ব্যারোক্লিনিক ও ব্যারোট্রপিক অবস্থা বলতে কী বোঝ?

ব্যারোক্লিনিক ও ব্যারোট্রপিক অবস্থা বলতে কী বোঝ?: ব্যারোক্লিনিক ও ব্যারোট্রপিক আবহাওয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ন অবস্থা কে নির্দেশ করে। সাধারণত বায়ুচাপ ও  উষ্ণতার পারস্পারিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ব্যারোক্লিনিক ও ব্যারোট্রপিক অবস্থা নির্দেশ করা হয়। ব্যারোক্লিনিক ও ব্যারোট্রপিক অবস্থা সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল – 

ব্যারোক্লিনিক অবস্থা – বায়ুমণ্ডলে সমোষ্ণতল যদি সমচাপপৃষ্টের সঙ্গে সমান্তরালে অবস্থান না করে, সমচাপরেখা গুলিকে ছেদ করে সমচাপ রেখা গুলির সাথে তীর্যক বা উল্লম্ব ভাবে অবস্থান করে, তাহলে সমচাপ পৃষ্ট বরাবর তাপমাত্রার পার্থক্য জনিত যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে ব্যারোক্লিনিক অবস্থা বলে। ব্যারোক্লিনিক অবস্থা নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাত সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। মধ্য অক্ষাংশীয় অঞ্চলে যেখানে উষ্ণ বায়ু ও শীতল বায়ু বিপরীত দিক থেকে এসে মিলিত হয় বলে এখানে ব্যারোক্লিনিক অঞ্চল তৈরি হয়। বায়ুমণ্ডলের সীমান্ত অঞ্চলে ব্যারোক্লিনিক অবস্থায় বায়ু তরঙ্গ সাধারণত অস্থির প্রকৃতির হয় এবং বায়ুর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০০ থেকে ৩০০০ কিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ব্যারোট্রপিক অবস্থা – যে অবস্থায় সমচাপরেখা গুলি সমঘনত্ব পৃষ্ট ও সমোষ্ণরেখার প্রায় সমান্তরালে অবস্থান করে তাকে, তখন তাকে ব্যারোট্রপিক অবস্থা বলে। ব্যারোট্রপিক অবস্থা ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলের একটি আবহাওয়া গত বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। ব্যারোট্রপিক অবস্থা ক্রান্তীয় অঞ্চলে সারাবছর ধরে এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। ব্যারোট্রপিক পরিস্থিতিতে উষ্ণতা সারা বছর ধরে প্রায় একই প্রকৃতির থাকে।এই অবস্থায় কোন বায়ু সীমান্তের (উষ্ণ, শীতল ও অক্লুডেড) সৃষ্টি হয় না । বায়ুর একমুখী প্রবাহ ঘটে এবং উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে গতিবেগ বাড়তে থাকে।

Leave a Comment