয়ে উঠলেন। মতবাদের স্বীকৃতির সঙ্গে সঙ্গেই এল পুরস্কার।

১৯৩০ খ্রিঃ ফ্রয়েড পেলেন ল্যোনে পুরস্কার। ১৯৩২ খ্রিঃ ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে রোগ বিদ্যার প্রধান অধ্যাপক নিযুক্ত করল। লন্ডনের রয়াল সোসাইটি ১৯৩৬ খ্রিঃ তাঁকে সদস্য নির্বাচিত করে স্বীকৃতি ও সম্মান জানাল। ব্যক্তিগত জীবনে ফ্রয়েড ছিলেন উদার ও নিরহংকার প্রকৃতির মানুষ। শিশু, বৃদ্ধ, পন্ডিত, মূর্খ সকলের সঙ্গেই তিনি সহজ ভাবে মিশতে পারতেন। এমন কি মতবাদ সংক্রান্ত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও অনেকের সঙ্গেই তাঁর ছিল বন্ধুত্বের সম্পর্ক।

১৯১৩ খ্রিঃ জার্মানিতে হিটলার ইহুদী নির্যাতন আরম্ভ করলে ফ্রয়েড বন্ধুদের পরামর্শ সত্ত্বেও অস্ট্রিয়া ত্যাগ করতে রাজি হননি। নাৎসীবাহিনী তার বই পুড়িয়ে, সম্পত্তি লুঠ করেছে। ল্যাবরেটরি ভেঙ্গে নির্যাতনের চূড়ান্ত করেছে। শেষ পর্যন্ত তিনি হয়েছেন গৃহবন্দী। নাৎসী নেতাদের কাছে তাঁর বন্ধুবান্ধবরা আবেদন জানালে নাৎসী সরকার কুড়ি হাজার পাউন্ড মুক্তিপণ দাবি করে।

গ্রীসের রাজকুমারী এই অর্থ প্রদান করে তাঁর গুণগ্রাহিতার ও সহৃদয়তার পরিচয় দিয়েছিলেন। ফ্রয়েডকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ইংলন্ডে। এইসময় তার বয়স বিরাশি।

সিগমুন্ড ফ্রয়েড এর মৃত্যু: Sigmund Freud’s Death

১৯৩৯ খ্রিঃ ২৯ শে সেপ্টেম্বর লন্ডনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিজ্ঞান তাপস সিগমুন্ড ফ্রয়েড। তার মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই শুরু হয়েছিল ভয়ঙ্করী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

Leave a Comment